বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ভাবি,আপনার পরিচিত কেউ যদি টিভি কিনতে চায়,তাহলে আমাকে একটু জানাবেন প্লিজ।আমি আমার টিভি টা বিক্রি করব।

-(অবাক হয়ে) সেকি ভাবি!! মাত্র কয়েকদিন আগে না কিনলেন?এখনই বিক্রি করতে চাইছেন কেন?

-(হতাশ হয়ে) দুঃখের কথা আর কি বলব ভাবি,আমার শ্বশুরের কেনা টিভি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আর টিভি কিনি নি অনেক বছর ধরে।আপনার ভাই স্বল্প বেতনের চাকরি করে তাই সংসারের টাকা থেকে একটু একটু করে জমিয়ে একটি বড় টিভি কিনেছি সখ করে।এখন আমার সখ মিটে যাচ্ছেগো ভাবি।

-কেন কেন?কি এমন হল?ভাই কি কিছু বলেছে আপনাকে?

-সে আর আমাকে কি বলবে।সমস্যা হচ্ছে আমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে।বাচ্চারা কার্টুন দেখতে পছন্দ করে এটাইতো স্বাভাবিক।কিন্তু আমার ছেলে রুদ্র যতক্ষণ সময় পায় শুধু বিজ্ঞাপন দেখে।বলতে পারেন এটি ওর নেশা হয়ে গেছে।সারাক্ষণ বিজ্ঞাপন খুঁজে এই চ্যানেল থেকে ওই চ্যানেলে।আর মেয়েরও একই দশা।

-(চিন্তিত হয়ে) হুমম!! অনেক বড় সমস্যা দেখছি।আচ্ছা ঠিক আছে ভাবি।আমি এরকম কারোর সন্ধান পেলে আপনাকে জানাব কেমন।

-(আশ্বাস পেয়ে) অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাবি।এখন আসি তাহলে।রুদ্রর আসার সময় হয়ে গেছে।এখনি হয়ত স্কুলবাস চলে আসবে।

-আচ্ছা ঠিক আছে ভাবি।

কথা হচ্ছিল শিলা এবং রিয়ার সাথে।তারা পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকে।শিলা তার স্বামী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে বেশ সুখেই ছিল।মেয়ে অবন্তী নবম শ্রেণীতে পড়ে।আর ছেলে রুদ্র পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে।

শিলার মানসিক অশান্তি এবং দুশ্চিন্তা শুরু হয় টিভি কেনার পর থেকেই।তার দুই সন্তান এমনকি তার স্বামীও যতক্ষণ সময় পায় সারাক্ষণ বিজ্ঞাপন দেখে।এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত এরা।

কলিংবেল বাজছে।শিলা দরজা খুলে রুদ্রকে দেখেই হতবাক।বৃষ্টিতে ভিজে,সারা শরীরে কাদা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

-(চিৎকার করে) রুদ্র!!!! একি অবস্থা তোর?

রুদ্র কিছু না বলে জুতাসহ ঘরে দৌড় দিয়ে গিয়ে সার্ফ এক্সেলের প্যাকেট নিয়ে শিলার হাতে দিয়ে বলে,

-আম্মু,ছার্ফ এসেল আছেনা?আমার ‘ডেটল ডেটল হো’ সাবান কই?গোসল করব।জীবাণু সব চলে যাবে।

শিলার সারা শরীর রাগের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে তখন।সে রুদ্রর গালে এক চড় বসিয়ে দিল।

-(কাঁদতে কাঁদতে) তুমি পঁচা।টিভিতে ‘ডেটল ডেটল হো’ গানে ওদের আম্মুও ওদের সাথে গান গায়।কত আদর করে।আর তুমি শুধু বকা দাও।মারো।গান গাও না।

-(দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) বাবা ওইটাতো অভিনয় করে শুধু।সত্যি সত্যি করেনা তো।একটু বোঝার চেষ্টা কর বাবা।এরকম আর করেনা।

-(চিৎকার করে) তাহলে টিভিতে দেখায় কেন?অভিনয় করেনা ওরা আমি জানি।তোমার সাথে কোনো কথা নাই।আড়ি আড়ি আড়ি।

এই কথা বলে রুদ্র কাঁদতে কাঁদতে গোসল করতে যায়।

শিলার মনটাও খারাপ হয়ে যায়।

-এভাবে ওকে চড় দেয়াটা ঠিক হয়নি।বাচ্চা ছেলে।বুঝিয়ে বলতে পারতাম। ধ্যাৎ!! রাগের মাথায় কি যে করি।থাক,ওকে পরে আদর করে বুঝিয়ে বলব।জানি লাভ হবেনা হয়তো। হাহ্!!

রাত্রিবেলা….

-মা!!!! মা!!!!

-কি হয়েছে?ডাকছিস কেন?

-আব্বুকে বল আমার *** কোম্পানীর ক্রীম লাগবে।

-(অবাক হয়ে) সেকি রে অবন্তী!!!!! দুদিন আগে না এনে দিল।শেষ হয়ে গেল এত তাড়াতাড়ি?

-আরে না মা।ওইটা ছিল ফেয়ারনেস ক্রীম।আর এইটা আয়ুর্বেদিক।ওইটার চেয়ে এইটা ভাল।

-(অবজ্ঞার সুরে) আরও কত কিছু যে মাখবি!!!! এর আগেও অনেক কোম্পানীর ক্রীম,লোশন,শ্যাম্পু ইত্যাদি ইত্যাদি চেঞ্জ করেছিস।এখনতো মুখে ব্রন হচ্ছে।আর কবে যেন চুল সব পড়ে গিয়ে তোর মাথা টাক হয়ে যায়।আমি তোর বাবাকে কিচ্ছু আনতে বলতে পারবনা।শুধু শুধু টাকা নষ্ট।

এই কথাগুলো বলে শিলা রাগে গজগজ করতে করতে তার ঘরে যায়।

-(নিঃশ্বাস ছেড়ে) এই শিলা!!!! দেখতো,আমার নিঃশ্বাসে সজীবতা আছে কিনা?

-(বিরক্তির সুরে) ছিঃ!!!!!!! শুটকির গন্ধ কেন তোমার মুখে?

-(অবাক হয়ে) ওমা!!!!! কি বলছ?বিকেলে অফিস থেকে আসার পরই তো ব্রাশ করলাম।কাল নতুন একটি টুথপেষ্টের বিজ্ঞাপন দেখেই তো কিনলাম যে বার ঘন্টা নিঃশ্বাসে সজীবতা থাকবে।এই দেখ,টুথপেষ্টের প্যাকেটেও লেখা আছে।নতুন একটি বডিস্প্রে কিনেছি আর…

-(রাগান্বিত স্বরে) আমি যদি কাল টিভি না বিক্রি করতে পারি,তাহলে আমি টিভি ভেঙেই ফেলব এই বলে দিলাম।টিভিও থাকবেনা।বিজ্ঞাপনও থাকবেনা।সংসারে অশান্তিও থাকবেনা।টাকা অপচয়ও হবেনা।আমার মাথাও ঠান্ডা থাকবে।আর আমিও শান্তিতে থাকব।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত