পচা ভাইয়া

পচা ভাইয়া

এই ভাইয়া,এই ভাইয়া(নুসাইবা) (চুপ)(আমি) এই ভাইয়া তুই উঠবি? এতো তাড়াতাড়ি, কি হয়েছে? তুই তো বলছিলি যে আজ তোর সকালে ক্লাস আছে.এখন ৯ টা বাজে!! কিইই??? জি!!!

তোকে বলছিলাম ৮ টাই ডাকতে আর তুই কিনা??? তোকে সেই কবে থেকে ওই চুপ করবি..আমার ক্লাসের তো বারটা বাজালি???(বকা দিয়ে) চুপ কিরে চুপ করে আছিস যে??? কিছুনা -(বলে চলে গেলো) দুর আজকের পুরা দিন মাটি এতক্ষন যার সাথে কথা হয়েছিলো সে আমার বোন নুসাইবা, আমাকে খুব ভালোবাসে,কিন্তু আমি তাকে সহ্য করতে পারি না, আসলে আমার একটা সমস্যা আমার মাঝে সব সময় সিনিয়র জুনিয়র ভাব থাকে। তাই ওর আমার সাথে দুষ্টুমি গুলো আমার বেয়াদবী মনে হয়। কিন্তু ওকে আমি যত বকা দেয় ও সব সময় আমার আশে পাশে থাকে দুপুরে বের হচ্ছি এমন সময়– ভাইয়া? ? কি?? তুই কি বাইরে যাচ্ছিস? দেখতেই তো পাচ্ছিস!! আমার জন্য কিছু আনতে পারবো না,কারন আমার টাকা নেই আচ্ছা একটু দাড়া..

কিছুক্ষন পর এই নে(দুইশ টাকা দিয়ে) কি জন্য? আমার জন্য আসার সময় ফুচকা নিয়ে আসবি?(আগে ফুচকা খাওয়ার জন্য আমার সাথে যেতে চাইতো কিন্তু এখন আর বলে না কারন ও জানে আমি ওকে নিবো না) ওর টাকা নিয়ে বের হলাম ফেরার আগে ফুচকার দোকান থেকে ওর জন্য ফুচকা নিয়ে বাসায় আসলাম ভাইয়া আমার জন্য ফুচকা এনেছিস(নুসাইবা) হ্যা(আমি) [দোড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে] থ্যাংকু ভাইয়া (এমন ভাব মারতেছে যেন ফুচকা আমার টাকা দিয়ে আনছি) ওই তুই কথায় কথায় জড়িয়ে ধরিস কেনো বেয়াদবের মতো??? [সাথে সাথে ওর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো]

আমি চলে আসলাম কিছুক্ষন পর আমার রুমে এসে ভাইয়া চল ফুচকা খাবো দুজনে মিলে!!!(খুশি হয়ে) আমি খাবো না প্লিজ ভাইয়া চল না??? ওই তুই খেলে খা,আমাকে জোর করবি না,আর বেয়াদবের মতো এগুলা কি ভাষা,তুই তুকারি করে আমি তোর বড় হই, সরি [বলে চলে গেলো] আমি দেখছি ওর চোখ দিয়ে জল পড়ছে,কিন্তু তাতে আমার কিছু যাই আসে না, রাতে খাওয়ার টেবিলে ওকে দেখলাম না আমি নিজের মতো খেয়ে চলে আসলাম মধ্যরাতে যখন বের হলাম তখন দেখলাম ওর রুমে বাতি জলছে, রুমের সামনে গিয়ে দেখলাম ও ডাইরিতে কি যেনো লিখছে

আমি ওকে ডাক দিলাম সাথে সাথে ডাইরিটা বন্ধ করে দিলো ভাইয়া তুই এতো রাতে!! কি করতেছিস এমনি ডাইরিতে লিখছিলাম রাতে খাইছিলি?? চুপ করে আছে ওই তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি??(ধমক দিয়ে) না এখন গিয়ে খেয়ে নে!! আমি খাবো না সাথে থাপ্পড় দিলাম ও কেদে দিলো,কেদে কেদে গিয়ে খেয়ে নিলো আব্বু আম্মু এসব দেখে তারা আমাকে বুঝাই কিন্তু আমি আমার যুক্তিতে অটল  এরপর দিন সকালে ঘুমাই আছি তখন ও এসে এই ভাইয়া কি(ধমক দিয়) আমার একটা কথা রাখবি? কিইই?

আমি আমার বান্ধবীর বাসায় যাবো আমাকে সাথে করে একটু দিয়ে আয় প্লিজ পারবো না.পারলে একা যা,না হয় রুমে গিয়ে বসে থাক আসলে রাস্তায় কিছু ছেলে বসে বসে খারাপ খারাপ কথা বলে শুধু তোকে সবাই খারাপ কথা বলে তাই না??মেজাজ গরম হওয়ার আগে এখান থেকে যা [ও চলে গেলো] কিছুক্ষন পর খেয়েদেয়ে বের হলাম রাস্তায় দোস্ত সজীবের সাথে দেখা, কিছুক্ষন আগে তোর বোনকে দেখলাম এদিক দিয়ে যেতে? তো কি হইছে? না রাসেলকে দেখলাম তোর বোনকে বাজে কথা বলতে!! (মাথা গরম হলো ) আচ্ছা বাদ দে চল। বিকালে যখন ও বাসায় ফিরলো (থাপ্পড় দিয়ে)ওই তোকে না বলছি বের না হতে তারপর ও বের হয়েছিস কেনো?নাকি রাস্তায় ছেলেদের কথা শুনতে ভালো লাগে রাস্তায় আমাকে যদি কেউ ওই চুপ কর তুই ওকে বকছিস কেন?লোকে বাজে বলবে বলে কি ও রাস্তায় বের হবে না (আম্মু) না বের হবে না,আজ থেকে যদি দেখি পা ভেঙ্গে দিবো

এর কিছু দিন পর বন্ধুদের সাথে ফুচকার দোকানে গেছিলাম তখন দেখলাম দুজন ভাইবোন ফুচকা খাচ্ছে তারা একে অপরের সাথে দুষ্টুমি করছে দৃশ্যটা মনের মতো ছিলো, তখন আমার বোনের কথা মনে পড়লো বাসায় ফিরে আসবো তখন বন্ধু আবিদের ফোন হ্যালো (আবিদ) হ্যা বল(আমি) দোস্ত একটা কথা বলবো রাগ করবি না না বল দেখ তোর বোন আমার বোনের মতো কি করেছে নুসাইবা দেখ তোকে বলতে ভয় করছে তুই বল তোর বোন আমাকে প্রপোজ করেছে অই তুই কি বললি?

সত্যি দোস্ত তুই ফোন রাখ তাড়া তাড়ি বাসায় গেলাম নুসাইবা,নুসাইবা(আমি) কি ভাইয়া? তুই আবিদ কে কি বলছিস?? ভাইয়া আমি কিছু বলিনি,আবিদ ভাইয়া ওকে বলতে না দিয়ে ওকে মারতে শুরু করলাম ও শুধু বলছে ভাইয়া আমি কিছু করিনি আমি কিছু করিনি ওর চিৎকার শুনে আম্মু চলে আসলো তুই ওকে মারছিস কেনো? তা তোমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করো আম্মু আমি কিছু করিনি(নুসাইবা) তুই একদম মিথ্যা বলবি না??

না ভাইয়া তুই ওকে আর মারবি না(আম্মু) কি??তোমার মেয়ে যত সব কুকাজ করবে আর আমি?[তখন ওর ডাইরির দিকে চোখ গেলো]আবার ডাইরি লিখা হচ্ছে দাড়া…(যখন ডাইরি নিতে যাচ্ছিলাম) ভাইয়া প্লিজ তুই ওটা নিস না তোর পায়ে পড়ি…(আমার পায়ে ধরে যখন আমাকে থামাচ্ছিলো আমি ওকে ধাক্কা দিলাম) সাথে সাথে দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খেলো আর রক্ত চলে আসলো,ভয় পেয়ে গেলাম তারপর ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম,তারপর বাসায় আনলাম রাতে যখন শুলাম তখন ওর কথা গুলো মনে পড়ছিল “ভাইয়া আমি কিছু করিনি,ভাইয়া আমি কিছু করিনি” ওর অশ্রু মাখা মুখটা শুধু মনে পড়ছিলো ওর রুমে গেলাম দেখলাম আম্মু ওকে জলপট্টি দিচ্ছে তার জ্বর আসছে আম্মুকে চলে যেতে বল্লাম

আমি ওর মাথায় জলপট্টি দিচ্ছিলাম তখন ওর ডাইরির দিকে চোখ গেলো হাত বাড়িয়ে ডাইরীটা নিলাম-কিছু পৃষ্টা উল্টিয়ে যা দেখলাম পুরো নিস্তব্দ হয়ে গেলাম প্রত্যেকটা পাতার শিরোনাম ভাইয়া কিছু পৃষ্টার লেখা পড়লাম আমার ভাইয়া টাকে আমি খুব ভালোবাসি না, কিন্তু আমার পচা ভাইয়াটা তা বুঝে না শুধু বকে ভাইয়া আমাকে কাল সকালে ৮ টাই ডেকে দিতে বলছে ,খুব ভালো লাগছে ভাইয়া আমাকে তার কোনো কাজ দিয়েছে দুর এখনো ৬.৩০ কখন যে ৮ টা বাজবে আমি ভাইয়া কে ডাকবো দুর পচা ভাইয়া ওকে ডাকার জন্য আমি সারারাত ঘুমাইনি আর ও নিজে না উঠে আমাকে বকা দিচ্ছে ভাইয়া ভাইবোনের রিলেশন তুই তুকারি হলে সুন্দর হঈ

দুর প্রতিদিন রাস্তায় বকাটে টা ডিস্টার্ব করে,দাড়া কাল আমার ভাইয়াকে নিয়ে যাবো দেখি কাল কি বলে,আমার ভাইয়া তোদের মেরে পাঠিয়ে দিবে সব চেয়ে অবাক হলাম যে কথাটা দেখে ভাইয়ার বন্ধু আবিদ ভাইয়া প্রতিদিন কিভাবে যেনো তাকাচ্ছে,ভাইয়া কে কিছু বলতে পারছি না আবিদ ভাইয়া আজ আমাকে কল দিয়ে প্রপোজ করছে,এখন ভাইয়াকে কি বলবো,ও যদি আমাকে ভুল বুঝে,দুর যাই হোক ভাইয়া বাসায় আসলে আজ বলে দিবো,যে ওর বন্ধু আমাকে ডিস্টার্ব করছে তখন ও ভাইয়া বলে গোঙ্গানো শুরু করলো

আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম, ও আমার হাত টা কে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো  ও আমার হাতটা এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে,যে ভাবে প্রত্যেকটা বোন তার ভাইয়ার হাত কে ভরসা করে যে এই হাত তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবে, হাটাৎ চোখের কোনো অশ্রু লক্ষ্য করলাম, ও হয়তো জেগে থাকলে আমার চোখের জল নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো ও হাত টা জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে,আমি শুধু বসে বসে আমার নিষ্পাপ বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে

কিছুদিন পর বের হচ্ছি এমন সময় নুসাইবা কে ডাকদিলাম নুসাইবা নুসাইবা(আমি) জি ভাইয়া আজ আমার কোনো কাজ নাই চল আজ তোকে নিয়ে ফুচকা খেতে যাবো ওর চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু ঝড়ছে, দোড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো  I Love You Vaiya I Love You So Much….. I Love You too Apu

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত