বউ আমার এত্ত ভালো

বউ আমার এত্ত ভালো

আজ শুক্রবার। প্রতিদিনের মত ঘুম থেকে ওঠার আগেই বউ বলল আজ বাসার সমস্ত কাজ তোমাকে করতে হবে। কিন্তু কিছুক্ষন পর এই নিয়ম ভেঙ্গে গেল। যখন কাজ করা শুরুকরি,তখনএকটা কাজও বউ এর পছন্দমত হয় না। বউ রাগ নিয়ে কাজ করতে শুরু করে।আমি রাগ চেষ্টা করি চাই কিন্তু আরো বেশি রেগে যায়। মেয়েদের এই এক সমস্যা রাগ করলে সহজে রাগ কমে না। সকাল থেকে কাজ করছে অদ্রি। কিন্তু চেহারায় বিন্দুমাত্র ক্লান্তির ভাব নেই।

মাত্র দুই বছরে বদলে গেছে আমার জীবন। মেয়েরা খুব সহজে দূরের মানুষকে আপন করে নিতে পারে, অন্যের সম্পত্তি কে নিজের সম্পত্তি ভাবতে পারে,একজন অগোছালো ছেলের জীবন কে গুছিয়ে দিতে পারে। মেয়েরা যেমন গোছাতে পারে তেমনি এলোমেলোও করতে পারে।যদি কারো জীবন কে গুছিয়ে দেয় তাহলে সে সৌভাগ্যবান, আর যদি কারো জীবন এলোমেলো করে দেয় তাহলে তার জীবন সেখানেই শেষ। আমার জীবন এখন গোছানো। আমি সৌভাগ্যবান লোকদের মধ্যে একজন। আমার জীবন এখন নিয়মের মধ্যে দিয়ে চলে।আর এই নিয়ম সৃষ্টি করেছে বউ/অদ্রি । এখন ১২ টা বেজেছে। সকাল থেকে বাসার কাজ করছে অদ্রি। রান্না প্রায় শেষ। আকাশে প্রচন্ড মেঘ হয়তো বৃষ্টি হবে। ঘামে ভেজা অদ্রিকে ভালই লাগছে। কিন্তু অদ্রি আমাকে রান্না ঘর থেকে বাইরে যেতে বলল। কেনো বলল আমি জানি না,জানার ইচ্ছেও নেই। সম্ভাবত ওর কাজের ডিস্টার্ব হচ্ছে।আমি ঘরে গিয়ে ঘুমাবার চেষ্টা করলাম। ঘুমও এসে গিয়েছে প্রায়। এই রকম ঘুমে পৃথিবীর সকল শব্দ কানে আসে।

কিন্তু আমরা এই শব্দের খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। বৃষ্টি মনে হয় শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি কোনো গুরুত্ব আমি দিচ্ছি না কারন আমি প্রায় ঘুমিয়ে। হটাৎ শুনলাম কে যেন ডাকছে।গায়ে ধাক্কাও দিল এই ওঠো না, এই ওঠো। আমি তাড়াতাড়ি উঠলাম কারন আমি সম্পুর্ন ঘুমের ভেতর ছিলাম না। কিন্তু এই কাচা ঘুমের মধ্যে কেউ ডাকলে খুব রাগ হয়।ভাবলাম অদ্রি কে একটা বকা দেবো।কিন্তু চোখ খুলতেই অদ্রির ঘামে ভেজা মুখ আমার সামনে ভেসে উঠলো। ছেলেদের মায়ায় জড়ানোর সহজ হাতিয়ার হলো মেয়েদের ক্লান্ত মুখ।আমিও মায়ায় পড়ে গেলাম। অদ্রি আমাকে টানতে টানতে ছাদে নিয়ে গেলো। ছাদে কেনো? বৃষ্টিতে ভিজলে অসুখ করবে। অদ্রি কোনো কথা বলল না।নিচে নেমে যেতে চাইল।আমি হাত ধরে বললাম রাগ করছো কেনো? ঠিক আছে আমরা বৃষ্টিতে ভিজবো।

অদ্রির মুখে হাসি ফুটে উঠলো। অদ্রি অন্যসব মেয়েদের মত না।সে অন্য সব মেয়েদের মত কসমেটিক্স, দামী শাড়ি, গহনা চাই না। চাই আমার কাছে একটু সময়, তার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইচ্ছে গুলোর গুরুত্ব পেতে, তার কথা গুলো মূল্য পেতে। আমিও চেষ্টা করি ওর কথামত চলতে,জীবন কাটাতে।তবে মাঝেমাঝে দুই একটা ভুল হয়ে যায় তখন অদ্রি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কান্না করে।অদ্রি এখন খুব চঞ্চল। সাধারণত অদ্রির এই চঞ্চল রুপ দেখতে পাই না। অদ্রি খুব শান্ত তার চঞ্চলতার মাঝে কোথায় যেন একটু কমতি আছে। আর এইজন্য অদ্রির চঞ্চলতা খুব ভাল লাগে। অদ্রির চুল খোলা।বৃষ্টিতে ভিজে চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। সকল ক্লান্তি যেন এক নিমিষেই দূর হয়ে গেছে। অদ্রি আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

আমাকে ছাদের একপাশে নিয়ে বসিয়ে দিলো। তারপর আমার কাঁধে মাথা রেখে বৃষ্টিতে ভিজছে।আর আমি ভিজছি অদ্রির সুন্দর্যতায়। আচ্ছা তুমি এতো ভাল কেনো? আমার ভেজার পথে বাধা দিলো অদ্রি হুম? তুমি এতো ভাল কেনো? ভাল! না আমি তো ভাল না। তাহলে তুমি কি? খুব খারাপ। হুম হুম কি? আমার সবকিছু ভাল শুধু আমি বাদে। মানে? আমার অদ্রি ভাল, আমার সব কাজ ভাল।আমার অদ্রি হলো আমার সব। তাই? হুম। আর মিথ্যা বলতে হবে না। চলো ঘরে যায়। আর কিছুক্ষন থাকি না। তখন তো বললে ভিজলে অসুখ করবে। চলো নাহলে সত্যি অসুখ করবে। অদ্রি আমার হাত ধরে নিচে নেমে আসলো। গোসল করে নামাজ পড়তে গেলাম।বিয়ের আগে শুধু শুক্রবারে নামাজ পড়তাম।আর এখন প্রতি ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। নামাজ না পড়লে অদ্রি খুব রাগ করে। আর এখন নামাজ না পড়লে নিজের কাছেই খারাপ লাগে।

প্রতিদিনের মতো রুটিন মাফিক সব কাজ করেছি। এখন রাত হয়ে গেছে। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে।সম্ভাবত জ্বর আসবে। বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর আসলো ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।অদ্রি নিজেকে দায়ী মনে করবে।আমি একটা এন্টিবায়োটিক খেয়ে নিলাম।অদ্রি কে কিছুই জানালাম না। রাত ১১ টা বেজে গেছে।মাথার ব্যাথা আরো বাড়ছে। চোখ লাল হয়ে গেছে। অদ্রি এতো সময় কিছু খেয়াল করে নি। এই তোমার চোখ এতো লাল কেনো? কই?ঘুমিয়ে ছিলাম তো তাই। অদ্রি আমার দিকে এগিয়ে আসলো। মাথায় হাত রেখে বলল তোমার তো জ্বর এসেছে।তুমি কেনো এটা লোকাচ্ছ।? এখন রাত বেশি না হলেও আমাদের কাছে অনেক রাত।আদ্রি একা ডাক্তার এর কাছে যেতে পারবে না।

তাই মামাকে ফোন করলো অদ্রি।মামা খুব রাগি মানুষ। এতো রাতে ফোন করলে খুব রেগে যাবেন। মামার বাসা আমাদের বাসা থেকে ৬-৭ মাইল দূরে। কিন্তু মামা অদ্রির কথা ফেলতে পারবেন না। অদ্রির প্রতিটা কথাই যেনো মায়া জড়ানো। এই কথা না রাখার ক্ষমতা কারো নেই।অদ্রি আমাকে বিভিন্ন ভাবে শাসন করতে লাগল। তোমার জ্বর এসেছে আমাকে কেনো জানালে না।এতো লুকোচুরি কেনো করলে? এই রকম হাজারো প্রশ্ন করা হলো। আমি কোনটার উত্তর দেবো ভেবে পেলাম না।শুধু অদ্রির হতাশা ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। চেহারায় শুধু উদ্দিগ্নতা। প্রায় ৪০ মিনিট পর মামা ডাক্তার সহ হাজির।ডাক্তার বলল শুধুই জ্বর কিন্তু ব্যাপার টা সিরিয়াস হতে পারত।

অদ্রি আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলো। মামা আর ডাক্তার কিছুক্ষন পর চলে গেল। ডাক্তার না-কি মাথায় পানি দিতে বলেছে।অদ্রি আমার মাথার কাছে বসে মাথায় পানি দিচ্ছে। আর পানি দেওয়া লাগবে না। ঠিক মতো শুয়ে থাকো।তোমার কাছ থেকে শিখবো নাকি। আচ্ছা আরো পানি দিলে কিন্তু আবার জ্বর আসবে। চুপ করো। অদ্রি আর পানি দিচ্ছে না। সম্ভাবত ভয় পেয়েছে।অদ্রি আমার মাথা মুছতে মুছতে বলল তোমার জ্ব্রর আসেছিল কিন্তু কেনো বলো নি? তুমি কষ্ট পাবে তাই। আমি যদি তোমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে না বলতাম তাহলে এমন হতো না।

বাদ দাও তো এসব। আচ্ছা তোমার যদি কিছু হয়ে যেতো তাহলে আমি কি করতাম? কিচ্ছু হবে না আমার। যদি কিছু হতো? আর কখনো কিছু লুকাবে ঠিক আছে। ঠিক আছে। ঠিক আছে, ঠিক আছে তো বারবার বলো কিন্তু কথা তো রাখো না। তোমার কিছু হলে আমি বাঁচবো না বলে রাখলাম। আমি অদ্রিকে বুকে টেনে নিয়ে বললাম আমার কিছু হবে না রে পাগলি। অদ্রি কাঁদছে আমাকে হারিয়ে ফেলানোর ভয়ে।আমি কি হারিয়ে যেতে পারবো?

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত