আমি পাগল তুমি আমার পাগলী

আমি পাগল তুমি আমার পাগলী

সকাল সকাল ফোনের শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি রবি অফিস থেকে কল করছে মেজাজটা খারাপ করে দিলো ফোনটা কেটে আবার রেখে দিলাম। পাশে ফিরে দেখি শোভা নাই। এই মেয়েটা যে এত সকাল-সকাল কিভাবে যে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ জানে। আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু ঘুম আসছে না। শীতের সকাল আস্তে আস্তে চারদিকে শীত পড়তে শুরু করছে এই শীতের সকাল গুলোতে ঘুম থেকে উঠা যতনা কষ্টের তারচেয়ে বেশি কষ্ট কম্বল থেকে বের হওয়া।আমারও সেইম অবস্থা ঘুম আসছে না ঠিক, কিন্তু কম্বলের ভেতর থেকে বের হতে ইচ্ছা করছে না। তাই ঘুম না আসলেও ঘুমের ভান ধরে শুয়ে আছি।

একটু পরেই শোভার আগমন আর অমনি ডাকাডাকি শুরু এই উঠ উঠো না অনেক তো বেলা হলো।
আমি শুনেও না শুনার ভনা ধরে আছি।কারণ আমি জানি ওর ডাকে সাড়া না দিলে ও ঠিকই আমার কাছে আসবে হাত ধরে টেনে তোলার জন্য আর তখনই ওকে আর একটু কাছে টেনে নিবো। আমি সে সুযোগ টার অপেক্ষায় ছিলাম ও কয়েকবার ডাকার পরও।আমি ইচ্ছে করেই জবাব দিলাম না। আমি যখন জবাব দিচ্ছিলাম না। ঠিক তখনই ও আমার কপালে হাত দিয়ে আবার ডাকলো তার মানে সে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে। তাহলে আমি কেন এই সুযোগ হাতছাড়া করবো।ওরে একটান দিয়ে বুকে টেনে নিলাম আর তখন ও বলে উঠলো তারমানে তুমি এতক্ষণ জেগে ছিলো। আর এতক্ষন জবাব না দেওয়াটা হলো তোমার দুষ্টামি করার প্লেন।

বউ যদি দুষ্ট হয় তখন তারে কাছে পাওয়ার জন্যতো একটু দুষ্ট প্লেনতো করতেই হয়। তাই না?দারাও তোমাকে দেখাচ্ছি মজা।অমনি ওর নরম হাতের দুই-চারটা কিল-ঘুসি যুক্ত আদর পেলাম।ওর এই কিল-ঘুসি গুলো যতই না ব্যাথা লাগে তারচেয় বেশি ভালো লাগে। কিন্তু আমিতো এত সহজে ছারার পাত্র না।ওর কপালে আলতো করে একটু চুমু এঁকে দিলাম। তখন ও বললো রিধয় দেখো এখন গোসল করে আসছি এখন আবার গোসলে যাওয়া সম্ভব না। আর কোন দুষ্টামি না রাতে অনেক দুষ্টামি করছো।এখন উঠো তোমার অফিসেও দেড়ি হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা ম্যাডাম উঠছি তার আগে একটা ইয়েতো দিয়ে যাও।অমনি সে ওর নরম ঠোঁঠে স্পর্সে আমার ঠোঁঠ দুইটা বন্ধ করে দিয়ে উঠে পালালো।

আমিও উঠে ফ্রেস হয়ে বেড় হয়ে দেখি ও আমার অফিস যাওয়ার ড্রেস এখনও রেখে যাই নাই।অমনি ওরে ডাক দিলাম শোভাাাা জ্বী। পাগলী বউটা আমার কোথাই তুমি? এইতো আমি বলো কি হয়ছে? আমার অফিস যাওয়ার ড্রেস গুলো কই রাখছো। রিদয় আমি না তোমাকে নিয়ে আর পারছি না।তোমার ড্রেস খাটের উপর গুছিয়ে রাখা আছে। আচ্চা আমি না পেলে কি করবো বলো?সবসময় তো ড্রেসিং টেবিলের উপর সব রাখো।আজকে ওখানে রাখছো যে আমি জানি নাকি? ড্রেসিং টেবিলে পানি পরছে তাই খাটে রাখছি। আচ্ছা ম্যাডাম। হুম। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসো।আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি । ওকে আসতেছি।

আমি রেডি হয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলাম ও তাড়াহুড়া করে আমার জন্য নাস্তা বেড়ে দিচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম তোমার টা কই?তুমি খাবা না?  হ্যাঁ খাবো। তুমি আগে খেয়ে নাও আমি একটু পরে বাকিগুলো হলে খাবো। অহ আচ্চা বুজলাম।ওকে তাহলে বাকি গুলো হোক তারপর দুইজন একসাথে খাবো। তাতে তো তোমার অফিসে লেইট হয়ে যাবে। সে যাবে সমস্যা নাই।আমি ঠিক ম্যানেজ করে নিবো। আচ্ছা ওকে তুমি বসো আমি বাকি গুলো বানাই আসছি। হুম।

কতক্ষন পরে ও বাকি নাস্তা গুলো বানাই নিয়ে আসলো।দুইজনে একসাথে বসে নাস্তা করলাম তারপর আমি অফিস যাওয়ার জন্য বের হলাম বিয়ের পর থেকে আমি প্রতিদিন অফিস যাওয়ার আগে ম্যাডামের কপালে একটা চুমু দিয়ে যেতে হয় এটা বাসর রাতে ম্যাডামের আদেশ।বাসা থেকে বেড় হওয়ার আগে বউ এর কপালে চুমু দিলে নাকি ভালোবাসাটা বাড়ে।এমনিতেই আমাদের ভালোবাসার কোন কমতি নাই তারপরেও প্রতিদিন বাসা থেকে বেড় হওয়ার আগে ম্যাডামের কপালে ভালোবাসার সৃত্মি চিহ্ন এঁকে দিয়ে যেত হয়।

যদি কোন কারনে এটা দিতে ভুলে যাই ম্যাডামের খুব অভিমান হয়।আর এই অভিমানের ফলে টানা ২-৩ দিন আমার কাছে আসবে না।কথাও বলবে না।চুপচাপ সবকিছু গুছিয়ে দিয়ে চলে যাবে।যতক্ষন না উনার ফেবারিট চকলেট,আইসক্রিম এনে দিবো ততক্ষন উনার অভিমানের পরিমান কমবে না।যত দেড়িতে উনার অভিমান ভাঙ্গাবো অত বেশি চকলেট দেওয়া লাগবে।কয়দিন আগে এতবেশি অভিমান হয়ছিলো যে রাগ করে ওদের বাসাই চলে গেছে মোবাইল সহ সব যোগাযোগ বন্ধ রেখে।কালকে অনেক কষ্টে ওদের বাসাই চকলেট,আইসক্রিম নিয়ে গিয়ে ম্যাডামের রাগ ভাঙ্গিয়ে আনছি।তাই আজকে সেটা দিতে ভুললাম না।ওকে চুমু দিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বেড় হয়ে গেলাম। অফিসে গিয়ে বসতেই ওর ফোন হ্যালো  হুম বলো। ঠিক ভাবে গেছে। জ্বী ম্যাডাম ঠিক ভাবে আসছি। দুপুরে মনে করে খেয়ে নিয়ো।আর খাওয়ার আগে মনে করে আমাকে কল দিয়ো।তুমি না খেলে কিন্তু আমি খাবো। আচ্ছা বাবু। ওকে এখন ফোন রেখে মন দিয়ে কাজ করো।আর কোন মেয়ে কর্মচারির দিকে তাকাবা না কিন্তু। যথা আজ্ঞা মহারানী।এখন রাখছি। আচ্ছা।

ফোন রেখে কাজ করছিলাম।এক পর্যায়ে একটা ফাইলের ইনফরমেশন এর ব্যপারে ইমুতে একজনকে কল করার জন্য ডুকলাম।দেখলাম ইমুতে প্রবলেম করতেছে।তাই ইমু এ্যাকাউন্ট টা ডিলেট করে আবার আমার মেয়ের নাম দিয়ে ইমু এ্যাকাউন্ট খুললাম (যদিও আমাদের মেয়ে এখনও পৃথিবীতে আসে নাই এমনি আমি আর শোভা মিলে আগে থেকে ঠিক করে রেখেছি)। একটা ফুলের ছবি গ্যালরিতে ছিলো ওটা প্রোফাইলে দিয়ে দিলাম।তারপর ফাইলের ব্যাপারে কথা বলে মোবাইল রেখে দিলাম।

একটু পরেই দেখলাম শোভা ইমুতে ম্যাসেজ দিছে।ওর নাম্বার আমার মোবাইলে আর আমার নাম ওর মোভাইলে থাকাই ইমুতে অটো সেইভ হয়ে গেছে।তাই সে বুজতে পারে নাই যে এটা আমার আইডি।মেয়ের নাম দেখে তাই নিজ থেকে ম্যাসেজ দিছে। ও যেহেতু আমাকে ছিনে নাই আমিও অপরিচিত ভাবে কথা বলা শুরু করলাম। কে আপনি?(শোভা) মানুষ।(আমি) নাম কি? মনে পরছে না। রুধবার নাম আপনি কোথাই পাইছেন? এটা আমার মেয়ের নাম। আপনি ছেলে না মেয়ে? সেটা আপনাকে কেন বলবো?

অমনি শোভা ওর নাম্ভার থেকে আমাকে মোবাইলে কল দিলো। এই।(শোভা) হুম বলো।(আমি) রুধবার নাম দিয়ে কে যেন ইমু খুলছে আবার আমার সাথে এ্যাড দিছে। (ও ইমু সর্ম্পকে অত বেশি বুজে না তাই বুজতে পারে নাই যে অটো এ্যাড হয়ে যাই) ওর কথা শুনে আমার খুব হাসি পাচ্ছিলো।কোন মতে হাসি থামিয়ে বললাম। ও আমার নতুন GF।ও আমাকে খুব ভালোবাসে।(আমি) কি বললা তুমি?(কান্না করে) ঠিক বলছি।কয়দিন আগে তুমি যখন রাগ দেখিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছিলা তখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো তখন ও আমার পাশে দাঁড়িয়েছে আমাকে মেন্টাল সাপোর্ট দিছে।(বানাই বানাই কত গুলো মিথ্যা বলে দিলাম।) তাই বলে তুমি আরেকটা মেয়ের সাথে কথা বলবা?(কান্না করে) হুম। হুম কি? কিছু না।

ওই মেয়েকে বলো আমার মেয়ের নাম রিমুভ করতে।আমার মেয়ে শুধু আমার। আর মেয়ের বাবাও শুধুই আমার
যদি আমার মেয়ের নাম চেন্জ না করে।আমি ঐ মেয়েকে খুন করবো। এই বলে শোভা ফোন রেখে দিলো।আবার ইমুতে ম্যাসেজ দিলো রুধবা আপনার মেয়ে হলো কেমন করে?(শোভা) ওতো আমারই মেয়ে।(আমি) আপনার স্বামীর নাম কি?(শোভা) আমার স্বামীর নাম আসবে কোথ থেকে? আমার স্ত্রীর নাম বলতে পারি।(আমি) আপনি কি ছেলে?(শোভা) সেটাতো বলা যাবে না।(আমি) আপনার বউ এর নাম কি?(শোভা) সুমাইয়া ইসলাম শোভা।(আমি) তুমি পাগল না আমি পাগল?(শোভা) আমি পাগল তুমি আমার পাগলী।(আমি) এই হাদারাম।তার মানে তুমি এতক্ষন আমার সাথে মজা করছো?(শোভা) হুম।

আজকে বাসাই আসো।তারপর তোমাকে দেখাচ্ছি মজা। কি করবা বাসাই গেল? সেটাতো বলা যাবে না।আগে আসো তারপর বুজবা। না এখন বলো। এখন চুপ-চাপ কাজ করো।বাই। আরে বলে তো যাও বাসাই গেলে কি করবা? অফলাইনে চলে গেলো ম্যাসেজ সিন না করে।জানি না আজকে কপালে কি আছে।রাতে অফিস শেষ করার আগ পর্যন্ত টেনশন মুক্ত ছিলাম।অফিস শেষ করে যখন বাসাই যাওয়ার জন্য বেড় হলাম তখনই মনে পরে গেলো শোভার হুমকির কথা।অাবহাওয়ার পূর্ববাস আগে থেকে জানার জন্য ওরে কল দেওয়ার জন্য মোবাইল বেড় করে দেখি আমার মোবাইল বন্ধ হয়ে আছে মনে হয় চার্জ শেষ হয়ে গেছে তার মানে আজকে কপালে দুঃখ আছে।আস্তে আস্তে গাড়ি বাসার সামনে গিয়ে থামলো।

আমি দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে আমাদের দরজার সামনে দাঁড়ালাম।চোখ বন্ধ করে কলিংবেল টিপলাম।কলিংবেলের আওয়াজ হতে দেড়ি দরজা খুলতে দেড়ি হলো না। তার মানে ও আমার জন্য এতক্ষন অপেক্ষায় বসে ছিলো।দরজা খুলে ও এক দৌড়ে আমাকে জড়াই ধরে কান্না শুরু করে দিলো।আর সাথে একগাধা প্রশ্ন ছুঁরে দিলো তুমি এতক্ষন কই ছিলে?মোবাইল বন্ধ কেন?তোমার কিছু হয়নিতো? আমি ওরে একটান দিয়ে কোলে নিয়ে বাসাই ডুকে দরজা বন্ধ করে দিতে দিতে বললাম আমার কিছু হয়নি মোবাইলে চার্জ ছিলো না তাই বন্ধ হয়ে গেছিলো।আমি বুজতে পারি নাই।

তখন শোভা বললো রিদয় তুমি ছারা আমি মনে হয় একমূহুর্তেও বাঁচতে পারবো না।তুমি আমাকে কখনও ছেরে যেয়ো না।আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। আমি ওরে আর একটু জোরে জড়াই ধরে বললাম আমি ও খুব ভালোবাসি আমার পাগলী বউটাকে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত