প্রতিদিনের রুটিং

প্রতিদিনের রুটিং

-বাবু অনেক রাত হয়েগেছে, এখন একটু ঘুমাও।
-না আব্বু আগে আম্মু কে আনো তার পরে ঘুমাবো।
-তোমার আম্মু তো অনেক দুরে চলে গেছে।
তাকে আর আনা যাবে না।
সে আর আমাদের ডাক শুনবে না।
এখন ঘুমাও বাবু..
-না আমি আম্মু কে ছাড়া ঘুমাবো না।
-তোমার আম্মুকে আমি আগামীকাল এনো দেবো।এখন তো ঘুমাও।
-কাল এনে দিবে তো।
-হুম।
-আব্বু তাহলে আমি এখন ঘুমাই।
-আচ্ছা বাবু ঘুমাও।
.
-নিরবের সাথে নিলার বিয়ে হয় পারিবারিক ভাবেই।
কিন্তু বিয়ের পর।
তাদের মাঝে এমন ভালোবাসা হয়।
তা বলার বাইরে।
নিরব অফিসে যাওয়ার সময়।
প্রতিদিন নিলা নিরব কে লুকমা খাওয়ে দে।
আর রাত যতোই হোক নিরব অফিস থেকে না আসা আগ পর্যন্ত নিলা খাবে না।
নিরব আসবে তার পরে দুই জনে মিলে রাতের খাবার খাবে।
এটা তাদেন প্রতিদিনের রুটিং।
এতোটাই তাদের মধ্যে ভালবাসা ছিল।
.
-এভাবে চলতে থাকে।
বিয়ের তিন বছর দেখতে দেখতে চলে গেলো।
নিরব একটু চিন্তায় পড়ে গেলো।
কারন তাদের কোন সন্তান হচ্ছে না।
এ নিয়ে নিলাও মন খারাপ করে থাকে।
কিন্তু নিরব কে বুঝতে দেয় না।
.
-নিরব অনেক ভেবে চিন্তা করে একটা সিন্ধান্ত নিলো যে আমরা ডাক্তার দেখাবো।দেখি আমাদের দুই জনের মধ্যে কার সমস্যা।
নিরব আর নিলা ডাক্তারে কাছে গেলো।
সব কিছু খুলে বললো দুই জনে।
ডাক্তার দুনো জন কেই কিছু পরিক্ষা দিলো।
তারা সেই পরিক্ষা গুলো করলো।
তার পরের দিন রিপোর্ট গুলো পেলো।
আবার সেই ডাক্তারের কাছে রিপোর্ট গুলি নিয়ে নিরব আর নিলা গেলো।
ডাক্তার সাব রিপোর্ট গুলো দেখে নিলার সমস্যার কথা বল্লো।
আর ডাক্তার বলে নিরবের কোন সমস্যা নাই।
তবে ডাক্তার আরো বলছে নিলা ঔষধ ঠিক মতো খেলে বাচ্ছা হওয়ার সম্ভবনা আছে।
ডাক্তার কিছু ঔষধ লিখে দিলো।
ঔষধ কিনে নিরব নিলা বাড়িতে আসলো।
.
-নিলা একটু মন খারাপ করে বসে আছে তাই দেখে নিরব বলে।
দেখো মন খারাপ করো না যা হবার তা তো হয়েছেই।
আর ডাক্তার তো খারাপ কিছু বলে নাই।
শুধু এই টুকো বলছে ঔষধ খাইলে তো ঠিক হবে।
এ নিয়ে কোন চিন্তা করো না।
আর একটা কথা তোমার যদি সন্তান নাও হয় তাহলেও আমি তোমাকেই নিয়েই থাকবো।আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
এই কথা শুনে নিলার মন খারাপ মাটি হয়ে একটা মুচকি হাঁসি দিয়ে নিলাও বললো আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
.
-কয়েক মাস যেতে না যেতে
নিলা প্রেগনেট হয়েগোলো।
এতে করে নিলা অনেক খুশি।
আর নিরব তো অনেক খুশিই।
দুই জনে আল্লাহ তালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছে।
তাদের ঘরে একটা ফুট ফুটে কন্য সন্তান হলো।
আর সেই সময় নিলাও মারা যায়।
নিরব অনেকটা বেঙ্গে পড়ে।
স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগছে নিরবের।
.
-তার পর থেকে সেই মেয়েকে নিয়ে চলে তার জীবন।
ছোট থেকে বড় করছে।
আজ মেয়েটার বয়স পাঁচ বছর।
নিবর কিন্তু আর বিয়ে করেনি।
মেয়েটা এখন আম্মু জিনিসটা কি বুঝতে শিখেছে।
তাই প্রতিদিন শোয়ার সময়।
আম্মুর জন্য মন কাদে।
আম্মুর সাথে ঘুমাবে, খেলবে।
কিন্তু আম্মু তো নাই।
নিরব কই থেকে আম্মু এনে দিবো।
তাই প্রতিদিন মিথ্যা বলে।
আগামীকাল তোমার আম্মুকে এনে দিবো।
তার পর মেয়েটা ঘুমাও।
এটাই প্রতিদিনের রুটিং।
.
-মেয়েটা আম্মুর ভালবাসা পাইনি তো। পেয়েছে বাবা ভালোবাসা।
কিন্তু মার মতো ভালোবাসা পৃথিবীতে কেও দিতে পারবে না।
তাই মাকে কেউ অবহেলা করো না।

যার মা নাই সেই বুঝে মা না থাকার কষ্টটা।

কিন্তু মা থাকা অবস্তায় আমরা বুঝি না।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত