মেঘ

মেঘ

সবকিছুই ছিল তাদের মাঝে, তবে ওই সম্পর্কের কোনো নাম ছিল না। এক বছর ছেলেটির ব্যবহার এতটাই মিষ্টি ছিল যে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না মেয়েটির কাছে।

মেয়েটি ছিলো অস্বাভাবিক খারাপ। তার ব্যবহারও কেমন জটিল ছিল। রাত প্রায় তিনটা চারটা পর্যন্ত জেগে ছেলেটার সাথে ফোনে বকবক করতো। নিজে তো ঘুমাতোই না, অপরদিকে ছেলেটিকেও ঘুমাতে দিত না। প্রায় সারাদিনই চ্যাট হতো। ছেলেটা যদি বলতো, ‘এখন ঘুম আসতেছে, বাই’, তাতে ও রেগে যেত। বলতো, ‘আরেকটু কথা বলো প্লিজ। একদিন না ঘুমালে কিছু হয় না।’

ছেলেটি খুব বিরক্ত হতো, কথা বলতে চাইতো না কারন তার মেয়েটিকে ভালো লাগতো না। মেয়েটির কারনে ছেলেটি অনলাইনেও আসতে চাইতো না।

আসলে সব দোষ মেয়েটির, বাড়াবাড়ির সীমা ছাড়িয়ে যেতো মেয়েটি, সবকিছুতে জোর করতো, অধিকার না থাকা সত্বেও অধিকার খাটাতো। মেয়েটির জন্যে ছেলেটির পড়ালেখা হতো না, ছেলেটি ঘুমাতেও পারতো না, মোটকথা ছেলেটির জীবন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো। ছেলেটি এসব সহ্য করতে পারেনি বলেই নিজেকে খুব কম সময়ের মধ্যে চেঞ্জ করে ফেলেছে।

তারপর এলোমেলো হয়ে গেলো সব। এইতো অল্প কদিন আগের কথা। তাদের বন্ধুত্বের এক বছর হয়, সেদিন মেয়েটি ওই ছেলেটির সাথে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নেয়, সে আর ছেলেটির বিরক্তির কারন হতে চাই না। কিন্তু তখন ছেলেটি তার সাথে কথা বলতে চাই, মেয়েটিকে বলে তাকে ছেড়ে না যেতে। মেয়েটিকে কথা দেয় তাকে ছেড়ে কখনো যাবে না। তার সাথে কখনো কথা বলা বন্ধ করবে না। এভাবে করে কথা বলা আর বন্ধ হয় না।

এক সপ্তাহ পর—
তাদের কথাবার্তা কমে যায়, ছেলেটি আর কথা বলতে চায় না।হঠাৎ সে পড়ালেখা নিয়ে বেশি সিরিয়াস হয়ে যায়, সে তার মাকে তার ফোন দিয়ে দেয়, কারন তাকে পড়ালেখা করতে হবে। সে মেয়েটিকে বলতো অনলাইনে আসলেও সে কোনো কাজ ছাড়া আসে না, সে কাজটি রাতের তিনটাই হোক না কেন! তখন মনে হয় তার কাজের চাপ বেশি ছিল, তাই তাকে সারাদিনই অনলাইন দেখাতো। মেয়েটি দেখে আর কিছু বলতো না, কারন সে তো কাজে আসতো অনলাইনে।

তাছাড়া ছেলেটি রাত তিনটে চারটে পর্যন্ত পড়তো, এমনকি পড়ালেখা নিয়ে সে এতোই সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিল যে সে ফোনের ডাটা পর্যন্ত অফ করতে ভুলে যেতো। এজন্য তাকে সারারাত অনলাইনে দেখাতো। ফেসবুকের এই এক বাজে নিয়ম। মানুষ না থাকলেও শুধুমাত্র ডাটা কানেকশন অন থাকার জন্য একজনের নামের পাশে সবুজ বাতি জ্বলে। ফেসবুক তো আর বোঝেনা যে মানুষটা তখন গভীর ভাবে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করছে।

দুদিন ছেলেটি কোনো কথায় বলে না। তৃতীয় দিন মেয়েটি নিজেই তাকে ফোন দেয়, সে এক মিনিট কথা বললো, তারপর ছেলেটি বলে, “আমি ফ্রেশ হয়ে তোমায় কল দিচ্ছি”, চারদিন চলে যায় কিন্তু কোনো কল আসে না।

চারদিন পর মেয়েটি আবার ছেলেটিকে কল দেয়, কথা বলে মেয়েটি বুঝতে পারে ছেলেটি তার কতই না কেয়ার করে। ছেলেটি খুব ভালো ছিল, সে মেয়েটির এতোই ভালো চায় যে নিজেকে মেয়েটির যোগ্য ভাবে না। সে বলে, তুমি সব ভুলে সামনে আগাও, একজন প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীর মতো বলে, “তুমি আমার চাইতে বেটার ছেলে ডিজার্ভ করো।” আর মেয়েটি আমতা আমতা করে বলার চেষ্টা করে যে, “না তুমিই ঠিক আছো।”

কিন্তু ছেলেটি রাজি হয় না। ও মেয়েটির জন্য জগতের বেস্ট ছেলেটিকেই চায়। জানি এটিকেই প্রচন্ড ভালোবাসা বলে!

ছেলেটি মেয়েটির খুব কেয়ার করতো। এরকম যতবারই কথা হতো, ছেলেটি শুধু মেয়েটিকে বুঝাতো। শুধু বলতো, “তুমি সামনে এগিয়ে যাও, তুমি ভালো কাওকে পাবে।”

কিছুদিন পর মেয়েটি জানতে পারে, ছেলেটির অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক হয়েছে, ছেলেটির ওই নতুন মেয়েটির সাথে পরিচয় হয় বেশি দিন না। তাকে নাকি মেয়েটি খুব ভালোবাসে, এমনকি ওই মেয়েটির চেয়েও বেশি ভালোবাসে। এইতো তাদের পরিচয় দুই চার দিনের, এরমধ্যেই মেয়েটি তাকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছে, মেয়েটি তার জন্যে পাগলামি শুরু করে দেয়, তার জন্যে হাত কেটে ফেলে।

তাই ছেলেটি বুদ্ধিমত্তার সাথে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, খুব ভালো একটি কাজ করে।ছেলেটি মেয়েটির জীবন বাঁচাতে তার সাথে সম্পর্ক করে নেয়। ছেলেটি খুব খুব খুব ভালো, খুব বেশি ভালো তাই এক মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে অন্য মেয়ের জীবন শেষ করে দেয়।

একজনের আইডিতে লাভ রিয়েক্ট দিতে হবে বলে, অন্য জনের আইডিটি ব্লক করে দেয়, অথচ ওই মুখ দিয়ে একসময় বলা হয়েছিল “তোমাকে আমি বেশি দেখতে পারি, কখনো তোমাকে ব্লক করতে পারবো না।”

তবে ব্যাপার না, এরকম অনেকগুলো ভালো কাজ করতে গিয়ে একটু ভুল হতেই পারে।ওই ভুলটি মাফ করে দেওয়া যায়।হাজারটা সাজানো মিথ্যেকে সত্য মনে করে সবকিছু মাফ করে দেওয়া যায়।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত