ভূতের উপদ্রব

ভূতের উপদ্রব

বাড়িতে ভূতের উপদ্রব শুরু হয়েছে। ভূতের যন্ত্রণায় বেশ কিছুদিন থেকে ভাল ঘুম হচ্ছে না রাতে। মহিলা ভূত শাড়ি পরে হাটাহাটি করে রাতে বাসার মধ্যে!!

— দুপুরবেলা মাথার উপরের ফ্যান খানা ভন ভন করে ঘুরছে অবিরাম ভাবে৷ আর আমি ফ্যানের দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে চলেছি – আর চোখে বাতাস লাগাছি মাথা চুলকাচ্ছি বসে বসে ৷ চোখে বাতাস লাগাতে রাতে না ঘুমানোর চোখের জ্বালাপোড়া এখন কিছুটা কমছে৷ যাইহোক আমার এমন অবস্থা দেখে আমার স্ত্রী ইরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আমার গায়ে হাত দিয়ে আস্তে করে ধাক্কা দিয়ে বলল ‘ কি গো কি হয়েছে তোমার! ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছো কেন! আর এমন করে চোখ ঘুরাচ্ছো কেন! কি দেখো ফ্যানের দিকে?

আমি ” কিছু দেখি না। কিছু দেখো না তো তাকিয়ে আছো কেন? আমি ” তাকিয়ে আছি না চিন্তা করছি এক গভীর চিন্তা। আমার এমন কথা শুনে ইরা ছোট এক নিশ্বাস ফেলে বলল ‘ কি সেই গভীর চিন্তা শুনি!! আমি ইরার কথা শুনে ফ্যান থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে বললাম ” বাসায় যে ভূত উপদ্রব শুরু করেছে তাকে কি ভাবে তাড়ানো যায় সেই চিন্তা করছি৷ ইরা আমার কথা শুনে একটু নাড়া দিয়ে বসে বলল ‘ তার মানে তোমার ও মনে হচ্ছে এসব ভূতের কাজ?

আমি ” অবশ্যই ভূতের কাজ৷ ময়নার মা কি বলেছিলো শুনো নাই। ও নিজের চোখে ভূত দেখেছে রান্নাঘরে ৷ ঘোমটা দেওয়া মহিলা ভূত। রান্নাঘরে ঢুকে মাছ খাচ্ছিলো চিবিয়ে চিবিয়ে৷ মাছে কাঁটা বেশি ছিল তাই আস্তে আস্তে করে খাচ্ছিল। ভূত যখন মাছ খাচ্ছিলো তখনি ময়নার মা রান্নাঘরে গিয়ে উপস্থিতিতে হল। তারপর তো তুমি সব জানো৷ ভূত দেখার পর শেষ তিন দিন থেকে ময়নার মায়ের মাথায় ঠান্ডা পানি দেয়ার কাজ চলছে। মা নিজ দায়িত্বে পানি দেয়ার কাজ দেখেন বসে বসে৷

বাড়িতে ভূতের উপদ্রব বেড়েছে। তবে বেড়েছে বললে ভুল হবে – বলতে হবে উপদ্রব শুরু হয়েছে। এক জীবন এই বাড়িতে থাকলাম ভূত তো দূরে থাক ভূতের বাচ্চার দেখাও পাইনি কোন দিন। কিন্তু আমার আর ইরার বিয়ের ছয় মাস পর থেকে বাড়িতে ঘঠে যাচ্ছে নানান প্রকার ভৌতিক ঘটনা। প্রথম প্রথম গভীর রাতে ছাদ থেকে অদ্ভুত শব্দ আসতো কানে। কে জানি রাতে ছাদে হাটাহাটি লাফালাফি করছে এমন শব্দ। আমার ঘুম বেশি তাই আমি বেশি কিছু শুনতে পাইনি ‘ তবে মা আর ইরার মুখে শুনেছি হাটার শব্দের সাথে সাথে মাঝেমধ্যে কান্নার শব্দও নাকি শোনা যেতো রাতে। তবে ব্যাপার খানা ছাদ পর্যন্ত থাকলে ঠিক ছিল। এখন তো ভূত বাসার ভিতর এসে উপদ্রব শুরু করেছে। সেদিন সন্ধ্যায় ইলেকট্রিসিটি ছিল না। বাসা ছিল অন্ধকার – মা আর ইরা ছিল নিজেদের রুমে। তখন কোন কাজে ময়নার মা যায় রান্নাঘরে আর গিয়ে দেখে এই অবস্থা। ঘোমটা দেওয়া একটা মহিলা ভূত মাছ খাচ্ছে চিবিয়ে চিবিয়ে। মাছে কাঁটা থাকায় আস্তে আস্তে করে খাচ্ছে লবন দিয়ে। এমন তাজ্জব ঘটনা দেখে ময়নার মা চিৎকার দিয়ে আকাশে৷

তারপর থেকে ময়নার মায়ের মাথায় শেষ তিন দিন থেকে ঠান্ডা পানি দেয়ার কাজ চলছে। ডাক্তার গজানন বাবু নিজে এসে দেখে গেছেন ময়নার মাকে। ঔষধ ও দিয়ে গেছেন কিছু।

আমি রাহাত। লেখাপড়া শেষ করে চাকরি পাবার সাথে সাথে মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেন উনার একান্ত কাছের বান্ধবীর মেয়ের সাথে। বিয়েতে আমার কোন মত ছিলো না। কিন্তু বাবা মায়ের চাপে পরে না ও করতে পারি নি। বিয়ের আগে শুনেছিলাম মেয়েটা অনেক ভাল ‘ শান্তশিষ্ট চুপচাপ লাজুক রান্নাবান্না সব কাজ পারে স্বামী ভক্ত হবে মেয়েটা। আমারও ইরাকে প্রথম দেখে এমনটা মনে হয়েছিলো কিন্তু বিয়ের পর আমার সব ধারণা পাল্টে গেল। এটা মেয়ে না শয়তানের বস। মেয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খায় ছাদে। শাড়ি তো দূরে থাক ভাল জামা ও পরে না৷ তবে হ্যাঁ রান্না করতে জানে ‘ এক কেজি লবণ দিয়ে রান্না করে। রান্না খেলে মনে হয় আমি সাগরের নোনাজল খাচ্ছি ফিল্টার না করে। আর রইলো স্বামী ভক্ত!! সব কপাল আমার। মাস শেষে আমার কাজে বেতনের ৫০০ টাকা ও থাকে না৷ সব ওর শপিং এ চলে যায়। তারপর এতো অত্যাচার – সন্ধ্যা পর বাইরর যেতে দেয় না! রাত জেগে ফেসবুক চালাতে দেয় না – ছুটির দিন ঘুমাতে তে দেয় না!! জীবন খানা আমার শেষ – না পারি সইতে না পারি কইতে। কিছু বললে আবার সমস্যা। মায়ের একান্ত কাছের বান্ধবীর মেয়ে বলে কথা৷

— এখন তো মা ও ইরার মতন হয়ে যাচ্ছেন। সেদিন অফিস থেকে বাসায় এসে দেখি। মা আর ময়নার মা মুখে ডিম মেখে চোখে শসা টুকরো দিয়ে বসে আছে। কানে আবার হেড ফোন ও আছে দেখছি। ময়নার মা আবার একটু পর পর বলছে ভাবিজান ডিমের গন্ধ কিন্তু খুব ভাল লাগে আমার৷ কেমন জানি মিষ্টি মিষ্টি ঘন্ধ। তাদের এইসব কাজ দেখে আমি নির্বাক। ইরা আমার নীরবতা দেখে বলে ‘ কিগো ভাল লাগছে না মাকে? আমি ইরার কথা শুননে বললাম ‘ অপূর্ব মারহাবা৷

একদিকে বউ মায়ের এমন অত্যাচার আর অন্যদিক দিকে আমার ছোট বোন পিউলি৷ পিউলির কথা বাদ যাবে কেন ‘ বলি কিছু কথা।পিউলি দেবী মহান একজন মানুষ। উনি রাত জেগে টিকটক করেন আর দিনে পরে পরে ঘুমান। আর এমন করে করে পরীক্ষায় খারাপ করেন। আর পরীক্ষায় খারাপ করলে প্রিন্সিপাল ম্যাডামের রুমে ডাক পরে আমার৷ ম্যাডাম ইচ্ছে মতন কথা শুনান আমাকে৷ এমন মহা সমস্যায় আছি তার উপর এখন আবার ভূতের সমস্যা।

এখন তো প্রায় রাতে পাশের বন্ধ রুমের ভেতর থেকে হাটাহাটির শব্দ আসে৷ মাঝেমধ্যে গভীর রাতে টেবিলের উপরের রাখা গ্লাস গুলা আপনাআপনি ভেঙ্গে যায় ফ্লোরে পরে। সকালবেল ময়নার মা কাচ গুলা পরিষ্কার করে আর বলে ভাবিজান ভূত এসব করছে। আমি কাইল রাইতে শুনছি নিজের কানে। এভাবে দিন কাটতে লাগলো ‘ যতদিন কাটতে লাগল তোতো উপদ্রব বাড়তে শুরু করলো – বাসার ভেতর থেকে ছোট ছোট জিনিস উধাও হতে লাগল। যেমন ইরার আর মায়ের নতুন শাড়ি জামা। ময়নার মায়ের মেকআপ বক্স সোনো পাউডার!! পিউলিরর সেলফি স্টিক ৷ আমার জুতা৷ তার উপর দুদিন পর পর ডাইনিং রুমের লাইফ পাল্টাতে হয়। কেন জানিনা সব লাইট ফিউজ হয়ে যায়।

বাড়িতে এমন উপদ্রব দেখে বাবা সেদিন রাতে কোথা থেকে জানি একটা। বোতলে বাবাকে নিয়ে আসলেন বাসাতে৷ উনার নাকি অনেক নামডাক আছে এই এলাকে৷ ভূত ধরে বোতলে বন্ধি করে রাখেন নিজের বাসার গুপ্ত ঘরে৷ প্লাস্টিকের বোতলে রাখেন না৷ প্লাসিকের বোতলে থাকলে ভূতের শরীরে রোগ দেখা দিতে পারে। নোংরা প্লাস্টিকে ব্যাকটেরিয়ায় থেকে প্রচুর।

যাইহোক ” সন্ধ্যায় বুতল বোতলে ফ্লোরে বসে সাধনা শুরু করলেন। ইরা বাবা মা পিউলি সবাই বাবার সাথে বসে আছে। ময়নার মা বোতলে বাবার জন্য রঙচা নিয়ে এসেছে ৷ বাবা নাকি আবার দুধ চা খান না৷ চায়ে বেশি চিনিও পছন্দ করের না। হয়তো ডায়াবেটিস আছে৷

বাবা মন্ত্র তন্ত্র পাঠ করে-করে উনার ব্যাগ থেকে একটা বোতলে বের করে বোতলে খানার ভেতর থেকে একটা ভূত ছেরে দিলেন ঘরের মাঝে ৷ এই ভূত নাকি উনার ইনফরমার৷ নাম পুটলি ভূত। এই ভূত উনি পূর্ণিমা রাতে ডালিম গাছে থেকে ধরের এনেছিলেন ৷ বেশ কয়েক বছর আগে। তারপর বিশেষ ট্রেনিং এর মাধ্যমে এই ভূকে ইনফরমার করা হয়। এখন পুটলি ভূত আমাদের বাসায় থাকবে দু দিন। তারপর ইনফরমেশন জানাবে বোতলে বাবাকে।

পরের দিন সকালবেলা দেখি ময়নার মা খাবার টেবিলে দুধ কলা রেখে দিছে৷ আমি খাবার টেবিলে বসে কলা খাবার জন্য যখনি হাত বাড়ালাম তখনি ময়নার মা বলে উঠল ” ভাইজান কলা আপনার জন্য না। এইটা পুটলি ভূতের। আমি মনার মায়ের কথা শুনে হা৷

আমি ” পুটলি ভূত আবার কলা খায় নাকি?

– – জ্বি ভাইজান। আমি ” কাচা মাছ খান না? জ্বি ভাইজান খায় তবে কম খায় বেশি খেলে কাটা লাগে গলায় তখন আবার কষ্ট হয়। তাই তেমন একটা খায়না৷ আমি ময়নার মায়ের কথা শুনে হা৷ বেশি কিছু আর বলতে পারছি না।

একদিকে ” পুটলি ভূত দুদিন পর কল করলো বোতল বাবাকে৷ কল দিয়ে সব ইনফরমেশন জানালো । তারপর বোতল বাবার কাছ থেকে সব শুনে আমার সবাই ভ্যাবাচ্যাকা। পুটলি জানিয়েছে ‘ আমাদের বাসার এই ভূত নাকি নিয়ম মেনে চলতে বেশি পছন্দ করের ৷ মহিলা ভূত। আমাদের আত্মীয় স্বজনও কেউ হতে পারে। মারা যাবার পর ভূত হয়ে আমাদের বাসায় বেড়াতে এসেছে৷ ৷ ভূত বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। দিনে দু বার বাথরুমে গিয়ে গোসল ও করে । তবে সাবান ব্যবহার করে কিনা তা জানে পুটলি – কারণ মহিলা ভূত গোসলের সময় পুটলি সেখানে উঁকিঝুঁকি মারে না৷

ইভটিজিং এর স্বভাব নেই পুটলি ভূতের।

পুটলি ভূতের ইনফরমেশন পাবার পর থেকে বোতল বাবা প্রায় আমাদের বাসায় এসে মন্ত্র তন্ত্র করে ভূত তারানোর চেষ্টা করতেন ৷ তারপর আমার বাবার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নিয়ে উনি নিজেও উধাও হয়ে গেছেন ৷ মা বেশ কয়েকবার উনার ফোনে কল দিয়ে ফোন বন্ধ পেলেন বোতল বাবার৷

– – সেদিন ভোরবেলা বেশ আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম। তখন হঠাৎ করে মা আমার রুমে এসে কাঁচা ঘুম থেকে টেনে নিয়ে গেলেন ছাদে। আমি ছাদে গিয়ে ভ্যাবাচ্যাকা। দেখি মরা একটা কুকুর পরে আছে ছাদে। কালো কুকুর। বেশ মোটা। মায়ের বক্তব্য এটা ভূতের কাজ ৷ তা না হলে ছাদের উপর মরা কুকুর আসবে কোথা থেকে৷ মায়ের কথা আমি ফেলতে পারছি না৷ ঠিকই তো মরা কুকুর ছাদে আসলো কি করে!! কুকুর মারা যায় রাস্তার মাঝে বা ফুটপাতে৷ ছাদে মারা যাবার তো কথা ও না!

ভূতের এমন উপদ্রবের পর থেকে ” ইরা আর আজকাল শপিং এ যায় না৷ মা আর ময়নার মা ও মুখে ডিম আর চোখে শসা দেয় না। মা এখন সন্ধ্যা হলে নামাজে বসে আল্লাহ আল্লাহ করেন। পিউলি রাত দশটা হলেই খাওয়া দাওয়া করে ঘুম দেয় চুপ করে ভয়ে৷ টিকটক এখন জানালা দিয়ে পালিয়েছে। ময়নার মা এখন ভয়ে পিউলির ঘরে ঘুমায় ফ্লোরে৷

এখন আমি রাত জেগে ফেসবুক চালালে ইরা আর কিছু বলে না। কারণ বোতল বাবা বলেছিলেন ” মহিলা ভূত স্বামী ভক্ত ভূত। স্বামীর সাথে বেয়াদবি ভূত একদম পছন্দ করে না৷ এখন আমি রাতে ফেসবুক চালাই আর ইরা আমার পা টিপে দেয়। তখন পাশের রুম থেকে মায়ের আল্লাহ আল্লহা জিকির এর শব্দ আসে কানে৷ বাসার সবাই নিয়মের ভিতর আসার পর থেকে এখন আর তেমন একটা উপদ্রব করে না ভূত। হয়তো চলে গেছে।

আমি অফিস থেকে ফেরার পথে রাস্তায় ট্রাফিকে পরেছি। আমার পাশের সিটে আমার বন্ধু বদরুল বসে আছে৷ গাড়ির গ্লাস উঠানো। এসি চলছে। অনেক গরম পরেছে বাইরে। তখন একটা মহিলা গাড়ির গ্লাসে হাত দিয়ে কটকট করে শব্দ করে হাতের ইশারায় ভিক্ষা চাইলো। বদরুল তখন বিরক্ত হয়ে বলল ” এই আমাদের দেশের সমস্যা। সব কমে কিন্তু ভিক্ষুক কমে না৷ আমি বদরুলের কথা শুনে মুচকি হেসে গাড়ির গ্লাস নামাতেই মহিলা বলে উঠল ” আল্লাহ ভাইজান আপনি এখানে? না না ভাইজান ভিক্ষা লাগব না। আপনি অনেক ভালা মানুষ। এত দামী দামী শাড়ি জামা কাপড় মেকআপ বক্স দিছেন আমাগো। আর কিছু লাগব না ভাইজান। আল্লাহ আপনার ভালা করুক। এই বলে মহিলা চলে গেল ৷ মহিলার কথা শুনে বদরুল মুখ ভরা হাসি দিয়ে বলল ” দোস্ত ভাবি আর আন্টির সব জামা কাপড় চুরি করে এই মহিলাকে দিয়েছিলি

তবে দোস্ত সব থেকে বড় অবদান কিন্ত আমার। বল কেমন দাড়ি লাগয়ে বোতল বাবা হলাম হা হা হা। তবে একটা কথা বুঝলাম না সন্ধ্যায় তুই শড়ি পরে ময়নার মাকে ভয় দেখিয়েছিলি কিন্তু গভীর রাতে ঘরের ভিতর থেকে হাটা হাটির শব্দ আসতো কোথা থেকে?

আমি ” আরে দূর। এইসব আমার বোন পিউলির কাজ। রাতে কানে হেডফোন দিয়ে টিকটক করে করে লাফালাফি করে। আর সেই শব্দ ময়নার মায়ের কানে আসে। আর ময়নার মা তিলকে তাল করে ফেলে৷ তারপর আর সবাই ঘুমিয়ে গেলে আস্তে করে আমি গিয়ে গ্লাস ফেলে দিতাম ফ্লোরে। বেস কাম তামাম।

বদরুল আমার কথা শুনে হাসছে আর বলছে আর আর রাতে ছাদের হাটাহাটির শব্দ?

– – আমি ” আরে এইসব কিছু না আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের বল্টু নতুন প্রেমে পড়েছে। সারা রাত ছাদে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলে আর এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে লাফালাফি করে। আর যখন ওর গফ রাগ করে তখন চুল টেনে টেনে মেয়েদের মতন কান্না করে। বলে বাবুটা প্লিজ রাগ করো না সোনা। আর সেই কান্নার শব্দ মায়ের কানে আসে৷

আমার কথা শুনে বদরুল হাসতে হাসতে গাড়ির সিটে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর বলছে ” বল্টুরে কেউ অস্কার দেরে। যাক তবে বাসার সবাই শেষমেশ লাইনে তো আসছে হা হা হা।

( সমাপ্ত )

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত