বালুকাবেলায়

বালুকাবেলায়

‘সাগর জলে সিনান করি
সজল এলোচুলে
বসিয়া ছিলে উপল উপকূলে’

পেছন থেকে অনুভাকে জড়িয়ে নীল বলে উঠল। এই ছাড়ো ছাড়ো করছো কি সবাই দেখছে অনু বলতেই নীল বললো বাহ এখনতো লজ্জা পেলে তোমায় একই রকম লাগে। ও বলিরেখার ভিতর থেকেও লাল আভা ফোটে বলছ? অনু রসিকতা করল। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল তুমি তো আমার জীবনের সেই ধ্রুবতারা নীল যা পথহারা পথিককেও সঠিক দিশা দেখায়। তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা—

” কৃতজ্ঞতা! ভুলে যেও কোনো দুঃখ নাই উপকার যা করেছি হয়ে যাক ছাই
নাহি চাই দান প্রতিদান।
সুখস্মৃতি /নাহি কিছু মনে? -”

কি ব্যাপার বলো তো তোমাকে কি আজ কবিগুরু ভর করেছে নাকি?
আচ্ছা এটা আমাদের কততম যেন হল পুরী আসা ? সেদিনের ৩৫ তম পূর্তি মানে – অনুভা বাধা দিয়ে বলে উঠল ৩৬ বার । পাশের চেয়ারে বসে থাকা এক তরুনী বিস্মিত হয়ে বলে উঠল ছত্রিশ বার ; কিন্তু কেন ?
‘ সে অনেক বড় গল্প মা । ‘
তরুনীকে সমর্থন করে পার্শ্ববর্তী সবাই বলে উঠল শুনব আমরা Pls pls ।
যবনিকা উত্তলন হল ফেলে আসা পাতার ।

সমুদ্র হাতছানি দিয়েছে চিরকাল নীলাভ্ৰকে । কে যেন বলেছিল সমুদ্র নাকি একা দেখতে ভালো লাগে না । নীল তাদের ব্যতিক্রম । উত্তাল ঢেউ কিংবা রক্তরাঙা চাঁদ অথবা সকালের প্রথম সূর্য সবই নীলকে মন্ত্রমুগ্ধের মত টানে । বাবা মার মৃত্যুর পর থেকে যেন আরো বেশি করে । রোড একসিডেন্ট হঠাৎ ই নীলের জীবনে অমাবশ্যা নামিয়ে এনেছিল । বছর একুশের প্রতিষ্ঠিত যুবক নীলের পাশে তখন সেরকম কেউ ছিল না । আস্তে আস্তে সে নিজেকে সামলেছে । তার কোম্পানি থেকে যখন তাকে উড়িষ্যা আসার কথা বলা হয়েছিল তখন এক কথায় সে প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় । বাবু তোকে না দেখলে থাকতে পারি না কিংবা তোর সঙ্গে রাতে না খেলে পেট ভরে না বলার মানুষ দুটো তখন অনেক দূরে । তাই বার বার যে কারণে বদলি এড়িয়ে গেছে সে আজ আর সেই কারণ টা তার ছিল না ।

অফিস থেকে গেস্ট হাউস থাকলেও পুরীর স্বর্গদ্বারের কাছে এই হোটেলে মাঝে মাঝেই অবসর কাটাতে আসে নীল । জীবনের আনন্দ নেওয়া মানুষগুলোর মুখ দেখে , পাশাপাশি দেখে অনন্তে মিলিয়ে যাওয়া মনুষ্যদেহের কালো ধোঁয়া এই বৈপরীত্ব বড় অদ্ভুত অনুভূতি এনে দেয় ওর মনে । নিজের মনেই সে বলে ওঠে –

‘ এমন একান্ত করে পাওয়া / এও সত্য যত
এমন একান্ত ছেড়ে যাওয়া / সেও সেই মত
এই দুই – এর মাঝে আছে কোনো মিল -‘

‘ আপনি রবীন্দ্রনাথ ভালো বাসেন ? ‘
‘ মানে ‘ – পাশে বসা তরুণীর প্রশ্নে চমকে নীল উত্তর দিয়েছিল – ‘ রবীন্দ্রনাথ ভালোবাসিনা বলার অর্থ নিজেকে ভালোবাসিনা , তাই না ! ‘
‘ – হুম কর্মের সাথী , মর্মের সহচরী ।’ তবে অনেকের কাছে রবীন্দ্রনাথ শুধু শেষের কবিতার ‘ বন্ধনহীন গ্রন্থি ‘ – তেই আবদ্ধ । তাই না ! ‘
এভাবেই সেদিন অপরিচিতার সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়েছিলেন রবিঠাকুর । কেও কারোর নাম – ঠিকানা না জেনেও ঘন্টার পর ঘন্টা সমুদ্রতীরে বসে আর এক মহাসমুদ্রকে নিয়ে আলোচনা করেছিল ।

প্রথম পরিচয় পর্বটা এভাবেই সমাপ্ত হল । ফিরে এসে হোটেলে নীলের মনে হল যা নাম বা নম্বর টা কোনোটাই আদান প্রদান করা হয়নি । রাত্রিবেলা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়েছিল নীল । ‘ বাপী এসো এখানটা বেশ ভালো , সমুদ্র দেখা যায় – ‘ পরিচিত গলার আওয়াজ পেয়ে ঘুরে দেখেছিল নীল । গ্রীষ্মে একরাশ বসন্ত বাতাস ঢুকে গেল তার হৃৎপিণ্ডে ।

‘ আপনি ? ‘
‘ আমারওতো একই প্রশ্ন ‘ – বলে পাশে দাঁড়িয়েই দু পা পিছিয়ে গেল মেয়েটি । বিস্মিত নীলের সপ্রশ্ন দৃষ্টির উত্তরে বলল – ‘ নিকোটিনের গন্ধটা সহ্য হয় না । ‘

সদ্য ধরানো সিগেরেটেটা ফেলে দিয়ে নীল বলেছিল – ‘ বারন করার মত কাওকে এখনো পাইনি তো । বলেই অপ্রস্তুত হয়েছিল সে । অবাধ্য চুলগুলো কপাল থেকে সরিয়ে মেয়েটি বলল – ‘ কিছু কথা সতস্ফুর্ত ভাবে বেরিয়ে যায় মনের দরজায় খিল দেবার আগেই । কি আর করবেন বলুন ? ‘ বলে হেসেছিল মেয়েটি । হেসেছিল নীল । হয়ত উপরের একজনও মুচকি হেসেছিলেন।

‘ অনু মা ঘরে আয় একবার । ‘
‘ আসছি ‘ বলে পিছন ফিরতেই নীল বলেছিল – ‘ যাক নামটা জানা গেল ।’
‘ না পুরোটা জানা যায়নি – মা বাবার ডাকে অনেকটা আদর আর অর্ধেক নাম থাকে । আমার নাম অনুভা ‘ বলে চলে গেছিল মেয়েটি ।

অনুভার সঙ্গে আবার দেখা হল সমুদ্রতীরে প্রথম সকালে । Sunrise দেখার ভিড়ে বহু পর্যটকই সমুদ্রতীরে । যদিও পর্বত বা সমুদ্রে বেড়াতে যাবার দিনগুলিই সূর্যদেব বিশেষ কারণে মেঘের আড়ালে মুখ লুকান ।

‘ কি ব্যাপার বলুন তো , কখনও হোটেলে , কখনও সমুদ্রতীরে দেখা তো হয়েই চলেছে । ‘ – কৌতুহলবশেই বলেছিল নীল ।

উদাস দৃষ্টি মেলে অনুভা উত্তর দিয়েছিল ‘ জীবনের সব দেখায় উচ্ছাসের হয় না নীলাভ্র । ‘ বহু দেখার আড়ালে অনেক অদেখা রয়ে যায় ঠিক প্রদীপের তলার আঁধারের মত ।’ হতবাক নীলকে কোনো প্রশ্নের অবকাশ না দিয়ে চলে গেছিল অনুভা । প্রথম সকালে সন্ধ্যার আঁধারের মত মুখ করে ফিরেছিল নীল । পরদিন সকালেই রওনা দিয়েছিল কলকাতা অফিসে ।আর্জেন্ট মেল ছিল । পথের বন্ধু হারিয়ে গেছিল পথের বাঁকে । শুধু মাঝে মাঝে অলস দুপুরে ধূসর বিকালে সিগারেটটা ধরাবার সময় মনে পড়ত নিকোটিনের গন্ধের কথা । ধুত্তোর ! বলে মনকে শাসন করত সে। মন নামক বস্তুটির সত্যিই খেয়ে দেয়ে কাজ নেই যেন ।

Come in – বস ডেকে পাঠালেন । সোমবার সকালে ব্যস্ততাটা একটু বেশিই থাকে । হ্যাঁ স্যার বলুন ।
‘ শোনো 2nd half এ fresher দের ইন্টারভিউটা তুমিই নাও । সঙ্গে রাজেনও থাকবে । আমার অন্য কাজ আছে । ‘
‘ আ – আমি ? ‘

‘ কেন নীলাভ্র ? অনেকদিন তো হল । ‘ অসীম সিংহরায়ের মুখের উপর কথা বলল না ।
নীলাভ্র বলে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছাড়া তিনি ডাকেন না ।
‘ OK বলে চুপ করল সে ।

আরতি বসাকের ইন্টারভিউ শেষ করার পর Next বলে বেল টিপল রাজেন । হালকা পিঙ্ক চুড়িদার পরিহিতা মেয়েটিকে দেখে চমকে গেল নীল । থমকে গেল ওর এফিসিয়েন্সি ;অনুভা ! যদিও অনুভাৱ আচরণে সেরকম কিছুই প্রকাশ পেল না । নিজের হৃৎস্পন্দন নিজের কানেই বেমানান ঠেকছিল । হ্যাঁ একথা ঠিক অনু তার কাছে স্বল্প পরিচিত ছাড়া কিছুই নয় ; তবুও এক একজনের আগমন বুকের রক্তচলাচলকে বহুগুন বাড়িয়ে দেয় । রাজেনের দিকে তাকিয়ে বলল – Be Continue রাজ । বিস্মিত রাজেনের দিক থেকে চোখ নামিয়ে নিল নীল । আরো কিছু জনের ইন্টারভিউ নিয়ে পর্বটা শেষ হল । রিপোর্ট জামা দিতে গিয়ে অসীমকে রাজেন বলল ‘ স্যার অনুভা সান্যালকে যদি রাখেন । ‘
‘ কেন ? ‘
ভ্রূকুঞ্চিত অসীমের দিকে তাকিয়ে রাজেন বলল ‘ না স্যার মেয়েটি স্মার্ট , আর বিধবা তো চাকরিটা হয়ে গেলে ভালোই হবে । আরো একটা কারণ আছে , কিন্তু আমি ঠিক নিশ্চিত নই । ‘
– ‘ কি কারণ ? ‘
– ‘ না স্যার পরে বলব । ‘

নিজের যোগ্যতার সঙ্গে রাজেনের রেফারেন্সে চাকরিটা হয়ে গেল অনুভার । শুধু নীল বা অনু কেওই রাজেনের তৎপরতার কথা জানলনা ।

কাল থেকে অনুভার সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হবে – এই কল্পনাতেই নীলের রাতের ঘুম উড়ে গেল । বুকের লাবডুব আওয়াজটা বেড়ে গেল শতগুন । আচ্ছা অনুভাও কি ওকে পছন্দ করবে ? নাকি ওর কোন বিশেষ মানুষ আছে ? এটা ভাবতেই কেমন বিস্বাদ হয়ে গেল নীলের মনটা । আচ্ছা অনুভা তো একবারও কিছু বলল না সেদিন – কি যেন বলছিল সমুদ্রতীরে প্রদীপের নীচে অন্ধকার না কি ? –

প্রথম দিন ফাইল হাতে নীলের রুমে এলো অনু । ‘ কেমন আছেন ? – ‘
‘ ভালো । আপনি ? ‘
‘ ওই আছি ।’
‘ কাজের ব্যাপারটা যদি একটু – হ্যাঁ ।- এর বেশি কথা হল না । পুরীর প্রানোচ্ছল মেয়েটাকে কোথাও খুঁজে পেল না নীলাভ্র ।

‘ আচ্ছা নীলদা একটা কথা বলব ?’
‘ হ্যাঁ বল – রাজেন বলল তুমি যে অনুভা সান্যালকে পছন্দ কর , সেটা আমি জানি । কিন্তু তুমি কি জানো – মেয়েটা বিধবা ? –

চোখের সামনেটা কেমন হয়ে গেল নীলের । ঠোঁটের কাছে আসা কফিটা ছলকে পড়ল একটু । তাই কি অনু কথাকে শুধু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছে ? কিন্তু অনুকে ও পছন্দ করেছে । পছন্দ করেছে বলা ভুল । এতদিন ধরে মনের মধ্যে লালন করতে করতে আজ সে ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে । ‘ বিধবা ‘ শব্দটা অন্যভাবে অর্থ করল নীলের কাছে – তারমানে অনু অন্যের ।
পরদিন নিজের রুমে ডাকল নীল অনুকে । সরাসরি বলল একটা কথা ছিল । বলুন । ধৈর্য্যহারা নীল বলল – ‘ তুমি আমার সঙ্গে অচেনার মত আচরণ কেন করছ ? ‘
‘ কিছু পরিচয় অপরিচয়ের গন্ডিতে থাকায় ভালো স্যার । তাছাড়া – ‘

‘ তাছাড়া – তোমার বৈধব্য আমার সমস্যা নয় অনু – শুনেছিলাম মেয়েদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নাকি বেশি সজাগ । তুমি কি কিছুই বোঝোনি ? ‘

উদাসী চোখ তুলে অনু বলল – ‘ দয়া ? বিধবা উদ্ধার নাকি সমাজ কল্যাণের ঝোঁক ? কোনটা ? ‘
ব্যাথাহত গলায় নীল উত্তর দিল – ‘ অনুভবের কোন সংগা বা ব্যাখ্যা নেই অনু । সমাজ নিয়ে আমার মাতামাতি কোনোকালেই নেই তবে সিগেরেটের ধোঁয়া কারোর সহ্য হয় না বলেছিল বলে অফিসে বেশ কয়েকমাস আমি সিগেরেটটা খাই না । বাকিটা তোমার সিদ্ধান্ত ‘- বলে বেরিয়ে এসেছিল নীলাভ্র ।

দোলাচলে পড়েছিল অনুভা । এ কিসের বাঁধনে নিজেকে জড়াচ্ছে নীল ? ওকে আটকানো দরকার । অফিস শেষে নিজেই বলল – ‘ কিছুক্ষন ক্যাফেতে বসার সময় হবে স্যার ? ‘ নীল ঘড়ি দেখে বলল সাতটা বেজে গেছে। ‘ অফিস আওয়ার শেষ । তাই ও সম্বোধনটা থাক । Office premises এর বাইরে উর্ধতন অধঃস্তন কিছু নেই । ‘ কফিতে চুমুক দিয়ে শুরু করল অনুভা । শেষ করল যখন নিস্তব্দ হয়ে বসে রইল দুজনেই । অনুভার চোখ যেন বলতে লাগল কি বলেছিলাম না অপরিচিতের গন্ডি না টপকানোই ভালো । অদ্ভুত হাসি ছাড়িয়ে পড়ল নীলের মুখে – ‘ ব্যাস এইটুকুই ? এর জন্যে ? না অনুভা , তোমার ভালোবাসার ফসলকে নিজের করে নিতে না পারলেও অবজ্ঞা আমি করব না । ‘
‘ মানে ? ‘ – অনু বলল – ‘ আপনি কি বলতে চাইছেন ? ‘

‘ বলতে চাইছি না বলছি অনু । তোমার সন্তান তোমার স্বামীর চিহ্ন । তাকে যদি তুমি অস্বীকার করতে তাহলেই তোমাকে মেনে নিতে আমার অসুবিধা হত । তোমার স্বামী রোহনকে মন দিয়ে ভালবেসেছ তুমি , তবেই তো আমায় ভালোবাসতে পারবে । এই অনুভূতির তীব্রতা যদি তোমার না থাকত তাহলে আমাদের ঘরটা যে বাঁধা হতনা অনুভা , আমিই বাঁধতাম না । ‘ অনু এই প্রথম নীলের হাতে হাত রাখল । ভরসার হাসি মুখে নিয়ে সে হাত অন্য হাতে জড়িয়ে নিল নীল ।
* * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * *

সে আজিকে হল কতকাল / তবু মনে হয় যেন সেদিন সকাল
আবার শুরু করলে ? না সত্যিই তো অনু কতদিন হয়ে গেল । আজ মনে আছে সেদিন দু বছরের রোহিতকে আমায় দেখিয়ে বলেছিলে – নীল রোহিত আমার সন্তান । মনে আছে ? হুম তুমি হুঁকোমুখো হ্যাংলা হয়ে বলেছিলে – এতো কিছুর পর শুধু তোমার ? – আমাদের নয় । সেদিন বড় অভিমান হয়েছিল তোমার – পরে বুঝেছিলাম যদিও অটো ভেবে আমি বলিনি কথাটা । তবে নীল আমি সত্যিই ভাবিনি তুমি এতবড় সিদ্ধান্ত নেবে ।

সমুদ্রতীরের মানুষগুলো কৌতুহলী চোখ নিয়ে তাকিয়ে রইল স্মৃতিসাগরে ডুব দেওয়া দুটো মানুষের দিকে ।
আমিতো তোমায় সত্যিই ভালোবেসেছিলাম অনুভা । তাই চেয়েছিলাম রোহিত ছাড়া যেন আর কেউ না আসে। কি করব বল পুরুষজাতি আজ বড় অসহায় আজ সমাজে ‘ সাহিত্যে উপেক্ষিত ‘ – ও বলতে পারো । তাই স্বামীর আগের পক্ষের সন্তানকে কোলে নিয়ে মাতৃত্ব বিসর্জন দেওয়ার গল্প ভুরি ভুরি পাবে । আমরা চিরকাল ব্রাত্যই রয়ে গেলাম – নাটুকে গলায়

কৌতুক নিয়ে নীল বলে উঠল ।
একটু চুপ থেকে অনু বলল – হাসি নয় নীল সত্যিই যেদিন এ সিদ্ধান্ত তুমি নিলে আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। নিজের সন্তান , ঔরসজাত সন্তানের মুখ থেকে ‘ বাবা ‘ডাক শোনার ইচ্ছা সংবরণ করা অত সহজ নয় । সেখানে আমি সম্পূর্ণ মা হতে সক্ষম এক নারী । আর কেউ না বলুক তোমার পিতৃত্ব বিসর্জনের ত্যাগ আমার মনে চিরকাল থাকবে নীল । এমনকি রোহিতকে তুমি বাবা ডাকতে দাওনি । বলেছিলে রোহন বেঁচে থাকলে ওই ওর বাবা । বেঁচে নেই বলে অস্তিত্ব থাকবে না ছেলের কাছে এটা হয় না । আমার ভালোবাসার সঙ্গে শ্রদ্ধা এসে মিশেছিল সেদিন তোমার প্রতি । একটাই অদ্ভুত অনুরোধ ছিল তোমার । প্রতি বছর পুরী আসতেই হবে এদিনে , যেদিন আমায় প্রথম তুমি দেখেছিলে , তাই তো । একমুখ হেসে নীল বলল ‘ পুরীর বেলাভূমিতে সেদিন একটা মুক্ত ভরা ঝিনুক পেয়েছিলাম । তার সেলিব্রেশন আমি সারা জীবন ধরে করব অনু ।

মন্ত্রমুগ্ধের মত গল্প শুনছিল ওরা । শেষ হতে করতালি দিয়ে বলল Excellent ! আমরা প্রার্থনা করি আরো অনেকগুলো বছর আপনারা এভাবেই সমুদ্রতীরে একসাথে বসুন এদিনে । শুধু আর একবার কবিগুরু স্মরণ হোক যাঁর সূত্র ধরে আপনাদের পরিচয় । ওদের অনুরোধে নীল বলে উঠল –

উড়াব উর্ধে প্রেমের নিশান দুর্গম পথ মাঝে

দুর্গম বেগে দুঃসহতম কাজে

…. এই গৌরবে / চলিব এ ভবে
যতদিন দোঁহে বাঁচি
এ বাণী প্রেয়সী / হোক মহিয়সী
তুমি আছ আমি আছি /

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত