বিরামচিহ্ন

বিরামচিহ্ন

আমার জীবনের প্রথম প্রেম ছিলো মামাতো বোনের সাথে। তখন আমি সবে মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি। চিন্তা করেছিলাম ওকেই বিয়ে করবো। তারপর জীবনের প্রথম শারিরীক সম্পর্ক ওর সাথেই হয় আমার।

শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার পর থেকেই মেয়ে টা ঘ্যানরঘ্যানর শুরু করে দেয়। বেশি কথা বলা আমি পছন্দ করি না। পরে ওকে চরিত্রহীন বলে জীবন থেকে তাড়িয়ে দেই। নবমে উঠতেই আরেকটা মেয়েকে ভালো লাগে। নাম ইভা। অনেক কষ্ট করে পটিয়েছিলাম।

ভেবেছিলাম ওকেই বিয়ে করবো। একদিন জোরপূর্বক ওর সাথে শারিরীক সম্পর্ক করি। তারপর ও অজ্ঞানে না সজ্ঞানে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো বুঝিনি। ইভা ঘুমানোর পর মনে হয়েছিলো কেউ ঘরের মধ্যে ট্রাক্টর চালাচ্ছে!

এমন ভাবেই নাক ডাকছিলো! আমি একদম নাক ডাকা শুনতে পারি না। ঘুমের সুযোগ নিয়ে ওর কিছু আড়াল অঙ্গের ছবি তুলেছিলাম। পরে বলেছিলাম সব কিছু ভুলে যেতে নাহয় ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো।

ইভা অনেক কান্নাকাটি করে। আমার অবশ্য একটু খারাপ লেগেছিলো কিন্তু ঐযে নাক ডাকা একদম শুনতে পারি না। সেজন্য ওকে ছেড়ে দিলাম।

আমি আবার একা থাকতে পারি না। কয়েকদিন খুব একা থাকি তারপর দেখি কোনো মেয়ে ছাড়া আমার চলছেই না। বাবার টাকা পয়সার অভাব নেই। বলেছিলো কোনো মেয়েকে ভালো লাগলে বলবি। বিয়ে করিয়ে দিবো।

তবুও অহেতুক মেয়েদের পিছনে সময় নষ্ট করিস না। সেজন্য একরকম নিজের পাত্রী নিজেই খুঁজতেছিলাম

আরকি। দশমে উঠে একটা কালো মেয়েকে ভালো লাগে। ও দেখতে কালো ছিলো তাতে আমার কিছু যায় আসতো না।

ভেবেছিলাম ওকেই বিয়ে করবো। টেস্ট পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগের দিন ওকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে। ঐদিন আবার ওর বাড়িতেও কেউ ছিলো না তাই দেখা করতে সরাসরি বাসায় চলে যাই।

কীভাবে কীভাবে যেন তারপর আমাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্ক হয়ে যায়। আচ্ছা সমস্যা নাই। আমি তো এমন না যে ওকে বিয়ে করবো না। কিন্তু হঠাৎ ও কান্না শুরু করে দিলো। বলেছিলাম কান্না করছো কেনো? তুমি চাইলে আমি আজকে রাতে বাড়িতে গিয়েই বাবাকে তোমার কথা বলবো। ইন্টার পাশ করার পরে আমাদের বিয়ে হবে।

মেয়েটা কান্নাসিক্ত কণ্ঠে বলেছিলো আমি জানি তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। কারণ আমি কোনোদিন মা হতে পারবো না৷ আগেই তোমাকে বলে রাখলাম।

আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিলো! বংশ রক্ষা বলে ও তো একটা কথা আছে? কালো ছিলো সমস্যা নাই কিন্তু আমি বাবা হওয়া থেকে বঞ্চিত হবো কেনো?

আমি তৎক্ষনাৎ কাপড়চোপড় পড়ে বাড়িতে চলে আসি। একটা চিঠি লিখি যে প্রিয়তমা আমাকে মাফ করো। আমার পক্ষে আর তোমার সাথে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না! কারণ টা হলো, আমি বাবা ডাক শুনতে চাই।

মেয়েটার সাথে এরপরে দেখা হলেই কান্না করতো। আমি কিছু বলতাম না। কয়েকজনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার পরে তখন আমি নারীর শরীরের নেশায় পড়ে যাই। তাই আমি হবু স্ত্রীকে খুঁজতে থাকি অবিরত।

এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় একটা মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হয়। ফোনে মেয়েটার সাথে এক টানা এক মাস কথা বলে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। মেয়ে টা না করে দিয়েছিলো। আমি তারপর হতাশ হয়ে ফোন বন্ধ করে দিয়ে সিগারেটে মন বসালাম।

এক সপ্তাহ পরে কী কারণে যেন মোবাইল খুলেছিলাম। মোবাইল খুলতেই মেয়েটার ফোন। ধরতেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। ভেবেছিলাম ওকেই বিয়ে করবো। সম্পর্কের পনেরো দিনের মাথায় ওর সাথে আমার শারিরীক সম্পর্ক হয়। এরপর আরো কয়েকবার হয়েছে। কখনো আমার ইচ্ছায় কখনো ওর ইচ্ছা বা কখনো দুজনের ইচ্ছায়।

সমস্যা হলো মেয়ে টা প্রচন্ড রকমের আধুনিকা ছিলো। আমি চাইতাম ব্যাকডেটেড একটা মেয়ে। ছোট ছোট কাপড় পড়ে আমার সাথে দেখা করতে আসতো আর মানুষেরা চোখ বড় বড় করে গিলে খেতো তা আমার পছন্দ ছিলো না। তাই ওকে অনেক বাজে বাজে গালি দিয়ে সম্পর্ক নষ্ট করি।

কান্না করেছিলো অনেক, আমি দাম দেইনি। কোনো আধুনিকা আমি চাই না। কলেজে উঠার পরে দেখতাম একটা মেয়ের মাথা থেকে এক মুহূর্তের জন্য ও ওড়না পড়তো না। আমি কয়েকদিন দেখেই প্রস্থাব দিয়েছিলাম।

মেয়ে টা ছিলো ভীষণ লাজুক। তবে একটা সময় পর রাজি হয়েছিলো৷ বাবাকে বলে ও ফেলেছিলাম একটা মেয়েকে আমার ভালো লাগে। জানুয়ারি মাসে ওর জন্মদিন। ঐদিন রাতে ওর সাথে প্রথম শারীরিক সম্পর্কের সময় আবিস্কার করলাম যে সে আমার বুকের সমান ও না। এতোটাই খাটো!

খাটো মেয়েকে বিয়ে করলে বাচ্চাকাচ্চা ও খাটো হতে পারে তাই ওকে অনেক মারধর করেছিলাম যেন আমাকে ছেড়ে দেয়। ও ছাড়ে না, অনেক অপমান করেছিলাম তা ও না৷ শেষমেশ ওকে দেখিয়ে প্রিন্সিপালের মেয়ের সাথে সম্পর্ক করি। তারপর ওর সাথে আমার সবকিছু শেষ হয়। সবচেয়ে বেশি কান্না করেছিলো এই খাটো মেয়েটা ই।
যা গেছে তা তো গেছেই। প্রিন্সিপালের মেয়ে টা লম্বা ছিলো। তবে সম্পর্কের ব্যাপারে অনেক বেশি প্রখর ছিলো। একদিন ঘুম ভাঙাতে না পারলেই রাগ করতো। এমন রাগ করতো যে এক সপ্তাহে ও সেই রাগ ভাঙানো যেতো না।
ভেবেছিলাম ওকে বিয়ে করবো কিন্তু শারিরীক সম্পর্ক হওয়ার পরে যেই পরিমাণে টাকা নষ্ট আর রাগ করতো। আমার বিরক্তি ধরে গিয়েছিলো ওর প্রতি। ওকে আমি সত্য কথা বলেই সম্পর্কের ইতি চেয়েছিলাম। ও বলেছিলো মরে যাবে।

আমি শুনিনি, পরের দিন ও বিষ খেয়েছিলো ঠিক কিন্তু মরেনি। প্রিন্সিপাল সব জেনে যায় আর আমাকে কলেজ থেকে বের করে দেয়।

তারপর লেখাপড়া থেকেই মন বের হয়ে যায়। বাবা ফেনী মামার কাছে পাঠিয়ে দেয়। মামার অনেক বড় একটা দোকান ছিলো। আমি মামার পাশাপাশি থেকে কাজ টা মন দিয়ে করার চেষ্টা করছিলাম। এরই মাঝে একটা মেয়ের সাথে আমার রং নাম্বারে প্রেম হয়।

মেয়েটার কণ্ঠ এতো সুমধুর ছিলো যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। দুই মাস পরে মেয়েটার সাথে দেখা করি। ভালোই লাগে মেয়েটাকে। জুন মাসের শেষ দিকে ওর সাথে আমার শারিরীক সম্পর্ক হয়। ওকে এমনভাবে বুঝিয়েছিলাম যেন বিয়ের আগে শারিরীক সম্পর্ক টা জায়েয!

সব কিছু ঠিকঠাক ছিলো কিন্তু হঠাৎ করে মেয়ে টা ধুমধাম করে মোটা হয়ে যায়! এমন মোটা হয়ে যায় যে দরজা দিয়ে ঢুকতে হলে ওকে এক পা ভিতর বাহির করে ঢুকতে হতো, চ্যাপ্টারকম হয়ে।

ওরকম মোটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা একেবারেই অসম্ভব। ওকে সত্যি টা খুলে বলার পরে বলেছিলো বিশ্বাস করো আমি একদম কম খাই তবুও কেনো জানি মোটা হয়ে যাচ্ছি! আমি তোমার জন্য দরকার পড়লে সপ্তাহে একদিন খেয়ে চিকনা হবো তবুও ছেড়ে যেয়ো না।

আমি শুনিনি। হাতে পায়ে ধরেছিলো, কিছু শান্তনা বাক্য খরচ করে চলে এসেছিলাম।

তারপর প্রায় তিন মাস আমি একা থাকি। একদিন ভোরে আমি মামার দোকান খুলি। একটা মেয়ে আসে ছবি তুলতে। মেয়েটাকে দেখে মনে হয়েছিলো ওকেই আমার চাই। ও ই আমার স্ত্রী হবে।

ওর নাম্বার টা যোগাড় করতে অনেক কষ্ট হয় আমার। কিন্তু পটিয়ে ফেলেছিলাম। বাবাকে ওর কথা জানাই। বাবা ওর মা বাবার সাথে কথা বলে রাখে। ওর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শেষ হলেই বিয়ে হবে আমাদের।

শেষ পরীক্ষার দিন আমি ওর বাড়িতে যাই। অনেক রাত হয়ে গিয়েছিলো তাই ওর সাথেই থেকে যাই। সেদিনই ওর সাথে প্রথম শারীরিক কোস্তাকুস্তির পরে খেয়াল করলাম ওর বুকের এক পাশে পলাশ লেখা!

পলাশ কে জিজ্ঞেস করতেই বলেছিলো ওর আরেকটা প্রেমিকের নাম! আমি ওকে কিছুই করিনি। একটা গালি ও দেইনি। অনেক খারাপ লাগে আমার। প্রথম কোনো মেয়েকে মন থেকে ভালো ভেসেছিলাম বোধহয় আর সে আমাকে ধোকা দিলো!

— কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়ে দীর্ঘশ্বাসে ছেলে টা কথা শেষ করলো।

আমি বাকরুদ্ধ হয়ে বললাম— ভাই, এখন কী করবেন?

ছেলে টা অধিকারী গলায় বললো— ভাই আমি বড় কষ্টে আছি। একটা মেয়ে খুঁজে দেন না। ভাই সত্যি বলছি আমি বিয়ে করবো। বেশি কিছু না শুধু মেয়েটার যেন বাচ্চা জন্ম দেয়ার সামার্থ থাকে। একটু স্লীম আর গলার কণ্ঠ টা যেন মিষ্টি হয়।

ব্যাকডেটেড থাকবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ও ধার্মিক। সুন্দরী আর লম্বা থাকবে। রান্নাবান্না সহ ঘরের সব কাজ করতে জানবে। নাক ডাকার বাজে অভ্যাস থাকবে না। অতিরিক্ত পরিমাণে রাগ করবে না, লাজুক টাইপের।
আর সবশেষে যেন পর্দানশীন হয় আর কারো সাথে সম্পর্ক ছিলো না আগে এমন একটা মেয়ে হলেই চলবে।
আমি মুচকি হেসে বললাম— ঠিক এমনই একটা মেয়ে আছে ভাই আমার জানামতে।

ছেলে টা খুশিতে আমার সাথে আরো একবার হাত মিলিয়ে বললো— কই?

আমি কফির টাকা মিঠিয়ে দিয়ে বললাম— আসেন আগে আপনাকে জাদুঘরে রেখে আসি!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত