জন্মদিন

জন্মদিন

ইরাঃ চল বিয়ে করি..

আমিঃ বি.বি.বিয়ে…!

ইরাঃ হুম বিয়ে, চল আমরাও বিয়ে করি।

আমিঃ এখনি, আর আমরাও মানে কি..?

ইরাঃ নীল ভাইয়া আর ইশিতা আপু তো বিয়ে করল তাই ভাবছি আমরাও বিয়ে করে ফেলি। আর তাছাড়া কিছু দিন পর তো তোমারো পড়াশোনা শেষ হবে তাই না..?

আমিঃ পড়াশোনা শেষ হবে ঠিক আছে কিন্তু চাকুরীর যে অবস্থা…!

ইরাঃ আমি অত কিছু বুঝিনা চল বিয়ে করি..?

আমিঃ….

ইরাঃ কি হল.!

আমিঃ….!

ইরাঃ চুপ হলে যে, কিছু তো বল…

আমিঃ আমি এখানে কি বলব? আর তাছাড়া পরে বিয়ে করলে হয় না..?

ইরাঃ….

আমিঃ তোমার আবার কি হল ?

ইরাঃ আচ্ছা তোমার পড়াশোনা শেষ হলেই আমরা বিয়ে করবো ( মন খারাব করে)।

আমিঃ হুম ঠিক আছে (এবার তো একটু হাস)

আমাদের তো পরিচয় দেওয়াই হয় নি ! পরিচয় টা দেওয়া যাক আমি রাশেস আর ও হচ্ছে ইরা {আমার শূণ্য রাজকুমারী} ইরা ইশিতা আপুর ছোট বোন এবার অনার্স ৩য় বর্ষে। আর নীল ভাইয়া আমার রুম-মেট, শুধু রুম-মেট বললে ভূল হবে। আমার বড় ভাইয়ের মত। আমি তার নিজের ভাই না হলেও ভাইয়া কিন্তু আমাকে নিজের ছোট ভাই মনে করে আর তিনার পরিবারে কেউ নাই তাই হয়তো আমায় নিজের ভাই ভাবে। তাই আমিও নীল ভাইয়াকে আমার নিজের বড় ভাই হিসেবে মানি। তাই তো আমি আমার সব সমস্যা গুলোর সমাধান পেতে ভাইয়ার কাছেই ছুটি।

ইশিতা আপু আর নীল ভাইয়ার পরিচয় টা যেন কিভাবে হয়েছিল তার পর থেকে বন্ধুত্ব আর সেই বন্ধত্ব থেকেই ভালবাসা। ৩-৪ বছরের রিলেশন তাদের ইরা দের বাসায় ইশিতা আপুর বিয়ের কথা চলছে তাই সেই ভয়ে ইশিতা আপু আর নীল ভাইয়া বিয়ে করে ফেলে বাসায় না জানিয়ে। পালিয়ে বিয়ে করা যাকে বলে। আমি আর ইরা ছাড়া এই ব্যপারটা আপাদত কেউ জানে না। নীল ভাইয়া যেহেতু আমাকে তার ছোট ভাই মনে করে তাই একদিন আমাকে আপুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আপু ভাইয়া আর আমি বেশ কয়েক দিন ঘুরতে বেরিয়েছি।

অন্যান্য দিনের মত সেদিন ও আমরা বেড়াতে যাচ্ছি কিন্তু সেদিন ইশিতা আপুর সাথে এক রাজকুমারী আসে আর সেই শূণ্য রাজকুমারী টাই ইরা। ইরাকেই দেখেই আমি তার অপর প্রথম ক্রাশ খাই। যেহেতু আমি নীল ভাইয়ার সাথে আমার সব কথা শেয়ার করি তাই ইরাকে ভাল লাগার ব্যাপার টাও ভাইয়াকে বলি। নীল ভাইয়া বলল আচ্ছা দেখি কি করা যায়। নীল ভাইয়ার প্রচেষ্টায় ইশিতা আপুকে বলে ইরাকে মানিয়ে শুরু হয় আমার আর ইরার একটা ভালবাসার সম্পর্ক। { তাই তো আমি আর ইরা মিলেই ভাইয়া আর ইশিতা আপুর বিয়ে করিয়ে দিলাম কাজি অফিসে } এরি মাঝে আমার পড়াশোনা শেষ হওয়ার প্রায় ৬ মাস পর আমার একটা ভালো চাকুরী হয়।

ইরাঃ কি মশাই বিয়ের কথা মনে আছে..?

আমিঃ বিয়ে তাই না, আমি তো ভূলেই গেছিলাম।

ইরাঃ…. (চোখ থেকে যেন জল গড়াবে)

আমিঃ বাসায় তোমার আর আমার সম্পর্কের কথা বলেছি।

ইরাঃ সত্যি (খুশি হয়ে)

আমিঃ হে বাবা সত্যি। দুয়েক দিনেই তোমার বাসায় যাবে বিয়ের কথা বলতে।

ইরাঃ চল একটু হাটি ওদিকটায়।

আমিঃ হুম চলল।

[এদিকে বিয়ের কিছুদিন পর নীল ভাইয়া আর ইশিতা আপুর বিয়েটা বাড়িতে মেনে নেয়।নীল ভাইয়ার তেমন কেউ নাই শুধু চাচা-চাচি। ভাইয়ার একটা ভালো চাকুরী হয়েছে আর অফিস এর কাছের বাসায় তারা ভাড়া থাকে। আমার আর ইরার ব্যাপারটা যেহেতু আপু আর নীল ভাইয়া জানত তাই আমার বাসা থেকে বিয়ের কথা বলতে গেলে তেমন সমস্যা হয় নি। এবং পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়।]

বিয়ের পরের দিনগুলো ভালোই কাঁটতে লাগল।প্রায় দেড় বছর পর আমাদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয় একদম ইরার মত। ইরা তার নাম রাখে অন্দ্রীলা। এই নামের অর্থ আমার আজও অজানা। অন্দ্রীলার ২য় জন্মদিনে আমরা একটা ঘরুয়া পাটির আয়োজন করি। রানা করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে আমাদের ছেড়ে ইরা অন্য দেশে পাড়ি জমায়। আর তখনি যেন জন্মদিনের আয়োজন টা শখ সভার আয়োজনে পরিনত হয়। এর পর আমি আর ২য় বিয়ে করিনি অন্দ্রীলার কথা ভেঁবে।

অন্দ্রীলা এখন প্রায় ৪ বছরের। ইশিতা আপু নীল ভাইয়া আর মা যেন আমায় আবার দিয়ে দেওয়ার জন্য লেগে পরে উঠেছে।আমি এদের এই বিয়ের বিষয়টা সর্বদা এরিয়ে চলি শুধু মাত্র আমার পিচ্চি আম্মুটার কথা ভেঁবে ইরার শেষ চিহ্ন টুকুকে যত্নে রাখাতে অন্দ্রীলার ৪র্থ জন্মদিনে একটা মাহফিল এর আয়োজন করি বেশ কিছু মানুষ আসে। নীল ভাইয়া ইশিতা আপু আর মা মিলে আমার জন্য একটা মেয়ে দেখেছে তাদের খুব নাকি খুব পছন্দ ইশিতা আপুদের রিলেটিভ কেউ সেও এখানে এসেছে মাহফিলে। তিনার সাথে আমাকে কথা বলার জন্যন্য একটা রুমে পাঠানো হল। রুমে যাওয়ার পর তার নাম জানলাম ঐশী। তার নাকি আমাকে ভালো লেগেছে আর আমার বিষয়ে সব কিছুই জানে। সে আমাকে প্রথম ইশিতা আপুদের বাসায় দেখেছে এবং তখন থেকেই নাকি ভাল লেগেছে জানতে পারলাম।

ঐশীঃ ইশিতা আপুর কাছ থেকে আপনার বিষয়ে সব কিছু জেনেছি।ইরা আপুর কথা অন্দ্রীলার কথা।

আমিঃ তাহলে তো এটাও জানতে পেরেছে আমি আর ২য় বিয়ে করছি না কেনো।

ঐশীঃ হুম জানতে পেরেছি

আমিঃ তাহলে..?

ঐশীঃ দেখুন সব সৎ মা এক হয় না। আর আমি অন্দ্রীলাকে কখনো নিজের সন্তানের থেকে কম ভালবাসবো না।

আমিঃ আমি শুধু বললাম আমাদের এখন বেড় হওয়া উচিৎ রুম থেকে বেড় হওয়ার কিছু সময় পড় দেখলাম ঐশী অন্দ্রীলার বেশ জমে উঠেছে যেন কত দিনের চেনা।আর এটা দেখে মা বলে উঠল দেখ বাবা মেয়েটা কত তাড়াতাড়ি অন্দ্রীলাকে আপন করে নিয়েছে তুই ঐশীকে বিয়ে কর।ঐশী আর অন্দ্রীলার মেলামেশা দেখে আমি ঐশীকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেলাম। ঐশী বাসর রাতে আমাকে বলছিল আমি আর অন্য কারো মা হতে চাই না আমি প্রতি উওরে বলেছিলাম কি বলছ এসব তাহলে আমার অন্দ্রীলার কি হবে।

তখন সে বলেছি আমি শুধু অন্দ্রীলার মা হয়ে থাকতে চাই আর অন্য কারো মা হতে চাই না (যদি অন্য কারো মা হয়ে অন্দ্রীলার প্রতি ভালবাসাটা কমে যায় সেই ভয়ে) তাই বিয়ের কিছুদিন পর ঐশী তার মা হওয়ার সত্তাটাকে নষ্ট করে দেয়।এখন আমাদের পরিবারে কোনো কিছুর কমতি নেই।কমতি আছে শুধু ইরার।  আগের এসব স্মৃতিতে হারিয়ে মনের অজান্তেই চোখের জল গোড়াচ্ছি  কারো স্পর্সে বাস্তবতায় ফিরে আসলাম পিছন ঘুরে দেখি ঐশী আমায় কিছু বলল। সে আমায় আবারো বলল ইরা আপুর কথা মনে পড়ছে নিশ্চয় ? তখন মনে হল হ্যা আজ ইরার ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আর আমার আম্মুটার ১৮ তম জন্মদিন।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত