অদ্ভুত তুমি

অদ্ভুত তুমি

আমার কথা শুনে নিধি প্রচন্ড রেগে গেল, আমার দিকে চোখগুলো লাল লাল করে অবহেলার দৃষ্টিতে তাকিয়ে চিৎকার দিতে দিতে বলল,

> নিজেকে কি মনে করো হ্যা? তুমি প্রপোজ করবে আর আমি গ্রহণ করে ফেলবো? এতই সহজ? তোমার কি আছে আমাকে ভালোবাসার? কোন মুখে আমাকে ভালোবাসার কথা বললা হ্যাঁ?

কথাগুলা শুনে আমার বুক কেমন করে যানি ধক করে উঠলো, মনে হচ্ছে কেউ তীর দিয়ে সোজা আমার বুকের মধ্যে আঘাত করলো। আমার বুকের মধ্যে অশান্তির ঝড় শুরু হয়ে গেলো। ভাবতে পারিনি অশান্তির ঝড় শুরু হবে বলে, পারিনি ভাবতে অশান্তির ঝড় আমায় ছুতে পারবে বলে। আমি চুপ করে বসে আছি পার্কের ছোট একটা বেঞ্চের উপর, যে বেঞ্চে আমরা দুজন ছাড়া আর কেউ নেই। আমাদের থেকে কিছু দুরে হাটু গেড়ে কাব্যিক ভাষায় প্রপোজ করছে সজিব তার গার্লফ্রেন্ডকে। সজিব আমার থেকে দুবছরের জুনিয়র, সজিব আমাদের মেছেই থাকে, সজিব আমার মতই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার প্রপোজ করার সাথে সাথেই নিধি দাড়িয়ে যায়, আর উপরের কথাগুলো বলে আমাকে। নিধি আরো বলতে লাগলো।

> ভালোবাসতে হলে কি লাগে? জানো! ভালোবাসার মানুষকে আগলে রাখতে কি লাগে? ভালোবাসার মানুষের সাথে সুখের সংসার করতে হলে কি লাগে? টাকা লাগে টাকা। টাকা না থাকলে কাউকে ভালোবাসতে পারবে না, টাকা না থাকলে ভালোবাসার মানুষকে আগলে রাখতে পারবে না, টাকা না থাকলে ভালোবাসার মানুষের সাথে সংসার করতে পারবে না। তোমার তো সেই টাকাই নেই, তাহলে কি দিয়ে আমায় ভালোবাসার কথা বলতে আসছো? এতদিন তোমাকে আমার শুধু বন্ধু ভেবে আসছি, জাস্ট ফ্রেন্ড, আর কিছু না। তোমার কোন বন্ধু নাই দেখে তোমাকে করুনা করে তোমার বন্ধু হয়েছিলাম, শুধু করুনা করেছি, আর এই করুনার প্রতিদান এই দিলে তুমি?

টাকার কথা শুনে অনেকটা রাগ উঠে গেলো মাথায়। নিধি এই কথাগুলা বলবে আমি স্বপ্নের মধ্যেও ভাবতে পারিনি, কষ্ট হচ্ছে অনেক কষ্ট হচ্ছে, আমার বুকের ভেতরটা ছিড়ে যাচ্ছে যন্ত্রণায়, আমি এত কষ্ট আমার পূর্বজীবনেও পাইনি। ভাবতে পারছিনা, কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না, আমার মাথায় কাজ করছে না, এই মুহুর্তে আমার কি করা উচিৎ আমি বুঝতে পারছিনা। আমার মাথায় শুধু নিধির কথাগুলাই বাজছে, “টাকা” “করুনা”। নিধি এরকম ছিলো না। নিধি মেয়েটা অনেক ভালো ছিলো।

আজকে এখনো মাত্র এক সপ্তাহ হলো আমি প্রতিদিন ভার্সিটি আসি, এখনও আমার কোনও বন্ধু হয়নি বা আমি নিজে থেকে কারো বন্ধু হতে যাইনি। সবাই আমার দিকে কেমন যানি একটা দৃষ্টি নিয়ে তাকায়, যেন আমি কোন এলিয়েন ভার্সিটিতে প্রবেশ করেছি। এই এক সপ্তাহে আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখলাম, সবাই আমার দিকে এক অবহেলার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তাদের চোখের ভাষা আমি বেশি বুঝতে পারিনি, তবে কিছুটা আঁচ করতে পারছি। তাদের চোখ হয়ত বলে “এই দেখো! ক্ষ্যাত ছেলেটা আসছে, ক্ষ্যাতের মত কি সব পরে আসে ভার্সিটিতে, এদের জন্য আমাদের ভার্সিটি নোংরা হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি”। এখনও নতুন তাই হয়ত কেউ সামনে এসে এগুলা বলতে পারেনি, সবাই নিজের মনে মনেই এগুলা বলে যাচ্ছে। এগুলা বলার কারন একটিই দেখতে পেলাম। আমার গায়ে একটি ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি আর সাদা পায়জামা, এই সব পরে আসার কারনেই হয়ত ওরা আমাকে ঐ “ক্ষ্যাত” নামের শব্দ দিয়ে আখ্যায়িত করে আসছে অর্থাৎ আমার মধ্যে কোন স্মার্টনেস নেই, নাই কোন ফ্যাশন, স্টাইল ইত্যাদি নাই।

> হ্যালো মিস্টার কেবি পাঠক

সকালবেলা ক্লাস শুরু হবার আগে আগেই ভার্সিটি এসে বসে বসে বই পড়তেছি। এমন সময় কোন এক নারীর কন্ঠে আমার নাম শুনে আশ্চর্য হয়ে উনার দিকে তাকালাম। নিধি আমার নাম ধরে ডাক দিছে, বুঝতে পারলাম না ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল হয়ে ওর কি প্রয়োজন আমার কাছে, আর তাছাড়া আজ প্রথম কেউ আমার সাথে কথা বলতে আসছে তাও আবার আমার নাম ধরে ডাক দিয়ে। নিধি আজ পিংক কালারের সাদাসিধে একটা কাপড় পরে আসছে, ভালই মানিয়েছে তাকে। ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার বই পড়ার দিকে মনযোগী হলাম, কথা বলার ইচ্ছে থাকা সত্তেও কথা বললাম না। আমাদের ক্লাসে অনেক গুলো মেয়ে থাকা সত্তেও এই একটা মেয়েকেই কেন যানি চোখের মধ্যে পড়ে। আমার সাদাসিধে মেয়েদেরকে খুব ভালো লাগে। নিধির কথার কোন প্রতুত্ত্যর না দিতে দেখে সে আবার বললো।

> কি মিস্টার? এত ভাব নিচ্ছেন কেন? আর আমি কি বললাম যার কারনে আপনার মুখে হাঁসি ফুটে উঠলো?

আমি আবার নিধির দিকে তাকিয়ে হাঁসি হাঁসি মুখ নিয়ে বললাম।

> বসুন এখানে। কথা বলতে যখন এসেছেন তখন বসে বসেই কথা বলুন। আর হ্যা! আপনি যে আমায় নিয়ে পড়াশুনা শুরু করে দিয়েছেন তা নিয়ে চিন্তা করে হাঁসলাম।

নিধির মুখটা কেমন করে যানি লাল হয়ে গেলো, মুখটা নিচু করে ফেললো, হয়ত লজ্জায়। ওকে লজ্জা পেতে দেখে আমি আবার বললাম।

> বাই দ্যা ওয়ে, আপনার নাম নিধি, রাইট?

এবার নিধি তার মুখমন্ডল উচু করে হেসে হেসে বললো।

> আরে আপনি ও তো পড়াশুনা শুরু করে দিয়েছেন দেখছি।

নিধির হাঁসিটা এক প্রকার সূর্যের আলোর মত, সে হাঁসতেই তার ফর্সা মুখটা আরো উজ্জল হয়ে গেলো। ওর কথা শুনে আমার মুখে এমনিই হাঁসি ফুটে উঠলো। তারপর বললাম।

> জ্বি হ্যা, আপনি তো দেখলেনই আমি পড়তে ছিলাম।

সে তার মুখে আগের হাঁসি বিদ্যমান রেখে বললো।

> না, তা না। আপনিও যে আমাকে না বলে আমার নাম জেনে নিলেন অর্থাৎ আমার সম্পর্কে পড়াশুনা শুরু করে দিলেন। তাই বলছিলাম।

> আপনার নাম তো এই ক্লাসের সবাই জানে। এমন কি আপনাকে প্রায় সবাই অনুসরণ করে আসছে। কারন আপনি ক্লাসের ফার্স গার্ল। সবাই জানে এবং বুঝে, আপনাকে অনুসরণ করলে তার নিজেরই লাব। আর হ্যা! এই সবার মধ্যে কিন্তু আমিও আছি।

এইটুকু বলেই আমি বলদের মত একটা হাঁসি দিলাম। মেয়েদের প্রশংসা করলে চেহারার মধ্যে উজ্জলতা আর মনের মধ্যে অন্যরকম এক প্রফুল্লতা কাজ করে। তা নিধিকে দেখে বুঝতে পারলাম। নিধি কি বলবে না বলবে ভেবে পাচ্ছে না। এরই মধ্যে প্রায় সবাই চলে আসছে ক্লাসে। নিধি আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ক্লাসের সবার দিকে একটু চোখ বুলালো, তারপর তার হাতে থাকা ছোট্ট একটা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে টাইমটা দেখে আমাকে বললো…

> আপনি তো পাম দিতে জানেন খুব ভালো করেই। আচ্ছা যাই! ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।

আমি আর কিছু না বলে ওর দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা দিয়ে “হ্যা” বোধক ইশারা দিলাম। নিধি চলে গেলো। এর পর দুদিন আর কথা হয়নি ওর সাথে। তৃতীয় দিন সকাল বেলা এসে ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছিলাম এমন সময় পিছন থেকে কে যেন বলে উঠলো…

> আপনি এত চুপচাপ থাকেন কেন? আপনাকে দেখলে তো চুপচাপ থাকার মানুষ মনে হয়না।

আমি মাথাটা ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম নিধি দাড়িয়ে থেকে ঐ কথাগুলা বললো। আমি ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার চায়ের দিকে মন দিলাম। চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলো। এর একটু পরেই নিধি আমার সামনে এসে সামনের চেয়ারটা টান দিয়ে বসে পরলো। আমি নিচের দিকে তাকিয়ে চা খাচ্ছিলাম। সে আবার বললো…

> কি হলো! বলছেন না কেন? আর আপনাকে যে অন্যরা ক্ষ্যাত বলে ডাকে আপনার কাছে ভালও লাগে বিষয়টা?

আমি ওর দিকে অবাক করা দৃষ্টি নিয়ে তাকালাম। আমার কি বলা উচিৎ ভেবে পেলাম না। তারপর আমি এই বিষয়কে এড়িয়ে যেতে বললাম…

> চা খাবেন?

নিধি আমার কথা শেষ করতে না করতেই সে ঝটপট বলে ফেললো…

> যেটা বলেছি সেটার উত্তর দিন। কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

আমি তার দিকে তাকিয়ে একটা হাঁসি দিয়ে ক্যান্টিনের বয়কে বললাম আরেকটা চা নিয়ে আসার জন্য। তারপর আবার নিধির দিকে তাকিয়ে বললাম…

> শুনেন! আমার আব্বু আম্মু অনেক টাকা খরচ করে এখানে অনেক কষ্ট করে পাঠিয়েছে, শুধু মাত্র পড়ালেখা করার জন্য। একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে আমাকে। আমি হতে পারি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তবে আমি আমার সমস্ত শক্তি প্রহার করে আমার মা বাবার সকল আশা এবং স্বপ্নকে সম্পুর্ণ রুপে সফল করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে আসছি।

আমি একটু থামলাম। নিধি চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে কথাগুলো শুনছে। নিধি কি বলবে হয়ত ভেবে পাচ্ছে না। তারপর আমি আবার বললাম…

> আমি আসিনি কারও সাথে বেকার সময় কাটাতে, কারও সাথে আজগুবি গল্প করতে। কে কি বললো তা শুনার সময় আমার হাতে নেই, যে যাই বলুক তাতে আমি কান দেই না। সে তো বলবেই, সে যেরকম তার চিন্তাধারাও সেরকম। তাইত ওরা আমাকে সেরকম ভাবছে। আর তাছাড়া আমি আমার মতই আমাকে ভালোবাসি।

নিধির চেহারার মধ্যে কেন যেন মনে হচ্ছে একধরনের খুশির আভা ফুটে উঠেছে। নিধি আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে। নিধির তাকানো দেখে নিজেকে কেমন যেন নার্ভাস নার্ভাস লাগছে। নিধি কিছু বলছে না দেখে আমি চেয়ার থেকে উঠে গেলাম তখন নিধি নিচের দিকে তাকিয়ে বললো…

> স্যরি।

বুঝলাম না। নিধি কেন স্যরি বললো। আমি হাঁসলাম, সেই হাঁসিটা আমার মনের মধ্যে আর চেহারার মধ্যে হালকা প্রভাব ফেললো। তারপর নিধি আবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো…

> আমি কি আপনার দিকে বন্ধুত্বের হাত এগিয়ে দিতে পারি?

আমি আবারও একটা মুচকি হাঁসি দিলাম। আমার হাঁসিটার দিকে নিধি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তার তাকানো দেখে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে নিধি বুঝতে পেরেছে আমার হাঁসির অর্থটা। তারপর যখন চেয়ার থেকে সরতে যাবো তখন ক্যান্টিনের বয় বললো “ভাইয়া বিলটা?” আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম “তোমার মেডামকে বলো। ইনিই বিল পরিসুধ করবেন।” এই কথা বলেই নিধির দিকে এক প্রকার দুষ্টুমির হাঁসি দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম সে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। হয়ত ভাবছে খেয়েছে সে, খাইয়েছেও সে, এখন বিল দিতে হবে আমাকে? দাড়া আমারও দিন আসবে, তখন দেখাবো মজা কাকে বলে। আমি আর কিছু বললাম না। মুখের হাঁসিটা বিদ্যমান রেখে বেরিয়ে আসলাম ক্যান্টিন থেকে।
ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে হাটতে লাগলাম। নিধি বিলটা দিয়ে দৌড়ে আমার পাশে এসে আমার মত হাটতে লাগলো, মাঝখানে তিন হাত পরিমান ফাক রেখে। হাটতে লাগলাম, কোন কথা নেই আমাদের মুখে। আমরা নিরবতা পালন করছি কিছুক্ষণ। নিধি নিরবতা ভেঙ্গে বললো…

> আমারও দিন আসবে। মনে রাখবেন।

আমি ওর দিকে তাকালাম। সে একটা হাসি দিয়ে এই কথাটা বললো। আমিও হাসলাম। তার দিকে তাকিয়ে কিছু বললাম না। তারপর সামনের দিকে তাকিয়ে বললাম…

> দেখা যাক! হয়ত আসবে আবার হয়ত আসবে না। যদি বন্ধু হয়ে থাকতে পারেন তাহলে আসবেই।

নিধির দিকে তাকালাম। হয়ত সে বুঝতে পারছে আমার কথাটা। সেও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

কিভাবে যেন দুটি বছর চলে গেলো বুঝতেই পারিনি। আগামি কয়েকদিনের মধ্যেই পরিক্ষা শেষ হয়ে যাবে। তারপর কেউ কারও পাত্তাই পাবোনা। সবাই নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। সবাই নতুন সূর্যের আলো উপভোগ করার জন্য সময় গুণতে থাকবে। সবাই তার অনেক আশা আকাঙ্কা কে সফল করার জন্য এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। নিধির সাথে দুটি বছর ধরে বন্ধুত্বের হাত ধরে আছি, এখন আমরা ‘তুমি’ শব্দটার মধ্যে আসছি। ‘তুই’ শব্দতে যাওয়ার ইচ্ছা হয়নি। এখন তার বেস্ট ফ্রেন্ডের কাতারে আছি। কিন্তু আমি যে ওকে শুরু থেকেই তিলে তিলে ভালোবেসে আসছি সেটা তাকে বুঝতে দেইনা। আমার ভয় হয়। কোন এক অজানা ভয়। সেই ভয়ের কারনে আজও বলতে পারিনি আমার ভালোবাসার কথা। কিন্তু আগামি কয়েকদিনের মধ্যেই বলতে না পারলে নিধিকে আমার চীরদিনের জন্য হারাতে হবে। কি করবো কিছুই মাথায় আসছে না। কিভাবে নিধিকে জানাবো আমার ভালোবাসার কথা। আমার শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে আসে যখন ভাবি নিধিকে ভালোবাসার কথা জানাবো। মেছে আমার বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছি। প্রতিদিনই নিধিকে নিয়ে ভাবতে হয়। ভাবতে হয় বললে ভুল হবে। আসলে সে ভাবনার মধ্যে এমনিতেই চলে আসে। অনেক কিছু ভাবার পর ঠিক করলাম কালকেই নিধিকে জানাবো। কিভাবে কি করবো সব কিছু অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করে রাখলাম।

নিধি আমাকে অনেক পাল্টে দিয়েছে। এখন আর আগের মত ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি পরিনা। চুলগুলোকে সুন্দর করে আচড়িয়ে রাখি। এখন প্রায় স্টাইল করে চলতে পারি। এখন আর কেউ ক্ষ্যাত বলে আখ্যায়িত করেনা। সবাই বলে (ওয়াও, দারুন, তোমাকে কত সুন্দর লাগছে, কত স্মার্ট তুমি। ইত্যাদি)। এইসব কিছু নিধির জন্যই। নিধি অনেক যত্নবান। নিধিকে দেখতে যেরকম তার ব্যবহারও সেরকম। পরের দিন আসার পর যখন ওকে আমি আমার ভালোবাসার কথা জানালাম তখন সে উপরের কথাগুলো বলে আমাকে।

ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে গেছিলাম আমি। আমি জানতাম না নিধির মনে এইসব কিছু আছে। চোখ হতে পানি বের হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু আমি বের হতে দিচ্ছিনা। অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি চোখের পানিকে আটকে রাখতে। নিধির প্রতি যে ভালোবাসা ছিলো এখন তা ঘৃণায় পরিণত হতে লাগলো। নিধির মনে যে আমাকে নিয়ে এসব ধারনা আছে তা শুনে আমার মাথা অনেক গরম হয়ে গেলো। সেই সময় আমি অনেক সাহসী একটা কাজ করে ফেললাম। সজিব এখনও তার ভালোবাসার মানুষকে খুব সুন্দর করে কাব্যিক ভাষায় প্রপোজ করছে। আমি আর কোন কিছু না ভেবেই বসা থেকে উঠে সজিবের কাছে গেলাম। গিয়েই কষিয়ে একটা চড় বসালাম তার গালে। সে তার পা সুজা করে দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার ভালোবাসার মানুষও আমাদের কাছে আসলো। আমি নিধির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেও আসছে। আমি রাগের মাথায় কিসব করতেছি বুঝতে পারছিনা। তারপর সজিবের ভালোবাসারর মানুষের দিকে একবার তাকিয়ে সজিবের দিকে তাকিয়ে বললাম…

> এই তুই কাকে প্রপোজ করছিস? কাকে তুই ভালোবাসতেছিস জানিস! এরা কি চায় তর কাছ থেকে জানিস! তর আর আমার মত মধ্যবিত্তদের জন্য ভালোবাসা আসেনি। আমাদের মাঝে ভালোবাসা মানায় না। এরা আসলে ভালোবাসতে জানেই না। এরা চায় টাকা। এরা টাকা দেখে বিয়ে করতে চায়, ভালোবাসতে চায়।

আমার চোখ থেকে যে কখন থেকে পানি বের হয়েছে বুঝতেই পারিনি। সজিব আমার দিকে একবার আর তার গার্লফ্রেন্ডের দিকে একবার তাকাচ্ছে। সে তার মুখ থেকে আর কোন কথাই বের করতে পারছে না হয়ত। তারপর দেখলাম সজিবের হাত থেকে গোলাপ ফুলটা তার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে নিলো। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম। গোলাপ ফুল তার হাতে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো…

> জ্বি না ভাইয়া। আপনি ভুল বলতেছেন। ভালোবাসা সম্পর্কে আপনার ধারনা সম্পুর্ণ ভুল। ভালোবাসা টাকা দিয়ে হয়না। যদি টাকা দিয়ে ভালোবাসা হতো তাহলে মানুষ মানুষকে নয় টাকাকে ভালোবাসতো। আর কেউ যদি টাকা দেখে ভালোবাসে তাহলে টাকা যেদিন শেষ হয়ে যাবে সেদিন ভালোবাসাও শেষ হয়ে যাবে। তাই টাকা দিয়ে ভালোবাসা হয় না, ভালোবাসা হয় মন দিয়ে।

এই বলে সজিবের গার্লফ্রেন্ড থামলো। আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। -শিখো ওর কাছে থেকে- এই টাইপের একটা লুক নিয়ে নিধির দিকে তাকালাম। তারপর আমার পকেট থেকে টিস্যু বের করে চোখ মুছে হাটা দিলাম। পিছনে আর তাকালাম না। পিছনে তাকাবার ইচ্ছাটা এখন মরে গেছে। সুজা মেছে চলে আসলাম। ফার্মেসি থেকে কয়েকটা ঘুমের ঔষধ কিনে আনলাম। মেছে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। ভালোবাসার যন্ত্রণা যে কতটুকু তা সহ্য করার মত না। এক সাপ্তাহ ধরে মেছ থেকে বের হইনা। সারাদিন ঘরবন্দি হয়ে থাকি। দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছি। পাগলের মত নিধিকে নিয়ে ভাবতে থাকি আর সারাদিন চোখের পানি পড়তে থাকে। এখন আমার কি করা উচিৎ বুঝতে পারিনা। রুমমেটরা সবসময়ই বলে নিজেকে শক্ত করতে, নতুন করে জীবনটা কে সাজাতে। কিন্তু আমি কেন যেন শক্ত হতে পারিনা। শক্ত হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়। ওরা বারবার বলে চেষ্টা করতে থাক সফল তুই হবিই। বারবার বলে যেকোন জায়গা থেকে ঘুরে আসতে, ঘুরলে নাকি মন ভালো হয়। আজ অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয়না। এখন সিদ্ধান্ত নিলাম নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কোনরকমই ব্যর্থ হওয়া চলবে না, আমাকে ভেঙ্গে পরলে হবেনা। তাই ভাবলাম বাড়িতে গিয়ে কিছুদিনের জন্য ঘুরে আসবো।

হঠাৎ করে বাড়িতে আসায় আম্মু আব্বু যতটা না খুশি হয়েছেন তার চেয়েও বেশি আশ্চর্য হয়েছেন। বাড়িতে পা রাখার পর আম্মু আমাকে দেখেই আমার কাছে এসে আমার মুখে চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন।

> দেখেছো! আমার ছেলে ভালো নেই। আমি তোমাকে বলেছিলাম না! আমার ছেলের সমস্যা হচ্ছে, আমার ছেলে ভালো করে থাকতে পারছেনা।

আমি অবাক হয়ে আম্মুর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমি ভালো নেই আম্মু সেটা কি করে বুঝতে পারলো? আম্মুর চোখে টলোমলো করছে চোখের জলে। আমি ধৈর্য শক্তি হারিয়ে হাউমাউ করে কেদে আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম। আমাকে শান্তনা দিতে আমার আব্বু আমার ছোট ভাই আসছে দৌড়ে। ওরা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এত বড় একটা ছেলে হয়ে এভাবে কাদছে আশ্চর্য না হয়ে পারছেইনা। তারপর কান্না বন্ধ করে ফ্রেশ হলাম। আব্বু আম্মু খুব জোর করছে কি হয়েছে আমার বলার জন্য। আব্বু আম্মুকে সবকিছু বলে দিলাম। দেখলাম ওদের মুখও কালো হয়ে গেলো। সবকিছু শুনারর পর আব্বু একটি কথাই বললেন -সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে- আমি আর কিছু বললাম না। নিধিকে ভুলার চেষ্টা করতে করতে দিন পার করতে থাকলাম।

আজকে সকাল থেকেই বৃষ্টি পড়ছে টুপটুপ করে, হালকা হালকা বৃষ্টি। সারাদিন নিজের ঘরে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বসে থাকি। নিধিকে কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছিনা। তখন প্রেমিকদের একটা কথাই মনে হচ্ছে আমার -জীবনের প্রথম প্রেম ভুলা যায়না- কিছুই ভালো লাগছেনা। নিধির সাথে বৃষ্টির দিনে অনেকদিন হেটেছি। আজ বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির সেইসব দিনের কথা মনে পড়তেই মনটা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে কেন জানি। মনে হচ্ছে আমার মত আজ আকাশেরও মন খারাপ। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কানে যেন কিসের আওয়াজ ভেসে আসলো। একটু ভালো করে লক্ষ্য করে বুঝতে পারলাম আম্মু আব্বু এবং আরও দুএকজন মিলে হাসতেছে। বুঝলাম না। এই বৃষ্টির দিনে আবার কে এলো। ওদিকে আর মন দিলাম না। ঘড়ির দিকে চোখ যেতেই দেখলাম ধীরে ধীরে ঘড়ির ছোট কাটা দুপুর একটার দিকে চলে আসছে। একটু পরেই যোহরের আজান হবে। মুয়াজ্জিন সাহেব হয়ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটু পরে আমার ছোট ভাই আসলো আমার রুমে। তার চেহারার মধ্যে খুশি খুশি ভাব দেখা যাচ্ছে। বুঝলাম না কিছু। সে এত খুশি কেন? আমি কিছু বলতে যাবো তখন সে বললো…

> ওও। তুমি উঠে গেছো? আমি আরো তোমাকে ডাক দিতে আসলাম। আম্মু ডাকছে চলো?

> কে আসছেরে? বাইরে এত হাসির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে কেন? কোন মেহমান আসলেন নাকি?

সে ‘হ্যা’ সূচক ইশারা দিলো। আমি বললাম “কে আসছে” সে এমন এক উত্তর দিলো যা শুনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আমি অনেক বড় একটা শক খেলাম। কারেন্টের মধ্যে শক খেলে যেরকম অবস্থা হয় আমারও সেরকম অবস্থা হয়ে গেলো। আমার ভাই বললো…

> নিধি ভাবি আসছে। উঠো তাড়াতাড়ি।

সে চলে গেলো মুচকি হাসি হেসে। নিধি কেন আসলো? এখন আবার কোন মন নিয়ে আসছে আমার কাছে? আবার কি আরেকটা ধাক্কা দেয়ার জন্য আসছে? আর ওই বা আমার ঠিকানা পেলো কোথায়? এসব ভাবতে ভাবতে আমি আমার রুম থেকে বের হয়ে আসলাম। এসেই আরেকটা ধাক্কা খেলাম। নিধি ওর বাবা মা কে নিয়ে আসছে। কিছুই বুঝতে পারলাম না। আম্মু ডাকছিলো তখন থেকে। আম্মুর কাছে না গিয়ে সুজা ছাদে চলে আসলাম। বৃষ্টি এখন কমেছে। আকাশে কালো কালো মেঘ এখনও জমা রয়েছে। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। নিধির বাবা মাকে নিয়ে কেন আসলো? কিছুই মাথায় ঢুকছেনা। আমার ভাবনার মধ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়ে আম্মু ছাদে এসে বললেন…

> কিরে ছাদে চলে এলি যে?

আমি এর কোন উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম…

> আম্মু কি হচ্ছে এসব? ওরা আসলো কেন?

আম্মু এই কথার কোন উত্তর না দিয়ে আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন…

> আমরা তর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি।

আমার এই মুহুর্তে কি বলা উচিৎ কিছুই মাথায় আসলো না। অনেকটা রাগ নিয়ে আম্মুকে বললাম…

> এসব কিভাবে করলে তুমি আম্মু? তুমি কি জানতে না? সে টাকাকে চায় কারো মনকে নয়। আমি কাউকে টাকা দিয়ে ভালোবাসতে পারবোনা, আগলে রাখতে পারবোনা। তুমি এই বিয়ে ভেঙ্গে দাও আম্মু?

আম্মু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন…

> সে বুঝতে পেরেছে তার ভুলটা। আর সে তার বাবা মাকে বুঝিয়ে আমাদের কাছে নিয়ে আসছে। আমরা ওকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি।

> পারবেনা কেন আম্মু বলো? প্লিজ এরকমটা করোনা আম্মু। এই বিয়ে ভেঙ্গে দাও। ওদেরকে ফিরিয়ে দাও।

আম্মু অনেকটা জোর গলায় রাগ করে বলতে লাগলেন…

> পারবোনা আমি ফিরিয়ে দিতে। কেন ফিরিয়ে দেবো আমি? যার জন্য আমার ছেলে দিনরাত কাদে। যার জন্য আমার ছেলে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। যাকে না পেলে আমার ছেলে পাগল হয়ে যাবে। তাকে কি করে আমি ফিরিয়ে দেবো? আমি একজন মা হয়ে আমার ছেলের এরকম অবস্থা দেখে কি আমার কষ্ট হয়না? আমার কষ্ট কি তুই বুঝিস না? আমি বুঝি আমার ছেলের কষ্টটা। আমি জানি আমার ছেলে কাকে পেলে খুশি হবে। তাই আমি এই বিয়েতে অমত করিনি।

আমি কি বলবো ভেবে পেলাম না। আম্মু কাদছে কথাগুলো বলে। আমিও হঠাৎ আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলাম। আমার আম্মু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন…

> আর কাদিস না বাবা। তুই কাদলে যে আমারও কষ্ট হয়।

আর কিছু বললাম না। চোখের পানি মুছে স্বাভাবিক হলাম। আম্মু আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চলে গেলেন। এখন অনেকটা ভালো লাগছে। কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আকাশের মনটাও হয়ত ভালো হয়ে গেছে। চারিদিকে রোদ ছড়িয়ে পড়েছে।

> এভাবে উপরে তাকিয়ে কি দেখছো ভাইয়া?

হঠাৎ ছোট ভাইটার কন্ঠ শুনে ভাবনা থেকে বের হয়ে আসলাম কিন্তু আকাশ থেকে চোখ ফিরাইনি। আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকেই বললাম…

> দেখছিস! আকাশে চারিদিকে রোদ ছড়িয়ে পড়েছে। একটু আগেই আকাশে অনেক মেঘ ছিলো। আকাশের মত আমার মনের মধ্যেও কোথায় যেন আলো খুজে পাচ্ছি। ভাবতে পারিনি আবার কোন আলো আমার মনে দেখা দিবে বলে।

এইটুকু বলে আমি থামলাম। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমার কথাগুলো নিধি শুনতে পাচ্ছে। আকাশের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে ছোট ভাইটার দিকে তাকালাম। তাকিয়ে দেখি সে নিধির বাম হাত ধরে দাড়িয়ে আছে আর হাঁসছে। আমি একটু লজ্জা পেলাম। নিধি যে এখানে আসছে আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ওদের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা গাছগাছালির দিকে তাকালাম। তারপর নিধিকে উদ্দেশ্য করে আমার ছোট ভাইকে বললাম…

> জানিস আতিক! এই পৃথিবীর মানুষদের চেহারার সৌন্দর্য দেখে চেনা যায়না বুঝা যায়না ওদের মন আসলে কি চাঁয়। ওদের মনমানসিকতা কেমন। বুঝা যায়না ওরা টাকা চায় নাকি কারো মন। ওরা টাকা নিয়ে খেলে নাকি কারো মন….

আমার কথাকে শেষ করতে না দিয়ে নিধি বললো…

> আতিক! এই নাও চকলেট। এবার একটু নিচে যাও। আমরা আমরা আসছি বুঝছো?

আতিকও বাধ্য ছেলের মত নিচে চলে গেলো। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিনা। আমার মুখ থেকে কোন কথাই বের হচ্ছেনা। কোন কথা না বলে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। নিধিও কোন কথা বলছেনা। আমরা কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করতে থাকলাম। বুঝলাম না নিধি চুপ করে আছে কেন। হয়ত কথাগুলা মনে মনে বানিয়ে নিচ্ছে। আরও কিছুক্ষণ পর নিধি নিরবতা ভেঙ্গে বললো…

> আমার বাবা ছিলেন একজন প্রফেশনাল বিজনেসম্যান। উনি কখনও আমাদেরকে সময় দিতে পারতেন না। উনি সবসময় ব্যস্ত থাকতেন উনার বিজনেস নিয়ে। উনি সবসময় আমার আম্মুকে এবং আমাকে বলতেন কোন এক টাকাওয়ালা ভালো পরিবারের ছেলে দেখে আমাকে বিয়ে দিবেন, এসব বলতে বলতে আমার মাথাটা খেয়ে ফেলেছিলেন। আমি জানতাম আমার পরিবার তোমাকে কখনো মেনে নিবেন না। তাই ঐদিন তোমার সাথে আমি ঐরকম ব্যবহার করেছি, যাতে তুমি ভালো কোন মেয়ে দেখে ভালোবাসতে পারো বিয়ে করতে পারো। আমি জানতাম না তোমার সাথে এরকম ব্যবহার করার কারনে পরবর্তীতে কতটা যন্ত্রণাকর দিন আসছে আমার জন্য। ঐদিন আমি বুঝতে পারিনি। কি করে বুঝবো? আমার মাথায় যে শুধু টাকার কথাই রাখা হয়েছে। ঐদিনের পর যখন তুমি আমার সাথে সবরকমের যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তখন বুঝতে পারলাম আসলে ভালোবাসা কি। যাকগে সেই কথা। এখানে আসার পর তোমার ব্যাপারে যা কিছু শুনলাম তার থেকে দ্বিগুণ কঠিন অবস্থা আমার হয়েছিলো। আমি আমার ভুল বুঝতে পারলাম সেই দিন থেকেই। আমার অবস্থা দেখে আব্বু আম্মুও প্রায় পাগল হয়ে গেছিলেন আমাকে নিয়ে। এখন এখানে নিয়ে আসছেন যাতে আমি সুখে থাকতে পারি এই জন্যে।

আমার চোখ দিয়ে পানি পরছে সেই কখন থেকে, এই ভেবে যে আমার ভালোবাসা এভাবে ফিরে আসবে ভাবতেই পারিনি আমি। নিধির কথার কি প্রতুত্ত্যর দিবো চিন্তা করে কোনকিছু খুজে পেলাম না। আমি ওর কথার কোন উত্তর না দিয়ে নিরব হয়ে দাড়িয়ে আছি সামনের দিকে তাকিয়ে। নিধি আস্তে আস্তে আমার কাছে আসলো। তারপর হঠাৎ আমার হাত ধরে বসে পরলো আর কাদতে কাদতে বলতে লাগলো…

> প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও? আমি যে আর পারছিনা এসব অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে। আমাকে কি আর একটিবারের জন্য ক্ষমা করা যায়না? আমি কি ক্ষমা পাবার যোগ্য না?

আমার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়তেই আছে। আমি নিধিকে আমার দুহাত দিয়ে ধরে দাড় করিয়ে জড়িয়ে নিলাম আমার বুকের সাথে। কি করবো আমিও যে আর পারছিনা একা একা কষ্টকে ভোগ করতে। নিধির কপালে চুলে ভালোবাসার অঙ্কন একে দিয়ে আরও শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম। এখন সুখের সাগরে একটা ছোট নৌকার উপরে উঠে জীবন পার করার স্বপ্ন বুনতে লাগলাম…

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত