ম্যারেজ এনিভার্সারি

ম্যারেজ এনিভার্সারি

আয়নার সামনে বসে গুনগুন করে এক মনে গান গেয়ে যাচ্ছে নিশি। হাতে নীল কাচের চুড়ি,নীল শাড়ী, কপালে ছোট্ট নীল টিপ আর হালকা মেকাপে অপ্সরীর মত লাগছে তাকে।তারপরেও খুবমনোযোগ দিয়ে প্রতিটি বিষয় লক্ষ্য করে যাচ্ছে।কোথাও কোন কমতি হল না তো?

একটা জিনিসের কমতি সে ঠিকই বুঝতে পারছে,সেটা হল খোপায় একটা লালটকটকে গোলাপ।এটা অবশ্য সে ইচ্ছা করেই খালি রাখে।কারণ নিজের প্রিয় মানুষটা নিজ হাতে খোপায় ফুল পড়িয়ে দিক এটা প্রতিটা মেয়েরই অসম্ভব রকমের পছন্দ। ঘড়িতে এখন রাত ৯টা বেজে ৩০ মিনিট।ফারহান এখনও বাসায় ফিরছে না কেন? নিশ্চয়ই সে তাদের ১ম বিবাহ বার্ষিকীর দিনটা ভুলে গেছে। ইচ্ছে করেই আজকের দিনটিকে মনে করিয়ে দেয়নি নিশি।

ইদানীং একটু বেশিই মন ভুলা হয়ে যাচ্ছে ফারহান।আর অপেক্ষা করতে পারছে না নিশি,একটা ফোন দিয়ে দেখবে কী?? পরক্ষনেই ভাবল না,তাহলে তাকে সারপ্রাইজ দেওয়া হবে না।নীল রঙ ফারহানের খুব পছন্দের।নীল শাড়ীতে দেখে বেচারা ফারহান নিশ্চয় হা করে নির্লজ্জের মত তাকিয়ে থাকবে। এটা ভেবে নিশি খুব মজা পাচ্ছে আর মিটমিটিয়ে হাসছে।

কিছুক্ষণ পর সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলিং বেলটা বেজে উঠল।দরজা খুলে আজ একটু স্পেশালভাবে দাড়াতে চাইল নিশি।কিন্তু তাতে কোন রিয়্যাকশন দেখতে পেল না ফারহানের মাঝে।প্রতিদিনের মত সাধারণ ভঙ্গিতেই ঘরে প্রবেশ করল সে। এতক্ষণ যা ভাবছিল নিশি, তার কোনটিই না ঘটাতে কিছুটা মন খারাপ করে সেও ঘরে ঢুকল। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেস হয়ে ফারহান দেখল নিশি খাবার টেবিলে খাবার বাড়ছে।এই মুহূর্তে যে নিশির মনটা ভালো নেই তা তার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে

পাগলীটা হয়ত ভেবেই নিয়েছে আমি সব ভুলে গেছি।এই ছোট্ট অভিনয়টা না করলে সারপ্রাইজটা দিব কীভাবে,দূর থেকে অভিমানী মুখটা দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে ফারহান। খাবার নিয়ে বসে আছে পাগলীটা কিন্তু খেতে ঢাকছে না।যখনই সে অভিমান করবে তখন থেকেই ফারহানের সাথে তার কথা বলা বন্ধ।কি আর করার???এখন যে পাগলীটার রাগ ভাঙ্গাতেই হবে। হঠাৎ করেই পুরো ফ্ল্যাটের সকল বাতি অফ।নিশি কিছুটা হকচকিয়ে যায়।

ফারহান,,ফারহান।প্লীজ ফারহান,দুষ্টুমি কর না অন্ধকারে আমার খুব ভয় লাগে(কিছুটা কাপা কাপা গলায় বলল) হঠাৎ করেই মোমবাতিটা জ্বালিয়ে,হাতে একটা কেক নিয়ে নিশির সামনে হাজির ফারহান-“হ্যাপি ম্যারেজ এনিভার্সারি ডে” মাই কিউটি বউ।এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি অবাক হচ্ছে নিশি। সত্যি সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না,ফারহানের বুকে মুখ লুকিয়ে এখনই হু হু করে কেঁদে ফেলবে ।আজ সত্যি সে নিজেকে খুব সুখী মনে করছে।

— তার মানে এতক্ষণ যা যা ঘটছে সব কিছু তোমার প্ল্যানেই?? (নিশি)
— ইয়েস মাই ডিয়ার বউ!!সব কিছুই আমার প্ল্যান। অমনি কোমল হাতের কয়েকটা আলতু ঘুষি পরে গেছে ফারহানের বুকটায়। একমিনিট কি বিরতি দেওয়া যায় এবার?? (ফারহান)

— একেবারেই না,,আরও কয়েকটা  লাগাব তোমায়।বলা শেষ হতে না হতেই আরও কয়েকশ খানিক ঘুষি পড়ল গিয়ে বুকে। (নিশি)
— আর একটা সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য,,কি নিবে না সেটা?? (ফারহান)
— তোমার দেওয়া সারপ্রাইজ আমি কি না নিয়ে থাকতে পারি?? (নিশি)
— তাহলে চোখটা বন্ধ কর,প্লীজ (ফারহান)
— আচ্ছা বাবা,করছি।বলেই নিশি তার চোখটা বন্ধ করল। (নিশি) অমনি ফারহান পকেট থেকে একটা টকটকে লাল গোলাপ তার খোপায় গুজে দিল।এবার দেখি আমার পরীটাকে কেমন লাগে??

নিশি লজ্জায় লাল হয়ে গেছে কারণ সে জানে ফারহান এখন তাকে দেখার নাম করে কপালে একটা মিস্টি চুমো একে দিবে।প্রতিটি কাপলদের মাঝে এমন বন্ধন অটুট থাকুক চিরকাল

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত