কাশফুলের সাদা মেঘ

কাশফুলের সাদা মেঘ

শরৎ কালের শেষের দিকে! ফারহান পড়ন্ত
বিকেলে নৌকাই বসে আছে,কি সুন্দর
পরিবেশ। এতো বড় নদী, শান্ত আকাশ, নির্মল
বাতাস, ওপারে কাশফুলের বন, মনে হচ্ছে
যেন সাদা মেঘ উঠেছে

কি সুন্দর পরিবেশ, কিন্তু এই পরিবেশে কি
আমি সারাজীবন থাকতে পারবো? পড়া লিখা
শেষ করে আমাকেও হয়তো সবার মতো বড়
শহরে যেতে হবে জীবিকার খোঁজে…
সুখের দিন হয়তো আর বেশি নাই। আর তো এক
বছর, দেখতে দেখতে কতো বড় হয়ে
গেলাম…
বড় শহরে গিয়ে আমাকেও হয়তো তাদের মতো
হতে হবে… সময়ের সাথে সাথে হয়তো
আমাকে বদলে ফেলতে হবে।

কিন্তু আমি তো পারি না, এর আগেও তো
একবার চেষ্টা করেছিলাম, নিজেকে
পাল্টাতে পারিনি।
অবশ্য তখন ছোট বলে কাটিয়ে দিয়েছি, তবে
এখন আর কতো নিজেকে ছোট বলবো?
বাড়ীতে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে
লেগেছে…
মনের মধ্যেকার শৈশবটাকে হয়তো মেরে
ফেলে সামনের জীবনে এগিয়ে যেতে
হবে।

হটাৎ একজন মেয়ের ডাকে চিন্তার দুনিয়া
থেকে বের হল, ফারহান.
এই ছেলে! আমাকে একটু নৌকাই ঘুরিয়ে
নিয়ে আসো তো…
ফারহান, শুধু তাকিয়ে আছে কি মায়াবি
চেহারা মানুষ এতো মায়াবী হয়?

মেয়েতাঃ এই যে চলো

ফারহানঃ কি বলবে? তার যেন সব ভাষা
হারিয়ে গেছে…

মেয়েঃ কি হল, চলো, এই বলে সে নৌকাই
চড়ে বসলো।

ফারহানঃ আমিতো ভালো নৌকা চালাতে
পারি না।

মেয়েঃ তো আমি কি তোমাকে সাত সমুদ্র
পাড়ি দিতে বলছি? একটু নিয়ে চলো, আর
আমি তোমাকে টাকা দিবো,
ফারহান মনে মনে ভাবলো, জীবনে তো আর
গার্ল-ফ্রেন্ড হলো না, আর বিয়ের পর বউকে
নৌকাই নিয়ে ঘুরতে পারবো কি না, ঠিক
নাই। আজ না হয় একটা অপরিচিত পরীকে
নিয়ে একটু ঘুরলাম।
ফারহান নৌকা চালাছে, মেয়েটা জিজ্ঞেস
করলো, তুমি গান গাইতে পারো না?

ফারহানঃ জি না।

মেয়েঃ আমি জিবনেও এতো খারাপ মাঝি
দেখিনি, না ভালো করে নৌকা চালাতে
পারে, না গান গাইতে পারে? আচ্ছা ঐ
পাড়ের ঐ সাদা সাদা ঐগুলো কি?

ফারহানঃ ঐগুলো কাশফুল…

মেয়েঃ জানো আমার কি নাম?

ফারহানঃ জি না! আপনার আব্বুর সাথে তো
দেখা হয় নি, হলে জিজ্ঞেস করে নিবো।

মেয়েঃ তুমি বেশি কথা বলো, আমার নাম
নদী আমার নামটা খুব সুন্দর তাই না?

ফারহানঃ জি, খুব সুন্দর।

নদীঃ আচ্ছা তোমার নৌকা এতো খারাপ
কেন? একটা ভালো জায়গা নাই।

ফারহানঃ মনে মনে বলছে, আগে জানলে তো
আপনার জন্য সোফা নিয়ে আসতাম।

নদীঃ কিছু বললা তুমি ?

ফারহানঃ না কিছু বলি নি।

এরপর নদী শুধু কথা বলেই চলে গেলো, আর
ফারহান শুধু তার দিকে চেয়ে আছে, এক
দিকে সূর্য লাল হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অন্য
দিকে নদীর মায়া ভরা মুখটা যেন থামছেই
না।
নদী কিছু ছবি তুলল তারপর নদী বলল, সূর্য
ডুবে গেছে চলো যায়।
ফারহান তীরে ফিরতে শুরু করলো,

নদীঃ আচ্ছা তোমাদের বাড়ী কি নদীর ঐ
পাড়ে?

ফারহানঃ না এই পাড়ে।

নদীঃ হাতে দেখছি ভালোই দামী ফোন,
মাছ বিক্রি করে অনেক টাকা পাও বুঝি?

ফারহানঃ জি।

নদীঃ আমার জন্য কাল একটা ইলিশ মাছ এনে
দিতে পারবা? টাকা নিয়ে চিন্তা করো না,
যাই দাম হোক, পেয়ে যাবা, ঐ যে নদীর
পাড়ে হলুদ বাড়ী দেখছ, ওটা আমাদের দাদুর
বাড়ী, তুমি কাল সকালে মাছ নিয়ে আসবা।

ফারহানঃ আমি চেষ্টা করবো।

নদীঃ চেষ্টা না আনতেই হবে, তুমি না পেলে
অন্য কারো থেকে নিয়ে আসবা।

ফারহানঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

নদী নৌকা থেকে নামলো, ফারহানকে একটা
পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে বলল, এমনি
তোমাকে বিশ টাকা দেওয়া উচিৎ, তুমি যে
খারাপ নৌকা চালাও। তবে তোমার ব্যাবহার
খুব ভালো তাই তোমাকে পঞ্চাশ টাকা
দিলাম।
কাল সকালে মাছ নিয়ে আসতে ভুলো না
কিন্তু।
এই বলে নদী চলে গেলো।

ফারহান খেয়াল করলো, দূর থেকে এক মানুষ
দৌড় দিয়ে এই দিকে আসছে, কোন হারামি
রে? আমার নৌকা নিয়ে গেছিলো?
কাছে আসার পর, ফারহান বলল, আমি নিয়ে
গেছিলাম।
নৌকার মালিক বলল, ও বাবা, তুমি?
ফারহান নৌকার মালিককে সেই পঞ্চাশ
টাকার নোট দিয়ে বলল রাখেন।

নৌকার মালিকঃ না বাবা, তোমার কাছ
থেকে টাকা নিবো না, তুমি যদি এই
মাছগুলো নাও তবে টাকা নিবো।

ফারহানঃ আচ্ছা ঠিক আছে দেন।

নৌকার মালিকঃ বাবা, না দেখে তোমাকে
গালি দিয়ে দিয়েছি,মাফ করে দিও বাবা
ভুল হয়ে গেছে।

ফারহানঃ হাঁসি মুখে বলল, আমি কিছু মনে
করিনি চাচা
এরপর ফারহান মাছ নিয়ে বাড়ীর দিকে
হাঁটতে শুরু করলো। নদী তার দাদুর বাসাই গেলো, তার চাচী জিজ্ঞেস করলো, কোথাই গেছিলা নদী?

নদীঃ চাচী! নদীতে ঘুরতে গেছিলাম,
চাচী বলল, ঠিক আছে, নাস্তা করে নাও।
নদী নাস্তা করছে তার পাশে বসে আছে তার চাচাতো বোন নিহা।

নদীঃ জানিস নিহা আজ অনেক মজা করলাম, নৌকাই ঘুরেছি।

নিহাঃ আপু, তুমি খুব খারাপ। আমাকে একা রেখে ঘুরে আসলে…

নদীঃ এই দেখ, ছবি তুলেছি…

নিহাঃ হুম, খুব সুন্দর। কিন্ত তোমার পিছনে ঐ ছেলেটা কে?

নদীঃ এটা নৌকার মাঝি। নাম জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি।

নিহাঃ ওটা মাঝি না, ঐ ভাইয়ার নাম ফারহান। ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, মনে হয় ইঞ্জিনিয়ার হবে… খুব ভালো ভাইয়াটা।

নদী কথা গুলো শুনে যেন শক খেয়ে গেলো।
পরের দিন সকালে, কে যেন বাড়ীর বাইরে থেকে ডাক দিচ্ছে, নদীর আব্বু বের হয়ে বলল, জি বলেন, কাকে চাই।
চাচা, এই বাড়ীতে নাকি কেউ ইলিশ মাছ নিবে, তাই আমাকে পাঠানো হয়েছে, আপনি মাছ নিন, আর আমাকে টাকা দিয়ে দিন।

নদীর আব্বুঃ কিন্ত আমরা তো কেউ মাছ চাই নি, নদী বলল, আমি বলেছিলাম, দিন মাছ। আপনাকে কে পাঠিয়েছে।

মাছ ওয়ালাঃ জি ফারহান ভাই, রাতে ফোন করেছিলো, যে বাজারে যদি একটাও ইলিশ আসে সেটা জেনো তার জন্য থাকে।

নদীঃ আপনাকে ফোন করলো আর বিশ্বাস করে নিয়ে নিলেন?

মাছ ওয়ালাঃ ফারহান ভাই যাকেই বলতো সেই নিয়ে আসতো।

নদীঃ আচ্ছা ঠিক আছে, এই নেন টাকা। আর এই পঞ্চাশ টাকা আপনাকে বকশিস।

মাছ ওয়ালাঃ মাফ করবেন! আমি ফারহান ভাইয়ের জন্য এখানে এসেছি, আপানার টাকা লাগবে না।

নদী ভাবলো ভালোই প্রভাব আছে ফারহানের… কিন্তু কিসের এতো প্রভাব তার বাবার কি অনেক টাকা?
নদীর চাচী জিজ্ঞেস করলো, তুমি ফারহানকে কিভাবে চিনলে?
নদী বলল, কাল বিকেলে নদীর পাড়ে দেখা হয়েছিলো, আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো নৌকার মাঝি, তাই তাকে মাছ দিতে বলেছিলাম।
আচ্ছা চাচী, ফারহানের বাবার কি অনেক টাকা? সবাই তার কথা শুনে কেন?

চাচিঃ না তা না, ফারহান খুব ভালো ছেলে। সবাই তাকে খুব ভালোবাসে আর বিশ্বাস করে… তাই তো এই অল্প বয়সেই সে সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে…
টাকা দিয়ে না ভালো বাসা আর ভালো ব্যাবহার দিয়ে। আর সেও সবাইকে সম্মান করে আর সবার কথা শুনে।
বিকেলে নদী, নিহা আর নিহার আম্মু হাঁটছে। নিহার আম্মু বলছে, নদী ঐ দেখো ওটাই ফারহানদের বাড়ী। যাবা তুমি?
ফারহানের আম্মু বাসার সামনেই ছিল।

নিহার আম্মুঃ আসসালামু।। আপা কেমন আছেন?

ফারহানের আম্মুঃ ভালো তুমি কেমন আছো? নিহার পড়াশুনা কেমন চলছে?

নিহার আম্মুঃ জি আপা ভালো, নিহা একটুও পড়ে না শুধু দুষ্টুমি।

ফারহানের আম্মুঃ এই মেয়েটা কে? আসো বাসাই আসো?

নিহার আম্মুঃ এটা আসলাম ভাইয়ের মেয়ে। পরীক্ষা শেষ করেছে তাই ঘুরতে এসেছে। আপা, ফারহান কই দেখতে পাই না?

ফারহানের আম্মুঃ ফারহান বাসাই নাই… এজন্য ভাবছি ওর বিয়ে দিয়ে দিবো। একটা মেয়ে খুঁজে দাও তো… পড়া লিখা করলে সমস্যা নাই আমরা পরাবো।

নিহার আম্মুঃ আচ্ছা আপা, দেখবো।
এর পর ফারহানের আম্মু আর নিহার আম্মু গল্প করছে,
নদী এর মাঝে ফারহানের ঘরটা ভালো করে দেখে নিলো,
কি আগছালো ছেলে রে বাবা! বিছানাই ল্যাপটপ, ঘরে মনে হয় ১০ জায়গাই কলম পড়ে আছে।। কতো খাতা-বই…
দেখছি কিছু চাকুরীর বই। তারমানে চাকুরীর চেষ্টা করছে, এটা তো সবাইকে করতে হবে।
হাদিস-কুরআনের বইও তো দেখছি অনেক, বাপরে, এটা ঘর নাকি লাইব্রেরী।
শোফার ওপর যাই-নামায, আর জামা কাপড়ের তো ঠিক নাই, কোথাই কোনটা পড়ে আছে।

ফারহানের আম্মুঃ কিছু মনে করো না তোমরা। আমি একা হাতে কতো সামলাবো,

নিহার আম্মুঃ না আপা ঠিক আছে, আর তো কয় দিন, ফারহানের বউ আসলে আর আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।

ফারহানের আম্মুঃ এজন্য তো আগেই বিয়ে দিতে চাচ্ছি।

নদী ভাবলো সত্যি ফারহানের বিয়ে দেওয়া উচিৎ।
কিছুক্ষণ পর তারা ফারহানের বাসা থেকে বের হয়ে গেলো…
নিহার আম্মু জিজ্ঞেস করলো, কিরে নদী, শ্বশুর বাড়ী পছন্দ হল?
নদী লজ্জা পেয়ে বলল, চাচী আপনিও শুরু হয়ে গেলেন…
নিহার আম্মু বলল, আমি শয়তানি করছি না, ফারহানের মতো ভালো ছেলে খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল। আর তার আব্বু আম্মুও অনেক ভালো। অনেক আদরে থাকবা তুমি, নিহার বড় হলে আমি নিহার সাথেই ফারহানের বিয়ে দিতাম।
নদী ভাবলো, চাচী খারাপ কিছু বলে নি, ছেলেটা অতো খারাপ না

পরদিন সন্ধাই নদীর আম্মু, চাচা-চাচী একসাথে বসে গল্প করছে…

নদীর চাচীঃ আচ্ছা ভাবী, আপনারা কি নদীর বিয়ে দিবেন…?

নদীর আম্মুঃ ঐ রকম ভালো ছেলে পেলে দিয়ে দিবো।। তবে নদীর পড়াটা জেনো চলতে থাকে, সে দিকটাও দেখতে হবে।

নদীর চাচীঃ আমার জানা শুনা একটা খুব ভালো ছেলে আছে।।

নদীর আম্মুঃ দাড়াও তোমার ভাইকে বলি, এই শুনছো তোমারা, সারা দিন শুধু কি ব্যাবসা নিয়ে পড়ে থাকবা? একটু এইদিকে আসো তো।

নদীর চাচাঃ ভাইয়া চলেন যাই। ভাবী ডাকছে,

নদীর আম্মুঃ এই নদীর আব্বু সায়মা বলছে, নদীর জন্য নাকি একটা জানা শুনা ভালো ছেলে আছে।

নদীর আব্বুঃ ছেলে কি করে?

নদীর চাচীঃ ছেলে ভাই ইউনিভার্সিটিতে শেষ বছের পড়ছে।।

নদীর আব্বুঃ বেকার ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিবো?

নদীর চাচীঃ ভাই, আপনার তো অনেক ব্যাবসা, যদি কোন চাকুরীজীবী ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন,
তবে আপনার ব্যাবসা কে দেখবে? তার চাইতে বেশি ভালো হয় না কি একটা ভালো ছেলে খুঁজে নদীর বিয়ে দিতে,
ফারহান ছেলেটা খুব ভালো, আমার মনে হয় ফারহানের থেকে ভালো ছেলে আর আপনি খুঁজে পাবেন না,
আর আপানার তো ব্যাবসা দেখার জন্য ভবিষ্যতে কাউকে প্রয়োজন হবে। আমি কিছু ভুল বললে আমাকে মাফ করবেন।

পরের দিন।

নদীর আম্মুঃ নদীর আব্বু! কি সিদ্ধান্ত নীলা তুমি?

নদীর আব্বুঃ আমিও ভাবছি, আমিও আজকে ফারহান আর তার পরিবারের খোঁজ খবর নিলাম, সবাই ভালোই বলল, কিন্তু সে কি ব্যাবসা করতে পারবে? যদি সে ব্যাবসা করতে না চাই।

নদীর আম্মুঃ আমার মাথাই একটা পরিকল্পনা আছে, তুমি তাকে একটা চাকুরী দাও, এমন একটা পোস্ট দাও যাতে সে তাড়াতাড়ি ব্যাবসাটা বুঝতে পারে, আর তার পড়াটাও জেনো চালাতে পারে।
তারপর যদি তোমার মনে হয় সে আমাদের জামাই হবার যোগ্য তবে তাদের বাড়ীতে আমরা বিয়ের প্রস্তাব দিবো।

নদীর আব্বুঃ কথাটা খারাপ বলো নি। আমি কাল সকালে ফারহানের আব্বুর সাথে কথা বলবো।

পরের দিন, নদীর আব্বু ফারহানের আব্বুর সাথে কথা বলল , যে আমার একটা বিশ্বস্ত ছেলের দরকার, যে আমার ব্যাবসা চালাবে,
ফারহানের আব্বু বলল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে আপনি আমার ছেলেকে এতো ভরসা করেছেন, কিন্তু সে তো পড়াশুনা করছে,
নদীর আব্বু বলল, আমি জানি, আর তার পড়ার কোন ক্ষতি হবে না, সে ইচ্ছা মতো চাকুরী করবে…
ফারহানের আব্বু বলল, ঠিক আছে ভাই, আমি ছেলের সাথে কথা বলে আপনাকে বিকেলে পাঠাচ্ছি।
ফারহানের আব্বু ফারহান কে সব বলল, ফারহান যতটা না খুশি হয়েছিলো চাকুরীর কথা শুনে তার চাইতে বেশি খুশি হয়েছিলো এটা নদীর আব্বু বলেছে এজন্য।
সে একটু চাকুরী না করার ভান করলো যে সে তো পড়বে, তার আব্বু বলল, আসলাম ভাই বলেছে তোমার পড়ার কোন ক্ষতি হবে না, তুমি বাবা না বোলো না, বিকেলে আসলাম আংকেলের বাসাই যাও।
কিন্তু ফারহানের জেনো বিকেল হয় না
ফারহান ভাবলো নদীদের বাসাই গেলে নিশ্চয় সে নদীকে দেখতে পাবে, তাই সে খুব ভালো করে সেজে গুজে তাদের বাসাই গেলো।

ফারহানঃ আসসালামু। আংকেল।
নদীর আব্বুঃ হাঁ ফারহান, আসো। খুব স্মার্ট হয়েই এসেছো দেখছি।

ফারহানঃ আপনি নাকি আমাকে চাকুরী দিবেন, তাই ইন্টারভিউ দিতে এসেছি, এই নেন, আমার সার্টিফিকেট আর আমার কিছু কাগজ পত্র।

নদীর আব্বু, তোমার কোন কাগজ দিতে হবে না, আর ইন্টারভিউ দিতে হবে না, বোলো বেতন কতো নিবা?

ফারহানঃ আপনি যেটা ভালো মনে করেন দিবেন।

নদীর আব্বুঃ তোমাকে প্রথমে ৬০০০ টাকা বেতন দিবো, আর প্রতিদিন দুপুরের খাবারের জন্য ১০০ করে টাকা দেওয়া হবে। আর তুমি সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কাজ করবা,
যদি খুব বেশি প্রয়োজন থাকে তবে তোমাকে ৩ টার পরে অফিসে রাখবো, তবে এর জন্য তোমাকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হবে। আর পরীক্ষার ৩ দিন আগে থেকে তোমার ছুটি দেওয়া হবে।
৬ মাসে তুমি যদি অফিসের সব কাজ শিখে যেতে পারো, তবে তোমার প্রোমোশন করে দিবো, আর বেতন ও ১০০০০ করে দিবো।

এখন বোলো তুমি কি রাজী আছো?
ফারহান তো মনে মনে অনেক খুশি, সব থেকে বড় কথা, সে নিজ শহরেই কাজ করতে পাচ্ছে।
ফারহান বলল, আংকেল আমি রাজী আছি।
নদীর আব্বুঃ ঠিক আছে তুমি সামনের সপ্তাহে আমার অফিসে আসো।
নদী নাস্তা দিয়ে গেলো, ফারহান নাস্তা করে চলে গেলো।
নদী তার আব্বুকে জিজ্ঞেস করলো? আব্বু, ৬০০০ টাকা বেতন খুব কম হয়ে যাচ্ছে না ১০০০০ হলে ভালো হতো
নদীর আব্বু হাসতে লাগলো। পাগলি মেয়ে কয়েক দিন যাক সে ভালো করে কাজ শুরু করুক, আমি তার বেতন বাড়িয়ে দিবো।

নদীর আব্বু মনে মনে ভাবলো, এই সব কিছুই তার যদি সেই যোগ্যতা তার থাকে  দিন কাল ভালোই যাচ্ছিলো ফারহানের, সে
যেরকম চাকুরী খুজছিল ঠিক সে রকম ছিল
তার চাকুরী, যদিও তার মাঝে মাঝে বাসাই
ফিরতে রাত ১২ টা বেজে যায়, কিন্তু তার
মনে দুঃখ নাই,
আসলাম আংকেল তার বদলে তাকে যথেষ্ট
পরিমাণ সম্মানী দেই।
ইদানিং ফারহান একটা জিনিস খেয়াল
করছে, আসলাম আংকেল তাকে কিছু
অফিসের মিটিং-এ একাই পাঠাচ্ছে, হয়তো
তাকে পরীক্ষা করছে,

নদীর আম্মুঃ কি গো, ফারহান অফিসের কাজ
বুঝতে পারছে?

নদীর আব্বুঃ আমি যতটা ভেবেছিলাম,
ফারহান তার অনেক আগেই অফিস সামলে
নিবে। মানুষ চিনতে আমার ভুল হলেও তার ভুল
হয় না,

কয়েক দিন আগের কথা, আমার এক ব্যাবসার
পাটনার আমাকে ফোন করে বলল, আসলাম
ভাই এই ছেলেটা আপনার কে হয়? আমি
বললাম, আমার ভাতিজা।
তখন সে কি বলল জানো? বলল, এই ছেলে যদি
আপনার কোম্পানিতেই থাকে, তবে
আপনাকে ছাড়াই অনেক দূর যাবে, সবার
নজরে পড়ে গেছে, একটু বেতনটা বাড়িয়ে
দেন।

নদীর আম্মুঃ তাহলে কি তাকে তুমি আমাদের
জামাই বানাবে?

নদীর আব্বুঃ আর ৪ মাস পর ফারহানের
পড়াশুনা শেষ হবে তারপর তাদের বিয়ে
দিবো।

কথা গুলো আড়াল থেকে নদী সব শুনল, তার
অনেক ভালো লাগলো যে ফারহান তার
স্বামী হবে।
এর পর থেকে নদী একটা গোপন নাম্বার
কিনে ফারহানকে জালাতে শুরু করলো,
ফারহান অবশ্য এসবে মন দিত না, কিন্তু নদী
জানতে চাই সে কি কাউকে ভালোবাসে?
আর যদি বাসে তবে সে কে? একদিন দুপুরে আসলাম সাহেব দুপুরে বসে
খাচ্ছে।

নদীর আম্মুঃ একটা কথা বলবো? রাগ করবা
না তো?

নদীর আব্বুঃ বলো।

নদীর আম্মুঃ আজ তো নদী রান্না করেছে,
তুমি যদি কিছু মনে না করো, তবে ফারহানের
জন্য একটু প্যাকেট করে দেই?
নদীর আব্বু কিচ্ছুক্ষণ নদীর আম্মুর দিকে
তাকালো তারপর বলল দাও।
নদীর আম্মু পাশ থেকেই টিফিন বক্স তুলে
বলল এই নাও।
নদীর আব্বু হেসে বলল, ও, সব কিছু আগে
থেকেই রেডি?

আসলাম সাহেব অফিসে গেলো ফারহানকে
ডেকে বলল, এই নাও। তোমার চাচী তোমার
জন্য পাঠিয়েছে, খেয়ে নাও। কিছুদিনের পরের ঘটনা!
ফারহান অফিসের কাজ নিয়ে ব্যাস্ত।
ফারহানের ফোন ভুল করে আসলাম সাহেবের টেবিলে রেখে এসেছে।

আসলাম সাহেব দেখলও ফারহানের ফোনে
একটা ম্যাসেজ আসলো, অন্য কোন কর্মচারী
হলে হয়তো আসলাম সাহেব এই সব নিয়ে
মাথা ঘামাতো না কিন্তু ফারহান তার
ভবিষ্যৎ জামাই।
কিন্তু ম্যাসেজ থেকে তার চোখ কপালে
উঠে গেলো।
ম্যাসেজে লিখা ছিল, ” ফারহান, আমি
তোমাকে অনেক ভালোবাসি, কখন আমাকে
বিয়ে করবা বলতো?”

আসলাম সাহেব চিন্তা করলো, তাহলে কি
ফারহানের সাথে কোন মেয়ে সম্পর্ক আছে?
তাহলে সে আমাকে কেন বলল, যে কোন
মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক নাই।
আর এখন যদি তাদের বাড়ীতে বিয়ের
প্রস্তাব দেই তবে যদি ফারহান আমার
মেয়েকে বিয়ে করলেও তো সেটা
ভালোবেসে না, আমার টাকার জন্য ফারহান
বিয়ে করবে?
না, এখনও দেরি হয়নি এখুনি এর একটা
ব্যাবস্থা করতে হবে।

পর দিন ফারহান অফিসে আসা মাত্রই
আসলাম সাহেব তার রুমে ডাকলো,
ফারহান যাওয়া মাত্রই ফারহানকে বলল,
আমি তোমাকে কোন কারণ বশত আর অফিসে
রাখতে পারবো না, এই নাও তোমার ছাড়পত্র,
আর খামের মধ্যে এক লক্ষ টাকার একটা চেক
আছে, এতে তোমার পড়াশুনার সব খরচ হয়ে
যাবে।
ফারহানের চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো,
তার চারপাশটা কেন জানি অন্ধকার হয়ে
গেলো।
এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ফারহান আসলাম
সাহেব কে স্যার বলল,

ফারহানঃ স্যার! আমার দোষটা কি ? আমি
কি সেটা জানতে পারি?

নদীর আব্বুঃ তুমি সেটা ভালো করেই জানো,
এমন কিছু যা আমি জানতাম না, কাল
জেনেছি।

ফারহান মনে মনে ভাবল, অনেক আগেই
আসলাম আংকেল জিজ্ঞেস করেছিলো যে
সে কাউকে ভালোবাসে নাকি? কিন্তু
ফারহান সে দিন কিছু বলে নি। তাহলে কি
আসলাম আংকেল জেনে গেছে যে সে
নদীকে ভালোবাসে, কিন্তু সে তো কাউকে
কিছু বলেনি, এমন কি নদীকে ও কোন দিন
কিছু বলেনি।
ফারহান আর কিছু বলল না, চেকটা টেবিলের
ওপর রেখে চুপ করে চলে আসলো।

কয়েক দিন পর,

নদীর আম্মুঃ কি গো, ফারহানের পরীক্ষা
শেষ হল, কবে যে ছেলেটাকে জামাই
বানাবো?

নদীর আব্বুঃ সে আর আমাদের জামাই হবে
না।

নদীর আম্মুঃ কেন কি বলছ এসব?

নদীর আব্বুঃ কারণ তার একটা অন্য মেয়ের
সাথে সম্পর্ক আছে।

এতক্ষণ নদী পিছন থেকে সব শুনছিল, এবার
সে বের হয়ে বলল, মেয়েটার নাম কি?
নদীর আব্বু, না মানে, আমি মেয়েটার নাম
জানি না, এক দিন, ফারহানের ফোনে একটা
ম্যাসেজ আসলো, সেখানে লিখা ছিল, ”
ফারহান, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,
কখন আমাকে বিয়ে করবা বলতো?”
নদীর কথা গুলো কেন জানি পরিচিত মনে হল,
নদী, আব্বু, তোমার কাছে সে নাম্বার টা
আছে,
নদীর আম্মুঃ হাঁ আছে, এই দেখো।
নদী, নাম্বার দেখে কাঁদতে লাগলো, আব্বু
এই নাম্বার টা তো আমার, আমি এই নাম্বার
থেকে ফারহান কে জালাতাম, কিন্তু সে বার
বার বলতো, আমি জেনো তাকে না জালাই।

নদীর আব্বু, তাহলে আমি এ কি করলাম, মানুষ
চিনতে এতো বড় ভুল করলাম আমি?
আসলাম সাহেব জোরে করে রফিক, রফিক
বলে ডাক দিলো।
রফিকঃ জি স্যার।
আসলাম সাহেবঃ তাড়াতাড়ি গাড়ি বের
করো। ২ মিনিট। এই তোমারা এই ভাবেই বের
হও।
ঘণ্টা খানিকের মধ্যেই তারা ফারহানদের
বাড়ীর সামনে চলে আসলো।
আসলাম গাড়ি থেকে নেমেই ফারহান বলে
ডাক দিলো, কিন্তু ফারহান বের হল না,
ফারহানের আম্মু বের হয়ে বলল, আরে আসলাম
ভাই, কেমন আছেন? আসেন বাড়ীতে, ফারহান
তো বাড়ীতে নেই, আমি কাউকে দিয়ে
ডেকে পাঠাচ্ছি।
নদী বলল, তোমরা বাসাই যাও আমি আসছি।
এই বলে সে নদীর পাড়ে হাঁটা দিলো। দূরে
একটা নৌকাই কেউ জেনো শুয়ে আছে।
সে জোরে দৌড় দিলো, হাঁপাতে হাঁপাতে
গিয়ে দেখলো এটা ফারহান আর সেই নৌকা?
যেঁটাতে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো?

নদীঃ এই ছেলে! আমাকে নৌকাই ঘুরাবা,
আমি টাকা দিবো?
ফারহান চোখ তুলে তাকালো, আরে এটা তো
নদী!
ফারহান বলল, আমি নৌকা চালাতে ভুলে
গেছি।
নদী ফারহানের হাতটা ধরে বলল, আগে
বাসাই চলো, তারপর নৌকাই ঘুরবো?

ফারহানঃ বাসাই কেন যাবো?

নদীঃ আব্বু আম্মু এসেছে, আজ আমাদের
বিয়ে দিবে
সন্ধাই ফারহান- নদীর বিয়ে হয়ে গেলো,
রাতে নদী বাসর ঘরে বসে আছে। ফারহান
আসলো।

নদীঃ নদীতে চলো, নৌকাই ঘুরবো?

ফারহানঃ কি? এখন? মাথা খারাপ?

নদীঃ হ্যাঁ, এখুনি।।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত