বোরখা পড়া সেই মেয়েটি

বোরখা পড়া সেই মেয়েটি

ওই ফারাবি কি দেখোস ওদিকে? (নাহিদ) দোস্ত ঐ দেখ মেয়েটা। (আমি) হালা কোন মেয়েটা? (নাহিদ) ধুর ব্যাটা কানা ওদিকে তাকা। (আমি) ওদিকে তো অনেক মেয়ে দেখি, কোনটা দোস্ত বলনা। (নাহিদ) দেখ কালো বোরখা পড়া মেয়েটা। (আমি) হায় হায় রে করছিস কি, বোরখা দেখেই ক্রাশ। (নাহিদ) হু দোস্ত। আর দেখনা বোরখাতে মেয়েটাকে হেব্বি লাগছে। (আমি) হ কচু লাগতেছে। না দেখেই ক্রাশ, ওটা যদি তোর নানী হয় তখন। (নাহিদ) শালা তুই না একটু বেশি ফাজিল। আমার নানী কি কলেজে পড়তে আসে নাকি। (আমি) আচ্ছা দোস্ত তাহলে কি করবি বল। (নাহিদ) দোস্ত তুই তো জানিস না আমি ওকে গত ৭ দিন থেকে দেখতেছি। (আমি) হারামি আমাকে বলিসনি তুই। (নাহিদ) দোস্ত দাড়া আর কয়েক দিন দেখি কি করা যায়। (আমি) আপনাদেরকে তো পরিচায় টাই দেওয়া হয়নি। আমি ফারাবি, এইবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আর নাহিদ আমার সেইরকম বন্ধু।

এতক্ষন যে বোরখা পড়া মেয়েটার কথা বললাম ওর নাম নুরী। নুরী আমাদের ডির্পাটমেন্ট ই পড়ে। মেয়েটা দেখতে কেমন তা আমি জানিনা।  কারন নুরী সবসময় বোরখা পড়েই থাকতো। আমি ওর চোখের প্রেমে পড়ে গেছি। নুরীর চোখ দুটো ছিল অসম্ভব সুন্দর। আরো ৭ দিন কেটে যায়, আমি নুরীকে অনেকটা ভালবেসে ফেলি। অদৃশ্য এক মায়ায় আটকে গেছি আমি। আমি নিজেও জানিনা না দেখেই একটা মেয়েকে কিভাবে এতটা ভালবাসলাম। একদিন একটু আগেই কলেজে আসলাম। কিছুক্ষন পর দেখলাম নুরী আসতেছে। আমি নুরীকে দেখেই একটা গাছের আড়ালে লুকালাম যেন নুরী বুঝতে না পারে আমি ওকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি। একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে আছি। নুরী কাছে আসতে না আসতেই, হায় হায় এটা কি হলো। (আমি) হাহাহা। (নুরী) এইযে পেত্নীদের মতো হাসতেছেন কেন? (আমি) হাহাহা,, আপনার মাথায় দেখেন। (নুরী) (রাগের মুডে) হুম দেখেছি তো শালার পাখি আর জায়গা পেলনা শেষ পর্যন্ত আমার মাথায় পায়খানা করে দিলো। (আমি)

হিহিহি,, পাখিটা মনে হয় আপনার শত্রু। (নুরী) হুম শত্রুই তো, আর আপনার বন্ধু। (আমি) আমার বন্ধু হবে কেন? (নুরী) বন্ধু বলেই তো পেত্নীদের মতো হাসতেছেন। (আমি) হাসলেই কি বন্ধু হয়ে গেল। আর আমি কি পেত্নী নাকি ফাজিল ছেলে। (নুরী) এইতো আমি লুকিয়ে আপনাকে দেখছিলাম তাই শালার পাখির সহ্য হয়নি। (আমি) কিইই,, আমাকে লুকিয়ে দেখেন,,, পায়খানা করে দিছে ভালো হইছে। (নুরী) হ, এখন তো ভালো হবেই। অন্যের বিপদে হাসতেছেন আপনার খারাপ লাগেনা। (আমি) পাখিটা যদি সত্যি আমার কথা শুনতো তাহলে আমি আপনার মুখে পায়খানা করে দিতে বলতাম। (নুরী)

ওয়াক্,থু, কি মেয়েরে বাবা। আপনার কোনো মন নেই,, একজনের বিপদকে আরো বাড়াতে চান।(আমি) হাহাহা,,, বিদায় ফাজিল ছেলে। (নুরী) ওই বোরখাওয়ালী। (আমি) ওই শয়তান ছেলে আমার নাম আছে, নুরী। (নুরী) হুহহ,, আমি জানি কালো পেত্নী। (আমি) কিইই আবার পেত্নী। (নুরী) হুম। কালো বোরখাওয়ালী পেত্নী।(আমি) ভাই পাখি এইবার শয়তান ছেলেটার মুখে পায়খানা করে দিওতো। (নুরী) (নিজেই নিজেকে বলতে লাগলাম) ফারাবি পালা এখান থেকে নয়তো শালা পাখি আবার কিছু একটা করবে ওর বোন যেহেতু সুন্দর করে ভাই ডেকেছে। সেই শয়তান পাখিটার হাত থেকে বাচতে দৌড়ে বাসায় চলে আসলাম। সেদিন সারাটা দিন নুরীকে ভেবেই কাটিয়ে দিলাম। এদিকে যে কালকে ইয়ার ফাইনাল পরিক্ষার রেজাল্ট সেটা প্রায় ভুলেই গেছিলাম। টেনশন টা আরো বেড়ে গেল রেজাল্ট নিয়ে। টেনশন তো হবেই কারন আমার বাবা তো যে রাগী আমার তো ১২ টা- ১৩ টা বাজিয়ে দেবে।

আমি ছাত্র মাসাল্লাহ ভাল। প্রত্যকটা পরিক্ষাতে আমার ২-৩ বিষয়ে ২০ এর নিচে নাম্বার থাকে। আল্লাহ ই জানে এবারো ফেল করবো কিনা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কলেজের দিকে দিলাম ভোঁদৌড়। কলেজে গিয়েই থমকে গেলাম নুরীকে দেখে। এই যে শয়তান ছেলে আপনার রেজাল্টের কি খবর? (নুরী) সকালের খবর, দুপুরের খবর, সন্ধার খবর, রাতের খবর হয় টিভি চ্যানেলে কিন্তু রেজাল্টের খবর নামে তো কোনো খবর হয়না। (আমি) হাহাহা। ফাজিল ছেলে আপনার পরিক্ষার রেজাল্ট কি? (নুরী) ওও সেটা আগে বলবেন তো। আমিGpa 6 পাইছি। (আমি) আ আ, ৫ পয়েন্ট এর উপরে তো পয়েন্ট ই নাই। তা আপনি ৬ পাইলেন কেমনে? (নুরী) আমি পাইছি। এইযে দেখেন প্রথম সাময়িক পরিক্ষায় ৩ পয়েন্ট আর এইবার ৩ পয়েন্ট মোটা ৬ পয়েন্ট, Gpa6। (আমি) হাহাহা, বোকা ছেলে ২ টা মিলে ৬। হাহাহা। (নুরী)

ওই পেত্নী হাসেন কেন হুম? (আমি)এমনি হাসি পাচ্ছে। (নুরী)- হুম হুম, আমি ৬ পাইছি তো তাই আপনার রাগ হচ্ছে। (আমি) আরে না, হাহাহা। (নুরী) আচ্ছা আপনি কি পাইছেন রেজাল্ট? (আমি) আমি ৪.৮৬। (নুরী) ও তাইতো বলি আমার রেজাল্ট শুনে রাগ করেন কেন, আপনি আমার থেকে কম পাইছেন তাই। হুহহহ,,,,(নুরী) ধুরর কোথায় ৬ আর কোথায় ৪.৮৬। আপনি আমার ধারের কাছেই যেতে পারেননি। (আমি) হাহাহা,, বোকা খোকা। (নুরী) ওই পেত্নীদের মতো হাসবেন না কিন্তু বলে দিলাম। (আমি) হাসবো,, কি করবেন আপনি? (নুরী) আরেকবার হাসলে আপনাকে জড়িয়ে ধরবো আমি। (আমি) বাবারে বাবা দরকার নেই বলেই দৌড় দিলো নুরী। এই বোরখাওয়ালী, আপনার হাসিটা কিন্তু অনেক সুন্দর। (আমি) ইহহহহ,, ভ্যা ভ্যা ভ্যা। (নুরী) এইযে আপনি কি ভেঁড়ার বউ ভেঁড়ি তাহলে যে ভ্যা ভ্যা করলেন। (আমি) ওই দাড়া তোর আজকে খবর আছে। (নুরী) ফারাবি পালা পেত্নী রেগে গেছে, বাসার দিকে দিলাম দৌড়।

হাপাতে হাপাতে বাসায় পৌছালাম। কিরে ভাইয়া কুকুরের দৌড়ানি খাইছিস নাকি? (ফারহা, আমার ছোট বোন) আর বলিসনা রে বোন একটা পেত্নী তাড়া করছে। (আমি) ধুরর তোরে আবার কোন পেত্নী তাড়া করবে,, নিশ্চই কুকুরে দৌড়ানি দিছে তোকে। ( ফারহা) নারে, সত্যি কালো পেত্নী দৌড়ানি দিছে, বোরখাওয়ালী পেত্নী। (আমি) তুই যা ফাজিলের হাড্ডি তোরে কুকুর ছাড়া আর কিসে দৌড়ানি দিবে। (ফারহা) ধুরর তুই যা তো বোন এখন। (আমি) ফারহার এমনটা মনে হওয়ার কারন কি জানেন? কারন,২ মাস আগে আমি আর আমার এক বন্ধু একদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হাটতেছি এমন সময় সামনে দেখলাম একটা কুকুর আরামে ঘুমাচ্ছে। আমি কুকুরের আরামের ঘুমকে হারাম করার জন্য ওর লেজ ধরে দিলাম টান। ওমনি কুকুরটা উঠেই আমাকে তাড়া করলো। কুকুরের হাত থেকে বাচতে দিলাম দৌড়। দৌড়াতে আবার ধপাস্ করে পড়ে যাই রাস্তায়। এরপর পায়ে ব্যাথা পেয়ে ১ সপ্তাহ্ বিশ্রামে থাকতে হয়। একারনেই ফারহা সন্দেহ করছে এখন।

ফারহাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে দিলাম একটা ঘুম। সন্ধা হতে না হতেই,,, ফারাবি ভাইয়া ওঠ ঘুম থেকে। (ফারহা) তুই আবার,, যা না বোন প্লিজ একটু ঘুমাতে দে। (আমি) ওই গরু,শয়তান ওঠ বলছি। (ফারহা) আমার লক্ষী বোনটা যা প্লিজ। (আমি) তোর ১২ টা বাজবে একটু পর, আব্বু ডাকছে তোকে। (ফারহা) একথা শুনেই বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠলাম। আমার বাবাকে আমি ভীষন ভয় পাই। বাবা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে মানে আজকে নিশ্চিৎ কিয়ামত শুরু হয়ে যাবে। কিরে কেন ডাকছে তুই কি কিছু জানিস। (আমি) হুম,, তোর নাকি রেজাল্ট দিছে আজকে তাই ডাকছে। (ফারহা) ইসস্ রে আজকে আমি শেষ রে বোন। (আমি) রেজাল্ট কার্ড টা হাতে নিয়ে ভয়ে ভয়ে বাবার কাছে গেলাম। বাবা ডেকেছো? (আমি) হ্যা,, তোর রেজাল্ট কার্ড দেখি। (বাবা) রেজাল্ট কার্ড টা বাবার হাতে দিয়ে দিলাম। ৫ মিনিট দেখার পর শুরু হয়ে গেল কিয়ামত।

এটা তোর রেজাল্ট, কোনোমতো পাস্ করেছিস মাত্র, কি ঘোড়ার ডিম পেয়েছিস এতদিন পড়ালেখা করে। (বাবা) বাবা ঘোড়া তো ডিম পাড়েনা। (আমি) শয়তান পড়ালেখা করেনা আবার ফাজলামো করো। ছরি বাবা। (আমি) বাবা ইচ্ছামতো আমাকে বকতেছিলেন। মনে হয় না জানি কি আকাম কুকাম করছি। এদিকে আমার ১২ টা বাজাচ্ছে আর ওদিকে মা আর ফারহা হাসতেছে। কার না মেজাজটা খারাপ হয় বলেনতো। পরের বার থেকে যদি আবার রেজাল্টে এইরকম মিস্টি ঘোড়ার ডিম দেখি তাহলে তোকে বাসা থেকে বের করে দেবো মনে থাকে যেন। (বাবা) ঠিক আছে বাবা। (আমি) এখন কান ধরে ৫০ বার ওঠ আর বস এটা তোর শাস্তি। (বাবা) (মনে মনে বলতেছি) ধুর এটা কোনো ব্যাপার হলো নাকি মাত্র ৫০ বার,,, কত শত বার কান ধরলাম। (আমি) আজকে তো মাত্র ৫০ বার কান ধরার শাস্তি দিলাম, এরপর কি শাস্তি দেবো তুই চিন্তাও করতে পারবিনা। (বাবা)ঠিক আছে বাবা আমার চিন্তা করার দরকার নেই, চিন্তা করলে আবার ব্রেইন কমে যাবে। (আমি)

চুপ কর শয়তান, তোর আবার ব্রেইন আছে নাকি। (বাবা) না কচু আছে,, আল্লাহরে এইডা কি বাপ নাকি খাডাস। (আমি) কিরে কিছু বললি। (বাবা) না, কিছুনা। (আমি) ঠিক আছে এখন যা। (বাবা) বাবা রে খাডাস বাপের হাত থেকে রেহাই পেলাম। বাবার এই নিম্নচাপের কারনে আমার বোরখাওয়ালী টাকেও এতক্ষণ ভুলে গেছিলাম। রুমে গিয়ে নাহিদকে ফোন দিই।  দোস্ত কি করতেছিস। (আমি) এইতো দোস্ত বাপের বকা খাইলাম। (নাহিদ) আর বলিসনা দোস্ত আমার উপর দিয়ে এতক্ষন ঘন্টায় ৫০০ কি:মি বেগে বাপের নিম্নচাপ গেল। (আমি) আমাদের কপাল খারাপরে ভাই। (নাহিদ) আচ্ছা বাদ দে। কাল কলেজে আসবি? (আমি) জানিনা রে। (নাহিদ) নারে কালকে তোর আসতেই হবে। (আমি) কেন কি দরকার? (নাহিদ) সেটা কালকেই বলবো। বাই রে। (আমি)

ফোনটা রেখে দিয়ে আমার বোরখাওয়ালীর কথা ভাবতে লাগলাম। এই কয়েকদিনে অনেক বেশি ভালবেসে ফেলেছি নুরীকে। ওর সাথে দুষ্ট-মিষ্টি ঝগড়াটা আরো বেশি গাড় করেছে আমার হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা ভালবাসাটাকে। পরের দিন কলেজে গিয়ে নাহিদের সাথে কথা বলতে লাগলাম।  দোস্ত বলনা সাহায্য করবি। (আমি) আরে আগে বলতো কি সেটা। (নাহিদ) একজনকে আমার ভালবাসার কথা বলবি। (আমি) হ্যা বলবো কিন্তু মেয়েটা কে? (নাহিদ) কে আবার,, সেই বোরখাওয়ালী। (আমি) দোস্ত আমি নাইরে। (নাহিদ) তুই নাই মানে বুঝলাম না। (আমি) ভাইরে ওই নুরী বাদে অন্য কেউ হলে আমি পারতাম। (নাহিদ) আব্বে শালা অন্য কেউ মানে, অন্য কাউকে কি আমি ভালবাসি নাকি? (আমি) সেটা না,, দোস্ত ঐ বোরখাওয়ালীরে আমি ভীষণ ভয় পাই। (নাহিদ) কেন সে কি তোরে কামড় দিছে? (আমি) না,,, তুই জানোস না দোস্ত তুই একদিন কলেজে আসিসনি কিন্তু আমি এসেছিলাম। (নাহিদ) হ্যা তাতে কি হইছে। (আমি) সেদিন আমি নুরীকে বলেছিলাম,,, ঐ বোরখাওয়ালী পেত্নী ভাবী। (নাহিদ) তারপর। (আমি)

তারপর আর কি হবে। আমারে বলে ওই শয়তান দাড়া তোর ভাবী ছোটাচ্ছি আমি। (নাহিদ) এটুকুতেই এখন ভয় পাচ্ছিস। (আমি) দোস্ত শুধু এটুকুই না। (নাহিদ) তাহলে। (আমি) নুরী যখন আমার দিকে আসতেছিল তখন আমি দিলাম দৌড়। দৌড়াতে দৌড়াতে আমাদের ক্লাসের মুটকি ফাতেমার সাথে জোড়ে একটা ধাক্কা খাই। (নাহিদ) তারপর। (আমি) তারপর আর কি, মুটকি ফাতেমার মোটা হাতে খেলাম একটা থাপ্পড়। তারপর ২ দিন জর। হিহিহি। (আমি) শালা তোর বউয়ের জন্য ধাপ্পড় খেলাম আর তুই হাসতেছিস। (নাহিদ) দোষ তো তোর,, বিয়ে না করতেই তুই ভাবী বলেছিস কেন। (আমি) বিয়ে করলেও ওই পেত্নীরে আমি আর ভাবী বলবোনা। (নাহিদ) সেটা পরে দেখা যাবে,, দোস্ত দেখ নুরী আসতেছে। প্লিজ দোস্ত সাহায্য করনা। (আমি) ঠিক আছে দাড়া চেষ্টা করতেছি, না জানি আজকে কপালে কি আছে। (নাহিদ) যা দোস্ত যা। (আমি)

নুরী আপু একটু দাড়ান। (নাহিদ) জ্বি কিছু বলবেন। (নুরী) হ্যা বলবো কিন্তু আপনি যদি আবার সেদিনের মতো দৌড়ানি দেন। (নাহিদ) না দেবোনা, বলেন কি বলবেন। (নুরী) আপনি আজকে আমাকে মারেন যা ইচ্ছা করেন তবুও আপনাকে আমার বলতেই হবে। (নাহিদ) আরে বাবা বলেন তো। (নুরী) হুম। আমার বন্ধু ফারাবি আপনাকে অনেক পছন্দ করে। (নাহিদ) হ্যা, তো আমি কি করবো। (নুরী) আপনি বিশ্বাস করেন ফারাবি আপনাকে অনেক ভালবাসে, কতটা ভালবাসে সেটা আমিও জানিনা,,। (নাহিদ) কিন্তু এটা কি করে সম্ভব। আপনি ই বলেন ওর মতো একটা ছেলেকে কোনো ভালো মেয়ে কি ভালবাসবে? (নুরী) আমি জানি। ফারাবি যতই ফাজিল হোক না কেন সে কিন্তু অন্য বাজে ছেলেদের মতো না। (নাহিদ) হুম। ঠিক আছে আমি ভেবে দেখবো, কিন্তু ফারাবিকে নিজে এসে আমাকে বলতে হবে। (নুরী) এইসব কথাগুলো নাহিদ এসে আমাকে বলেছিল। তারপর আমি বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাই নুরীর দিকে। আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন বিশ্বযুদ্ধে যাচ্ছি।

জানিনা জয় ছিনিয়ে আনতে পারবো কি না। আ আ আমাকে ডেকেছেন। (আমি) এই যে ভয় পান কেন? আমি তো মানুষ ই। (নুরী) কো কই নাতো। (আমি) ভয় না পেলে তোতলাচ্ছেন কেন? আর হাটু কাপতেছে কেন আপনার? (নুরী) এ এমনি। (আমি) আপনার বন্ধুকে কি বলতে পাঠিয়েছিলেন এখন সেটা আপনি বলেন। (নুরী) না মানে, আমি আপনাকে ভালবাসি। (আমি) হুম, এই যে হাটুর কাপুনি থামান। ভালবাসেন ভালো কথা কিন্তু আমি কি করতে পারি আপনার জন্য? (নুরী) আমাকে একটু ভালবাসা দিবেন প্লিজ। (আমি) চেষ্টা করবো, কিন্তু কিছু শর্ত আছে মানতে পারবেন? (নুরী) হ্যা আপনার জন্য আমি সব করতে পারবো। (আমি) সব করতে হবেনা বুদ্ধু, শুধু কয়েকটা শর্ত পালন করলেই হবে। (নুরী)

ঠিক আছে বলেন। (আমি)  হুম,, (১) আমি ফোনে বেশি কথা বলতে পারবোনা, (২) তোমাকে খুব ভালভাবে পড়ালেখা করতে হবে, (৩) ৫ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে, (৪) বিয়ের পর ছাড়া আমার মুখ দেখতে চাইবেনা, (৫) আমি অন্য মেয়েদের মতো তোমার সাথে ঘুড়তে পারবোনা বিয়ের আগে, (৬) বিয়ের আগে আমার হাতের আঙ্গুল পর্যন্তও স্পর্শ করতে পারবানা এবং আমার কথামতো চলতে হবে। পারবা এসব করতে? (নুরী) হ্যা আমি পারবো। তুমি যেসব শর্ত দিছো এগুলো তো একটাও খারাপ না, এটাই তো হবে পবিত্র ভালবাসা। (আমি) হুম শয়তান ছেলে। (নুরী) হুম বোরখাওয়ালী। (আমি) হিহিহি আমার ভূত। (নুরী) হাহাহা আমার বোরখাওয়ালী পেত্নী। (আমি) এই যে ভাবী আসসালামু আলাইকুম। (নাহিদ) ইসস রে আবার ভাবী,, ওই নাহিদ দাড়া তোরে আজকে যে কি করমু। (নুরী)  নাহিদ পালা। (আমি) ভাইরে আমি আর নাই। (নাহিদ) হাহাহা,,,, নাহিদের দৌড় দেখে আমারা দুজনই হেসে উঠলাম। শুরু হয়ে গেল আমাদের পবিত্র ভালবাসার পথ চলা।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত