স্বার্থপর

স্বার্থপর

আজ আমার ব্রেকআপ হয়ে গেল।তাই মনে খুব কষ্ট হচ্ছে। ভুলটা আমারই ছিল। আমি মেয়েটাকে গালি দিছি
কারণ
মেয়েটা আমারে বলছে আমি নাকি তারে ছাড়াও তিনটা রিলেশন করি আর
অন্য মেয়ের দিকে নজর দেই। এটা কোন
কথা আমি রিলেশন করি ওর সাথে আর সে কি বলে এসব।
তবুও
চিন্তা আসল এগুলো আমার কয়েকজন
বন্ধু
ছাড়া আর কেউ জানে না তাই আমি তেমন চিন্তা করলাম না।
মূলত
এই জন্যই গালি দিয়ে দিছিলাম।রাগটা ওঠল বন্ধুদের ওপর কিন্তু, জানি গালি দেওয়া ঠিক হয়নি কারণ মেয়েটার কোন দোষই ছিল না।
.
বন্ধু গুলো রিলেশন ব্রেকআপ এর জন্য এগুলো বলতেই পারে। সত্যি বলতে আমি ৩ টা রিলেশন করি আর অন্য মেয়েদের দিকে না তাকালে আমার ঘুমই আসে না। এসব কথা আমার বন্ধুরা ছাড়া কেউই জানত না। আমার এক বন্ধু ওর সাথে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য আমাকে নিয়ে তার কাছে যায়।
যার কথা বলছি সেই মেয়েটির নাম ছিল রাএি। আর আমার যে বন্ধু নিয়ে গিয়েছিল তার নাম ছিল বাধন।
আমরা দেখাদেখি করলাম সে অনেক কথাই বলল আমাকে। আমিও বললাম। তারপর সে বলল তার বাড়িতে যেতে। আমিও গেলাম। (একটা কথা বলি যে মেয়ে একটা ছেলেকে বাড়িতে নিতে পারে রাত করে সে কতটুকু আর ভাল হবে)
বাড়িতে গিয়ে দেখি ওর বোন আছে আর তার একটা আন্টিও ছিল তখন। তারপর আন্টিও আমার সাথে অনেক কথা বলল।
আমার বন্ধু রাএির ছোট বোনের সাথে লাইন মারত। তারা বোন দুটো জমজ ছিল।
আমার বন্ধুর সাথে রাইসা(রাএির ছোট বোন) অনেক বেশি মেলামেশা করত সেটা শারিরিক ভাবে কিন্তু বেশি কিছু না কিস করা এসব।
আমিও চাইতাম এমন করতে কিন্তু রাএি কখনো এসব করতে দিত না। ওইদিন আমি ওর কাছে যাই মানে ওর অনেক কাছে সে আমাকে ঠেলা দিয়ে বলল
.
রাএি : শোন এগুলো আমার একদম পছন্দ না।
আমি: কেন?
রাএি: এমনি। আচ্ছা শোন তোমার মোবাইলটা দাও তো।
আমি: কেন?( আমার মোবাইলটা এত দামি ছিল না যার কারণে লজ্জা পাই)
রাএি : দিতে বলছি দাও।
.
আমি দিলাম দেওয়ার সাথে সাথে আমার গ্যালারি তে গিয়ে কিছু মেয়ের ছবি ছিল সেগুলো দেখলো আর তারপর আমাকে বলল তোমার সাথে আমি রিলেশন করতে পারব না। আমি রাএিকে অনেক ভাবে বুঝালাম যে ছবি গুলো নেট থেকে নামিয়ে রাখছি। তবুও সে কিছুতেই মানল না। আমি জিদ দেখিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম। পরে কল দিলাম আর আমাকে বলল তুমি যে এলাকায় কয়েকটা রিলেশন কর আর মেয়েদের কে নিয়ে খারাপ উক্তি কর এগুলো আমি জানি। আর তোমার ভাব বেশি। তোমার অনেক ইগো তোমার সাথে আমার রিলেশন সম্ভব না। আমিও তখন আর কিছু বলিনি কারণ একটা মেয়েরে এত ভালোবাসা দিতে পারতাম না এর থেকে অন্য মেয়ে ভাল হবে।
আমার একটা রুলস ছিল একটা গেলে আরেকটা আসবে। তাই এই মেয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে দিলাম।
.
বারতি বয়সি ছেলেরা এমন করেই। আবার নিজেই একটা সময় ঠিক হয়ে যায়।বাস্তবতা যখন সামনে দাড়ায় তখন ভালবাসা আর প্রেম প্রেম খেলা মনের জানলা দিয়ে দৌড় দেয়।
টাকা পয়সা লাগে প্রেম করতে এটা আমি এই মেয়ের থেকে জানতে পারছি। লোভী মেয়েদের আমি দেখতে পারি না। আবার আমাকে কল দিতে হবে সে কল দিবে না। মিস কলই তার অনেক কিছু। আমি কি চাকরি করি নাকি যে কল দিয়ে কথা বলতাম। এসব রিলেশন আমার ভাল লাগে না।
.
কিছুদিন পরে কলেজ থেকে আসতে ছিলাম বিজয় এর সাথে। বিজয়ও আমার খুব ভাল বন্ধু।
সেও রাএির কথা জানত। আমি তাকে পরিচয় করিয়ে দেই আর ফেসবুক আইডি সহ ফোন নাম্বারও দিয়েছিলাম রাএির।
যখন রাএির লগে রিলেশনে ছিলাম তখন সে দেখা করতে চেয়েছিল।দেখা করিয়ে দেওয়ার পর রাএি লগে কথা বলার জন্য আইডি চেয়েছিল। সেজন্য দিয়েছিলাম।
আমার এই বন্ধু আবার একটা মেয়েরে রিয়েল লাভ করত সেটা একতরফাই ছিল। মেয়েটার নাম ছিল দিপা।
আমি তারে জিজ্ঞেস করলাম
.
আমি: বন্ধু রাএির লগে কি হল তোর প্রেমটেম করবা নাকি।
বিজয় : হুম করব তোর মত ফেক করব ভাবছি। টাইমপাস করি না কতদিন কি বলস
আমি: কর তাহলে।
.
আরো অন্য কথা হল বন্ধুর লগে। কিছুদিন পরে,সেটা কিছুদিন ছিল না প্রায় ১ মাস ২ মাস তো হবেই। শুনি রাএি লগে বিজয় রিয়েল লাভ মানে রিয়েল ভালবাসা করে। ওরে ছাড়া বাচঁব না। আমি হাসতাম বিজয়রে লইয়া। তো তারে লইয়া বিভিন্ন কথা কইতাম।
আমাদের আরেক বন্ধু একদিন বিজয়রে কইলো বন্ধু রাএিরে বিয়া করলে বা রাইসারে বিয়া করলে বাড়িতে দেখবি দাওয়াত ছাড়া পুরুষ মানুষ আসব। তখন হেতে বলে রাএি এমন মেয়ে না।
আমরা তারে লইয়া সেই রকমের হাসাহাসি করতাম।
এভাবে দিন তার আপন গতিতে চলতে থাকত। আমরাও নিজের গতিতে বেড়ে উঠতে লাগতাম। নিজেদের এই বেড়ে ওটার সাথে আমি খেয়ালও করতাম বিজয় আর আমাকে এত গুরুর্ত দেয় না আমিও তাই দিতাম না। শুধু একটা কথাই মাথায় আসত যে এমন মেয়েরে ভালোবেসে বন্ধুকে পর করতে পারে তাহলে সে কখনোই বন্ধু ছিল না। আসলে আমি বুঝতাম সে আমাকে দেখতে না পারার কারণটা কি,
সে আমাকে দেখতে পারত না কারণটা ছোট নয় আবার তেমন বড় নয়। রাএি ছিল আবার এক্স কিন্তু আমি ওই সব নিয়া মাথা ঘামাতাম না কারণ তাদের মত তারা চলক। এর মাঝে ছোট কারণ নিয়া ঝগড়া হয় বিজয় এর সাথে।
৬ মাস পর আবার আমি নিজে থেকেই তাদের সাথে কথা বলি। তাদের বলতে বিজয় একা ছিল না আমার আরেক ক্লোজ বন্ধু বাধনও ছিল। এরই মাঝে শুনি তাদের রিলেশন ভালোই চলতে থাকে।
যখন বিজয় আর বাধন এর লগে কথা বলতাম না তখন একদিন আমাকে বিজয় মারব বলছিল তখন আমি কিছুই বলি নি কারণ সে আমারে বন্ধু ভাবে না আমি ত ভাবি।
আজ একটা বছর পার হয়ে গেল সাথে আমাদের ভার্সিটি লাইফও। আমি এখন আর তেমন কথা বলি না বিজয় বা বাধন এর লগে। একদিন দেখতাম বিজয় আমারে ফেসবুক থেকেও আনফ্রেন্ড করে দিছে।
তখন ভাবতাম যে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল তাদেরকে বন্ধু করে।এখন তাদের খবর এত নেই না।
বিজয় এর সাথে এর পর দেখা হলে আমি কথা বলতাম না। বাধন এর সঙ্গে যদিও দেখা হত হায় হ্যালো এর মধ্যেই ছিল আমাদের কথা। বাধনও দূরে চলে যায় কারণ তার সাথে বিজয় এর ভাল সর্ম্পক আর রাএির সঙ্গে।
আমি ভার্সিটি লাইফ শেষ করে মাস্টাস কম্পিট করে একটা ভালই জব পেয়ে গেলাম। চাকরি করতে করতে দিনও পার হয়ে যেতে লাগল। এরই মধ্যে মা আমাকে ডাবলও করে দিল। সবাইকে দাওয়াত দিয়েছিলাম তার সাথে রাএি,বিজয়,বাধনও ছিল কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই আসেনি কারনটা আমি জানি নি।ভাবলাম হয়ত আমাকে আর বন্ধু বা আপন কেউই ভাবে না।
আজ প্রায় তিনটা বছর পর আমি আবার কুমিল্লায় আসলাম। ডাবল হয়েই আমি ঢাকায় চলে আসি সবাইকে নিয়ে। যে চাকরি করতাম ওটা প্রমোশন হয়েছিল আর আমি ভাল কাজ করতাম বলে বস আমাকে তার কাছে মানে ঢাকায় মেন অফিয়ে নিয়ে আসে কুমিল্লায় থেকে।
মনটা আজ অনেক ভাল প্রায় অনেক বছর পর কুমিল্লায় আসলাম। মিলিকে নিয়ে আজ বের হলাম কুমিল্লাটা আবার ঘুরে চেনার জন্য। প্রতিটা রাস্তা আজ অপরিচিত। তবুও কিছু জায়গা আবার ছিল খুব পরিচিত। মিলিকে নিয়ে চির চেনা সেই জায়গা গেলাম যেখানে আমরা সব বন্ধুরা প্রায়ই আসতাম। হাটতে হাটতে আমি হঠাৎ চোখ আটকে গেল রাএির ওপর তাকে দেখে সত্যি হবাক না হয়ে পারলাম না কারণ সে হয়ত এখন কারো বৌ কারণ তার হাতে শাখা ছিল সিথিতে সিদুঁরও ছিল। আমি একটু অবাক হতাম না যদি পাশে বিজয় থাকত কিন্তু এই ছেলেটা চিনি না। আমি ওর পাশ দিয়ে হেটে গেলাম মিলিকে নিয়ে। সে চেয়ে ছিল আমাকে দেখে হয়ত অবাক হয়েছিল।
কিন্তু
একটু সামনে গিয়ে দেখলাম এক পুরানো বন্ধুকে সেটা ছিল শুভ। এই ছেলেটা ছিল অন্যরকম তার পর ওরে নিয়া চলে আসি একটা রেস্টুরেন্ট এ। ওরে কথায় কথায় বিজয় এর কথাও
বললাম সে যা বলল
তা আসলে কিছু বলতে পারি নি।
কারণ
বিজয় ভার্সিটি শেষ করেই চলে যায় বিদেশ আর সেখানে যাওয়ার পর থেকে তো আর রাএির সাথে দেখা করত না। একদিন নাকি বাধন রাএিকে একটা ছেলের সাথে দেখে এটা বিজয়কে বলার পর সে রাএির লগে কথা বলে বললো এটা বলে রাএির ভাই ছিল। আবার কিছুদিন পর রাএিকে আরেক ছেলে সাথে দেখে বাধন ছবি তুলে রাখে যা বিজয়কে পাঠায়। কুমিল্লা হল ছোট শহর এখানে একটা মুখ দিনে না হয়েও চারবার দেখা যাবেই।
এর কিছুদিন পরই নাকি বিজয় দেশে আসে আর রাএির সাথে দেখা করে আবার সব ঠিক হয়ে যায়। রাএিকে বিজয় অনেক ভাল মনে করত কারণ রাএি বলে কিছুই লোকাত না বিজয় থেকে। মাস খানে থেকে বিজয় আবার দেশের বাহিরে চলে যায় আর এখানে রাএিকে আমাদের কোনো কোনো বন্ধু একটা ছেলের সাথে দেখত। কয়েকদিন পর বিজয় এর কাছে এসব কথা যাবার পর সে আবার দেশে আসে আর যখন রাএিকে সেগুলো জিগায় তখন রাএি বলে উওর দিয়েছিল।
শোন বিজয় আমি তোমাকে কখনো ভালবাসি নি। তুমি আমার সব কথাই শুনতে এটা আমার ভাল লাগত। শোন নিলয় যখন আমাকে ছেড়ে চলে যায় তখন মাথা ঠিক ছিল না আমি চাইতাম ওর ভাব ইগো কমিয়ে দিতে। তাই আমি তোমার সাথে রিলেশন করি যার ফল আজ নিলয় তাদের বেস্ট বন্ধু ছেড়ে কষ্টে আছে। নিলয়কে ছোট করার জন্যই তোমার সাথে রিলেশন করি আর তুমি আমাকে অনেক গিফটও দিতে আমারও এগুলো ভাল লাগত। কিন্তু সত্যি কথা বলতে তোমাকে কখনোই ভালবাসি নাই। নিলয় সবসময় আমাকে বলত যে তার বন্ধুরাই তার শক্তি আর আমাকে যে ছেড়ে যাওয়ার পর আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কারণটাও আমার তোমার কথা বিশ্বাস করে ওরে আমি অনেক কিছু বলছি। তোমাকে সে বলত আমি খারাপ মেয়ে আমাকে ছেড়ে দিতে। আর আমি তোমার কাছে ততোটাই ভাল হতাম আর তোমার মনে নিলয় এর জন্য খারাপ দিকটা তুলে ধরে তোমার মন থেকে ওরে বন্ধু হিসাবে দেখাটা দূর করে দিলাম।জানো একদিন ওরে আমি বাধন এর সামনেও বিল্লা দিছিলাম বাট সেদিন সে মাথা নিচু করে চলে যাওয়া দেখে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। আমি এখন খুব খুশি নিলয়কে কষ্ট দিতে পেরে।
সেদিন বিজয় রাএিকে কিছু বলেনি আর। চলে গিয়েছে এদেশ ছেড়ে।
আজ আমি ভাবছি মেয়েটা আমাকে ছোট করার জন্য বন্ধুটাকে কষ্ট দিছে।
আজ আমার খুব খুশি লাগছে এই কারণে যে রাএি বিজয়কে ছেড়ে চলে গেছে তাই। এটাই আমি চেয়ে ছিলাম। আমাকে কত কিছুই না বলত বিজয়। আজ সে বুঝুক আমি কখনো তার খারাপ চায় নি। রিয়েল লাভ করছিল না বিজয়।হুম বন্ধুত্ব থেকে তার ভালবাসাটা অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। আজ সত্যি আমি খুশি।
মিলি আমাকে জিজ্ঞেস করল যে রাএি কে?
তারে উওরে শুধু এটাই বলেছিলাম ভাল একটা মেয়ে ছিল রাএি।
কিন্তু
আমার বন্ধুটা সেটা বুঝে নাই।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত