হবে কি আমার রাজকন্যা

হবে কি আমার রাজকন্যা

টিং টিং,,,,টিং টিং

আম্মু- ফারিয়া দেখতো মা কে এসেছে?

ফারিয়া- যাই আম্মু. যেতে যেতে পরিচয়টা দেয়া যাক. আমি ফারিয়া. ইন্টার ২য় বর্ষে পড়াশুনা করছি. বর্তমানে খুলনায় থাকি. বাবা ব্যবসা করে. আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে তো দরজাটাই খুলতে ভুলে গেছি.

ফারিয়া- আরে আবির ভাইয়া!! কেমন আছো??

আবির- ভাল আছি তুই কেমন আছিস??

ফারিয়া- হুম আমিও খুব ভাল আছি.

আবির- শোন তোকে একটা কথা বলতে আসছি.

ফারিয়া- আগে ঘরে তো আসো তারপর না হয় যা বলার বলো.

আবির- আচ্ছা চল.

ফারিয়া- আম্মু দেখ আবির ভাইয়া আসছে.

আম্মু- কেমন আছো আবির বাবা??

আবির- জ্বী আন্টি ভাল আছি আপনি কেমন আছেন?

আম্মু- ভাল বাবা. আচ্ছা তোমরা বসো আমি তোমাদের জন্য চা করে আনছি.

আবির- আচ্ছা আন্টি.

ফারিয়া- ভাইয়া তুমি না কি বলবে বলছিলে??

আবির- হ্যা, শোন কাল আমাদের ভার্সিটিতে পূর্নমিলন অনুষ্ঠান তাই আমি চাইছিলাম তোকে নিয়ে যেতে তোর খুব ভালো লাগবে, তুই কি যাবি??

ফারিয়া- হ্যা অবশ্যই যাবো.

আবির- ঠিক আছে.

ফারিয়া- হুম. কাল আমরা কখন যাবো??

আবির- তুই কাল সকালে রেডি হয়ে থাকিস আমি এসে তোকে নিয়ে যাবো.

ফারিয়া- ওকে ভাইয়া পরের দিন

আবির- ফারিয়া তাড়াতাড়ি চল আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ফারিয়া- আসি ভাইয়া আমার হয়ে গেছে।

আবির- এত খুন লাগে সাঁজতে?

ফারিয়া- সরি ভাইয়া একটু দেরি হয়ে গেল, চলো এখন।

আবির- হুম চল।

আম্মু- সাবধানে যেও তোমরা।

ফারিয়া- ওকে আম্মু। ভার্সিটিতে পৌছানোর পরে…..

আবির- ফারিয়া তুই এখানে বসে আইসক্রিম খা আর অনুষ্ঠান দেখ আমি একটু আসচ্ছি।

ফারিয়া- ঠিক আছে ভাইয়া।

বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছি আর চারপাশের সুন্দর পরিবেশটাকে উপভোগ করছি। এখানে সবাই খুব মজা করছে হয়তো অনেক বছর পর একসাথে হয়ে নিজেদের আর সামলাতে পারেনি। মেয়েরা নানান রঙেং শাড়ি পরে এসেছে অবশ্য আমিও শাড়ি পরে এসেছি। সবাই সবার মতো আনন্দ করছে এসব কিছু দেখতে দেখতে চোখ আটকে গেল একটা ছেলের দিকে। ছেলেটা বার বার আমার দিকেই তাকাচ্ছে। ছেলেটার চোখে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা ছিল। বেশ লম্বা ও। দেখতে খারাপ না, উজ্জল শ্যামলা। চশমা পড়ায় ছেলেটার সুন্দর্য্য আরো কয়েক গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। আজব হলেও সত্যি যে ছেলেটা এখনো এদিকেই তাকিয়ে আছে। ছেলেটাকে কিছু বলার আগেই ভাইয়ার আগমন…

আবির- ফারিয়া ওদিকে চল তোকে আমার এক ফ্রেন্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

ফারিয়া- আচ্ছা ভাইয়া চলো।

আজব ব্যাপার তো! ভাইয়া তো ওই ছেলেটার দিকেই যাচ্ছে।(মনে মনে) আবির- ফারাবি তোকে বলছিলাম না আজ আমার এক কাজিনকে নিয়ে আসব এই হল আর সেই কাজিন ফারিয়া। আর ফারিয়া ও আমার ফ্রেন্ড ফারাবি।

ফারাবি- হাই ফারিয়া।

ফারিয়া- হ্যালো।

আবির- তোরা গল্প কর আমি কোক নিয়ে আসি। আর ফারাবি তুই একটু ফারিয়াকে দেখে রাখিস।

ফারাবি- ঠিক আছে। ভাইয়া চলে গেলো এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হয় জিবনেও কোনো মেয়ে দেখে নি।

ফারিয়া- Excuse me mr. ফারাবি,

ফারাবি- জ্বি আমাকে বলছেন?

ফারিয়া- তো এখানে কি অন্য কোনো ফারাবি আছে?

ফারাবি- জ্বি না মানে..

ফারিয়া- কি মানে মানে করছে হুম?

ফারাবি- না মানে আসলে আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।

ফারিয়া- জ্বি ধন্যবাদ।(কিছুটা লজ্জা পেয়ে)

ফারাবি- স্বাগতম।

ফারিয়া- কিসে পড়েন?

ফারাবি- অর্নাস ২য় বর্ষে, আপনি?

ফারিয়া- ইন্টার ২য় বর্ষে। এভাবে কিছু কথা বলার পর ভাইয়া আসছে।

আবির- তোরা এখনো এখানে বসে আছিস? ঘুরে দেখবি না?

ফারিয়া- তোমার ফ্রেন্ড কি মানুষ রে বাবা! আমাকে এখানের কিছুই ঘুরিয়ে দেখায় নায়।

ফারাবি- আজব! আমি জানতাম নাকি যে আপনাকে ঘুরিয়ে দেখাতে হবে?

ফারিয়া- সব কথা বুঝি সবাইকে বুঝিয়ে বলতে হয়?

আবির- হইছে হইছে থাম তোরা এখন চল ঘুরে দেখি।

ফারাবি- হ্যা চল।

হুম চলেন। সেদিনের মতো আবির ভাইয়া আর ফারাবির সাথে ঘুরে বাসায় চলে এসিছি। কিন্তুু কেন জানি ফারাবিকে
খুব মিস করছি। ইশ ওর নাম্বারটাই তো আনা হলো না। এখন কিভাবে ওর সাথে কথা বলব? নিজের উপরই এখন খুব রাগ হচ্ছে। কিছু দিন পরে বিকেলে বাসায় বসে আছি এমন সময় আবির ভাইয়ার কন্ঠ শুনতে পেলাম তার সাথে আরও একটা কন্ঠ শুনতে পেলাম। কন্ঠটা তো খুব চেনা চেনা লাগছে। হ্যা এটাতো ফারাবির কন্ঠ। কিন্তুু ও এখানে আসলো কিভাবে? যেয়ে দেখতে হচ্ছে তো,,,,,,

আবির- কেমন আছেন আন্টি?

আম্মু- ভালো তুমি কেমন আছো?

আবির- ভালো আন্টি। আন্টি ও আমার ফ্রেন্ড ফারাবি।

ফারাবি- আসসালামু-আলাইকুম আন্টি কেমন আছেন?

আম্মু- ওয়াইকুম-আসসালাম। ভালো বাবা তুমি কেমন আছো?

ফারাবি- জ্বি আন্টি ভালো।

আম্মু- তোমরা বস আমি চা করে আনি।

আবির- আচ্ছা আন্টি আর ফারিয়াকে একটু ডেকে দিয়েন।

আম্মু- আচ্ছা বাবা।

ফারিয়া- কেমন আছো ভাইয়া? কখন আসলে?

আবির- ভালো তুই কেমন আছিস? আমরা একটু আগে আসলাম।

ফারিয়া- হুম ভালো আছি।

আবির- তোরা একটু বস আমি আন্টির কাছ থেকে একটু আসি।

ফারিয়া- আচ্ছা ভাইয়া। ভাইয়া চলে গেল..

ফারাবি- তো ম্যাম কেমন আছেন?

ফারিয়া- জ্বি ভালো আপনি?

ফারাবি- হুম ভালো।

ফারিয়া- এতো দিন পর আমার কথা মনে পড়ল??

ফারাবি- কই না তো। আগেই মনে পড়েছিল কিন্তুু আসা হয়নি। যদি আমি আবিরকে আগে আসার কথা বলি তাহলে ও কি না কি ভাবে তাই আর আসা হয়নি।

ফারিয়া- হুম বুঝলাম।

ফারাবি- আপনার নাম্বারটা কি পেতে পারি ম্যাম?

ফারিয়া- হুম পেতে পারেন 017765…….

ফারাবি- ধন্যবাদ। আমারটা 017194…… এর মধ্যে ভাইয়া এসে গেল

আবির- কি কথা বলছিস তোরা?

ফারিয়া- তেমন কিছু না ভাইয়া।

আবির- ওহ। আচ্ছা চল ফারাবি আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ফারাবি- হুম চল।

ফারিয়া- আবার আসবেন কিন্তুু। (আস্তে আস্তে)

ফারাবি- হুম আসার চেষ্ঠা করব।

ফারিয়া- ওকে।

ফারাবি- আচ্ছা আসি তাহলে। বাই

ফারিয়া- আচ্ছা বাই

ফারাবির নাম্বার দেয়ার পর থেকে আমরা প্রত্যেক দিন ফোনে কথা বলতাম। আমরা কেউ কারো সাথে একদিন ও কথা না বলে থাকতে পারতাম না। সারা রাত ফেসবুকে ওর সাথে চ্যাট করতাম। কিন্তু আমরা কখনো কেউ কারো সাথে দেখা করতাম না। সব সময় ওর কথাই ভাবতাম। এতো দিনে এটা বুঝে গেছি যে আমরা দুজনই দুজনকে খুব ভালোবেসে ফেলছি কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলতে পারতাম না। ফারাবির কথা ভাবতে ভাবতে ভাবনার জগৎ এ হারিয়ে গেলাম। হঠাৎ ফারাবি ফোনে বাস্তবে ফিরে আসলাম।

ফারাবি- কেমন আছো?

ফারিয়া- ভালো তুমি?

ফারাবি- হুম ভালো। কি করো?

ফারিয়া- বসে আছি তুমি?

ফারাবি- আমিও। আচ্ছা কাল আমরা একটু ঘুরতে যাবা?

ফারিয়া- কেন?

ফারাবি- এমনিই তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা হলো।

ফারিয়া- আচ্ছা ঠিক আছে।

ফারাবি- ওকে কাল বিকাল ৪ টায় আমরা পার্কে দেখা করব।

ফারিয়া- ঠিক আছে।

ফারাবি- ঠিক সময়ে চলে এসো। এখন রাখছি বাই।

ফারিয়া- ওকে বাই।

পরের দিন বিকালে ফারাবির নীল রং খুব পছন্দ তাই আজ একটা নীল শাড়ী পড়েছি। তার সাথে হাত ভর্তি নীল কাচের চুড়ি আর কপালে নীল টিপ পড়ছি। সব মিলিয়ে একদম নীল পরীর মতো লাগছে। সেই পার্কটায় বসে আছি কিন্তু ফারাবির আসার কোনো নামই নাই। প্রায় ১ ঘন্টার পর ফারাবি আসলো। ফারাবি ও তো একটা নীল পাঞ্জাবি পরে এসেছে। ওকে নীল পাঞ্জাবিতে দারুন লাগছে।

ফারাবি- সরি একটু দেরি হয়ে গেলো।

ফারিয়া- এই তোমার একটু দেরি? যানো কতটা ভয় পাইছি?

ফারাবি- সরি। আসলে একটা জিনিস খুজছিলাম তাই দেরি হয়ে গেছে। আর কখনো এমনটা হবেনা এই প্রমিস করলাম।

ফারিয়া- হুম ঠিক আছে। মনে থাকে যেন।

ফারাবি- ওকে ম্যাম।

কিছু বলার আগেই ফারাবি এক গুচ্ছ গোলাপ ফুল হাতে নিয়ে আমার সামনে হাটু গেড়ে বসে…

ফারাবি- হবে কি আমার সেই রাজকন্যা যাকে শুধু আমার রাজ্যের রানী বানাবো? হবে কি আমার সেই রাজকন্যা যাকে নিয়ে জ্যোৎস্না রাতে একসাথে চাঁদ দেখব? কিছু বলার মতো ভাষা খুজে পাইনি কিন্ত লজ্জা পেয়ে তার বুকে ঠিকই মুখ লুকাতে পেরেছি।

<সমাপ্ত>

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত