ট্যালেন্টেড

ট্যালেন্টেড

-দোস্ত এবারেও তুই উইনার হবি শুধু ভালোকরে পার্টিসিপেন্ট কর।
-হুম দোস্ত তোর যা কন্ঠ না!অসাধারন তুই পারবি বেস্ট পার্টিসিপার হতে।
-তোরা বকবক থামাবি?তোরা ভুলে যাচ্ছিস এতো বেশি ওভার কনফিডেন্স ভালো না!
-তুইও ভুলে যাচ্ছিস রিক্তা,তুই কলেজের
সাবেক চ্যাম্পিয়ন!গতবারের মতো এবারেও তুই তোর কন্ঠে বাজিমাত করবি!
-আচ্ছা আচ্ছা সেটা দেখা যাবে!
-কিরে আজতো সঙ্গীতানুষ্ঠান তোর প্রস্তুতি কেমন?
-ভালো
-কেমন ভালো গতবারের চেয়েও ভালো?
-আশা করি তাই।
-তুই আশা নিয়েই বসে থাক আর ওদিকে স্বপ্নিল নিজের লেখা গানে পার্টিসিপেন্টের জন্য প্রস্তুত!
-কে স্বপ্নিল?
-কলেজের একটি ট্যালেন্টেড বয়,সব মেয়েদের ক্রাশ,যেমন খেলাধুলায়,তেমন গানে তাও নিজের লেখা!সেবার কলেজ ম্যাগাজিনে কবিতা লিখে যে সব শিক্ষকের মন জয় করে নিয়েছিলো সেই স্বপ্নিল!গল্প লিখাতেও এক্সপার্ট!
-ধুর এসব নিয়ে আমি ভাবি না!
-এখন মনে হচ্ছে ওভার কনফিডেন্সটা তোরই বেশি!আচ্ছা চল পার্টিসিপেন্ট শুরু হয়ে যাবে।
-হুম চল

-অনেক তো পার্টিসিপার গেলো এবার গান নিয়ে আসছে কলেজের সাবেক চ্যাম্পিয়ন রিক্তা!তার জন্য আগেই হয়ে যাক একটা জোড়ে হাততালি!সুমন স্যারের এংকারিং এনাউন্সমেন্টে রিক্তা উঠে চলে গেলো স্টিজে।
-গানের সুর ধরলো,,,ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া……..
-গান শেষে হাততালিতে জয় জয় ধ্বনিতে মুখরিত পুরো স্টিজ সবাই ধরেই নিয়েছে এবারের চ্যাম্পিয়ন রিক্তাই!
-এরই মধ্যে সুমন স্যারের এংকারিং এনাউন্স,সাইলেন্ট প্লিজ এবার আসছে সর্বশেষ পার্টিসিপার,গতবারে যে বাবার অসুস্থতার কারনে পার্টিসিপেন্ট করতে পারে নি,এবারে নিজের লেখা গান নিয়ে স্টিজে আসছে আমাদের সবার প্রিয় স্বপ্নিল!
-পুরো স্টিজ ও গ্যালারি জুড়ে একটাই
আমেজ স্বপ্নিল,স্বপ্নিল!
-রিক্তার খুব জ্বলছে! আর কেনই বা জ্বলবে না সাবেক চ্যাম্পিয়ন এর পার্টিসিপেন্ট এর সময়ও কেউ এতো উল্ল্যাসিত হয় নি!
-রিক্তার ভাবনার মাঝেই ছেদ ধরিয়ে
স্বপ্নিল গান ধরলো!
ভাব লাগাইয়া চইলা গেলি……..দেখ াইয়া মোরে স্বপন,ওরে বুঝলি না তুই ভালোবাসা হইলি নায় আপন।
কি অপরাধ ছিলো বল তোকে ভালোবেসে,শেষ টুকু উড়িয়ে দিলি হেসে নিমিষে!
চিনলি না তুই হিরের টুকরো চিনলি নায় রতন,
বুঝলি না তুই ভালোবাসা বুঝলি নায় যতন……………..
-গানশেষে সবার হাততালি আর স্বপ্নিল স্বপ্নিল বলে সবার জয় ধ্বনি!

-সুমন স্যারের এংকারিং,এবারের অডিশনেও বিজয়ীর নাম ঘোষণা করতে আসছেন শহীদুল্লাহ প্রিন্সিবল!প্লিজ স্যার আপনি স্টিজে চলে আসেন।
-প্রিন্সিবল স্যারের এনাউন্সমেন্টের অপেক্ষায় সবার হার্ডবিট বেড়ে গেলো!
কে হচ্ছে আজকের চ্যাম্পিয়ন!
-আজকে জাজদের বিচার অনুযায়ী আজকের চ্যাম্পিয়ন…… আজকের চ্যাম্পিয়ন….বলবো?
-পুরো গ্যালারী থেকে আওয়াজ এলো বলেন স্যার…
-আজকের চ্যাম্পিয়ন স্বপ্নিল!তার কন্ঠ ও গান লিখার প্রতিভাটাও মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের!
-চারদিকেই স্বপ্নিল স্বপ্নিল আওয়াজে বিজয় উল্ল্যাস চলছে!

-এই যে মিস্টার স্বপ্নিল খুব ট্যালেন্ট আপনার না?
-না আপনি যেমন ভাবছেন তেমন নয় মিস রিক্তা!
-কংগ্রেস!আপনি সত্যিইইই অসাধারন প্রতিভাধর!গতবারে চ্যাম্পিয়ন হয়েও আমি এতো বিজয় ধ্বনি শুনতে পাই নি যতটা আপনি আজ দর্শকমহল থেকে পেয়েছেন। বাই দ্যা ওয়ে আমরা কি ফ্রেন্ডস হতে পারি?
-হুম অবশ্যই কেনো নয়?ফ্রেন্ডস!

-হঠাৎ একটা ফোনে ঘুম ভেঙ্গে যায় স্বপ্নিলের!ফোন ধরেই,হ্যালো কে?
-আমি রিক্তা!
-ওহ এতো সকাল ফোন দিলি কেনো?
-এখন থেকে কলেজে একটু তারাতারিই আসতে হবে!
-কেনো ক্লাস রুটিন চেঞ্জ হয়েছে নাকি?
-না কোন পরিবর্তণ নাই।
-তাহলে!এতো তাড়া কিসের?
-কারন এখন থেকে তুই কলেজে এসে রোজ
একটা করে কবিতা শুনাবি আমাকে!
-ইস শখ কতো!পারবো না!
-তুই না আমার বন্ধু?
-হুম তাতে কি?
-রাখবি না আবদার?
-আচ্ছা সে না হয় দেখা যাবে!

-কিরে এতোক্ষনে তোর আসার সময় হলো?
-দেখতেই তো পাচ্ছিস!
-আচ্ছা আজকে প্লিজ গান শুনা?
-কবিতার কথা ছিলো!
-না,আজকে তোর লেখা রোমান্টিক গান
শুনবো,প্লিজ বন্ধুত্বের আবদার রিজেক্ট করিস না!
-হুম স্বপ্নিল আজকে একটা গান শুনা আমাদের!
-তোরাও না পারিস বটে! তাহলে শুন!
…এক যে ছিলো হিমু আর এক যে ছিলো রূপা,
রূপা ছিলো চঞ্চলবতী হিমু ছিলো একা! হে এক যে ছিলো হিমু আর এক যে ছিল রূপা,রূপা ছিলো চঞ্চলবতী হিমু ছিলো একা!
হুমায়ুনের গল্পে দেখো তাহাদেরই প্রেম কাহিনী,
সন্ধ্যাবেলায় দেখা হলে রঙ্গীন হতো যে শুভ রজনী….হেই এক যে ছিলো হিমু আর এক যে ছিলো রূপা,রূপা ছিলো চঞ্চলবতী হিমু ছিলো একা!
ভালোবাসি বলার সাথে বাতাসে ভাসতো মধুর ধ্বনি,রূপা যে হিমুর প্রাণ ছিলো হিমু যে রূপার চোখের মনি।
রোমান্টিক রাজ্যের রাজা হিমু রূপা যে ছিলো তাহার রানী,হুমায়ুনের গল্পে দেখো তাহাদেরই প্রেম কাহিনী!
হেই এক যে ছিলো হিমু আর এক যে ছিলো রূপা……………….

-বাহ স্বপ্নিল দারুন!কত্ত ট্যালেন্টেড!
-হইছে আর ঢপ মারতে হবে না!
-আচ্ছা স্বপ্নিল মনেকর তোকে আমরা হিমু ধরে নিলাম তাহলে তুই রূপা করবি কাকে?
-ধুর বাদ দে তো আজাইরা কথা আমি হিমু হতে পারবো না আর রূপাও আর আসবে না!
-প্লিজ,তোকে ধরে নিতে বলেছি।
-কেনো ধরে নিবো কেনো?হুমায়ুন স্যার কি আবার পৃথিবীতে এসেছে নাকি যে আমাকে আবার তার গল্পের হিমু বানাবে!
-আহা তুই কথা ঘুরাইয়া প্যাঁচাইয়া না বলে সরাসরি বল!
-সেটা সময়ই বলে দিবে কাকে রূপা করে নিবো!
-ওহ দেখাযাক কে হয় ট্যালেন্টেড হিমুর রোমান্টিক রূপা!
-তোরাও না বেশ ঢপ মারতে পারিস!ক্লাস শুরু হয়ে যাবে চল।
-হুম চল!

-ক্লাস শেষে রিক্তার ডাক এই স্বপ্নিল এদিকে আয়।
-কি হয়েছে?
-চল?
-কোথায়?
-কেনো বাসায় ছাড়া অন্য কোথাও যাবি
নাকি এখন?
-না,আমি বাসায়ই যাবো।
-তাহলে আয় আমার সাথে,তুই তো আমার
আগেই নেমে যাবি।
-তাই বলে এক রিক্সায়!

-তাতে কি?বন্ধু মানিস তো?
-হুম।
-তাহলে উঠে পড়।
-আচ্ছা।
-তুই আমার চুল টান দিলি কেনো?
-তুই দেখেছিস ওই মেয়েটা তোর দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ছিলো?
-তাতে কি?
-ইস!নজর লাগে যদি!
-নজর লাগলে বুঝি চুল টান দিতে হয়!
-আমাদের গ্রামে দেয় তো!
-ধুর এমন গ্রাম আবার হয় নাকি!
-হয়তো,আমাদের গ্রাম!
-হতে পারে!কিন্তু রিক্তা তুই কিন্তু কালকে আমাকে গান শুনাবি!
-নাহ,আমি কবিতা শুনাবো!
-আচ্ছা সে যাই হোক একটা শুনালেই হয় তবে যেটাই শুনাবি একটু রোমান্টিকতায় বলবি,প্লিজ!
-আচ্ছা কাল আসুক তারপর দেখা যাবে!
-আচ্ছা।আমার বাসা এসে গেছে,এই কাছেই,আমি যাই!
-আচ্ছা রাতে ফোন দিবো।
-আচ্ছা দোস্ত
-বাই।

-রাতে রিক্তার ফোন!কিরে কি করছিস?
-গল্প লিখছি।তুই কি করছিস?
-কবিতা লিখছি!
-কার জন্য?
-তোর জন্য,তুই শুনতে চেয়েছিস বলে।
-ও তাই!
-হুম।তুই কখনো হারিয়ে যাবি না তো দোস্ত?
-না হারাবো না!সারাজীবন থাকবে এই বন্ধুত্বের বন্ধন!
-সত্যি?
-হুম সত্যি!

-কিরে আজও কি এখনো ঘুমাচ্ছিস?
-না উঠে গেছি,ফ্রেশ হতে যাবো।
-হুম তারাতারি আসিস!
-আচ্ছা।

-কিরে আসলি?
-দেখতেই তো পাচ্ছিস।
-হুম।আজ গান বা কবিতা কোনটা শুনাইবি না?
-আজ তুই শুনাবি।কাল কি কথা হয়েছিলো?
রোমান্টিক কবিতা হতে হবে কিন্তু!
-কি আর করা!তবে শুন….
যদি বলি ভালোবাসি তুই কি বাসবি?
যদি কাছে আসতে চাই তুইও কি আসবি?
যদি কভু হারিয়ে যাই আমায় কি খুজবি?
যদি অপলক তাকিয়ে থাকি তুইও কি তাকাবি?
যদি কভু হয়ে যাই ওই দূর আকাশের তারা!
সেদিন কি হবি তুই আমার জন্য দিশেহারা?
যদি বার বার তোর কাছে ফিরে ফিরে আসি,
তুইও কি বার বার বলবি খুব ভালোবাসি!

-ওয়াও!অসাধারন!ভেরী রোমান্টিক!
-এবার তুই একটা বলনা প্লিজ।
-যদি ভোরের শিশিরের শিহরিত হয় তোর ওই চরণ, তাহলে শিশিরকে বলে দিস আমারও চাই তোর সাথে হাটার শিহরন….
-একটু অপেক্ষা,আমি আসতেছি!
-কোথায় যাচ্ছিস?
-এই তো ওই মেয়েটার সাথে কথা বলে আসি।
-কি কথা?
-আসতেছি,তোরা এখানে অপেক্ষা কর।

-কিরে তুই এরকম ভাবে স্বপ্নিলের দিকে তাকিয়ে ছিলি কেনোরে?
-আসলে আপু আমি স্বপ্নিল ভাইয়ার ঠোট নাড়ানো দেখে বুঝতে পারলাম উনি নিশ্চই কবিতা বলতেছিলো কিন্তু কি কবিতা বলতেছিলো তাই বুঝতে চাচ্ছিলাম আর কি!
-তুই বুঝতে যাবি কেনোরে?আর কখনো ওর দিকে তাকয়ে থাকবি না।
-কিন্তু রিক্তা আপু……
-আবার কিন্তু কি?
-আমার অনুমান যদি সঠিক হয় তাহলে আপনি…
-চুপ তোর অনুমান তোর কাছেই রাখ আর কখনো যদি কারো কাছে প্রকাশ করিস না তাহলে……
-আচ্ছা ঠিকাছে।বলবো না কাউকে।

-কিরে কি কথা বলছিলি?
-সে যাই বলছিলাম,বলছিলাম তা নিয়ে তোদের ভাবতে হবে না।
-হুম চল ক্লাস করে বাড়ি যাই।
-হুম চল।
-ক্লাস শেষে আজও রিক্তা আর স্বপ্নিল একসাথেই যাচ্ছে।
-এই রিক্সা থামান।
-কিরে তোর আবার কি হলো?
-তুই শুনলি না ওই বখাটে ছেলেগুলা তোকে টিজ করছে।
-স্বপ্নিল!থাকনা,ওরা বখাটে কি থেকে কি করে ফেলে তার কোনো ঠিক নেই।
প্লিজ তুই যাস না!আর এছাড়া মেয়ে হয়ে জন্মালে প্রায়শই এসব বখাটে ছেলের টিজিং কোনো প্রতিবাদহীনাই সহ্য করতে হয়।
-তোকে টিজ করবে আর আমি চুপ করে থাকবো?তুই চুপ কর আমি আসতেছি!

-স্বপ্নিল কাছে যাওয়া মাত্রই বখাটে ছেলেগুলা পকেট নাইফ বের করে স্বপ্নিল কে কয়েকটা ঘা মেরে দৌড়ে পালিয়ে গেলো!এখন স্বপ্নিল হাসপাতালে পাশে রিক্তাও আছে।রক্তা খুব কাঁদছে।
-তুই ওদের কাছে যেতে গেলি কেনো?

তোকে আগেই বলেছিলাম।ইস জানোয়ার গুলা তোকে কিভাবে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে।তুই জানিস তোর খারাপ কিছু হয়ে গেলে আমার কি হতো?ওই চাকুর আঘাত গুলা তোর দেহে দেয়নিরে স্বপ্নিল।ওরা প্রত্যেকটা আঘাত করেছে আমার অন্তরে,আমার কলিজায়,আমার মনে,আমার বন্ধুত্বে।তুই ছাড়া আমি ভালো থাকতাম কি করে বলনা?
-রিক্তা!
-হুম
-কাঁদছিস কেনো পাগলি?ভালোবাসিস?
-হুম
-ছেড়ে যাবি নাতো?
-সেই ইচ্ছে থাকলে কাছেই আসতাম না।
-হুম খুব ভালোবাসি আমিও,কখনো বলতে পারি নি বন্ধুত্ব হারানোর ভয়ে।
-একজন লাইফ পার্টনার ভালো বন্ধু আরএকজন ভালো বন্ধু লাইফ পার্টনার হলে
ক্ষতি কি!
-হুম,তোর জীবন সঙ্গী করে নিবি?
-হুম,,,তবে শর্ত আছে?
-কি?
-আমাকে রোজ রোমান্টিক কবিতা শুনাতে
হবে।
-হুম তোকেও খুব ভালোবাসতে হবে
আমায়।
-হুম বাসবো,খুব বাসবো।
-আমিও ভালোবাসি।
-কিরে তুই চুল টানদিলি কেনো?
সেদিনের প্রতিশোধ নিলি নাতো?
-ধুর ভালোবাসার প্রতিশোধ হয় নাকি!
যাতে তোর উপর ওই আবার বখাটে ছেলেগুলার নজর না লাগে!

-অতঃপর রিক্তা স্বপ্নিলের বুকে মাথা রাখলো।আবারো স্বপ্নিলের কন্ঠে ভাসছে হিমু-রূপার গান।আজো হিমুরা বিচরণ করে রূপাদের মনে।হুমায়ুনের গল্পে নয় বাস্তবতায় আছে হাজারো হিমু-রূপা।
হয়তো কোনো হিমু রূপাকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পায় আবার কেউ পেয়েও হারায় আবার কিছু হিমু তাদের ভালোবাসার কথাই বলতে পারেনা তাদের জীবনের রূপাদের।থেকে যায় সেই সকল হিমু-রূপার ভালোবাসা বন্ধুত্বের দোটানায় পর্দার অন্তঃরালে!ভালোথাকুক হাজারো হিমু-রূপারা,ভালোথাকুক স্বপ্নিল-রিক্তা!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত