পূর্ণ ভালোবাসা

পূর্ণ ভালোবাসা

আবিদ আর বৃষ্টি পাশাপাশি বসে আছে। আজকে তাদের দেখা করার নির্ধারিত দিন। এই দিনটিতে তারা দেখা করে,অন্য কোনদিন কেউ কারো সামনে আসবে না,আবার দেখাও করবে না। প্রতিবার দেখা করতে এলে বৃষ্টি আবিদের জন্য কিছু গিফট নিয়ে আসে। এবারো এনেছে, তবে এবার একটি ঘড়ি নিয়ে এসেছে বৃষ্টি। কারন আবিদ সময়ের মূল্য দিতে পারে না। এবার থেকে দিবে বলেই ঘড়িটা আনা।

আবিদ হাতটা দাও (বৃষ্টি) কেনো? (আবিদ) হাত টা এদিকে দাওতো,এতো প্রশ্ন করো কেনো (বৃষ্টি) আবিদ বৃষ্টির দিকে হাতটা এগিয়ে দেই। বৃষ্টি আবিরের জন্য কিনে আনা ঘড়িটা হাতে পড়িয়ে দেই। এটা কিনতে গেলে কেনো বৃষ্টি( আবিদ) তোমার হাতে কোন ঘড়ি নেই,আর তোমাকে দেখতেও ভালো লাগতো না, সেইজন্য ঘড়িটা দিলাম। এখন কি করবো আমি। আরে গাধার মতন প্রশ্ন করো কেনো,ঘড়ি মানুষ কি করেজানোনা। জানি তো সময় দেখে। হ্যাঁ তুমি প্রতিবার দেখা করার সময় লেট করো,এবার ঘড়ি কিনে দিলাম আর জেনো লেট না হয়।

এবার বুঝতে পারছি, এই জন্য ঘড়িটা দেওয়া। হ্যাঁ, এবার থেকে লেট করলে দেখাই করবো নাতোমার সাথে। আর লেট করে আসবোও না। প্রতিবার তো সেটাই বলো,কিন্তু তারপরেও দেরি করে আসো। এবার ঘড়ি কিনে দিয়েছো না, আর লেট হবে না। আচ্ছা চলো একটু সামনের দিকে যায়। (বৃষ্টি) চলো (আবিদ) আবিদ বৃষ্টির হাতটি শক্ত করে ধরে সামনের দিকে হেঁটে চলেছে। কারন এই হাঁতটি ছেড়ে দিলে তার বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। বৃষ্টিও অনেক খুশি মনে হেঁটে চলেছে,আবিদকে পেয়ে। কারন বৃষ্টি জানে আবিদ ওকে প্রচন্ড ভালোবাসে, সেইজন্য বৃষ্টি অনেক খুশি। এমনযুগে এমন করে কেউ ভালোবাসতে পারে সেটা আবিদকে না পেলে বুঝতেই পারতো না বৃষ্টি। অনেক সময় ধরে ঘুরার পরে সময় চলে এলো বাড়িতে যাবার। দুজন দুজনার চোখে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।তাদের চোখের একটাই ভাষা, আবার কবে হবে তাদের দেখা কবে হবে একসাথে কিছুসময় কাটানো।

কবে হবে ওই সুন্দর হাতটি ধরে পথচলা। আবারো অপেক্ষা করতে হবে অনেকটা দিন,তারপরে আবার আসবে এমন একটা দিন।আবারো অনেক দিন পর এইরকম একটা দিন আসবে সেদিন হবে আবার দেখা। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে দুজনকে। বিদায় নিয়ে বৃষ্টি চলে গেলো। আবির বৃষ্টির চলে যাওয়া দেখছে পেছন থেকে। মেয়েটি তাকে কত ভালোবাসে। প্রতিবার দেখা করার সময় গিফট নিয়ে আসে,আর আমি কিছুই দিতে পারিনা। না এবার তাকে কিছু দেওয়া উচিত। আবিদ ভাবে কি দিবে বৃষ্টিকে। কি দিলে বৃষ্টি খুশি হবে। অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করে একজোড়া নূপুর কিনে দিবে। যদি আমার হাতে ঘড়ি না থাকাতে সে ঘড়ি দিতে পারে,তাহলে আমি কেনো নূপুরর দিতে পারবো না।তার পায়ে তো নূপুর নেই। যেই ভাবা শেই কাজ। আবিদ বৃষ্টি কে সামনে বার নূপুর দিবে ভেবে ফেলে। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখে দাম একটু বেশি। আবিদের কাছে যা টাকা আছে সেটা দিয়ে নূপুর কেনা কখনো সম্ভব না? অর্ধেক টাকা কম থাকাই, আবির ইট ভাজ্ঞার কাজ করতে শুরু করে। প্রতিদিন কাজে যায় আবিদ।

কাজ আর একদিন করলেই নূপুর কেনার টাকা হয়ে যাবে। কিন্তু কালকে দেখা করার ডেট। কালকে দেখা করলে নূপুর আর কেনা হবে না।এখন কিছু একটা করা দরকার, আবিদ বৃষ্টিকে কি বলবে সেটা ভাবতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না পেয়ে ফোন অফ করে রেখে দেই। ফোন অফ করে রেখে দিয়ে পরের দিন কাজ করে আবিদ। কাজ শেষ করে টাকা দিয়ে বৃষ্টির জন্য দোকান থেকে নূপুর গুলো কিনে ফেলে। নূপুর কিনে বাড়িতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বাড়িতে এসে ফোন চালু করে। ফোন চালু করার কিছুক্ষন পরে বৃষ্টি ফোন দেই, কি ব্যাপার ফোন অফ কেনো (বৃষ্টি) গতকাল থেকে ফোনটা খুজে পাচ্ছি না,এখন পেলাম। (আবিদ) কখন দেখা করবে তাহলে। আজকে আর হবে না, কারন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কালকে দেখা করি। আচ্ছা মনে থাকে জেনো। যাক শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি তো বুঝতে পারেনি।আবিদ বেঁচে গেলো,নইতো কত কি হয়ে যেতো এতক্ষন। একদম ভুমিকম্প হয়ে যেতো আবিদের উপর দিয়ে।

পরের দিন আবিদ আগে চলে গেলো,কারন প্রতিবার লেট করে যায়, আর বৃষ্টির কাছে বকা খেতে হয়। আবিদ একটা বেঞ্চে বসে অাছে। হটাৎ পেছন থেকে কে জেনো আবিদকে জড়িয়ে ধরে। আবিদ বুঝতে পারে বৃষ্টি চলে এসেছে। এবার সামনে এসো বৃষ্টি( আবিদ)কি করে বুঝলে আমি (বৃষ্টি) কারন এই সময় তুমি ছাড়া কেউ এখানে আসবে না।তাই বুঝি। হুম, এবার তোমার চোখ বন্ধ করো। আসতে না আসতেই চোখ বন্ধ করবো কেনো? করো আগে,এতো প্রশ্ন না করে। আচ্ছা এইযে করলাম। এবার খোলো। বৃষ্টি চোখ খুলে দেখে আবিদের হাতে নূপুর। তবে আবিদের হাতে কয়েক যায়গাই ফোসকা দেখতে পাই নূপুরের সাথে। ফোসকা কিভাবে পড়ল তোমার হাতে।(বৃষ্টি) তেল পড়ে এমন হয়েছে।

মিথ্যা বলো না আবিদ, এটা তেল পড়ে হয়নি,আর টাকা কোথাই পেলে তুমি। নূপুর কেনার টাকা তো তোমার কাছে এখন নেই। আবিদ মাথা চুলকাই, বলতে পারে না বৃষ্টিকে।  বৃষ্টি বুঝে ফেলে, তারমানে তুমি কাজ করে আমার জন্য নূপুর কিনেছো। কে বলেছিলো তোমাকে নূপুর আনতে। আমার এসব চাইনা, আমার শুধু তোমাকে চাই। আমি তো তোমারি আছি। এসব আর করবে না আজকে থেকে,কারন আমার অনেক কষ্ট লাগে। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচবো কি করে। আরে তুমি থাকতে আমার কিছুই হবে না, আর তোমাকে তো কিছুই দিতে পারিনি আমি, সেইজন্য এটা এনেছি। হাতে ফোসকা তৈরি করে এসব আনতে হবে না,বলেই আবিদকে বাহুডোরে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে বৃষ্টি। আবিদ কোনমতে বৃষ্টির কান্না থামিয়ে দিয়ে নূপুর পড়িয়ে দেই পায়ে।

নূপুর পড়ানো শেষ হতেই, বৃষ্টি আবার আবিদকে জড়িয়ে ধরে। কোনমতেই আবিদকে ছাড়তে চাইছে না বৃষ্টি। সূর্য পশ্চিমের দিকে হেলে পড়েছে, রক্তবর্ন ধারন করে আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছে, আবিদ বৃষ্টির কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বৃষ্টির কাধে মাথা রেখে হাতটি ধরে সূর্যাস্ত দেখছে। নদীর পানির মতন বয়ে চলেছে তাদের প্রতিটা দিন,প্রতিটা বিকেল,আর সুন্দর সুন্দর মূহুর্তগুলো। এটাই আসল ভালোবাসা। চলুক না এমন করে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত