সেলিব্রিটি

সেলিব্রিটি

ভার্সিটি শুরু হওয়ার প্রায় ৩মাস পর প্রথম ক্লাসে আসলাম,,,,,,! একদম পিছনের বেঞ্চে গিয়ে বসলাম। আমার দিকে কারোর কোনো মনোযোগ নেই। স্যার ক্লাসে এসেই ভিবিন্ন প্রশ্ন করা শুরু করলো।হঠাৎ আমাকে দাঁড় করালো

— একটা প্রশ্ন করলো..?
–…… (নিশ্চুপ)
— পরে একটি মেয়েকে প্রশ্নটি করলো,,,!
— মোটামুটি উত্তর দিলো।

যদিও এর চাইতে ভালো উত্তর আমার জানা আছে কিন্তু তাও দিলাম না,,,। প্রথম দিন এতো লিজেন্ড সাজার দরকার নাই। ক্লাসে কয়জন ছেলে মেয়ে আছে কে কি করে,,, কোনো মেয়ে আমার দিকে তাকাইছে কিনা এগুলো আমার আমার দেখবার বিষয় না। নিজের মত করে একা একা বসে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছি। পরের দিন আবার ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হলাম। কালো শার্ট,,কালো পেন্ট,,সাদা লোপার,,চোখে সানগ্লাস আয়নায় একবার নিজেকে না দেখলেই নয়,,!

— আরিশশশশশশসালা… মুই এতো কিউট!!
— নিজেই নিজের উপর ক্রাশ খাইলাম
— পুরো নাইকা শাবনূর থুক্কু নায়ক শাবনূর এর মতো লাগছে।
— থাক এতো প্রশংসা করার দরকার নাই পরে নজর লাগবে। এমনিতেই দুষ্ট প্রতিবেশী মেয়েদের অভাব নাই।ভার্সিটিতে প্রবেশ করলাম। পূর ভার্সিটির ফোকাস আমার দিকে। এতো কিছু নিয়ে ভাববার সময় আমার নেই। মাথা নিচু করে সোজা চলে আসলাম ক্লাসে। স্যার আবার ক্লাসে আসলো সবার কাছথেকে পড়া নিতেছে আমাকেও দাঁড় করালো

— প্রশ্ন,,,?
— উত্তর..!
— প্রশ্ন,,,?
— উত্তর…!

এভাবে প্রায় অনেক প্রশ্ন করলো। সবগুলোরি উত্তর দিলাম।সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। স্যারও অনেক প্রশংসা করলো….! স্যার চলে যাওয়ার পর প্রায় সবগুলি মেয়েই আমাকে ঘিরে ধরেছে…!প্রথমে ভাবলাম হয়তো আমার কাছথেকেঅটোগ্রাফ নিতে আসছে। অরিশশশসালা এই ফটোগ্রাফ এর যোগেও অটোগ্রাফ। আমার ধারণা ভুল সবাই আমার বন্ধু হতে চায়..! আমি কিচ্ছু বলিনা নিচের দিকে তাকিয়ে আছি এমন সময় তাদের সরিয়ে দিয়ে একটি মেয়ে আসলো,,,,,,

— হ্যাই,,,,,,,,আমি শ্রাবন্তী..!
–….(নিশ্চুপ)
— এইযে মিস্টার….!
–….(নিশ্চুপ)
— এইযে.. হ্যালো…..এই..!
–… (সাইলেন্ট)
— বোবা নিকি…!
–….
— পাগল ছাগল কোথা থেকে যে আসে এ বলে ছলে গেলো। এতোক্ষন আমার মাথা নিচের দিকে ছিলো। একবারো তাকাই নি। এবার আস্তে আস্তে মাথা তুললাম….! এভাবে প্রায় ৩-৪ দিন পর পূর ভার্সিটিতে আমার নাম ডাক। সকল স্যারেই আমার প্রশংসা করে। আমি যেনো এক নতুন লিজেন্ড। আজ আবার ভার্সিটিতে যাচ্ছি। আচ্ছা পরিচয় টা দি। না থাক সেলিব্রিটিদের পরিচয়দিতে হয়না। শুধু জেনে নিন নামটা তানভীর। ক্লাসে ঢুকার সময় কে জেনো কলার ধরে টান দিলো। আমার পিঠ দেয়ালের উপর আর ও আমার উপর (শ্রাবন্তী)

— এই ছেলে কিশের এতো অহংকার??
— (নিশ্চুপ )
— পূর ভার্সিটির ছেলেরা আমার পিছে লাইন মারে আর উনি….!
— দেখুন আমি এমন নই,,,,!
— হয়তো আগে ছিলেনা আজথেকে হবে।
— আমার ক্লাস আছে
— এতো সুন্দর মেয়ে সামনে থাকতে আবার কিসের ক্লাস (ঠোঁট দুটি আমার ঠোঁটের খুব নিকটে এনে) হাডবিড তখন চক্রবৃদ্বি হারে বেড়ে যায়। গুরান্টি মাইরা পালাইয়া দিলাম। এবং আমার আসনে গিয়ে বসলাম। ক্লাসের সব ছেলেরাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে হয়তো ভাবছে এতো সুন্দরী মেয়েকে আমি avoid করছি।

— কিরে মাম্মা তুই এটা কি করলি…?
–(নিশ্চুপ )
— দূর সবাই চল পাগলের সাথে কথা বলে লাভ আছে…!
— এই পাগল কেরে বল্লো (শ্রাবন্তী)
— তো পাগলকে কি বলবো..!
— ঠাসসসসসসস.. আর কক্ষন পাগল বলবি না।

আমি কিচ্ছু মনে করিনি সেলিব্রিটিদের ভালো খারাপ দুটোই থাকে। তাদের নিয়ে কতোজনেই তো স্বপ্ন দেখে। পরের দিন আবার ভার্সিটিতে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ শ্রাবন্তী হাত দরে টান দিয়ে কিছু মেয়েদের সামনে নিয়েজায়।

— এই সবই দেখ তোদের দুলাভাই!!!
— আপনার মাথা ঠিক আছে…?
— উহ্ দুলাভাই তো অনেক সুন্দর
— একদম নজর দিবি না
— এই কে কার দুলাভাই (আমি)
— এই ছেলে একদম ভাবনিবেনা (শ্রাবন্তী)
— দূর যত্তসব (হাঁটা ধরলাম)
— যাও যাও দিনের শেষ আমার কাছেই আসতে হবে।

(শ্রাবন্তী) ভার্সিটি ছুটির পরে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটা ধরলাম। এমন সময় বৃষ্টি আসলো। কি আর করার দাড়িয়ে দাড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতেছি। হঠাৎ কে জেনো মাথার উপর ছাতা ধরলো।

— এই ছেলে ঠান্ডা লাগবে তো (শ্রাবন্তী).
— লাগুক আমি ভিজবো
— আচ্ছা তোমার সাথে আমিও ভিজবো ঠান্ডা লাগলে একসাথে লাগুক(ছাতাটি পেলে দিয়ে)
— আমি এই প্রথম ওর দিকে ভালোকরে তাকালাম,,, ওযে এতো সুন্দর আগে কল্পনাও করিনি। ভেজা চুলে ওকে এক ডানাকাটা নিষ্পাপ পরীর মতো লাগছে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ওর পায়ের দিকে।,,, আসলে মেয়েদের নুপূরের শব্দ যে কোনো মুহূর্তে একজন ছেলেকে পাগল করতে পারে….,

— ওর স্পর্শে বাস্তব জগতে পিরে এলাম,,,,, এই প্রেমে পড়লে নাকি,,,,,?
— আমি কি প্রেমে পড়ছি সেলিব্রিটিদের তো প্রেমে পড়তে নেই… তাই নিজেররাস্তায় হাটা ধরলাম,,,,,?!
— এই ছেলে কই যাও আমাকে নিবে না…?
— আপনি আমার কে আপনাকে কেনো নিবো.?
— আসলেইতো আমি কে (অভিমানী কন্ঠে চলেযেতে লাগলো)
— আমিও ছেঁকা খাওয়া নায়ক বাপ্পারাজের মতো হাত বাড়িয়ে গান গাইতে লাগলাম ” আমার মনে অকারণে দিওনা ঝালা তুমি ছাড়া এ জীবনটা আমার বড় একলা তোমায় পেলে এজীবনে আর তো কিছু ছাইনা সারা জীবন থাকবো পাসে তোমায় ছেড়ে যাব না ”

— সত্যি (গুরান্টি মাইরা আমার দিকে তাকিয়ে)
— আমি আগুন জালিয়ে দেবো পৃথিবীর বুকেযদি বিশ্বাস না করো আমায়।
— তুমি বিশ্বাস গাতোকতা করোনা প্রিয় তুমি ছাড়া আমি আর কারো নই (শ্রাবন্তী)
— দুই হাত বাড়িয়ে দিলাম
— ও দৌড়ে এসে আমার বুকে ঢুকলো,,,,, হয়তো নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না তাই একবার নিজের গায়ে পরে আমার গায়ে চিমটি কাটলো।

— এই ছেলে ভালোবাসি
— আমিও,,,,,,
— আচ্ছা ভালোবাসা কি??(আমি)
— দেখতো আল্লাহ্আ চ্ছা বলছি কোনো মেয়র দিকে না তাকিয়ে আমারদিকে তাকিয়ে নুপূরের শব্দ শোনার নামই ভালোবাসা!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত