বৃষ্টি

বৃষ্টি

>> বাসায় বসে বসে শুধু টিভি দেখা আর খবর দেখা। কোনো কিছু বললেই পারব না। আমি আর থাকব না। চলে যাব আমার বাবার বাসায়।
>> গাড়ি কি আমি এনে দিব?
>> তোমাকে গাড়ি আনতে হবে কেন? আমার কি মুখ নাই। আমি নিজে আমার বাবার বাসায় যেতে পারব। তোমাকে কষ্ট করে গাড়ি আনতে হবে না।
>> তুমি যা ভালো বুঝো। আমি চাইছিলাম একটু সাহায্য করতে।
>> তুমি আমাকে সাহায্য করতে হবে না।
>> তোমার কি রাগ আজ একটু বেশি উঠেছে?
>> রাগ উঠেছে মানে কি?
তোমাকে কতক্ষণ ধরে বলছি জানালা টা লাগাতে। মশা বাহির থেকে ভিতরে আসছে। তুমি তো আমার কথাই শুনো না।
>> আমি শুনবো না। কি করবে তুমি?
>> শুনতে হবে না। যখন বাবার বাসায় চলে যাব তখন বুঝবে।
>> তুমি গেলে আমি কিছু টা শান্তি পাব। সারাদিন শুধু ঘ্যানঘ্যান।
>> ঘ্যানঘ্যান করতে কি আমার ভালো লাগে। শুধু তোমার জন্য আমাকে ঘ্যানঘ্যান করতে হয়।
>> একটু নিরব হবে। শান্তিতে টিভি টা দেখতে দাও।
>> দেখো দেখো।

>> ভাবি কেমন আছেন ( তামিম)
>> ভালো ভাই। আপনি?
>> ভালো ভাবি। ভাবি আপনার কপালের টিপ টা কিন্তু অনেক সুন্দর।
>> সত্যি বলছ ভাই?
>> ভাবি আমি কি আপনাকে মিথ্যা কথা বলতে পারি?
>> তাইলে ঠিক আছে ভাই।
আরে সুস্মিতা ভাবি আপনি কখন আসলেন?
>> না। এইতো আসলাম।
আমি বাসায় যাই তোমরা কথা বলো।
>> আচ্ছা ভাবি ভিতরে যান।
.
>> একটা লুইচ্চা। একটা শয়তান ছেলের সাথে আমি ঘর করতাছি। বাসায় বউ রেখে ভাবির সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা। বাহ বাহ।
>> ওই তাতে তোমার জ্বলে কেন?
>> আমার জ্বলবে না কেন? তুমি আমার স্বামী। তুমি আমার স্বামী না হলে কিছু হতো না।
>> কথা কইলে কি হয়েছে?
>> আমি যদি বলি কথা না বলে কি হয়েছে?
>> তুমি ভাবি কে সহ্য করতে পার না কেন?
>> উনি একটা হিংসুটে মেয়ে। শুধু হিংসা করেন।
>> কই আমাকে তো হিংসা করেন না।
>> তোমাকে হিংসা করতে যাবেন কেন? তুমি তো উনার আদরের দেবর।
>> যাই বলো তুমি ভাবি কিন্তু আমাকে খুব মায়া করেন।
>> তোমাকে যদি ভাবির সাথে আর কথা বলতে দেখছি। তাইলে বুঝবা আমি কি রকম মেয়ে। আমার অন্য রূপ দেখবা।
>> তোমার অন্য রূপ কোনটা?
>> সেটা না হয় পরে ওই দেখবা।
>> আমার দরকার নাই ভাবির সাথে কথা বলে তোমার অন্য রূপ দেখার।
তার চাইতে বাহির থেকে একটু ঘুরে আসি।
>> তুমি এখন কোথাও যাবে না। আমি এখন একা বাসায়।
>> তোমাকে কি আমি বসে বসে পাহারা দিব?
>> জ্বী দিতে হবে।
>> আচ্ছা আমি কোথাও যাব না। বাসায় আছি।

>> এইটা কি হলো? (সুস্মিতা)
>> কোনটা?
>> তুমি তোমার শার্ট টা খাটের মধ্যে না রেখে। আলমারি মধ্যে রাখতে পারতে না। শুধু শুধু কাজ বাড়ানো ছাড়া তুমি কিছু করতে পার না।
>> তুমি আছো কিসের জন্য শুনি?
>> আমি তোমার শার্ট খুঁচানোর জন্য এই বাসায় আছি না। তুমি তোমার নিজের কাজ করতে পার না।
>> ইশ!
মহারানী বসে বসে খাবেন। কাজ করলে শরীর ঠিক থাকে।
>> তা আমি জানি। তাই কাজ করি। তোমার মতো তো বাসায় শুধু শুধু বসে থাকি না।
>> আমি বাসায় বসে থাকি মানে?
>> বাসার কোনো কাজ করো তুমি?
সব কাজ তো আমাকে একা করতে হয়।
>> তুমি যা কাজ করো। তা আমি ১০ মিনিটে করে ফেলবো। শুধু শুধু বকবক করো। মুখ টা নিরব করবে। কিছু সময় বিশ্রাম নিব।
>> নেও নেও। বিশ্রাম নেও আমাকে জ্বালাতে তো তোমার ভালো লাগে।
>> তোমাকে আমি জ্বালাই। বাহ বাহ।
তুমি যে রকম রাগি মেয়ে। আমি যদি তোমাকে সত্যি সত্যি জ্বালাতাম তাইলে বাসা থেকে বের করে দিতে।
>> তোমাকে আমি এই বালতির পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিব। মিথ্যা কথা বলো। তুমি যা করো আর কেউ হলে সহ্য করতো না। তার বাবার বাসায় চলে যেতো।
>> তুমি যাও না কেন? তুমিও যাও। আমি কিছু দিন তো শান্তিতে ঘুমাতে পারব।
>> ও ঘুমানো যেতো।
ঘুমাও ঘুমাও।

রাতে ঘুমিয়ে আছি। রাত ২ টায় ঘুম ভাঙল। কি মশা। মশা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। সুস্মিতা বলে ডাক দিলাম। কিন্তু সুস্মিতা দেখি বিছানায় নেই। ফ্লোরে শুয়ে আছে। তার উপর প্রচুর মশা। আমি বুঝতে পারছি আমার উপর অনেক রাগ করেছে।
>> সুস্মিতা।
>> কি ডাকছ কেন?
>> তুমি ফ্লোরে কেন?
>> তাতে তোমার কি? তুমি আরাম করে ঘুমাও।
>> আমার কি মানে? তুমি আমার লক্ষ্মী বউ। তুমি ফ্লোরে ঘুমাবে কেন? দরকার হলে আমি ফ্লোরে ঘুমাবো। সারাদিন কত কাজকাম করো। রাতে একটু বিশ্রাম নিবে। তা না করে রাগ করে ফ্লোরে শুয়ে আছো। তোমার কি দিন দিন বুদ্ধিশুদ্ধি কমতাছে কে জানে বাবা।
>> এতো দরদ কোথায় থেকে আসলো এখন শুনি। তুমি তো খুব আরাম করে ঘুমাচ্ছিলে।
>> দরদ কিসের হ্যাঁ?
মশার কামড়ে ঘুম ভাঙল। পরে দেখি তুমি পাশে নেই।
>> মশার কামড়ে ঘুম না ভাঙলে তুমি তো ঠিকি আরাম করে ঘুমাতে। যাও আমি মশারি দিয়ে দিচ্ছি তুমি আরাম করে ঘুমাও।
>> তুমি ঘুমাবে কোথায়?
>> কেন ফ্লোরে।
>> তা আমি হতে দিব না। তুমি বিছানায় ঘুমাও। আমি মশারি দিচ্ছি। এখন থেকে আমি বাসার সব কাজ করব।
>> আমি যাব না।
>> যেতে বলছি।
>> কেন যাব?
>> তুমি তো ফ্লোরে ঘুমাতে পারবে না। ঘুম আসবে না।
>> তাইলে তুমি ফ্লোরে ঘুমাও। আমি বিছানায় ঘুমাচ্ছি।
>> ঠিক আছে ঘুমাও।

বিকালবেলা আমি আর সুস্মিতা ছাদে বসে আছি।
>> পাশের বাসার ভাবি আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলে ভাবি জানেন এই শাড়ি টা আমার জামাই আমার জন্য নগদ ১৫০০ টাকা দিয়ে এনেছে। কিন্তু আমার ভালো লাগে নি। আর তুমি কবে আমার জন্য একটা শাড়ি কিনে এনেছিলে মনে আছে।
>> তোমার তো শাড়ির অভাব নাই। শাড়ি দিয়ে কি করবে?
>> আমি খাঁব। শুনো আমার জন্য কাল একটা নতুন শাড়ি কিনে আনবে। আমিও দেখিয়ে দিব আমার স্বামী আমার জন্য নতুন শাড়ি কিনে আনতে পারে।
>> আমি তো কিনে আনবো না।
>> তুমি এতো নির্লজ্জ কেন?
>> ওই আমি নির্লজ্জ না।
>> আমি এতো কিছু বুঝি না। আমার নতুন শাড়ি চাই চাই।
>> তোমার কাছে তো টাকা আছে। সে টাকা দিয়ে শাড়ি কিনে আনতে পার না।
>> আমার টাকা দিয়ে কেন কিনে আনবো?
>> তুমি টাকা দিয়ে কি করবে?
>> বাসার জিনিস কে কিনে আনে?
>> আমি আনি।
>> মিথ্যা কথা বলো কেন? কোনো দিন কিছু কিনে আনছ? সব কিছু আমি কিনে আনি।
>> শাড়ি টাও কিনে আনো।
.
মন খারাপ করে ঠিক আছে বলে চলে গেল।

বাজারে বসে আছি। এমন সময় সুস্মিতার কথা মনে পড়ল। যাক অবশেষে একটা শাড়ি কিনে নিলাম। বাসায় গেলাম। বাসায় গিয়ে দেখি বাসার মধ্যে থালা। ফোন দিলাম।
>> হ্যালো।( সুস্মিতা)
>> তুমি কোথায়?
>> কেন?
>> তোমার জন্য শাড়ি কিনে আনছি।
>> আমি কাল আসবো। এক কাজ করো। তুমি যে শাড়ি টা কিনে আনছ ওই টা তোমার আদরের ভাবি কে দেখিয়ে আসো। আর বলে আসবে তুমি আমার জন্য কিনে আনছ।
>> আমি তোমাকে ভালবেসে শাড়ি কিনে আনছি। আর তুমি বলছ ভাবি কে দেখিয়ে আনতে। তোমরা এতো প্রতিযোগিতা কেন করো একবার বলবে আমাকে?
>> সেটা তুমি তোমার ভাবি কে গিয়ে জিজ্ঞাস করো। উনি কেন আমার সাথে প্রতিযোগিতা করেন?
>> তুমি না করলে ওত হয়।
>> আমি একশো বার করব।
>> না। তুমি করবে না। তাদের সাথে আমি তা করতে পারব না। তারা অনেক ধনী। আমি মাত্র কিছু টাকার বেতন পাই। তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে মাত্র।
>> ফোন রাখলাম। তোমার কথা শুনতে ভালো লাগছে না।
.
সুস্মিতা ফোন কেটে দিল। আমারও খুব রাগ উঠলো। উঠবে না কেন?
ভাবি ও সুস্মিতা তারা দু’জন শুধু প্রতিযোগিতা করে। কে বেশি দামি জিনিস কিনতে পারবে। যে পরিবার চালায় সে বুঝে কি কষ্ট করতে হয়।

সুস্মিতার সাথে রাগ করে ৫ দিন কথা বলে নি। কেন কথা বলব। সেদিন মুখের উপর ফোন কেটে দিয়েছিল কত বড় বেয়াদব হয়েছে। স্বামী কে সম্মান করতে ভুলে গেছে। দুপুরবেলা দেখলাম সুস্মিতা বাসায় আসলো। কিন্তু আমি দেখেও না দেখার বাণ করে বাহিরে চলে গেলাম। সুস্মিতা আমাকে একটা ডাক দিল। আমি কোনো ধরণের আওয়াজ দিলাম না। এভাবে আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয় নি। সুস্মিতা দেখি একদম মন খারাপ করে কাজকাম করে। বারবার আমার সাথে কথা বলতে চায় কিন্তু আমি পাত্তা দেই না। এখন বুঝুক স্বামীর সাথে বেয়াদবি করলে কি রকম শাস্তি পাওয়া লাগে। আমি আলমারি থেকে ঘড়িটা বের করে পড়তে লাগলাম। এমন সময় সুস্মিতা আসলো।
>> আমার শাড়ি কোথায়?
>> ভাবি কে দিয়ে দিয়েছি।
>> তুমি আমার শাড়ি ভাবি কে কেন দিলে?
>> তুমি ওত বলেছিলে।
>> আমি তো ভুল করে বলেছিলাম। আমি তো ভুল করলাম। তাই বলে তুমিও ভুল করবে।
>> হিহিহি।
>> হাসছ কেন?
>> দেখলাম তুমি মন খারাপ করলে একদম বাজারের ভূত্নীর মতো লাগে।
>> লাগবেই তো। আমি তো ভূত্নী।
>> হিহিহি।
>> এতো হাসতে হবে না। আমার শাড়ি এনে দাও।
>> ভাবি কে দেখাবে?
>> ওদের সাথে আমরা পারব কি করে। ওরা যখন যা ইচ্ছা তা কিনতে পারবে। আমরা কি তা কিনতে পারব। আমাদের তো এতো টাকা নাই।
>> সুস্মিতা তোমাকে আমি অনেক ভালবাসি। তোমাকে খুশি রাখার দায়িত্ব আমার।
>> তুমি আমাকে প্রচুর ভালবাসো আমি জানি।
>> কচু জানো।

>> তুমি কোথায়?
>> কেন?
>> অনেক বৃষ্টি এসেছে। তুমি তাড়াতাড়ি বাসায় এসে পড়ো। আমার অনেক ভয় করছে।
>> এখন তো আমি আসতে পারব না। অনেক বৃষ্টি।
>> এ দিকে আমি একা বাসায়। তুমি ভিজে চলে এসো।
>> আসতেই হবে।
>> হ্যাঁ।
>> তাইলে দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করো। আমি আসতাছি।
>> আমি অপেক্ষা করছি। তুমি চলে আসো।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত