প্রাক্তন

প্রাক্তন

– লাল শাড়ীতে আমায় কেমন লাগছে?
– ভালো।
– লাল চূড়ি পরবো?
– পরো।
– চূড়ি গুলো কোথায় রেখেছো?
– জানি না।
– তোমার মন খারাপ?
– না।

– এই বাবু কি হয়েছে তোমার?
– কিছু হয়নি তো।
– তবে এভাবে কথা বলছো যে?
– লুতুপুতু করে কথা বলতে হবে?
– রেগে যাচ্ছো কেন?
– আমার রাগ তোর মত বস্তির মেয়ের জন্য আসে না।
– এটা বলতে পারলে?
– কেন বলতে পারবো না? তোদের কোন ক্লাস নেই,তোদের কোন চরিত্র নেই, তোদের সাথে এভাবেই কথা বলা উচিত।

নূরের মুখে এসব কথা শুনে আমি চুপ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম, আমার হাতে থাকা সাজুগুজুর জিনিস পড়ে যাচ্ছে, শাড়ীর আঁচল আলতো করে খুলে পড়লো,এখনো পিন মারা হয়নি হয়তো তাই এত সহজে খুলে পড়েছে। বিছানার এক প্রান্তে আমি বসে পড়লাম, হাসার চেষ্টা করলাম কিন্তু হাসি বের হলো না! তবুও মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলাম-

– হঠাৎ এমন রিয়েক্ট করছো কেন?
– তো কী আদর করবো?
– রাগের কারণ বললে শুধরে নিতাম!
– তোর মত ছোট লোকের বাচ্চারা পারবে না ভুল শুধরে নিতে।
আমি দীর্ঘশ্বাস নিলাম। নূর একটু সরে বসে মোবাইল চাপছে, কথার মোড় ঘুরাতে বললাম-
– কী দেখো এত মোবাইলে? দাও তো মোবাইল আমাকে দাও।

নূর মোবাইল অন্য দিকে নিয়ে আমায় জোরে ধাক্কা মারে, বিছানা থেকে পড়ে কপালে হালকা চোঁট লেগেছে,এত হালকা চোঁট যে একটুও রক্ত বের হয়নি,আমি কপাল চেপে উঠে দাড়ালাম, বেহায়ার মতন আবার জিজ্ঞেস করলাম-

– এমন না করে রাগের কারণ তো বলতে পারো!
– এই বস্তির মেয়ে তুই এত সাজুগুজু করছিস কার জন্য?
– কার জন্য মানে?
– তখন থেকে এত সুন্দর করে কার জন্য সাজলি? নাগর আছে তাই না? কয়টা নাগর আছে তোর?
– নূর কী বলছো এসব!
– ভুল বললাম?
– নূর আজ আমার জন্মদিন, ১২ টা বাজতে ২০ মিনিট বাকি, তুমিই তো একটু আগে বললে আমায় সাজতে।
– সাজতে বলেছিলাম কিন্তু সেলফি তুলতে বলেছিলাম? কাকে দেওয়ার জন্য সেলফি তুললি? নতুন নাগর জুটিয়েছিস তাই না?
– নূর! থামবে তুমি?

নূর থেমে গেলো, ওর মুখ থেকে কোন শব্দ বের হলো না তবে ওর পা থামেনি, ১২:২৩ মিনিট, নূর কেক লাথি মেরে টেবিল থেকে ফেলে দেয়, আমি চেয়ে রইলাম, বিছানা থেকে উঠে আমার কাছাকাছি এসে বলে-

– সরে দাড়া, তোর মুখ দেখলেও পাপ হয়।
আমি এক পাশে সরে দাড়ালাম।
হয়তো ভুল বসত ফোনটা রেখে রুম থেকে বেরিয়ে বেলকনিতে দাড়িয়েছে।
আমি ওর ফোন হাতে নিয়ে কেঁদে দিলাম।
বাড়িওয়ালার মেয়ের সঙ্গে বেশ জমেছে ওর!

এতক্ষণ ও আমায় রাগ দেখাচ্ছিলো না, আসলে বাড়িওয়ালার মেয়ে ওকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলো না তাই এতটা বিরক্ত ছিলো।

আমি ফোনটা আগের জায়গায় রেখে দিলাম।
ফেলে দেওয়া কেক এর এক অংশ তুলে নিয়ে নিজেই খেলাম আর বললাম “শুভ জন্মদিন পাগলী”।
নূর বেলকানি থেকে এসে দেখে রুম পরিষ্কার করা। এক কাফ চা নিয়ে এলাম। নূর ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো-

– চা কেন?
– আমার জন্মদিনের ট্রিট।
– মুখের কোণে তোমার কেক লেগে আছে কেন? ফ্লোর থেকে কেক তুলে খেয়েছো?

– সকাল ৭ টায় অফিসে যাও,সন্ধ্যা বা রাত ১০ টায় বাড়ি ফেরো, এভাবে ৩০ দিন কাটার পর ১৯ হাজার টাকা বেতন পাও, এত পরিশ্রমের টাকা দিয়ে কেক এনেছো সেটা না খেলে কী হয়?
নূর আমার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।
আমি হেসে দিলাম।

সকাল হতেই বাক্স-ব্যাগ গুছিয়ে আমি চলে আসলাম। নয় দিনের মাথায় তার বিয়ের দাওয়াত পেলাম, বাড়ি ওয়ালার মেয়ে নিজে এসে দাওয়া করে গেছে, দাওয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার লোক আমি নই। লাল শাড়ীর সঙ্গে লাল চূড়ি পরে আমি তার বিয়েতে গিয়েছিলাম, নূরের শশুড় বাড়ির লোকজন নূরকে জিজ্ঞেস করলো-

– নূর তুমি মেয়েটার কে হও?
– আমি তার প্রিয়জন।
আমি নূর কে বাঁধা দিয়ে বললাম-
– একটু ভুল বললেন নূর সাহেব! ঠিক প্রিয়জন না, “প্রিয়জন নামক প্রাক্তন”

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত