কে সে

কে সে

ওহ হ্যালো!আপনার সাহস তো কম না! মেয়ে দেখলেই ধরতে ইচ্ছে করে?যতসব বেয়াদব পোলা। আজব মেয়ে তো! আজব কি হুম?সুন্দরী দেখলেই মনে লাড্ডু ফোটে তাই না! আজব!আমার দোষ কই?আপনাকে না ধরলে, এতক্ষণ তো দুজনকেই নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্য রওনা দিতে হতো।আপনি উপর থেকে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন,আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করলে just shut up.তোমাদের মত ছেলেদের আমার ভাল করে চেনা আছে। [বুকে একটা ধাক্কা মেরে চলে গেল রাগিনি,মানুষ এমন কেন! সিঁড়ি থেকে যেভাবে নামিতেছিল, আমি না ধরলে আমাকে নিয়ে নিচে পড়তো…।দূর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েই অপরাধী হলাম!হে আল্লাহ, তোমার বান্দাদের দিলে বরফ ঢেলে দাও।

ওহ সরি,মূল বিষয়টা তো বলিই নি, আজ ক্রেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড (১৯ জানুয়ারি,২০১৮) আর এতে অংশ নিতেই শীতের সকালের ঘুম নষ্ট করে পরীক্ষা দিতে কলেজে আসা।কি ভাবছেন !আমি খুব ভাল ছাত্র? নাহ,মাথায় গোবর ছাড়া আর কিচ্ছু নাই। পড়াশুনাতে সেই ছোট্ট বেলা থেকেই এলার্জি।তবু ও পড়ছি,বাধ্য হয়ে।শুনেছি অংশ নিলেই একটা টি-শার্ট ফ্রি।আর টি-শার্টের জন্যই আসা,সকালের ঘুম হারাম করে । হাতে সময় কম,এমনিতেই লেট হইছে,তারপরে শুরুতেই ঝামেলা।জানিনা আজকে আর কি কি ঘটবে! তাড়াতাড়ি হল রুমে গেলাম।একি প্রশ্নপত্র দিয়ে দিয়েছে।মাত্র ৭মি.৩৯সে. লেট,আর তাতেই স্যার আগুন স্যার রোল জিজ্ঞাসা করে সিট দেখাই দিল প্রশ্নপত্র নিয়ে নিজের সিটে চলে গেলাম।একি আমার সিটের ডানে-বামে, সামনে-পিছনে সব দিকে মেয়ে।মহা ঝামেলা] এই যে আপি একটু হুম ধনবাদ। নাম,কলেজ রোল,ইত্যাদি লিখে প্রশ্নপত্রে নজর দিলাম।

একি…! সব ইংরেজিতে প্রশ্ন!আমি তো বাংলা মাধ্যম চুজ করেছিলাম,তবে ইংরেজি কেন!আমাকে দিয়ে ইংলিশ!সেই ছোট্ট বেলা থেকে এই একটা জিনিসই আমায় মাথা উঁচু করতে দেয় নি,বারবার ইংলিশ কেন!এত সুন্দর প্রাণবন্ত বাংলা ভাষা কি দোষ করলো??? ওহ মোর খোদা,আমি আসলেই একটা বোকা,ইংরেজি ব্যতীত বাংলাতে ও আছে যাক বাবা বাঁচলাম। প্রায় ২৭মিনিট চলে গেল,একটা খালি ঘরে ও কলমের কালি ভরাতে পারলাম না।(এদিকে খুব হিস্যু ও) তৎক্ষণাৎ সেই রাগিনি মেয়েটি হাঁপাতে হাঁপাতে রুমে ঢুকল…স্যার তো খুব বোকা দিলো,মনে হয় সত্যিই কোন ঝামেলাই পড়েছিল, সেজন্যই হয়তো সিঁড়ি দিয়ে ওভাবে নামতেছিল।একি মেয়েটা আমার বেঞ্চের দিকেই আসতেছিল,ওহ সরি বলতে ভুলেই গেছিলাম,ডানপাশের সিটটা তখনো খালি, হয়তো এটাই।হুম এটাই,অবশেষে রাগিনি আমার পাশেই বসল। যাইহোক,মেয়েটাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না যে,আমি পড়াশুনায় গোল্লা।

অতঃপর ৫মিনিটে ১৭ টা বৃত্ত ভরাট করলাম। একি….!আশেপাশের সব মেয়েগুলা হা করে তাকাই আছে। ভাইয়া ৯নং টা কি দিছেন(বামপাশে পিছনের মেয়ে) (গ) ভাইয়া ১১নং, ভাইয়া ৪ নং ধীরে ধীরে সবাইকে বললাম।(পারি আর না পারি, তাই বলে মনটাকে তো ছোট করা যায় না) ভাইয়া, আপনি কোন কলেজের?(বাম পাশের তরুণী) নওগাঁ সরকারী কলেজ(আমি) ওহ, আচ্ছা। হুম,যাইহোক, প্রায় সবার সাথেই ভাব হল।কয়েকটা ভুলভাল শিখে দিয়েই…বেশ ভাল তো। কিন্তু ★রাগিনি তখনো পযর্ন্ত কিছুই বললো না। এত রাগি,অভিমানি মেয়ে আগে কখনো নজরে এসেছে বলে মনে হয় না। যাইহোক আশেপাশের মেয়েগুলা আমাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখা শুরু করছে,তাদের স্বপ্ন তো আর ভাঙতে পারি না। আমি কি পাষাণ নাকি তাই আবার বৃত্ত ভরাট জানিনা এই ৬০ মিনিট কবে শেষ হবে!এদিকে তো ইঞ্জিন আর মানে নাকখন গেঞ্জি দিবে!!!

এরই মধ্যে এক আবুল বলে উঠল স্যার হইছে,উত্তরপত্র ল্যান,আর গেঞ্জি দ্যান, হি হি হা হি হু (সমস্বরে) কিছু সময় পরে,আশরাফুল স্যারের আগমন টাইম শেষ।কলম কানে রাখো সবাই এক স্যার উত্তরপত্র নিতে শুরু করলো,আরেক স্যার, পিছনে গেঞ্জি দিতে শুরু করছে আহা, অবশেষে গেঞ্জি পেতে চলেছি,,, গেঞ্জি পেলাম,শুকনো মুখে আমার হাসির রেখা ফুটে উঠলো কিন্তু এদিকে আমার ঐটার☝🏿তো বাজে অবস্থা। কেউ বের হচ্ছে না কেন এই আপি,,,একটু সরে যাবেন প্লিজ রুম থেকে বের হয়েই দিলাম দৌড় একি !টয়লেটের দরজায় তালা লাগানো…মহা মুছিবত! মাঠের দিকে গেলাম। এক গাছের পিছনে আহা!শান্তি,এখন শুধুই শান্তি অতঃপর জোনায়েদের সাথে দেখাঃ (জো…)কিরে পরীক্ষা দিয়ে কই গেছিলিস…বলে যাবি না?আমি খুঁজে খুঁজে হয়রান সরি দোস্ত,,,,একটু জরুরী কাজ ছিল। হুঁ….তোর গেঞ্জি কই? ওহ নো! বেঞ্চেই তো রেখে আসছি…আবার দিলাম দৌড় রুমে গেলাম অথচ গেঞ্জি পেলাম না।কেউ হয়তো নিয়ে গেছে,,, এইটা কি হল!যে গেঞ্জির জন্য গেঞ্জিই পেলাম না। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে,মেসে ফিরে এলাম।

দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।একদম রাত ১১টায় ঘুম থেকে উঠলাম। ফোন হাতে নিয়ে দেখি,অপরিচিত নাম্বার থেকে ১৩ খানা কল এসেছে কল ব্যাক করলাম…(কল করার জন্য আপনার পর্যাপ্ত ব্যালেন্স নেই,ইর্মাজেন্সি ব্যালেন্স নিতে……) ম্যাসেজ ও নাই যে একটা sms দিবো ১২ টায় আবার ফোন দিল হায়,কে? আপনি কি রাজু? জ্বি,কিন্তু আপনি? আমাকে আপনি চিনবেন না।আগামীকাল সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে এসে ফোন দিয়েন, কেমন? ঠিক আছে,কিন্তু আপনার নামটা…..! রাখছি হ্যালো,,,,হ্যালো,,,, কেটে দিল…!দুশ্চিনায় পড়ে গেলাম তো,কে এই মেয়ে….! সকালে কলেজে গিয়ে ফোন দিলাম। হ্যালো, কেমন আছেন? আপনি আসছেন? জ্বি,,,(কেমন আছে,বলল ও না।) মূল গেটের বাম পাশে যে জুতা সেলাই করা দাদু আছে,ঐ দাদুকে গিয়ে আপনার নাম বলুন।

(বলেই কেটে দিল) দাদুকে গিয়ে নাম বললাম, দাদু একটা ব্যাগ দিল। কি আছে এই ব্যাগে! OMG !গেঞ্জি ? এতো আমার গেঞ্জি….।সাথে অ্যাডমিট কার্ড টা ও আছে। অবশেষে তাহলে গেঞ্জিটা পেলাম ধন্যবাদ দিতে অপরিচিতা কে ফোন দিলাম। (দুঃখিত, আপনার কাঙ্খিত নাম্বারে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না,,,অনুগ্রহ করে একটু পরে চেষ্ঠা করুন) বুঝলাম ফোন ঢুকবে না আর কখনো কিন্তু কে সে?? (তোর মন খারাপের দেশে,যাবো প্রেমের খেয়ায় ভেসে,তোর মনটা ভাল করে, দেবো অনেক ভালবেসে) অবিরত শব্দটা কানে আসতেছে,কিন্তু তাতে কি আমি তো ঘুমোচ্ছি,তাই মিষ্টি গানে,ঘুমে আরো মজা পাচ্ছিলাম। রাজু,এ রাজু,,,,,,(হাসিব,আমার বন্ধু,এক মেসে,এক রুমেই থাকি) কি? তোর ফোন বাজতেছে কখন থেকে,ধর্।ভাইব্রেট করে রাখতে পারিস না!!!সকালে ঘুমের ১২টাহুম,হ্যালো কে?(আমি) এই তোমার সময়ের প্রতি জ্ঞান?গতকাল খুব করে বললে, তুমি আমার আগেই আসবে,বরং আমিই লেট করতে পারি।

অথচ কি হল,আমি এসে বসে আছি, আর মহাশয়ের খবরই নাই। ওহ,,,তুমি?আমি সরি হ্যাঁ। কিসের সরি?কখন আসার কথা ছিল? কেন…!৯টায়। এখন কত বাজে? ১১টা।ওহ নো,,সরি সরি,আমি খুব সরি। সরি তে আর কাজ নেই…আমি চলে যাচ্ছি। প্লিজ যেও না,দেখা আজ করতেই হবে। নাহ্,,,আমি চলে যাবো। প্লিজ,,,,আমি ১৩ মিনিটের মধ্যেই আসতেছি। তোমার এই ১৩ মিনিট যে আদৌ শেষ হবে কিনা, তা তুমিই ভাল জানো। শেষ হবে,,, হবে,,কষ্ট করে আর একটু অপেক্ষা করো।আমি এই চলে এলাম বলে। আচ্ছা,আসো এ হচ্ছে সেই বালিকা,সেই অপরিচিতা, যে আমাকে আমার হারিয়ে যাওয়া গেঞ্জি ফিরিয়ে দিয়েছিলো। পূর্বের ঘটে যাওয়া ঘটনা পড়ে,বেশির ভাগ পাঠকই (next,next,next)বলেছিল। তাই সেই অপরিচিতার পিছনে, যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম,তাকে খুঁজে বের করার জন্য,এ গল্পের অন্তিম মুহূর্তের জন্য।

সেই নম্বরটিতে বেশ কয়েকবার ট্রাই করলাম, কিন্তু কল যাচ্ছে না।অন্যান্য নাম্বার থেকে ও ট্রাই করেছিলাম,কিন্তু কোনটাতেই কাজ হচ্ছিল না।আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম।ভাবতেছিলাম,এ কেমন মেয়ে!শুধু আমার জন্য সিমকার্ড-ই বদলে ফেললো!!!!নাকি অন্য কারণ!!!! জানিনা,যা হয় হোক, ঐসব ভেবে লাভ কি!আর ফোন দিলাম না। রাত তখন ১২ টা,,,ভাবছিলাম আরেকবার ফোন দিবো কিনা!  দিব???নাকি দিব না! যদি ঢোকে!যদি আবার না ঢোকে!!!যাইহোক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম,এই লাস্ট এরপর আর নয় তোমার মাঝে,, নামবো আমি, তোমার ভিতর ডুব, তোমার মাঝে কাটবো সাঁতার,ভাসবো আমি খুব,,,, আমি কানে কম শুনতেছি না তো!!!ফোন ঢুকতেছে যে হ্যালো,,,হ্যালো,হ্যালো কে বলছিলেন?(অপরিচিতা) জ্বি, আমি রাজু বলছি।

রাজু,কোন রাজু? আপনি চিনেও না চেনার ভান করছেন? নাকি ভুলে গেছেন? আপনার নাম্বার তো সেভ করা নাই,চিনবো কিভাবে? আমি রাজু,সেই রাজু,,,কিছুদিন আগে যার গেঞ্জি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ওহ! মনে পড়েছে,,,কেমন আছেন? হুমম ভাল।সেদিন আপনি একটা ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগ ও দিলেন না।ব্যাগ হাতে পাওয়ার সাথে সাথে, নাম্বারটি ব্লাকলিস্টে রাখলেন,কেন??? আহা!আপনি আমায় ভুল বুঝছেন,নাম্বার ব্লাকলিস্টে রাখতে যাবো কিজন্য!আপনার সাথে সেদিন কথা বলার পরপরই আমার হাত থেকে দূর্ভাগ্যবশত মোবাইলটা পড়ে গিয়ে ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।কিচ্ছু দেখাযাচ্ছিল না,সেজন্য সিম খুলে রাখছিলাম।আর আজকেই কাস্টমার কেয়ার থেকে ফোন টা নিয়ে আসলাম। সত্যি…? হুম,,,ব্লাকলিস্টে রাখলে কি আজকে আপনার কল ঢুকতো!!! কি করছেন? এত রাতে কি করে মানুষ?নিশ্চয় শুয়ে থাকে,আমি ও শুয়ে আছি। আপনি কি রাগ করছেন? না না,আপনি বলুন,আমি শুনছি।

সেদিনের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। স্বাগতম। বন্ধু ? আমি যার তার সাথে বন্ধুত্ব করি না। বাব্বা,,,,আমি যার তার হয়ে গেলাম!!! বন্ধু শুধু একটি শব্দ নয়,বন্ধু মানে অনেক কিছু,,,যা আপনার মধ্যে আছে কিনা আমি জানি না তো। নিজেকে প্রকাশ করার একটা সুযোগ তো পেতেই পারি নাকি…..? ওকে, সুযোগ দিলাম। ধন্যবাদ স্বাগতম।বাই,আমি ঘুমাবো।অনেক ঘুম পাচ্ছে। অাচ্ছা, বাই।শুভ রাত্রি। শুভ রাত্রি।আর হ্যা, বন্ধু বলেছি তাই বলে যখন তখন ফোন দিবেন না কেমন? ওকে ওকে,,,সেদিন রাতে আর কিছুই হল না।তবে বন্ধু তো হলাম।এখন অনেক কিছুই সম্ভব। কিন্তু কিভাবে! আমার প্রতি বিন্দু পরিমাণ আর্কষণও তো আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।তাহলে কেমনে কি…..!!! পরেরদিন সারাদিন কোন sms /phone দিতে পারলাম না।ব্যস্ত ছিলাম…? নাহ্,নাহ্,,,ব্যস্ত থাকার মতো মানুষ নয় আমি।আসলে আমার ফোনে টাকা ছিল না,ম্যানিব্যাগ জুড়ে মাত্র একটা ২টাকার নোট ছিল।

মাসের শেষ দিকে,,,আর মেস লাইফের শেষ দিকটা কেমন হয় তা অনেকরেই জানা। তার ফেসবুক আইডি টা জানা থাকলে হয়তো বা সমস্যার একটা সমাধান হতো,কিন্তু শুনে নেওয়াই হয় নাই,নাম্বার দিয়ে সার্চ দিলাম, আইডি পেলাম না।হয়তো অন্য নাম্বার দিয়ে আইডি খোলা। রাত ১১টা ২১ মিনিট তখন আমার ফোনে ম্যাসেজ আসল।সেই মেয়েটিই পাঠাইছে বন্ধুত্বের প্রথম দিনেই তো পুরাই ০ পাইলেন।আমি আগেই বলেছিলাম সবাই “বন্ধু”শব্দটির মর্যাদা রাখতে পারে না। এত বড় অপমানমূলক কথা!!! কি করি…!কি করি…! আমার উত্তর দেওয়া তো জরুরি,,, কিন্তু ব্যালেন্স নাই তো। বন্ধু হাসিবকে বিষয়টা বললাম।হারামি আমার ফোনে সাথে সঙ্গে সঙ্গে ২০ টাকা রিচার্জ দিয়ে দিল।ওহ নো!আরো আগে বললে,আজকে এই কথা টা শুনতে হতো না। কিন্তু অপরিচিতাকে কি বলবো!!! কিছু মিনিট কিনে নিয়ে ফোন দিলাম।

কিন্তু কেটে দিয়ে…sms দিল। যা বলার sms এ বলেন। (আমি আবার ফোন দিলাম।sms এ কি ভাবের  পূর্ণপ্রকাশ হয়! হয় না।) হ্যালো,আপনাকে ফোন দিতে বারণ করলাম,তবুও ফোন দিলেন কেন…!(সে) কথা বলতে ইচ্ছে জাগছে তাই(আমি) কিন্তু আমার জাগছে না।রাখছি আপনার ভুল ভাঙ্গানোর তো একটা সুযোগ দিবেন নাকি!!! আচ্ছা বলেন,কি বলবেন বলেন। আজকে অনেকবার মনে পড়েছে আপনাকে,,, তাই….! জি,কিন্তু কথা বলার মতো উপায় ছিল না। কেন…!কি এমন কাজে ব্যস্ত ছিলেন আপনি? আজ কলেজে বাংলা বিভাগে মারামারি হইছে, জানেন তো? হুম,জানি তো,কিছু ছেলে ভাঙচুর করছে,,,স্যার কে মারছে।আপনি ও তাদের মধ্যে একজন নাকি? আমি শফিউল স্যারের কাছে কিছু কাগজপত্র সত্যায়িত করে নিতে গেছিলাম।

অার চোখের সামনে ঐসব দেখে কিছুক্ষণের জন্য হিরো হয়ে গেছিলাম।আর হিরো সাজতে গিয়ে,,,,,, গিয়ে কি ? ছুঁরিঘাতে ডান হাত বেশ ভাল ভাবে কেটে গিয়েছে।ঐসব ঝামেলার কারণে,বলতে পারেন সারাদিন একটু ব্যস্ততায় কেটেছে। বলেন কি! জি,,,,রাতে ফ্রি হয়ে ভাবছিলাম ফোন দিবো,তার আগেই আপনার ম্যাসেজটা এসে, মন ভেঙ্গে গেল। আমি খুব সরি,,,, হাতের কি অবস্থা এখন? ভাল,,,তবে নাড়াতে একটু সমস্যা হচ্ছে ((মেয়েরা এমন কেন!!!হাজার সত্যে ও মন গলে না অথচ একটা মিথ্যেই গলে জল হয়ে যায়।মারামারি হইছে যদি ও কিন্তু আমি ছিলাম না সেখানে,,,যাইহোক, মিথ্যে হলে ও,বেশ ভাল কাজ দিয়েছে)) রাতে কিছু খাইছেন? হুম খাইছি,আপনি খাইছেন? জ্বি,,,ঠিক আছে,আপনি বিশ্রাম নেন,বাই। ভাল লাগছে না,আর কিছুক্ষণ কথা বলি? ওকে,,, আপনার সাথে এত কথা অথচ আপনার নামটাই এখনো জানা হল না।নাম কি আপনার? সাবিহা রহমান সুন্দর নাম।আর আমি জানি তো,রাজু। হুমম…আচ্ছা, আমরা তো বন্ধু তো না…! “আপনি” কেন!! “তুমি “করে বলি? হুম,,,তুমি বলা যায় তো। ধন্যবাদ,আমি কি তোমাকে দেখার ইচ্ছে পোষণ করতে পারি? হুম,পারো। আগে তুমি সুস্থ হও। আমি তো সুস্থই, সমস্যা তো পায়ে না,আমি যেতে পারবো।

তোমার এই অবস্থায় বাহিরে বের হওয়া কি ঠিক হবে!!!ঝামেলা জড়িয়ে বসে আছো।ঐসবের কোন ভয় করি না,আমি কালকেই দেখা করি। তাই…?কিন্তু কোথায়? বাইপাস ব্রিজ,সকাল ৯টায়। সকালে কেন…?বিকালে দেখা করি? নাহ্,,,বিকাল হতে হতে অন্য কিছু ঘটে গেলে? আচ্ছা,,,সকালেই। হুম,,, লেট যেন করো না, প্লিজ।আমি ৯টার আগেই পৌঁছে যাবো। আচ্ছা,এখন ঘুমাও,তোমার ঘুমানো উচিত। আচ্ছা,তাহলে ঘুমোচ্ছি,,,,শুভ রাত্রি। শুভ রাত্রি। মামা,দাঁড়ান।(রিকশাওয়ালা মামাকে ভাড়া দিলাম) আজকে ব্রীজে,,,তেমন কেউ নেই। তবে একটি মেয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,হয়তো এই সেই অপরিচিতা। কাছে গিয়ে একটু কাশলাম কিন্তু তাকাল না। এই যে শুনছেন….?(আমি) জ্বি তুমি! তুমিই সাবিহা?(এ সেই রাগিনি) হুম,এরকম অবাক হওয়ার কি আছে? না মানে,,,, আমি কখনো কল্পনা ও করতে পারি নি যে,তোমার সাথে আমার এভাবে দেখা হবে।

কেন ? না মানে, সেদিন তুমি সিঁড়িতে যেভাবে কথা বলেছিলে,,,,সেদিনের জন্য আমি অনেক সরি…আমার সেদিন ঐভাবে রিয়াক্ট করা ঠিক হয় নি। বাদ দাও, কোন ব্যাপার না।বলো,কেমন আছো, তুমি? হুমম,ভাল। আর তুমি? আমি ও ভাল।আচ্ছা,যেদিন তুমি আমাকে গেঞ্জি ফিরিয়ে দিয়েছিলে,সেদিন দেখা করোনি কেন…? আমাকে দেখে যদি তুমি রাগ করো,,,সেটা ভেবে দেখা করিনাই। তাহলে এখন কেন করলে? জানিনা। আচ্ছা,থাক্,বলা লাগবে না।চল হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি। আচ্ছা তুমি কাউকে ভালবাসো?(আমি) হুম কে সে? আমার স্বামী। কী ?তোমার স্বামী মানে???? স্বামী মানে আমার স্বামী।ওহ,,, তোমাকে তো বলাই হয় নি।প্রায় ৪ মাস আগে আমার বিয়ে হইছে। কার সাথে??? বাংলাদেশের সিনেমা জগতের নবাগত স্টার কে হতে পারে বল তো। তোমার স্বামী মিডিয়া পারসন? হুম,,,,,, আমি গেস করতে পারছি না, তুমিই বলো।

জানতাম পারবে না,বাংলা সিনেমা দেখো???দেখলে তো জানবে,নবাগত স্টার কে!!! ভনিতা না করে,বলবে প্লিজ। হিরো আলম। হোয়াট ?????? সত্যি ? হুম,,,সত্যি। না,তুমি মজা করতিছো আমার সাথে। মজা করতে যাবো কোন দুক্কে? (আমার মাথা তো আউলা-ঝাউলা হয়ে গেল) কিন্তু আমি জানতাম হিরো আলম আরো আগে থেকেই বিবাহিত। হুম ছিল,,,এখনো আছে,আমি ২য় বউ।আমাদের এখানে স্টেজ প্রোগ্রামে আসছিল,সেখানেই প্রথম দেখা,সেখানেই প্রেমের শুরু।অতঃপর বিয়ে। সব কিছু জেনে -শুনেই? হুম,,,,ছেলের অবস্থা তো খারাপ না।আর তাছাড়া মিডিয়ার মানুষ।কমসম ব্যাপার নাকি (হঠাৎ সাবিহার ফোন বেজে উঠল,একটু দূরে গিয়ে কথা বলতে শুরু করলো।ধীরে ধীরে কথা বলছিলো,তবুও একটু একটু শোনা যাচ্ছিল। জানু,,,মানু,,,,,ইত্যাদি,ইত্যাদি) অন্তরে কষ্ট তবু ও মুখ ভরা হাসি নিয়ে সেদিন ঘুরে আসলাম মেসে।)

কিছুই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মনের মধ্যে কেমন কেমন লাগছিল, এটা হতেই পারে না। তাই বগুড়ায় অবস্থানরত মামার সাথে যোগাযোগ করে, হিরো আলম ভাইয়ের সাথে কথা বলার ব্যবস্থা করলাম। আর তারপর যা শুনলাম,,, আমার চোখ তো মাথার পিছনে চলে গেল। পরেরদিন বিকেলবেলা সাবিহাকে ফোন দিয়ে জননেতা আবদুল জলিল পার্কে আসতে বললাম। হুম বলো,,,কি হইছে?(সাবিহা) তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজড আছে?(আমি) কি সাইপ্রাইজড? আগে চোখ বন্ধ করো। পারবো না। আহা!বন্ধ করো প্লিজ। (আমি আলম ভাইকে ডাক দিলাম) হুম চোখ খুলতে পারো এবার(আমি) আলম ভাই-তোমাকে চাই আমি আরো কাছে, তোমাকে বলার আরো কথা আছে,,, (বলতে বলতে সাবিহার দিকে এগিয়ে গেল) এসব কি রাজু? (সাবিহা) কি আবার!!! তোমার স্বামীর সাথে তোমার দেখা করাই দিলাম।

হোয়াট ! (এদিকে আলম ভাই, ওকে ধরতে গেল সাবিহা একটা চিৎকার দিয়ে ,দিল দৌড় সাথে আমি ও দৌড় ) কি ব্যাপার, দৌড়াচ্ছো কেন?(আমি) তুমি এটা ঠিক করলে?আমি তো মজা করে বলেছিলাম,,,,(সাবিহা) তাই।তারমানে আলম ভাই, তোমার স্বামী নয়? না। তাকে তুমি ভালবাসো না? না,না,না।আমি তোমাকে ভালবাসি। কি বললে??? যা শুনেছো, তাই বলেছি (বলেই আবার দিল দৌড়) আলম ভাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি ও দিলাম দৌড়।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত