বোরকাওয়ালি মেয়ে বোখাটে ছেলে

বোরকাওয়ালি মেয়ে বোখাটে ছেলে

বাবা—-মা,,,জান্নাতি আর তনিমা এদিকে আসো

জান্নাতি,,তনিমা — জি বাবা আসছি

জান্নাতি— বাবা কিছু বলবেন?

বাবা—- তোমার আম্মুকে ডাকো

জান্নাতি– বাবা,, মা রান্না করে। আমরা দুই বোন তো আসছি। আপনি বলেন

বাবা— সবার আগে বল,,, তোমরা কি দুই বোন এশারের নামাজ পড়েছো?

জান্নাতি —- জি বাবা,,, বাবা তোমার পা,,টা দাউ  সু’টা খুলে দিচ্ছে

বাবা— না মা,,, আমি নিজে খুলে নিব

জান্নাতি — বাবা,, তুমি আর একটা কথা বলবে না। আমি প্রতিদিন তোমাকে খুলে দেই। আর তুৃমি প্রতিদিন একই কথা বল।

বাবা—– মা,,,জান্নাতি আর তনিমা। তোমরা তো জানো আমি বদলি হয়েছি। আমরা আগামী সপ্তাহ সিরাজগঞ্জ যাব। জান্নাতিকে মহিলা ডিগ্রী কলেজে আর  তনিমা তোমাকে হাই স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহ নতুন শহরে শিপট হচ্ছি। কি বল তোমরা?

জান্নাতি—- এই তনিমা বোন আমার, বাবার জন্যে লুংগি গেনজি নিয়ে আয়

তনিমা — আচ্ছা ,, যাইতেছি

জান্নাতি— বাবা,, তুমি চিন্তা কর না তো। আমরা নতুন শহরে ভালো থাকব। লক্ষি মেয়ের মত,, তোমার কোন চিন্তা করতে হবে না

বাবা—- আলহামদুলিল্লাহ,,, আল্লাহ আমাকে দুইটা জান্নাতের টুকরা দিয়েছে

জান্নাতি— বাবা,,,,,,আমাদেরকে আল্লাহ তোমাদের মত জান্নাতের মালিক দিয়েছেন।

মা—— কি ব্যাপার,,,, বাপ মেয়ে আড্ডা হয়তেছে আমাকে একা রেখে। তা তোমরা আমাকে একা রেখে কি খাইতেছ?

বাবা– খাওয়ার আওয়াজ পেয়ে তো বিড়ালের মত চলে এসেছো

মা—- ও আমি বিড়াল হলাম,, হুম,,, তোমরা তো শিয়াল

(এতক্ষণ যে কথা বার্তা হল। তা হল রফিক সাহেবের পরিবারের মাঝে। তার দুইটা কিউট মেয়ে, জান্নাতি আর তনিমা তার স্ত্রী আমিনা। চার জনের ছোট সংসার। খুব হাসি খুশি পরিবার। মধ্যমবিত্ত পরিবার পরিবারে ইসলামের সব রিতিনিতি মেনে চলা তাদের বংশিও।রফিক ঘর থেকে বাহির হবার সময় নামাজের নির্দেশ দেন আর ঘরে ফিরে আগে নামাজের হিসাব নেন) রফিক সাহেবের বদলি হয়েছে,,,,,সিরাজগঞ্জ তারা তাই এই নতুন শহরে এসেছে। নতুন বাসা নতুন শহর,,, সব কিছুই নতুন। নতুন পরিবেশ,, তারা এসেছে
খুলনা থেকে।

এক বন্ধু—কি,,রে,,,, মিশু আজকাল কোথায় থাকিস বল।

মিশু– আর বলিস না,, এই ঘরাঘুরি।আর বসের নির্দেশ মত নানান ধান্দা,,,

এক বন্ধ—– মিশু এই গুলো ছেরে দিয়ে ভালো হয়ে যা। নইলে কোন একদিন রাস্তায় লাশ হয়ে পরে থাকবি

মিশু—- মনে মনে,,, সালাই দেখলেই আমারে উপদেশ দেওয়া শুরু করে। কবে যে সালারে টপকাইয়া দিমু

নাহিদ,,রুবেল,সামিল,—- বলেন বস,,সালারে টপকাইয়া দেই

মিশু — থাক থাক,, আর বলতে হবে না রাতে আছিস সবাই,, happy new year জন্যে ড্রিংকস হবে

নাহিদ,রুবেল,সামিল,— আচ্ছা বস,,, এতক্ষণ যারা কথা বলল,,তার ভিতর মিশু হল এলাকার বিশাল বড় বোখাটে ছেলে।তারা চারজন বন্ধু

নাহিদ,রুবেল,সামিল,মিশু— চারজনের বস হল মিশু এরা মূলত একজন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে কাজ করে। এলাকার মাদক ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই চারজনে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ী সাইদুল। এদের নারী,গাড়ী,বাড়ি যখন ঢ়া লাগে সব দেয় সাইদুল। আজ রাতে নতুন বছর উৎযাপন করা হবে তার জন্যে মিশুরা যমুনার তিরে একত্র হয়েছে মাদক নিয়ে,,রাত ১২ টা বাজবে। সাথে সাথে চলবে মাদক সেবন আর অশ্লীল বাধ্য আর নাচ যেমন কথা তেমন কাজ,,, তারা রাতভর মাদক সেবন আর নারীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল ফজরের আগ দিয়ে হাতে ডোল আর কিছু বাধ্য যন্ত্র নিয়ে শহরের বুকে নেবে পরে। অশ্লীল গান,কথা, আর নাচ,সাথে ব্যড সাউন্ড,,,।

জান্নাতির পরিবারে সবাই নামাজ পড়তে উঠেছে। কিন্তু নামাজ পড়তে পারছে না। অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করার পরও থামছে না।জান্নাতির ম্যাজাজ ধিরে ধিরে খারাপ হচ্ছে রাগ চরমে উঠে গিয়েছে। জান্নাতির বাবাও বাসায় নাই নামাজে গিয়েছেন মসজিদে। জান্নাতির আর সহ্য হল না একটা বোরকা পরে বাহিরে বাহির হল একজনকে ডেকে বলল তোমাদের বসকে  সে দেখিয়ে দিল জান্নাতি কাছে গিয়ে মিশুর গালে কোষে থাপ্পর মারল মিশুর গালে থাপ্পর মারার সাথে সাথে সবাই থমকে গেল।। জান্নাতীকে মারতে আসল। কিন্তু মিশু থামিয়ে দিল। জান্নাতি বলল,এই আপনাদের মা বাবা কি মুসলিম না  নামাজের সময় চিল্লা ফাল্লা করছেন? আর এই যে মিস্টাররা সবাই চলে যান। আমরা নামাজ পড়ব এই বলে জান্নাতি চলে আসে এদিকে মিশু বেশ অবাক হয়। এত বড় সাহস তো কারুর নাই আমার গায়ে হাত দেয়

নাহিদ—মিশু ভাই কিছু বললেন না। আমরা গিয়ে তুলে নিয়ে আসি।

মিশু—— থাক,,, তোরা খোজ নিয়ে দেখ মেয়েটা কে? প্রতিশোধ নিতে হবে।  এমন ভাবে নিতে হবে।  আর কেই কোনদিন আমার দিকে আংগুল নাতুলে রফিক সাহেব বাসায় এসে বেশ চিন্তায় পরে। বোখাটে ছেলের গায়ে হাত তুলেছে। সে সিরাজগঞ্জ আসার আগে সব খবর নিয়ে এসেছে।মিশুর খবরও রফিক সাহেবের নলেজের বাহিরে না।

রফিক সাহেব——মা জান্নাতী,, এদিকে আসো তুমি যা করছো, এটা ঠীক কর নাই। আমরা এই শহরে নতুন। যে কোন সময় যে কোন কিছু গঠতে পারে।

জান্নাতি — বাবা,, তুমি তো যানো অন্যায় সহ্য করা আর অন্যায় করা এক সমান

রফিক সাহেব— তাই বলে,,, তুমি একটা মেয়ে মানুষ এটা তো বুজতে হবে,,,মা,,,

জান্নাতি — বাবা,,,মেয়ে বলে চুপ থাকব আমরা। এটা কোন কথা হল বাবা,,,,, আমার দারা হবে না।

রফিক সাহেব —- আচ্ছা মা,,আবার যদি দেখা হয় কিছু বলিও না। চুপ চাপ চলে আসবে।

জান্নাতি—- বাবা তুমি একটুও চিন্তা কর না। শয়তান যত গর্জে তত বর্ষে না।আমরা ভয় করি বলে তারা মাথায় উপর বসে। এদিকে মিশুর চেলাপানা দিয়ে খবর নিয়ে দেখে তারা খুলনার। তাই তার সাহস আরো বেরে যায়। আর চিন্তা করে এতো বড় সাহস,, আমার এলাকায় এসে আমার গালে থাপ্পর। তারা তাই সিদ্ধ্যান্ত মেয়েটাকে দর্শন করবে তার বাসায় গিয়ে।

মিশু বলে —– তোরা সবাই রাতে আসবে। আমরা এক সাথে। ওই মেয়েটির বাসায় যাব। এমন শিক্ষা দিব মিশুর গালে থাপ্পর দেওয়ার মজাটা বুজাব।

মিশুর আর এক চামচা—- বস এটা না করলে হয় না। মেয়েটা নতুন এলাকায়। আপনারে চিনে না। তাই এমন করছে। দুইতিনটা চর মেরে দিলেই হবে। একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার কি দরকার

মিশু—-  সালাই কয় কি।তোর বোন লাগে নি আসলে ওর মনে একটু মায়া লাগে,, মিশুরা রাতে পোলাপান নিয়ে হাজির দরজায় টাক টাক করে আওয়াজ দেয় রফিক সাহেব দেখে তো অবাক ,, হাতে অস্ত্র দেখে তো রফিক সাহেবেরর হাত পা থরথর করে কাপছে। রফিক সাবের বুকে পিস্তল ধরে বলছে

মিশু—- কোন রকম চিল্লাচিল্লি করবেন না। করল গুলি করব। আপনার মেয়ে বড়টা রুম কোনটা

রফিক সাহেব বললেন–ওইটা রফিক সাহেব, তার স্ত্রী, আর ছোট মেয়েকে একটা রুমে নিয়ে আটকে রাখা হল রফিক সাহেবের স্ত্রী,, মিশুর হাতে পায়ে ধরে বলে প্লিজ বাবা কিছু করিস না আমার মেয়েকে। মিশু কোন কথা শুনে না মিশু সবার মুখ বেধেঁ রুমে আটকে রাখে। একজনকে হুকুম দেয়,, যা ওর রুম থেকে ডেকে নিয়ে আয়। একচামচা,, গিয়ে দরজা আস্তে করে ধাক্কা দিয়ে দেখে নামাজ শেষে মোনাজাত করছে। তার দেখে মায়া লেগে যায়।এসে মিশুকে বলে,, তিনি নামাজ পড়ছেন মিশু বলে,,, আমরা খারাপ হতে পারি কিন্তু এত বড় খারাপ না। নামাজ থেকে টেনে তুলে কাউকে দর্শন করব। অপেক্ষা করি কিছুক্ষণ।

বেশ ১০-১৫ মিনিট পর কোরাআন তেলাওয়াত ভেসে আসছে জান্নাতির রুম থেকে। সবাই নিরব, এমন মধুর তেলাওয়াত আগে কখনও শোনে নাই। মিশু ধিরে ধিরে রুমের দিকে গিয়ে দেখে মেয়েটি কোরাআন তেলাওয়াত করছে আর চোখের পানি কোরাআনের উপর অঝরে ঝরছে। মিশু কোরাআন তেলাওয়াত শুনে মুগ্ধ। কিন্তু কোরাআন তেলাওয়াত করে কান্না। এটা তাকে অবাক করে। এর ভিতর কি আছে যা চোখের পানি আসতে পারে? তা এমন করে তো তার সন্তান মারা গিলে কান্না করে না। যে মেয়েটি কোরাআন তেলাওয়াত করছে আর কান্না করছে। মিশু ১০-১৫ মিনিট একটানা কোরাআন তেলাওয়াত শুনে। কোন মতই তার আসতে ইচ্ছা করছে না। কিছুক্ষণ পর চলে আসে মিশু বলে,,,রফিক সাহেবের দরজা খুলে দে। রফিক সাহেব,, দৌড় দিয়ে মেয়ের দরজায় এসে দেখে মেয়ে কোরাআন তেলাওয়াত কররছে। রফিক সাহেব অবাক হয়ে যায়

মিশু বলে— রফিক সাহেব,, চিন্তা করিয়েন না।আপনার কোন ক্ষতি আমরা করি নাই। তবে আসছিলাম ক্ষতি করতে। শুনে ছিলাম কোরাআনের নাকি খুব শক্তি। আজ প্রমান হয়ে গেল।আসলে আমরা কোরাআনের কাছে পরাজয় হয়ে গেলাম কথা দিলাম এইশহরে আপনাদের দিকে কেউ আংগুল তুলে সাহস পাবে না। মিশু তার চেলাপালা নিয়ে আসে। সবাই মিলে যমুনার নদীর তিরে যায়। একটা নৌকায় উঠে,,কিছু মাদক নিয়ে তারা মাদক পান করতে থাকে।  রাতটি ছিল শুক্রবারের মাঝে মিশু তার চেলাপালদের প্রশ্ন করে আমরা কে?

চেলাপালা উত্তরে বলে — আমরা এলাকার সন্ত্রাসী, বোখাটে ছেলে পেলে

মিশু—- হল না, ভালো করে চিন্তা করে বল আমরা কে?

আবার চেলাপালা– আমরা কে,,আমরা তো মানুষও না জানোয়ার না। বস যানি না — আমরা কে?

মিশু— আসলে দেখছিস কি আজিব,, বাবা আছে, মা আছে। স্কুল কলেজের বড় বড় মার্কসিটের পাতা আছে
অথচ আমরাই যানি না,, আমরা কে?

চেলাপালা— জি বস,,,,ঠীক বলছেন

মিশু—- তার মানে আমরা চাইলে আবার আমাদের পরিচয় হতে পারে। তখন আবারও বলতে পারব আমরা কে

চেলাপালা—- বস কি বলেন? আপনার মাথা ঠীক আছে? বস নেশা মনে হয় বেশী হয়ে গিয়েছে

মিশু মুসকি হেসে বলল—- হু আসলেই নেশায় ধরেছে আসলেই আমার মুখে নিতী কথা মানায় না। বড্ড বেমানান, সুন্দর সব কথা গুলো। আমি তো সারাদিন সালা, নটির বেটা,,,, দে নইলে গুলি করলাম কিন্তু এইসব কথা বলি।

চেলাপালা— বস বাসায় যান মিশু চলে আসে বাসায় নেশার রাজ্যে ঘুম সন্ধ্যার আগে ভাংগে না

ঘুমের ঘরে স্বপ্নে দেখছে — বিশাল এক বাগান। এত সুন্দর বাগান আগে কখনও দেখে নাই। ভিতরে প্রবেশ করতে বড় ইচ্ছা করছিল। তাই প্রবেশের জন্যে গেটের কাছে গেলাম। গেট দিয়ে ভিতরে নজর দিতেই দেখি সুন্দরী একনারী। একটু খিয়াল করে তাকিয়ে দেখি। আমি যাকে ধর্ষন করতে গিয়েছিলাম। সেই মেয়েটি।  আমি তাকে ডাক দিলাম সে কাছে আসলো, আমি তাকে বললাম এইবাগানে আমি প্রবেশ করতে চাই

সে বলল– হাহাহা, আপনি তো পারবেন না এই পুরা বাগানটা আমার। আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। এবং আল্লাহ বলেছেন সে একজন পুরুষকেই দান করবে নেকদার পুরুষআমলকারী পুরুষযে আমার স্বামী হবে আপনি তো নেকদার পুরুষ না তাই পারবেন না স্বপ্ন দেখতে দেখতে হঠাৎ লাফিয়ে উঠে মিশু  জুমা’র আজান কানে আসে মিশুর একবার ভাবে নামাজে যাই আবার চিন্তা করে জীবনে যাই নাই সবাই আবার কি না কি বলে তাই মিশু যায় না,,,হয়তো তার ভাগ্য খারাপ পরের দিন চেলাপালা নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে জান্নাতি আর তার বোন তনিমা মার্কেটে যাইতে ছিল এক চেলা গিয়ে রিকশাচালকে থামিয়ে দেয়

ম্যাডাম—-বস আপনাকে ডাকে তনিমা ভয়ে কাম শেষ। কিন্তু জান্নাতির মনে একটুও ভয় নাই। তনিমাকে বলে তুই বস আমি আসতেছি মিশুর সামনে দাড়ায় জান্নাতি এক চেলা বলে,, ম্যাডাম বসকে সালাম করেন সে আপনাকে বাচিয়ে দিয়েছে। নইলে আপনি মুখ দেখাতে পারতেন না জান্নাতি তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা ধারালো চাকু বাহির করে,,, মিশুর দিকে ধরে বলে তোর বসকে বল আমাকে সালাম করতে ওইদিন তোর বস বেচেঁ গিয়েছে আমার গায়ে হাত না দিয়ে।

মিশু হা করে তাকিয়ে আছে জান্নাতির দিকে, চোখে একটুও ভয় দেখা যায় না। রাগে লাল হয়ে আছে পাশ থেকে এক চেলা বলে উঠে বস এতো পুরাই জংগি বলার সাথে সাথে,, হাতে থাকা চাকু দিয়ে ওই চেলার দিকে ধরে বলে তোদের কি ধারণা,বোরকা পরি বলে। নিজের ইজ্জতের দিকে হাত বারাবি আর আমি চুব করে থাকব। তোরা কি ভাবিস আমরা ইজ্জত বাচানর জন্যে সামান্য ছুরি হাতে নিতে পারব না নিলে জংগি হয়ে গেলাম তাহলে আমি জংগি আমার দিকে আসবে জীবন থাকতে লড়ে যাব ইজ্জত বাচানর জন্য মিশুর দিকে এসে ছুরি ধরে বলে,,, জান্নাতি তার জীবন দিবে অথবা আপনার জীবন নিবে কিন্তু ইজ্জত দিবে না তাই ভুলে আমার দিকে তাকাবেন না মিশু অবাক চোখে তাকিয়ে ছিল।

নিজেকে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না। কোন মানুষ তার মুখামুখি কথা বলবে।  এটাই তো কল্পনা করে নাই মিশু কিন্তু একটা মেয়ে তাকে এমন ভাবে কথা বলল। চুপচাপ শুধু তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে তার চেলাপালা গুলো সহ মিশু তার চেলাপালাকে বলে কোন মত যেন ওস্তাদের কাছে এইসব বিষয়ে কথা না যায় পুরা বিষয় টা আমি দেখব এদিকে রাতের স্বপ্ন শুধু চোখে ভাসছে প্রতিটা রাতের মত আজও বসে নেশার বতল আর তাসের আড্ডা নিয়ে। মিশু সহ তার চেলাপালা কিন্তু আজ মিশু যখনই নেশার বতলের দিকে হাত বারায় জান্নাতির রাগি চেহারা লাল টুকটুকে চোখ ভেসে উঠে তার সামনে আবার নেশার যন্ত্রণা বেরে যায় আবার হাত বারায়। বার বার কেন এমন হচ্ছে?

একজন বলে উঠল—- বস আজ আপনার কি হয়েছে পুরা বতল শেষ করেন প্রতিদিন।আজ তো হাত বারিয়ে আবার ফিরিয়ে নিতেছেন। ব্যাপার কি বস?

মিশু—- না রে,,,,,,তেমন কিছু না। আচ্ছা এক বতল দে নিয়ে যাই। বাসায় গিয়ে ড্রিংক করব তার পর মিশু একা বতল নিয়ে আসে বাসায়। বতলটা সামনে রেখে  বতলের সাথে কথা বলা শুরু করে

মিশু— আচ্ছা বতল তোর অনেক বুদ্ধি। তুই আমাদেরকে পৃথিবী থেকে আলাদা করে ফেলেছিস। আচ্ছা তুই বল,, তোর কাছ থেকে আলাদা করার মত কেউ আছে? ও তুই তো বোবা,, কথা বলতে পারিস না। তুই ভালো মানুষকে জানোয়ার বানাতে পারিস। আর তো কিছু পারিস না

আজ শোন বতল — তোর কাছ থেকে আলাদা করার মত নেশা আছে যানিস সেটা কি? ভালোবাসা, নারীর মহত্য এ বলে বতলটা হাতে নিয়ে বলে এই বতল তুই বিদায় আজ থেকেচির তরে একটা আচার দিয়ে বতলকে বিদায় করে দেয় মিশু হয়তো বেশি আবেগ থেকেই করে রাতে ঘুমে আবার স্বপ্ন দেখে জান্নাতি এসে বলছে,,, কি ব্যাপার এখনও ঘুমে আমার এই সুন্দর বাগান কি তোমার পছন্দ হয় নাই এবার ঘুম থেকে জেগে দেখে ফজরের আযান দেয় কিন্তু নামাজ পড়বে মিশু ও তো নামাজের কিছুই যানে না

আবার সুয়ে পরে —-

এবার জান্নাতি এসে বলছে — কি আবার সুয়ে পরলে তোমার কপালে মনে হয় আমি নাই  বলার পর সাথে তিন জন লোক এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। বিশাল এক আগুনের কোয়ার কাছে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে কাছে যাইতে চাইলাম না। কিন্তু জর করে কাছে নিয়ে গেল।

তিন জন ধরে আমাকে আগুনের কোয়ার ভিতর ফেলে দিল।আমার শরীর জলে পুরে ছাই হয়তেছিল। পিপাসায় বুক ফেটে যাইতে ছিল আগুনের কুন্ডির ভিতর থাকা সবাই বলতেছে তুই ও আমাদের মত বেনামাজি তুইও আমাদের মত সরাবি সবাই ধেয়ে আসছে আমার দিকে আমি ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠি পিপাসা এতটাই ছিল যে প্রায় দুইলিটার পানি পান করি। বেলা ভালোই হয়েছে দৌড় দিয়ে যাই একটা লাইব্রীতে  সেখানে জান্নাতিকে দেখি বেশ লজ্জা লাগতে ছিল আমাকে সালাম দিয়ে বলল আপনার জন্য একটা বই পড়বেন কিন্তু।  নউলে দাম দিতে হবে। তবে হারাম উপর্জন থেকে নয়। সত উপার্জন থেকে  আমি মিষ্টি হেসে রাজি হয়ে যাই কিন্ত কি আজব ব্যপার  আমি যে বই কেনার চিন্তা করে লাব্রীতে গিয়েছে। সে আমার জন্যে পর্বে থেকে কিনে রেখেছে  এর ভিতর বসের ফোন আসে আমি বসের কাছে যাই বস বইটা দেখে বলে

বস;—ওইটা কিসের বই,,,এদিকে দাউ নামাজ শিক্ষা,, নামাজ পড়লে কি উপকার আর না পড়লে কি ক্ষতি? তাহলে আজকাল জংগি হবার চিন্তা মাথার ভিতর ঠুকছে জা কর কর,,, আমার ব্যাবসার যেন কোন ক্ষতি না হয় যদি হয় লাশ হয়ে রাস্তায় পরে থাকবে। আমি চলে আসি বাসায় বইটা পড়ছিলাম আর জান্নাতির চোখ ভাসছিল মনে হয় প্রেমে পরে গিয়েছি কিন্তু এটা তো হবেই নাবোখাটে ছেলের সাথে কি জান্নাতি রাজি হবে একদম ই না আর ভালো হব বোখাটে থেকে পরিবেশ আমাকে ভালো হতে দিবে না এদিকে প্রতিদিন আমি চুপে চুপে চুরি করে জান্নাতিকে দেখি।

সে যেখান দিয়ে হেটে যায় আমিও সে পথ ধরে হাটি কিন্তু কতদিন আর বলতেউ তো পারছি নাবিয়ার প্রস্তাব দিব তাউ সম্বভ না তাই প্রতিদিন তার জন্য একটি করে গোলাপ কিনি ছোট মনের চিরকুট গুলো লেখে লেখে গোলাপের সাথে রেখে দেই এই ভাবেই চলছে মিশু,, প্রতিদিনই ভয়ানক স্বপ্ন দেখে তাই আজ আর ঘুম আসছে না। আজ ঘুমাতে ভয় করছে। কিন্তু এ থেকে পরিতানের উপায় কি?  তাই চিন্তা করে,,, মনে পড়ল তাদের বাসার পাশে মসজিদ। সেই ইমামের কাছে যাবার চিন্তা করে। এবং রওনা হয়। তখন রাত তিনটা বাজে। আমি মসজিদের দরজা খোলা পাই। ধিরে ধিরে মসজিদের দরজার কাছে যাই। ভিতর থেকে মধুর তেলাওয়াত আসছে। ইমাম সাহেব রাতে কোরাআন তেলাওয়াত করছিলেন আমি তার কাছে যাই।  সে আমাকে দেখে চুমকে উঠে। আমি ইমাম সাহেবকে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করি। ইমাম সাহেব আমাকে বুকে জরিয়ে নেয়। তার সাথে কত বেদবী করছি। আজ সে আমাকে বুকে জরিয়ে নিল।

সে বলল– বাবা কি চাও আমার কাছে?

মিশু — চাচা আমি কোরাআন শরীফ পড়া শিখতে চাই আর তা খুব গোপনে। আমার পরিবর্তন, আমার বস মেনে নিবে না। আমাকে মেরে ফেলব। যদিও যানি আজ না হয় কাল তো জানবেই।

ইমাম—বাবা তুমি যদি আল্লাহুকে বিশ্বাস কর।

তাহলে সে তোমাকে মারতে পারবে না। তবে যদি তোমার তার হাতে মৃত্যু থাকে। কেউ তোমাকে বাচাঁতে পারবে না। আমি ইমাম সাহেবকে স্বপ্নের কথা খুলে বলি। ইমাম সাহেব আবারও বুকে জরিয়ে নিয়ে দুচোখের পানিতে ভাসিয়ে দেয়।আসলে বাবাকে দেখি নাইআজ মনে হল বাবার বুকে মাথা রেখেছি।

ইমাম— বাবা মিশু,, তোর তো কপাল ভালো। কয়জনের কপাল এমন হয়? তোকে জান্নাত ডাকছে

আমি প্রতিদিন কোরাআন শিখতে যাই নামাজ শিক্ষা বইটা পড়া শেষ আর জান্নাতিকে প্রতিদিন দেখি আজ একজন খবর দিল জান্নাতি আমাকে দেখা করতে বলছে যমুনার তিরে,, ক্ললোজারের একটু দূরে জায়গাটা খোলামমেলা। কিন্তু মানুষের যাওয়া আসা সেদিকে কম। পরিপাটি হয়ে যাই সেখানে নিজেকে বেশ আলাদা মনে হচ্ছে আজ তাকে প্রোপজটা করব কি না ভাবছি এবং কি মনে মনে চিন্তাও করে রেখেছি কি ভাবে প্রোপজ করব? দূর থেকে দেখা যাইতেছে বোরকা পড়া একটা মেয়ে দাড়িয়ে। চোখে চশমা, চোখ দুটা ভালো করে দেখা যায় না। কাছে গিয়ে দেখি বুকের সাথে একটা বই। আমাকে একটা নৌকা ভারা করতে বলে। একটা নৌকা ভারা করলাম। আমরা দুজন নৌকায় বসলাম  নৌকায় নদীর ঢেউ এসে লাগছে। বেশ রমান্টিক মনে হচ্ছে। দক্ষিণা বাতাস এলোমেলো গায়ে লাগছে।

জান্নাতি—- আচ্ছা আমি যদি আপনাকে একটা চিঠি দেই এখুন। মনে করেন আরবিতে লেখে। কিন্তু আপনি আরবি বুজেন না। চিঠিটা তাহলে কি করবেন?

মিশু– যে আরবি জানে, তারর কাছেই নিয়ে যাব এবং তা এতো তারাতারি নিব। যেন বাতাসের গতির সাথে চলতে পারি।

জান্নাতি—- আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন?

মিশু—— আমি প্রোপজ করতে চাইলাম –এদেখি উল্টা প্রোপজ করতে চাইছে হ্যা বলে দেই

জান্নাতি– আপনি ভাবছেন, আমি বুজলাম কি করে?  আসলে প্রতিদিন আপনি আমাকে ফ্লো করেন আমি তা দেখি

মিশু — জ্বি,, আমি আপনাকে ভালোবাসি

জান্নাতি— আপনি আমাকে পাবেন,, তবে আমার চাইতে আল্লাহ কে ভালোবাসতে শিখুন  এইযে আমাকে ভালোবাসেন বলে,, আমার একটা চিঠি বুজার জন্য দৌড়াবেন। আর যে আল্লাহ আপনাকে তৈরী করল। আপনার রিযেক দেন। তার দেওয়া একটা ম্যাসেস বুক আছে। আমি আপনাকে বাংলা অর্থসহ কোরাআন শরীফ উপহার দিলাম। কথা দিলাম আমি আপনার হব। আপনার জন্য আমি অপেক্ষা করব তবে কিছু শর্ত আপনারর এই ব্যবসা ছারতে হবে।  আপনার বসের কাছ থেকে মুক্তি নিতে হবে যাদের কাছে অন্যায় করছেন। তাদের কাছ থেকে ক্ষমা চাইতে হবে

মিশু– এটা কি করে সম্বভ? কত মানুষের কাছে তো অন্যায় করেছি। অনেকের তো চেহারাই মনে নেয়

জান্নাতি— সবার কাছে থেকে পারবেন না। আমিও যানি। তবে যাকে যখন সামনে পাবেন। তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিবেন। আর একটা শর্ত, পাপের টাকা গড়া সব সম্পদ বিলিয়ে দিতে হবে। দরকার হলে রিকশা চালাবেন। তা থেকে কিছু টাকা দেন মহরের জন্য জোগার করবেন। আমি নেককার স্বামী চাই। আমি যার হাত ধরব দুনিয়াতে না শুধু আখিরাতের সেপথ ও পারি দিতে চাই। বাকি আপনার ইচ্ছা। সুন্দর স্বামী চাই না,, দামী গাড়ি চাউ না। শুধু জান্নাতের মালিক চাই। আমরা নৌকা থেকে নামলাম,, নৌকা ভারাটা জান্নাতি দিয়ে দিল তারপর জান্নাতি রওনা দেয় আমি কোরাআন শরীফ বুকে নিয়ে যমুনার নদীর দিকে তাকিয়ে কান্না করতে ছিলাম। হাউ মাউ করে কত পাপে ভরে গিয়েছে আমার পৃথিবী কতজনের রক্তে রন্জিত আমার হাত এই পাপ কি ক্ষমা হবার কার কার কাছে ক্ষমা চাইবে বুকে কোরাআন শরীফ নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকি।

মিশু এখন কোরা-আন শরীফ পড়ে আর জরে জরে আওয়াজ করে কান্না করে। মিশুর কান্নার আওয়াজে আশ পাশের মানুষের ঘুৃম ভেংগে যায়। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। সবাই চিন্তা করে,,, এ কেমন করে হল কয়দিন আগে যে ছেলেটা নেশা করে এসে গালিগালাজ করত। তার গালিগালাজ শুনে অনেক ভারাটে এলাকা থেকে চলে গিয়েছে। আজ সেই ছেলেটার কান্নার আওয়াজ,, কোরা-আনের আওয়াজ। এখন মিশু ভয় করে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করে। রাস্তায় যারে পায়,তারে সালাম করে বুকে জরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেয়। এদিকে তার বসের, মাদক ব্যবসায় ধস নেমে আসে কারন তার ডান হাত ছিল মিশু। সেই এখন আর তার সাথে নাই। তাই তার চেলাপালা পাঠিয়ে দেয়, মিশুকে ডেকে আনতে। মিশুকে তারা ডেকে নিয়ে যায়,,,,,

মিশু —– আস্সালামুআলাইকুম,,, বস কেমন আছেন

বস— কি রে মিশু ”’ কিছু দিন আগে যখন তুই কথা বলতি। তোর মুখ দিয়ে মদের গন্ধ আসত। আজ সেই মুখে সালাম,,দাড়ি, সার্টের বুতাম খোলা থাকত। এখন লম্বা জুব্বা,বেশ পরিবর্তন হয়েছে। বাহ,,,মেয়েটার থাপ্পরের প্রসংশা করতে হয়। এক থাপ্পরে,, আস্ত এক রাস্তার কুত্তা এখন জংগি হয়ে গেল। তাকে তো তুলে নিয়ে আসতে হয়। তার ছোয়া পাইলে আমরা ফেরেস্তা হয়ে যাব।

মিশু——- বস আমি ও মেয়েটার জন্য পরিবর্তন হয় নাই।আমি নিজ থেকে হয়েছি। যা বলার আমাকেই বলুন

বস— কিছু বলার নাই- আমার লস আসতেছে। আমার সব রাস্তা তোর চেনা জানা । তোকে তো আমরা ছেরে দিতে পারি না। তাই তোকে সময় দিলাম ১৫ দিন আবার ফিরে আয়।  নইলে কি হবে,তুই তো জানিস মুখে বলার দরকার নাই।

মিশু— আমি আসার সময় মন ভরে কোরা- আন তেলায়াত করে এসেছিলাম।

মনে করে ছিলাম আজই আমার শেষদিন। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ,, আল্লাহ তার পাপী বান্দাকে আরো ১৫ দিন সুযোগ করে দিল আল্লাহ হাফিজ বস, আপনার যা ইচ্ছা করেন মিশু প্রতিদিন মৃত্যুর জন্যে অপেক্ষা করে মিশুর বস,,, তার চেলাপালাকে বলে দেয় সুযোগ বুজে,মিশুকে শুট করে দিবি এদিকে মিশু তার গড়া পাপের সম্পদ বিক্রি করে যাদের কথা মনে আছে,, তাদের টাকা কিছু করে রিটার্ন করে,আর বাকি টাকা গরীব দুঃখির মাঝে বিলিয়ে দিয়ে নিজে একটা রিকশা ভারা নিয়ে শহরের অলিতে গলিতে চালায় এদিকে জান্নাতি আর মিশুকে তার পিছু দেখতে পায় না। প্রতিদিন খুজে,পিছুন ফিরে ফিরে তাকায়। কিন্তু মিশুকে দেখা যায় না। ব্যাপারটা কি? সে তো আমাকে ভালোবাসে। আমাকে নাদেখে থাকে কি করে? না আবার ও পাপের পথে পা বারিয়েছে। লজ্জায় আসে না।

খোজ নেওয়া দরকার, সে তার কিছু বন্ধুদের কাছে থেকে খোজ নিয়ে রওনা দেয়। শহরের কাছে, যমুনার তিরে ছোট একটা কুড়ে থাকে মিশু। ফজরের নামাজ পড়ে মিশুর বাসার দিকে রওনা হয় জান্নাতী। কি সুন্দর তেলায়াত ভেসে আসছে আর কান্নার আওয়াজ,,,দরজার কাছে দাড়িয়ে শুনছে আর জান্নাতির চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরছে। কোরা-আন তেলাওয়াত শুনছে আর ফিস ফিস করে কান্না করছে। মিশু এক একটা আয়াত পড়ে আর কান্না করে আবার পড়ে আবার কান্না করে এটা দেখে জান্নাতির বুকে ফেটে যাইতে ছিল।  তাই সেই একটু জরে কান্না করে। মুখ থেকে আওয়াজ বেরিয়ে আসে। ইচ্ছা করছিল মিশুকে জরিয়ে ধরতে।  কিন্তু সেটা তো জায়েয না তাই নিজেকে কোন্টল করে জান্নাতি বাহিরে ব দাড়িয়ে দাড়িয়ে কান্না করে মিশু যখন কোরা-আন তেলাওয়াত করে পৃথিবীর কোন কিছুই খিয়াল করে না  জান্নাতির চোখে রিকশা টা পরল কাছে গিয়ে রিকশায় একটা চুম খেয়ে চলে আসে বাসায়। সারাদিন বালিশ মুখের নিচে নিয়ে কান্না করে। রাতে তার বাবা মাকে ডাকে জান্নাতি।

জান্নাতি—- বাবা মা,, তোমরা হলে আমার জান্নাত আমার জাহান্নাম। জান্নাতির মা কাছে এসে মেয়ের কাছে বসে মাথায় হাত দিয়ে বলে। মা,,, কিছু হয়েছে?

জান্নাতি— মা আর আব্বু,, আসলে আমি যে কথা বলব। মেয়ে হিসাবে কথাটা বলা ঠীক না। তারপর বাবা মা তার সন্তানের সেরা। তাই আমি নিজেই বলতে চাই। যদি আব্বু আম্মু অনুমতি দাউ তাহলে।

রফিক সাহেব— জি মা বলো।কোন অসুবিধা নাই আমরা তো তোমার ভালো মন্দ দেখব।

জান্নাতি—– আব্বু মা,,, আমি যদি কোন ছেলেকে পছন্দ করি। তার কথা যদি তোমাদের বলি রাগ করবে কি?

মা— না,, বলো

জান্নাতি — তোমরা যদি রাজি না থাকো। আমিও বাতিল করে দিব। কোন অসুবিধা নাই। এদিকে মিশু প্রতিদিন নিজের শেষদিন মনে করে কারণ তার বস লোক লাগিয়ে দিয়েছে যে কোন মেরে ফেলতে পারে।

মা—–ছেলেটা কে? আগে তো তার পরিচয় দিবি।তারপর আমরা ভেবে দেখব

জান্নাতি— মা,, ছেলেটা রিকশাচালক, কুড়ে ঘরে ভারা থাকে। নিজের কোন ঘর নাই।

মা—— কি বলিস তুই তোর মাথা কি ঠীক আছে জান্নাতির বাবা, তুমি কিছু বল না কেন?

বাবা—- মা জান্নাতি , তোমাকে কি আমরা ভালোবাসা কম দিয়েছি? তোমার জন্যে কি আমরা যতেষ্ঠ নয়?

জান্নাতি—- বাবা, মা,, অবশ্যই তোমরা আমার জন্যে যতেষ্ঠ। তোমাদের সন্মান নষ্ট অথবা তোমাদের অসন্মান করার মত মেয়ে আমি নই। আমাকে তোমরা এমন শিক্ষা দাউ নাই। বাবা,, মা,,তোমাদের মেয়ে ধর্ষন করতে এসে একটু ছেলে ফিরে গিয়েছিল। ওইদিনই পারত আমাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে। তোমরা শুধু চোখ বন্ধ করে দেখতে। লজ্জায় সমাজে মুখ দেখাতে পারতে না। সেই ছেলেটি আজ রিকশাচালক, সেই ছেলেটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি। সেই ছেলেটি কোরা-আন তেলায়াত করে আর চোখের জলে বুক ভাসায় বল আব্বু,,

মা – আমি তো দালান চাই না শুধু জান্নাতী একটা মানুষ চাই।

রফিক সাহেব——– আচ্ছা মা, তুমি তাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসো।আমরা কথা বলে দেখি

জান্নাতি —– আচ্ছা বাবা,,, তোমাদের ইচ্ছা জান্নাতির দেরি আর সহ্য হয় না। তাই বিকাল চলে যায় মিশুর কাছে। গিয়ে দেখে যমুনার তিরে বসে আছে। কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বসে জান্নাতি। কিন্তু আজ আর মিশু জান্নাতির দিকে তাকায় না।

জান্নাতি প্রশ্ন করে মিশুকে— তুমি কি আমাকে সত্যি ভুলে গেলে?

মিশু—– সত্যি ভুলে গিয়েছি তোমাকে,ভুলে গিয়েছি তোমার নয়ন অবিরাম চোখ দুটা।এক সময় তোমাকে দেখার জন্যে রাস্তার ধারে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতাম।

জান্নাতি ——-আর এখন কাছে এসেছি। একটু ফিরে তাকাও না

মিশু—–আসলে তখন আসল প্রেম বুজতাম না। ভালো করে চিনতাম না তাকে। যে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন কি করে তার সৃষ্টি করা জিনিষ দেখে, তাকাই ভুলে যাই। আমি আর তোমার দিকে তাকাই না, তোমার অপেক্ষা করি না, এই জন্যে। তোমাকে দেখে যদি আল্লাহুর প্রতি ভালোবাসা কমে যায়। কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহ যেন প্রশ্ন করে? তোমার কারনে আল্লাহকে ভালোবাসি নাই। তোমাকে পাবার কারণে আল্লাহকে ভালোবাসি। আমাকে এখন পৃথিবীর কোন কিছুতেই লোভে ফালাতে পারে না। এমন কি তোমার সেই মায়াবি চোখ যা কিছু দেখি সবকিছু ক্ষনিকের মত লাগে।

জান্নাতি——–তোমার কথা শুনে, আমি খুশি হয়েছি। তোমাকে আমি স্বামী হিসাবে চাই।

মিশু—– তুমি তো জানো,, আমার আর কিছু নাই আর বস আমাকে যে কোন সময় মেরে ফেলবে।

তাই এপারে আর স্বপ্ন না দেখি জান্নাতি মিশুর পায়ে ধরে,,, জান্নাতির কথা তুমি যদি একদিন পৃথীবিতে বেচেঁ থাকো।আমি ওই একদিনও তোমার বউ হয়ে বাচতে চাই। আর কেই তোমাকে মারতে পারবে না। আল্লাহ যদি না চান। আর আল্লাহ যদি চান, কেই তোমাকে বাচাঁতে পারবে না জান্নাতির সাথে বিয়ে ঠীক হয় মিশুর। দেনমহর এক হাজার টাকা আর একপারা কোরাআন তেলায়াত। আগামী শুক্রবারে বিয়ে। দুইদিন বাকি,,, কিছু বকুল ফুল নিয়ে আসে মিশু জান্নাতির জন্যে বকুল ফুলের চুরি, বুকুল ফুলের মালা, বকুল ফুলের টিকলি,,,বকুল ফুলের খোপা। সে বকুল ফুলে সাজাবে জান্নাতিকে।

এই গুলো আর একটা শাড়ী, পাঠীয়ে দেয় ঢালা হিসাবে জান্নাতিদের বাসায় বৃহঃপ্রতিবার রাতে, তার বসের লোকজন ডাকতে আসে মিশুকে মিশু ভাই,, কাল বিয়ে করছেন। বসকে দাওয়াত দিবেন না। মিশু বুজতে পারে,, ছোট একটা কাগজে লেখে যায় জান্নাতির জন্যে জান্নাতি,,  ভালো থেকো। এতোদিন ভয়ানক স্বপ্ন দেখতাম। আজরাতে প্রথম একটা ভালো স্বপ্ন দেখেছি। একবিশাল সুন্দর বাগানে আমাদের হয়তেছে। আমাদের বাসরঘর হিরা, মুক্তা দিয়ে সাজানো হয়েছে এপারে হল না বিয়ে। কারন আল্লাহ চান না,আমরা এই ছোট কুড়ে ঘরে বাসর করি। তাই ওপারে ব্যবস্হা করে রেখেছেন। ওপারে অপেক্ষা করব তোমার।

আল্লাহ হাফিজ,, বসের লোকজন  যমুনার এক চরে নিয়ে গিয়ে ৫রাউন্ড গুলি করে মিশু মৃত্যু নিশ্চিত করে। বস্তায় ভরে সাথে বালু ভরাট করে নদির স্রোতের সাথে ভাসিয়ে দেয়। এদিকে জান্নাতি বকুলের মালা পরে বসে আছে মিশু আর আসে না। রাত হয়ে আসল খবর নাই রফিক সাহেব মিশুর ঘরে আসে খোজ নিতে  এসে চিঠিটা পায়। নিয়ে এসে জান্নাতির হাতে দেয়। জান্নাতি পরে চিৎকার করে কান্না করে বার বার বলে যদি আতঃহত্যা মহাপাপ না হত আমি আতঃহত্যা করতাম।  তারা এখান থেকে চলে যায় খুলনা এক বছর পর

রফিক সাহেব —- মা জান্নাতি,,, আমি তো বুড়া হয়ে গেলাম। এখন যদি তোমাদের একটা ব্যবস্তা করে দিতে না পারি। সন্তানের দায়িত্বে অবহেলার জন্যে শাস্তি পেতে হবে।

জান্নাতি —- বাবা আমার তো বিয়ে হয়েছে। আমরা প্রতিদিন রাতে দুইজন হাত ধরে সুন্দর সুন্দর বাগানে ঘুরে বেড়ায়। নিল আকাশে উড়ে বেড়ায়। প্রতিদিন বাবা আমরা দুজন ঝরনায় গোসল করি। বাবা স্বামী রেখে কি কেউ বিয়ে করে

রফিক সাহেব — মা তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস তার ছয়মাস পর এক গাড়ী দর্ঘঠনায়, জান্নাতি মারা যায় আর রফিক সাহেব ওইদিন রাতে স্বপ্নে দেখে তার মেয়েকে মিশুর হাতে তুলে দিচ্ছে তিনি ঘুম থেকে জেগে জান্নাতির মাকে বলে জান্নাতির মা বলে,, এটা পবিত্র প্রেম তাই আল্লাহ তাদের জন্যে ব্যবস্হা নিয়েছেন।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত