এক অন্য অনুভূতি

এক অন্য অনুভূতি

অফিসের একটা উচু পদে চাকরি করি।কারো কাজে কোন সমস্যা হলে তা ঠিক করে দেওয়া আমার কাজ।

অফিসে একটা মেয়ে নতুন জয়েন করেছে অনেকদিন হয়েছে, দেখতে সুন্দর না হলে মুখটা অনেক মায়াবী।

ওর কাজে আমি কোন সময় কোন সমস্যা দেখি নি।যে কাজ ওকে দিয়েছি সুন্দরভাবে তা করেছে।

তাই আমি ওকে সব সময় আলাদা নজরে দেখতাম।কিন্তু আমার মনটা তখন খারাপ হয়ে যেত যখন দেখতাম

ও মন খারাপ করে বসে আছে।আর এই জিনিসটা আমি সব সময় ওর মাঝে দেখতাম।কেন জানি না

এরকম হয় বলতে পারব না।তবে হ্যাঁ এটা বলতে পারব ওকে আমার ভাল লাগে।একবার ওর কলিগকে জিঙ্গেস করলাম ওর ব্যাপারে
-তামিমা শুন(আমি)
-জি, স্যার বলুন(তামিমা)
-তুমি বলতে পারব মিরার কি হয়েছে(আমি)
-কি হয়েছে মিরার আবার(আমি)
-না মানে ও সব সময় মন খারাপ করে থাকে কেন?(আমি)
-আসলে স্যার ওর হাসবেন্ড ওকে তালাক দিয়েছে ছয় মাস হবে(তামিমা)
আমি কিছুটা সময় নিস্তব্দ হয়ে দাড়িয়ে ছিলাম।পরে আবার তামিমার ডাকে ঘোর ভাঙ্গল
-এসব তুমি কি বলছ (আমি)
-জি,স্যার আর তার কারণ হচ্ছে ও আর কোনদিন মা হতে পারবে না।একটা মেয়ের জন্য এর থেকে কষ্ট আর কি হতে পারে(তামিমা)
-ঠিক আছে তুমি এখন যাও
আমি বাসায় বসে ভাবছি আমার এখন কি করা দরকার।না আর বেশি ভাবতে পারব না যদি বিয়ে করি মিরাকেই করব আর কাউকে না।মায়ের কাছে গেলাম
-মা,আমার একটা মেয়েকে পচ্ছন্দ হয়েছে(আমি)
-সত্যি বলছিস বাবা(মা)
-হ্যাঁ,মা তবে একটা সমস্যা আছে।আমি যাকে বিয়ে করব সে আগে বিবাহিত ছিল কি মা হওয়র ক্ষমতা হারিয়েছে বলে ওর শশুর বাড়ি থেকে ওকে তাড়িয়ে দিয়েছে(আমি)
-তুই এসব কি বলছিস বাবা এ মেয়েকে আমি কিছুতেই মানব না(মা)
-একবার ভাব মা আমার যদি একটা বোন তার অবস্তা যদি এরকম হতো তাহলে তুমি কি করতে(আমি)
-তাই বলে তুই(মা)
-তুমিই তো সব সময় বল মানুষের দূর্বলতা কখনো ছোট কর দেখতে নেই(আমি)
-ঠিক আছে, বাবা
মায়ের কাছ থেকে এসে ভাবলাম এবার মিরার পালা
অফিসে
-মিরা তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে একটু বাইরে দেখা করতে পারবে(আমি)
-বাইরে কেন অফিসে বললে সমস্যা কি(মিরা)
-কথাটা একটু ব্যক্তিগত এজন্য
-তাহলে চলুন সামনের কফি শপটায় গিয়ে বসি
-চল যাই
– এবার বলুন
-আমি তোমাকে ভালবাসি এবং বিয়ে করতে চাই
অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে মনে হয় আমার কাছ থেকে এরকম কথা আশা করে নি
-কি বলছেন এসব
-যা শুনেছো তাই
-তা হতে পারে না আমি বিবাহিতা
-ছিলে এখন তো নয়
-আপনি জানেন না আমাকে বিয়ে করলে
-জানি আমি কোনদিন বাবা হতে পারব না
– করুনা করছেন আমাকে
-করুনা নয় এটা ভালবাসা
-আপনি আমার থেকে অনেক ভাল মেয়ে আশা করেন
-আর আমি তোমাকে আশা করি
-এটা আমার প্রতি আপনার ভাল লাগা আর কিছু নয়
-তুমি জানো না ভাল লাগা থেকে ভালবাসা হয়।
-আপনার পরিবার মানবে না।
-যদি বলি রাজি হয়ে বসে আছে
ও আমার কথা শুনে হেসে ফেলল।
-আমি জানি না ভালবাসা কিভাবে প্রকাশ করতে হয়,আমার কাছে ভালবাসার মানে হচ্ছে যাকে ভালবাসব তার ভালবাসাকে সম্নান করা।
-নিশ্চুপ
-কথা বলছো না কেন
-পারবে আমার হাতটা সারা জীবন ধরে রাখতে
-তুমি চাইলে অবশ্যই পারব
এর কিছুদিন পর আমাদের বিয়ে হয়ে গেল।আর মা মিরাকে মেনে নিয়েছে আমার বউ হিসাবে।

বিয়ের একবছর হতে চলল আমরা খুশি আছি।আর মা মিরার উপর অনেক খুশি এরকম বউ পেয়ে।

হঠাৎ একদিন মিরা মাথা ঘুরে পড়ে গেল।ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম আর ডাক্তার আমাদের যা বলল তা

শুনে মিরা আমাদের বিয়ের পর প্রথম বার কাঁদলো।আর তার কারণ হচ্ছে ও মা হতে চলেছে।আমি ডাক্তার কে বললাম
-সত্যি বলছেন
মাকে এ খবর দেওয়ার পর খুশিতে দুই রাকাআত নামায আদায় করলেন।আমি খুশিতে মিরাকে জড়িয়ে ধরলাম।

এ এক ভিন্ন অনুভূতি যা অন্য কোন অনুভূতির সাথে তুলনা চলে না।দোষ কখনো মিরার ছিল না,

ছিল যে তাকে সন্তানের আশায় মিরাকে ছেড়ে দিয়েছিল।মিরাকে ধন্যবাদ দিতে মন চাচ্ছে এক ভিন্ন অনুভূতি আমাকে দেওয়ার জন্য…

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত