রাগের মাঝে ভালোবাসা

রাগের মাঝে ভালোবাসা

তুই এত অপরিস্কার কেন রে? চুলগুলো তো পাখির বাসা বানিয়ে নিছিস। অফিসে কিছু বলে না? আজ শুক্রবার আছে ভালোয় ভালোয় গিয়ে মাথার চুল কেটে আয়।

সকাল সকাল আম্মা বাণী শুনিয়ে গেল। চুল নাকি কাটতেই হবে, নইলে? নইলে কি হবে তা তো বলে গেল না! ঘর থেকে বের হয়ে সোজা আম্মার ঘরে গেলাম। আম্মা ঘর গোছাচ্ছিল। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বললাম- ‘আম্মা তুমি বললা ভালোয় ভালোয় গিয়ে চুল কেটে আসতে, যদি না কাটি তাহলে কি হবে? কি করবা তাতো বললা না।’
আম্মা রাগ রাগ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল-
‘নইলে যখন ঘুমাবি একদম ন্যাড়া করে দিব।’

— “ছি ছি এরকম কোরো না। লোকে কি বলবে ? দাও ৩০০টা টাকা দাও। চুল কেটে আসি।”
— “চুল কাটতে ১০০টাকা লাগে? আর হ্যাঁ তুই আমার কাছে টাকা চাচ্ছিস কেন রে? লজ্জা লাগে না? চাকরি করার পরও মায়ের কাছে টাকা চাস?”
— “আহা, এখনো বেতন হয়নাই তো। পকেটে টাকা নাই, দাও তিনশো টা টাকা দাও।”
— “তোর আব্বার কাছে গিয়ে চা।”
— “দিবা না?”
— “বললাম না, তোর আব্বার কাছে গিয়া চা।”

আম্মা আমার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে বিছানা ঝাড়ু দিতে শুরু করল। এই হচ্ছে টাকা মারার মোক্ষম সময়। আম্মার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে কচকচা ১০০টাকার তিনটা নোট নিয়ে ভাগলাম। আম্মা পেছন পেছন ঝাড়ু হাতে দৌড়াতে দৌড়াতে বলল- ‘ভালো হবে না কিন্তু দাঁড়া, দাঁড়া বলতেছি…’

বাসা থেকে বের হতেই মামুন আর আবুল ভায়ের সাথে দেখা। আবুল ভায়ের হাতে ক্রিকেট ব্যাট মামুনের হাতে টেপ-টেনিস বল। আমাকে দেখতেই আবুল ভায়ের মুখটা কালো হয়ে গেল। আবুল ভাই এখনও চিঠির ব্যাপারটা ভুলতে পারেন নি। সেইদিন আবুল ভায়ের পকেটে গুপ্ত চিঠি ঢুকিয়ে দিয়ে পচা সবজি কিনে দেওয়ার প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। সেই চিঠির কারণে ভাবী রাতে তাকে বাসায় যায়গা দেয়নি। সারারাত আবুল ভাই মামুনের সাথে কাটিয়েছে। মামুনের নাক ডাকার যা শব্দ! তাতে মনে হয়, আশে-পাশে কেউ শ্যালো মেশিন চালাচ্ছে। নিশ্চয়ই রাতে ঘুমাতে আবুল ভায়ের ভীষণ কষ্ট হয়েছে। মামুন জিজ্ঞাস করল- ‘ক্রিকেট খেলতে যাবি নাকি?’

— “কোথায়রে গুল্লু?”
— “বড় মাঠে, পাশের পাড়ার সাথে বাজি আছে।”
— “কত?”
— “এক কেস সেভেন আপ।”
— “হু যাব। ভাগে কত করে?”
— “১০০ টাকা করে।”
— “আবুল ভাই আর তোর টা আমি দিয়া
দিতেছি।”

আবুল ভাইকে খেলার জন্য কোন টাকা খরচ করতে হচ্ছে না শুনে তার মুখটা চকচক করতে লাগল কিন্তু আমার সাথে কোন কথা বলছে না।

মাঠে গিয়ে টচে জিতে আমরা ফিল্ডিং নিলাম। বরাবর আমরা টচে জিতে ফিল্ডিং নেই, এতে বুঝে শুনে ব্যাটিং করা যায়। আমি কিপার আমার পাশে গুল্লু স্লিপার। আবুল ভাই বোলিং ভাল করে কিন্তু আজ মনে হচ্ছে ইচ্ছা করে বোলিংয়ে ঢিলামি করছে। এক ওভারে ২৫রান দিয়ে বসল। পরের ওভার করেছে গুল্লু। গুল্লু ১৭রান দিয়ে এক উইকেট ফেলেছে তাও সেটা ভাগ্যের জোরে আউট হয়েছে। ক্যাচ মিস হলেই ছক্কা হয়ে যেত। পরের ওভার গুলো আবুল ভাই ভালোই বোলিং করল।

বিশ ওভারের খেলায় প্রতিপক্ষ মোট ১৩৬রান করেছে। এই রানতো আমি একাই নিয়ে ফেলব। আমার বিশেষ সুনাম আছে, ছয় বলে ছয় ছক্কা মেরে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলাম। অবশ্য প্রায়ই শূণ্য রানে মাঠ ছাড়তে হয়। আফ্রিদির মতন অবস্থা আর কি, মাঠে যতক্ষণ থাকব ততক্ষণ চার-ছক্কার বন্যা বয়ে যাবে। আবুল ভাই আমাদের দলের ক্যাপ্টেন। তিনি ওপেনিং করতে আমাকে আর রাজীবকে নামালেন। প্রথম দুই বলে একটা ছক্কা, একটা চার মেরে তৃতীয় বলে বোল্ড আউট হলাম। সমস্যা সেটা না, সমস্যা হচ্ছে তিন নম্বর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে বারি দিয়ে বসেছি। মনে হচ্ছে পায়ের আঙ্গুল ভেঙেই গেছে, প্রচন্ড ব্যথা৷ আবুল ভাই এসে ক্রিস থেকে কাঁধে হাত রেখে আমাকে মাঠের বাইরে নিয়ে আসল। পায়ের আঙ্গুলে আইস্ক্রিম ডলে দিল। বার বার জিজ্ঞাস করল, ‘ব্যথা কমছে কিনা?’ আবুল ভাই মানুষটা হাবা-গোবা হলেও বড্ড ভাল মানুষ।

খেলায় আমরা হেরে গেলাম। আবুল ভাই আমাকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরল। পায়ের আঙ্গুল কি ভাঙ্গলই কিনা! আবুল ভাই, মামুন দুজন মিলে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। পা ভাঙ্গেনি হাড়ে লেগেছে। ডাক্তার কিছু ঔষধ লিখে দিয়ে বলল- কয়দিনের মধ্যে ভল হয়ে যাবে। ডাক্তারখানা থেকে দুজন মিলে আমাকে আবার বাসায় দিয়ে গেল।

ব্যাথা পেয়েছি শুনে শিউলি রান্নাঘর থেকে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই লেকচার শুরু করে দিল- ‘তোমাকে না কতবার বলছি, এইসব খেলাধুলা বাদ দাও।’

— “খেলাধুলা বাদ দিলে শরীর ভাল থাকবে? শরীর ভাল থাকার জন্যে তো খেলা-ধুলা করা প্রয়োজন।”
— “যে না শরীর তার আবার ঠিক। এমনিতেই তো ক্যাঙ্গারু, এইভাবে খেলতে থাকলে কয়দিন পর হাড়গুলোও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
— “কি মনে কর আমাকে হু? আবুল ভাইকে দেখছ ? বেচারা ভুড়ি নিয়ে দৌড়াতে পারে না। একটু দৌড়ালেই হাঁপিয়ে যায়। তার চেয়ে কি আমি ভাল নেই?”
— “সব সময় এতো আবুল ভাই আবুল ভাই কর কেন? আরেকটা কি জানি আছে গুল্লু না বুল্লু? এদের সঙ্গ বাদ দিবা কবে?”

— “ওরা কি তোমাকে চিমটি মেরেছে? হু?”
— “কি বললা? কি বললা তুমি?”
— “ওরা তোমাকে চিমটি মারছে নাকি? ওদের দেখতে পারো না কেন? আজকে ওরা না থাকলে মাঠেই পরে থাকতাম।”
— “ভাল হতো, খুবই ভাল হতো, উচিত শিক্ষা হতো।”
— “আম্মাকে একটু ডাকো।”

শিউলি রক্তচোখে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে গেল। শিউলি বের হতেই আম্মা এসে ঘরে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই বলল- ‘তোরে নিয়ে আর পারি না। বয়স তো আর কম হলো না, আর কতদিন এমন বাচ্চাদের মতন থাকবি? বড় হবি না?’

— “আমি কি ছোট নাকি? তিনশটা টাকা নিছি বলে যে অভিশাপ দিলা, সেই অভিশাপের ফল। বুঝলা?”
— “কি?”
— “হু, অভিশাপ। টাকা নিছি দেখে অভিশাপ দিছো, সেইজন্যেই পায়ে ব্যথাটা পেলাম।”
— “যত্তসব আজগুবি কথা। আমি তোকে অভিশাপ দিতে যাব কোন দুঃখে?”
— “দিছো তো। না দিলে এমন হবে কেন ? তোমার অভিশাপ সাথে সাথে আল্লাহ কবুল করে নিছে।”
— “ধুর। তোর সাথে কথা বলাও যা না বলাও সেই একই কথা। গেলাম আমি ।”
— “যাও যাও, জামায়ের সেবা-যত্ন করো গিয়ে, আমি তো কেউ না।”
— “আমার জামাই তোর কিছু লাগে না ?”
— “লাগে তো। আমার নানার মেয়ের জামাই, মামার দুলাভাই, দাদা-দাদীর ছেলে, নিশাদ-বিথীর আব্বা, শিউলির শ্বশুড়।”
— “চপ, সারাদিন ভ্যা ভ্যা করা ছাড়া আর কোন কাজ নাই।”

দুপুরে কোনমতে গোসল করে বের হলাম। খাবার টেবিল থেকে আম্মা ডাকতেছে। আমি উলটো শিউলিকে ডাকলাম। শিউলি ঘরে আসার পর বললাম- ‘আমি ঘরেই খাব। পায়ে প্রচন্ড ব্যথা।’ শিউলি গিয়ে আমার প্লেট নিয়ে আসল। আমি পায়ের উপর পা তুলে বললাম- ‘দাও একটু খাইয়ে দাও।’ শিউলি মুখ গোমড়া করে বলল- ‘ব্যথা তো পায়ে পেয়েছ, হাতে তো পাওনাই। হাত দিয়ে খাও।’

খাবার প্লেট রেখে শিউলি চলে গেল। কতদিন পর বললাম, একটু খাইয়ে দিতে। দিলো না!
“বিয়ের বয়স যত বাড়ে জামায়ের আদর ততই কমে,” আবুল ভায়ের কথাটার বাস্তব প্রমাণ পাচ্ছি। বিয়ের পর একবছর পর্যন্ত ভাবী নাকি আবুল ভাইকে খুব আদর-সোহাগ করত। জোর করে খাওয়াতো। আবুল ভাই পায়েশ পছন্দ করে জন্যে তিন-চারদিন পর পর ভাবী পায়েশ বানাত। আর এখন পায়েশ বানাতে বললে বলে- পেট ফুলে ঢোল হয়েছে, পায়েশ খাওয়ার দরকার নাই। আবুল ভায়ের চা’তে পর্যন্ত নাকি একবিন্দু চিনি ভাবী দেয় না।
আমার অদুর ভবিষ্যত আবুল ভায়ের মতন হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

প্লেট নিয়ে টেবিলে গিয়ে বসলাম। আমাকে টেবিলে আসতে দেখে আব্বা বলল- ‘কিরে তোর না বলে পায়ে ব্যথা? হাটতেই নাকি পারতেছিস না?’ শিউলি বলল- ‘এইসব ঢংয়ের ব্যথা বাবা।’ আব্বা চশমার ফাঁক দিয়ে স্থির চোখে শিউলির দিকে তাকাল, শিউলি লজ্জা পেয়ে গেল- নিচের দিকে তাকিয়ে বলল- ‘যতটা ব্যথা পায়নি তার চেয়ে বেশি বেশি বোঝাচ্ছে।’ আমার খুব রাগ উঠল, পায়ে যে ব্যথাটা সত্যি পেয়েছি সে কথা শিউলি বিশ্বাসই করছে না, মনে করছে ঢং করছি। আজ থেকে শিউলির সাথে কথা বলা বন্ধ।

রাতে ঘুমানোর সময় শিউলি বলল- ‘মুখটা ওমন পেচার মতন করে রাখছ কেন?’ আমি কোন কথা বললাম না। শিউলি জিজ্ঞাস করল- ‘কি হইছে? কথা বলতেছ না কেন?’ এই প্রশ্নেরও কোন জবাব দিলাম না। এরপর শিউলি বলল- ‘বয়স তো আর কম হলো না এইসব ঢং এইবার বাদ দাও।’ বলে বাতি নিভিয়ে সে ঘুমিয়ে পরল।

সকালবেলা শিউলির সাথে কোন কথা না বলে অফিসে চলে গেলাম। অফিসে ইদানীং খুব খাটুনি যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বস ইচ্ছা করেই সব কাজ আমাকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে। এতো সব কর্মী বসে বসে কফি খাচ্ছে, নিচে যাচ্ছে, ঘুরছে-ফিরছে। ডেস্কে বসে গাল-গল্প করছে, অথচ আমার দম ফেলবার সময়টুকু নেই। ফাইলে শুধু গোল্লা আর গোল্লা- স্যার সকালে আমাকে ডেকে বলল- ‘তোমার ক্লাস টুতে ভর্তি হয়ে আবার বানান শিখা উচিত। এইসব কি হু?’
আমি বললাম- ‘স্যার এসব বানানই তো এখন চলছে। আমেরিকার মতন বাংলাদেশেও শব্দ লেখার ক্ষেত্রে শর্ট ফর্ম ব্যবহার শুরু হয়েছে। আধুনিক বানান।’ স্যার বিরক্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল-  ‘রাবিস, আধুনিক বানান শেখাচ্ছো আমাকে? যাও ঠিক করে আনো।’

স্যারের চেম্বারে আমি বাদেও অফিসের পিয়ন মনির ছিলো, স্যার আমাকে বকা দিচ্ছে দেখে সে হাসছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছিল ব্যাটাক দু-চারটা কিল-ঘুষি মেরে দেই। পাঁচ পৃষ্ঠার ফাইল নতুন করে টাইপ করতে হবে! ইচ্ছা হচ্ছিল মনিরকে মারা শেষ করে ফাইলটা স্যারের মুখে ছুড়ে মেরে বলি- তর চাকরি আমি আর করমু না, বলে বীরপুরুষের মতন অফিস থেকে বের হয়ে যাই। শেষপর্যন্ত তা আর হলো না, কারণ স্যার-মনির দুজনই চেম্বার থেকে বের হয়ে গেল।

রাতে বাসায় ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ছাদে গিয়ে বসলাম। ছাদে আসার মূল কারণ শিউলির সাথে কথা না বলা। ঘরে থাকলে এটা সেটা সে বলবে, উত্তর না দিলে এমন কিছু বলবে যেটা সহ্য হবার মতন না।

আকাশের অবস্থা ভাল না। বৃষ্টি নামি নামি করছে। বাতাস শুরু হয়ে গেছে। মনে মনে ঠিক করলাম বৃষ্টি আসে আসুক, আমি বসে থাকব, বৃষ্টিতে ভিজব, জ্বর আসলে আসবে তবুও ঘরে যাব না। কিছুক্ষণ পর শিউলি এসে আমার পাশে বসল। বলল- ‘পায়ের ব্যথা কমেছে?’ আমি কোন কথা বললাম না। শিউলি আবার বলল- ‘কি ব্যাপার কথা বলছো না যে? পায়ের ব্যথা টা কি কমল?’  আমি কথা বলতে বাধ্য হলাম, বললাম ‘থাক আর ঢং দেখাতে হবে না। ঢংয়ের ব্যথা তো।’ কথাটা বলা শেষ করতেই গালে একটা চুমু দিয়ে শিউলি বলল- ‘রাগ কমেছে এবার?’ আমি চুপচাপ বসে রইলাম। শিউলি বলল- ‘বাবা, কত রাগ! চল চল ঘরে চল। বৃষ্টি নামতেছে।’

আমি আরও কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম। শিউলি আমার হাত ধরে টেনে তুলে ঘরে নিয়ে এলো। দরজাটা বন্ধ করে বুকে মাথা রেখে বলল- ‘স্যরি।’ বুক থেকে মাথা টা নামিয়ে দিয়ে ডানকাত হয়ে শুয়ে বললাম- ‘ঘুম আসছে, ঘুমাতে দাও।’ শিউলি ডাকল- ‘এই…।’ না শোনার ভান করে শুয়ে রইলাম। শিউলি এবার হাতের উপর মাথা রেখে বলল- ‘এই!’ এক ঝটকায় শিউলিকে সরিয়ে দিয়ে বললাম- ‘ঢং কোরো না তো। ঘুমাতে দাও।’ শিউলি আর কোন কথা বলল না। আধাঘন্টা পর রাগটা কমল। শিউলিকে ডাকলাম- ‘এই!’ শিউলি বলল- ‘কি’?

— “স্যরি।”

শিউলি হাসল। হাসতে হাসতে বলল- ‘এতো আমার জানাই ছিল।’ আমি বেশ লজ্জা পেলাম। কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে- শিউলিকে এক ঝটকায় যেমন দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম তেমনি আবার কাছে টেনে আনলাম।
শিউলি কিছু বলল না, খিল খিল করে হাসল।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত