নীল পদ্মের কাঁটা

নীল পদ্মের কাঁটা

আবির ইউনিভার্সিটিতে নতুন, নতুন পরিবেশ,
বন্ধুও কম তাই খুব শান্ত হয়েই থাকতে হয়
চেষ্টা করছে নতুন পরিবেশে নিজেকে
মানিয়ে নিতে,
তার ওপর আজ নাদিয়ার জন্য তাকে স্যারের
কাছে বকা খেতে হল, কিন্তু অংকের
খাতাতো সেও জমা দিল না তবে তাকে কেন
স্যার বকা দিল না।

আজব আমাদের পরিবেশ।
নাদিয়া! খুব চালাক একটা মেয়ে। ধনী
পরিবারের বলা যায়, এক মেয়ে তাই যা চাই
তাই পাই, তবে যেমন সে পড়ালেখাই ভালো,
তেমনি নাচ, গান, কথা বার্তাই প্রথম।
খুব কম মানুষ আছে যে নাদিয়াকে ভয় করে
না, নাদিয়ার একটা গ্রুপ আছে। এছাড়া
ক্লাসের ক্যাপ্টেন সে, গতকাল ক্লাসের
ফাকে নাদিয়া যেন কি বলছিল,
কিন্তু আবির সে দিকে মন না দিয়ে কিছু
অংকগুলো করছিলো, এতেই নাদিয়া রাগ
করে আবিরের খাতাটা কেড়ে নেয় তাই
আবির আজ আর অংক খাতা জমা দিতে
পারে নি,

কিন্তু নাদিয়া খাতা জমা না দিলেও স্যার
কিছু বলল না, শুধু বলল পরে দিয়ে দিও।
যায়হোক এসব ঝামেলাই জড়াতে চাই না,
মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আবিরের ঝামেলাই
পড়লে কোন মামা-চাচা নাই যে সামলাবে,
আর নাদিয়ার যে কতো ক্ষমতা সেটা কয়কে
মাসেই আবির বুঝে গেছে।
কিছু দিন পরের ঘটনা!
এই ছেলে শোন, তোমার নামটা যেন কি?
জি আমার নাম আবির।

নাদিয়া বলল, আজ আমার জন্মদিন, আমাকে
শুভেচ্ছা দিবা না?
আবির বলল, শুভ জন্ম দিন
নাদিয়া বলল, বন্ধুকে খালি হাতে শুভেচ্ছা
দিবা?কিছু দিবা না,
আবির বলল, এখন তো আমার কাছে কিছু নাই,
কাল দিবো।
নাদিয়া বলল, জন্মদিন তো আজ, কাল নিয়ে
কি হবে, চলো সামনের ক্যাফেতে যায়।
বাধ্য হয়ে আবিরকে যেতে হয় নাদিয়া তার
বন্ধুদের নিয়ে গেলো।

কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে এসে বিল দিয়ে
গেলো, মোট বিল-৯৯৫ টাকা। অনেক বেশি
না হলেও, আবিরের কাছে এটা অনেক বেশি
পকেটে ১০০০ টাকা আছে,
এটা দিয়ে মাসের আরও ১০ দিন চলতে হবে,
কি আর করার সে ১০০০ টাকা দিয়ে চুপ করে
বের হয়ে চলে আসে।।

২ দিন থেকে নাদিয়া আবিরকে দেখতে
পাচ্ছে না, গাধাটা গেলো কয়? কাল
ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে খোঁজ করতে হবে,
পরের দিন! না আজকেও আবির আসে নি,
নাদিয়া কয়েকটা ছেলেকে জিজ্ঞেস
করলো কিন্তু কেউ খোঁজ দিতে পারলো না,
অবশেষে তার একজন বন্ধু বলল, তার কাছে
নাকি ১০০০ টাকা ছিল, কিন্তু সেটা হারিয়ে
গেছে, তার আর মেসে থাকার মতো টাকা
নাই,
তাই সে কিছু দিন বাড়ীতে থেকে তারপর
আসবে, এমন কি বাড়ী যাবার সময় টাকা ধার
করে সে যায়।

কথা গুলো শুনে নাদিয়ার চোখ দিয়ে যেন
পানি বের হয়ে যায়, ছেলেটাকে সেই প্রথম
থেকে জালাছে, কিন্তু কোন দিন সে
প্রতিবাদ করে নি…
সত্যি ১০০০ টাকাটার আসল মূল্য কতো আজ সে
বুঝলো
কয়েক দিন পর, প্রতিদিন নাদিয়া আবিরের
খোঁজ নেই. খবর পেলো আবির নাকি
বিকেলে ক্যাম্পাসে এসেছে, নাদিয়া
আবার ক্যাম্পাসে গেলো,
একজনকে দিয়ে আবিরকে ডেকে পাঠালো,
আবির আসলো, নাদিয়া বলল, কেমন আছো?

আবিরঃ ভালো, তুমি?

নাদিয়াঃ আবির আমি তোমাকে
ভালোবাসি।
আবির হাসতে লাগলো…

নাদিয়াঃ আবির হেসো না, আমি সত্যি
বলছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।

আবিরঃ দেখো নাদিয়া দয়া করে, এমন কোন
স্বপ্ন দেখা ঠিক না যা কোন দিনও বাস্তবে
সম্ভব না, মদ্ধবিত্ত পরিবারের আমি ছেলে,
আমার ওপর অনেক দায়িত্ব, বাবা মা অনেক
কষ্ট করে আমাকে মানুষ করছেন,
তোমার একদিনের ক্যাফের খরচ আমার ১৫
দিনের মেসের বিল আমাদের মতো
ছেলেদের ভালোবাসা কথাটা দিবা-সপ্নের
মতো। আমাকে মাফ করে দাও.

নাদিয়াঃ দেখো আবির আমি তোমাকে
সত্যি ভালোবাসি, আর আমি তোমাকে
বিয়ের আগে তোমার কাছ থেকে কোন দিন
কিছু চাইবো না।

আবিরঃ সেটা না, আমারও তো কিছু দিতে
ইচ্ছা করবে কিন্তু আমার পক্ষে কিছু দেবা
সম্ভব না,

আর তাছাড়া আমি এমন মেয়েকে জীবন সাথী
হিসাবে পেতে যায় যে শান্ত আর পর্দাশীল
যাকে দেখলে বুঝা যায় যে সে মেয়ে,
আর তুমি শান্ত আর পর্দাশীল থেকে যে কতো
দূরে তুমি সেটা ভালো করে জানো…
তোমাকে তো স্যারও দেখলে ভয় পায়…তুমি
আমার জন্য একটা কাজ করবা?
নাদিয়াঃ বল, তোমার জন্য সব করবো।
আবিরঃ কাল থাকে তুমি আর আমার সামনে
না আসার চেষ্টা করবা, আর এই কথা আর
কেউ যেন না জানে
এরপর আবির চলে যায় নাদিয়া যে কাঁদছে
সে একবার ফিরেও দেখলও না।

সেই ঘটনাটার পর থেকে নাদিয়া আবিরের
সামনে খুব কম আসতো…দেখা হলেও কিছু না
বলে চলে যেতো। এসব নিয়ে আবির মাথা
ঘামাতো না,
কিন্তু এসব পরিবর্তন কিছু মানুষের চোখ
এড়ায় নি।
যায় হোক, এভাবে দেখতে দেখতে ৩ বছর
পার হয়ে গেলো। নাদিয়া আবিরের খোঁজ
খবর নিলেও আবির নাদিয়ার কোন খোঁজ খবর
নিতো না,
এরই মধ্যে শেষের বছর পরীক্ষা শেষ হয়ে
গেলো। এখন নাদিয়া আর আবিরের খোঁজ খবর
পাই না,

ইউনিভার্সিটি শেষ হয়ে গেছে ফলাফল ও
এসে গেছে, বরাবরের মতো নাদিয়ার
ফলাফল ভালো, কিন্তু আবিরকে তো সে
দেখতে পেলো না,
আজ ভেবেছিল সে আবিরের সাথে কথা
বলবে কিন্তু হল না।
কিছু দিন পর, নাদিয়া সকালের নাস্তা
করছে,তার আব্বু তাকে বলল,
নাদিয়া, আমি এবার চাই যে আমি তোমার
বিয়ে দিবো, ২ বছর থেকে তুমি না বলছো
কিন্তু এবার তোমাকে রাজী হতে হবে,
আমি জানি তুমি আবিরের জন্য অপেক্ষা
করছো, আমি জানিনা ছেলেটা কেমন?

কিন্তু তোমার মধ্যে আমারা যে সব পরিবর্তন
দেখেছি তাতে আমি আর তোমার আম্মু
অনেক খুশি, আমি এবার হাজ্জে যাবার
আগেই তোমার বিয়ে দিতে চাই,
তুমি যদি এই ৩ মাসের মধ্যে আবিরকে খুঁজে
বের করতে পারো, তবে আমি ওয়াদা করছি
সে বেকার হলেও আমি তোমার সাথে তার
বিয়ে দিবো,
কিন্তু তোমার হাতে সময় ৩ মাস।

নাদিয়া পাগলের মতো আবিরকে খুজতে
লাগলো, এভাবে প্রায় ১ মাস পার হয়ে
গেলো,
একদিন দুপুরের সময় নাদিয়া বাড়ীর দিকে
যাচ্ছিলো, হটাৎ একটা ছেলের সাথে দেখা,
কোলে একটা পিচ্চি বাচ্চা বাম পার্শে
একটা বোরখা পরা খুব সুন্দর মেয়ে…
নাদিয়া দূর থেকে দেখে, কিছুটা দৌড় দিয়ে
ছেলেটার সামনে গেলো,

নাদিয়াঃ আপনি সাকিল ভাইয়া না?

সাকিলঃ হাঁ আমি সাকিল, কিন্তু আপনি কে?
নাদিয়া তার বোরখার হিজাব থেকে মুখ বের
করে বলল আমি নাদিয়া, চিনতে পেরেছেন?
সাকিল খানিকটা শক, খেয়ে গেলো…। যে
মেয়ে স্যালোয়ার- কামিজ পড়তো না, আর
আজ সে বোরখা তাও আবার মুখ ঢেকে?
সাকিল বলল, ও হাঁ, চিনতে পেরেছি, কেমন
আছো তুমি?
জি ভালো, ভাইয়া আমি একটা বড় বিপদে
পড়ে গেছি, আমার উপকার করবেন?

সাকিলঃ বল, দেখি তোমার জন্য কি করতে পারি?

নাদিয়াঃ আমাকে যে ভাবেই হোক
আবিরের ঠিকানাটা দিন, আচ্ছা সে কি
বিয়ে করেছে?

সাকিলঃ আমিও তার ব্যাপারে খুব একটা
জানি না, তবে মন খারাপ করো না আমি
ব্যাবস্থা করছি,
সাকিল কয়েক জায়গায় ফোন করলো এক
জন বলল ১ ঘণ্টার মধ্যে সে খবর দিবে।
সাকিল বলল, নাদিয়া আসো আমরা একটা
রেস্টুরেন্টে কিছুক্ষন বসি।
নাদিয়াঃ না ভাইয়া যোহরের সময় হয়ে
গেছে, আমাকে বাসাই গিয়ে নামাজ পড়তে
হবে, আপনি আমার নাম্বারটা নিন, আমাকে
ফোন করে বলে দিয়েন।।

এই বলে নাদিয়া চলে গেলো,
এতক্ষণ পর সাকিলের বউ বলল মেয়েটা কে?
আর তুমি দেখে তাকে চমকে গেলা কেন?
সাকিল বলল, মেয়েটা আমাদের ২ ব্যাচ
জুনিয়ার, মেয়েটা খুব জেদি আর রাগী,
ইউনিভার্সিটিতে ভালোই নাম ছিল তার,
এমন কি আমাদের টিচার গুলো তাকে কিছু
বলতো না, কিন্তু আজ সে মেয়ের এতো
পরিবর্তন দেখে চমকে গেছি।
আর আবির কে?
আবির তার সাথেই পড়তো, ভালোই ছেলেটা,
কিন্তু ওকে কেন খুজছে সেটা বলতে পারবো
না,

তবে একবার শুনছিলাম যে নাদিয়া নাকি
আবিরকে পছন্দ করে… কিন্তু আমি সেটা
ইয়ারকি মনে করেছিলাম,
কিছুক্ষন পর সাকিল আবিরের ঠিকানা
পেয়ে নাদিয়াকে ফোন করে, সে ঠিকানা
দিল, আর বলল, আবির বিয়ে করেনি কিন্তু
তার নাকি বউ খুজছে,
যে কোন সময় বিয়ে হয়ে যেতে পারে, যা
করার তাড়াতাড়ি করো, আর যদি কোন হেল্প
লাগে তবে ফোন দিও।

নাদিয়া আবিরের ঠিকানা পেয়েই তার
আব্বুকে ফোন করলো, আব্বু, তাড়াতাড়ি
বাসাই চলে আসো,
কেন আম্মু, আমিতো অফিসের কাজে খুব
ব্যাস্ত, একটু পর মিটিং আছে,
আব্বু, আবিরের খোঁজ পেয়েছি,
কি? সত্যি? আমি এখুনি আসছি,
নাদিয়ার আব্বু বাসায় এসে আবিরের খোঁজ
পেয়েই বলল, রেডি হও সবাই, সবাই যাবো
আবিরের বাসা…
২ ঘণ্টার মধ্যেই নাদিয়া আবিরের
গ্রামে চলে গেলো, একটা মানুষ আবিরের
বাড়ী দেখিয়ে বলল,
ঐ যে ওইটা আবিরদের বাড়ী, নাদিয়ার আব্বু
গাড়ি থামালো,

বাড়ীর বাইরে থেকে ডাক দিতেই আবিরের
বাড়ীর এক পিচ্চি আসলো, কিন্তু বাড়ীর
ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখল, অনেক মানুষ,
যাইহোক আবিরের আব্বু এসে বলল আমি
আবিরের আব্বু। বলেন কি বলবেন? আপনি কে?
তারপর নাদিয়ার আব্বু তার পরিচয় দিল,
তারপর সব কথা খুলে বলল,
বলল ভাই, আবিরকে আমি দেখিনি, আমি
তাকে চিনিও না, কিন্তু আমার মেয়ে তাকে
খুব ভালোবাসে,
আমার মেয়ে অনেক রাগী ছিল একটা
মেয়ে বলে আমরা ওকে অনেক ভালবাসতাম
সে যা চাইতো সব দিতাম,
কিন্তু মাঝে মাঝে নিজেকেই খুব খারাপ
লাগতো, বেশি আদর দিয়ে হয়তো মেয়েটাকে
হয়তো নষ্ট করে দিচ্ছি।।

এমন কেউ নাই যে তাকে ভয় করতো না
কিন্তু সে মেয়ে আজ এতো শান্ত যে মাঝে
মাঝে মনে হয় সত্যি এটা আমার সেই আগের
মেয়েতো?
যে মেয়ে ছোট থেকে জিন্স-টপ ছাড়া কিছু
পড়েনি সে মেয়ে বোরখা ছাড়া এক পা
কোথাও বের হয় না
এতো কিছু আমার মেয়ের জীবনে চেঞ্জ শুধু
নাকি আবিরের জন্য?
তাহলে আমি কেন এইরকম ছেলের সাথে
আমার মেয়ের বিয়ে দিবো না?

ভাই! আবির যদি বেকারও হয় তবু আমি
আবিরের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিবো,
আবিরের আব্বু বলল, দেখেন আমরা খুব
সৌভাগ্যবান যে আপানার মেয়ের মতো
একজন এই রকম ভালোবাসার মানুষ আমার
ছেলের বউ হবে কিন্তু?
নাদিয়ার আব্বু, কি কিন্তু ভাই?
আবিরের আব্বু, সামনের মানুষগুলো দেখছেন?
এরা এক মেয়ের পরিবার, আজ আবিরের
বিয়ে ঠিক করতে এসেছে।। এখন বলেন আমি
কি করবো?

নাদিয়ার আব্বু তাদের সামনে গেলো, বলল,
ভাই আপনারা তো সব শুনলেন, আপনারা তো
চাইলেও আরেকটা ছেলে খুঁজে নিতে
পারবেন কিন্তু
আমার মেয়ের জীবনের সাথে আবির মিশে
আছে যদি তাকে এতো কাছে এসেও না পাই
তবে সে খুব কষ্ট পাবে।
আবিরের আব্বু বলল, দেখেন ভাই (যারা
আবিরকে দেখতে এসেছিল) আপনার মেয়ে
নিঃসন্দেহে খুব ভালো,

আমাদের খুব পছন্দ কিন্তু আমি কিভাবে এমন
মেয়েকে বাধ দিয়ে আপানার মেয়ের সাথে
বিয়ে দিবো যে মেয়ে তার সব কিছু শুধু
আমার ছেলের জন্য পাল্টে নিয়েছে,
আমাকে মাফ করেন ভাই,আমি নাদিয়ার
সাথেই আমার ছেলের বিয়ে দিবো।…
যারা আবিরকে দেখতে এসেছিল তারা বলল,
ঠিক আছে ভাই, মেয়ে আমাদেরও আছে,
আমারা ভালোবাসা বুঝি, দুয়া করি আবির
যেন খুব সুখে থাকে,
এরপর, তারা সবাই চলে গেলো।
কিছুক্ষণ পর আবির আসলো, আবির
নাদিয়াকে দেখে চমকে গেলো
আবিরের বিয়ে সেই রাতেই হয়ে গেলো।

নাদিয়ার আব্বু আবিরের আব্বুকে বলল,
বেয়াই সমস্যা নাই, আমার অনেক ব্যাবসা,
আপনি আবিরকে নিয়ে চিন্তা করবেন না,
আবিরকে একটা ব্যাবসাই লাগিয়ে দিবো।।
আবিরের আব্বু হাসতে লাগলো,
নাদিয়ার আব্বু আবার জিজ্ঞেস করলো?
বেয়াই হাসছেন কেন? আমি কি কোন খারাপ
কথা বলেছি?
আবিরের আব্বু বলল, বেয়াই আবিরের জন্য
কিছু করতে হবে না… আবির জেলা শিক্ষা
অফিসার।

নাদিয়ার আব্বু জিজ্ঞেস করলো? ভাই
আপানার ছেলে এতো বড় অফিসার আর
আপনি আমাদের ব্যাপারে না খোঁজ খবর
নিয়েই বিয়ে দিয়ে দিলেন?
আবিরের আব্বু বলল, দেখেন ভাই, টাকা দিয়ে
সব কিছু মাপা যায় না, আপনি যেমন আপানার
মেয়ের ভালোবাসার জন্য বেকার ছেলের
সাথেও বিয়ে দিতে রাজী,
আমিও তেমনি যে মেয়ে শুধু আমার ছেলেকে
ভালোবাসে, তার সাথে কেন আমি বিয়ে
দিবো না
এখন তো আমার ছেলেকে তার টাকা আর
ভালো চাকুরী দেখে অনেক মেয়ে বিয়ে
করবে কিন্তু শুধু আমার ছেলেকে ভালোবাসে
এই রকম মেয়ে আমি কয়টা খুঁজে পাবো ভাই?
এই বলে দুই বেয়াই খোশ গল্পে মেতে গেলো,
কিন্তু ওদিকে আবির আর নাদিয়ার কথা
গুলো ছিল কিছুটা ভিন্ন।

নাদিয়া আবিরের অপেক্ষায় অনেকক্ষণ
থেকেই ঘরের মধ্যে বসে আছে, গাধাটা
গেলো কয়? সে কি প্রতিদিন এতো রাত
পর্যন্ত বাসার বাইরে থাকে?
আসুক দেখাচ্ছি মজা, ভালো হয়ে থাকলে
চলবে না, আবার খারাপ হতে হবে না হলে সে
ঠিক হবে না… নতুন বউ রেখে কেউ এতোক্ষন
পর্যন্ত অপেক্ষা করাই?
দেখল আবির ঘরের মধ্যে কিন্তু তারপরও সে
ফোনে কথা বলছে,।।

আবিরঃ জি জামাল সাহেব কালকের মিটিং
গুলো সব বাতিল করে দিন… কাল আমার কিছু
ব্যাক্তিগত কাজ আছে, এই বলে ফোনটা
কেটে দিল।
আবির কিছু নাদিয়াকে বলতে যাবে, তার
আগেই নাদিয়া শুরু,

নাদিয়াঃ ফোন কাটলা কেন? কথা বল,
নাম্বার না থাকলে আমি কিছু মেয়ের
নাম্বার দিচ্ছি?
ঘরের মধ্যে যে একটা সুন্দরী বউ অপেক্ষা
করছে সেটা তো তোমাকে ভালো লাগবে
না?

আবির হাসছে, নাদিয়ার ওপরের রুপ পাল্টে
গেলোও ভিতরের রুপ ঠিক আগের মতোই
আছে, আবির বলল আরে পাগল বিয়েটা তো
হটাৎ করে হয়েছে,
আমার অফিসে অনেক কাজ আছে কাল আমি
৩ দিনের জন্য বাইরে যেতাম আমি সেগুলো
ফোন করে সব বাতিল করছিলাম,

নাদিয়াঃ মাথা নিচু করে বলল, সরি…। আমি
বুঝতে পারিনি,

আবিরঃ তোমার আব্বু বলল তুমি নাকি শান্ত
হয়ে গেছো, কিন্তু প্রথমেই যে রুপ দেখালা…

নাদিয়াঃ সরি বললাম তো, আর এইরকম করবো
না,

আবিরঃ না ঠিক আছে, আমি খুশি হয়েছি,
আমি গাধার মতো মেয়ে পছন্দ করি না।

নাদিয়াঃ তাহলে আমাকে তুমি
ভালোবাসো?

আবিরঃ সেটা বলতে পারবো না, তবে আমার
বউ হবার সব যোগ্যতাই তোমার আছে.. এই
নাও এটা তোমার জন্য…

নাদিয়াঃ নূপুর এনেছ? খুব ভালো হয়েছে,
আমি খুব খুশি হয়েছি, তোমাকে অনেক
ধন্যবাদ।

পরের দিন সকাল বেলা, আবির তাড়াতাড়ি
করে অফিস চলে গেলো,
দুপুর হবার কিচ্ছুক্ষণ আগে নাদিয়ার ফোন
আসলো,
কি স্যার কখন বাড়ী আসবেন? আমি রান্না
করছি…
আবিরঃ আপনি বললে এখুনি চলে আসবো,
নাদিয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে, দুপুরের মধ্যেই
চলে আসেন।
আবিরঃ ম্যাডাম আপনি রান্না শেষ করেন,
আমি চলে আসছি। দুপুরে একসাথেই খাবো।
কয়েকদিন পরের কথা।

নাদিয়ার আব্বু নাদিয়াকে বলছে, আম্মু,
জামাইকে বল, কয়কেদিনের ছুটি নিতে, আমি
তোমাদের জন্য সিলেটে আমার যে বন্ধু
আছে তার সাথে কথা বলেছি,
সে তোমাদের ডেকেছে, ঐ যে তোমার
ফারুক আঙ্কেল
নাদিয়া বলল, আব্বু আমি আগে কিছু বলতে
পারবো না, আপনার জামাই খুব অভিমানী,
কি মনে করবে,

আপনি শুধু বলবেন সে যেতে পারবে কি না?
যদি না বলে জোর করবেন না,
পরের দিন আবির শ্বশুরবাড়িতে নাদিয়াকে
নিতে গেছে,
নাদিয়ার আব্বু বলল, বাবা! সিলেটে আমার
একটা ছোটকালের বন্ধু আছে, ২ বছর আগে
আমি বেড়াতে গেছিলাম, কিন্তু নাদিয়ার
পরীক্ষার জন্য সে যেতে পারেনি,

তুমি যদি একটু সময় বের করে কিছুদিন ঘুরে
আসতা, তাহলে তারা খুব খুশি হতো, আর
বিয়ের পর তুমিও তো কোথাও ঘুরতে যাও নি,
আবির নাদিয়ার দিকে তাকালো, নাদিয়া
চোখ বড় করে মাথা নাড়িয়ে বুঝালো যে সে
এ ব্যাপারে কিছু জানে না,
আবির বলল, আব্বু, আমি অফিসে ছুটির জন্য
বলেছি, সামনে মাসের প্রথম দিকে ছুটি
পাবো, তখন যাবো…
নাদিয়ার আব্বু বলল, ঠিক আছে বাবা… কোন
সমস্যা নেই, তখনই যেও, আমি সব ব্যাবস্তা
করে দিবো,

এর পর নাদিয়া আর আবির ঘরে গেলো,
নাদিয়া ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই বলল,
বিশ্বাস করো, আমি আব্বুকে কিছু বলি নি,
আব্বু আমাকে আগে বলেছিল, কিন্তু আমি
বলেছি তুমি গেলে যাবো না হলে না…
আবির হাসছে, আরে পাগলী তোমার কি মনে
হয় শুধু তোমার ঘুরতে ইচ্ছা করে, আমার ঘুরতে
ইচ্ছা করে না? আব্বু না বল্লেও আমি সামনে
মাসে তোমাকে সিলেট না হয় কক্সবাজার
নিয়ে যেতাম,

শুধু তুমি আমাকে ভালোবাসো আমি মনে হয়
বাসি না? আমি আমার ক্লাসমেট নাদিয়াকে
ভালো না বাসলেও আমার বউ নাদিয়াকে
অনেক ভালোবাসি। পাগলি!!!!!!

 সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত