অভিশপ্ত লোকের জীবন যেমন হয়

অভিশপ্ত লোকের জীবন যেমন হয়

জীবনটা কেমন জানি সাদামাটা হয়ে পড়ছে| আগের মতন নেই আর সজীবতা | কি সুন্দর কাটিয়েছি  পূর্বের দিনগুলো | অথচ আজ রসিক মানুষটার জীবনটাই হয়ে পড়েছে বড্ডো বেরসিক|আমি কত যে সমস্যায় জর্জরিত তার হিসেবটা জানি হিসাববিজ্ঞানে জিপিএ পাঁচ পাওয়া ছেলেটাও মেলাতে পারবে না কারণ যার জীবনের হিসেব সেই তো খাচ্ছে হিমশিম |

একদা আমার খুব শখ ছিল বিখ্যাত হবার | ভাবতাম বড় কবি হবো |যদিও নিজের বড়াই নিজের করতে নেই | তবু বলবো বেশ লিখতাম আমি
|তবে ওই যে কোনো সুযোগ সুবিধা পেলাম না |কেউ একটুও সাহায্য করলো না এমনকি পরিবারের লোকগুলিও না |পরিবারের লোকজন বলতো আগে লেখা পড়া শেষ করে শিক্ষিত হও|তারপর ওসব কবিতা ফোবিতা লিখো |মূর্খের কবিতা কেউ পড়বে না|কেউ কেউ বলতো আজকাল কি আর সেই যুগ আছে যে কবিতা মানুষ পড়বে সময় বের করে |কি আর করা পানি না পেলে গাছ তো শুকিয়ে যাবেই সে যত ভালো জাতের গাছ হোক না কেন |

বর্তমানে সব চেয়ে যে প্যারাটা আমায় ক্লান্ত করছে তা হলো টাকা আয়ের প্রয়োজনীয়তা| কি যে বলবো দুঃখের কথা ,কত চেষ্টা করছি এই টানা দুই বছর ধরে তবু একটা টাকা আয় করতে পারলাম না |ওই যে খোদা রিজিক না দিলে কার বাপের ক্ষমতা আছে উন্নতি করার |যদিও আমার বাবা মোটামুটি বলা চলে সচ্ছল |কিন্তু এই বয়সে টাকা চাইতে নিজের কেমন জানি লজ্জা করে |তা ছাড়া ভার্সিটির সেমিস্টার ফিস বাদে আমাকে খাওয়া থাকা আর হাত খরচ সহ বাবে যে বারোটি হাজার টাকা পাঠান তাতে আমার সত্যি চলে না |কারণ বাবা তো আর জানে না ছেলে সিগারেটে সেই মগ্ন |আমার আবার যে সে ব্রান্ডে পিনিক কাটে  না |বেনসন ছাড়া আমার চলেই না |আর এখন তো বেনসন পনেরো টাকা এক পিচ |প্রতিদিন একটা করে খেলেও মাসে পাঁচশো টাকা যায়|দিনে কমছে কম ধরলেও তো সাত আটটা বেনসন লাগে |তাছাড়া এই বয়সে মাস্তি করতে মন চায় তাতেও টাকা যায় |এই জন্য মাসের বিভিন্ন সময় এক্সট্রা টাকা চাইতে হয় বাবার কাছে |একমাসে তো পুরো আঠারো হাজার টাকা লেগেছিলো মাস পার করতে |তার উপর প্রতি সেমিস্টারে ফেল করছি আর ওয়েভের হারাচ্ছি যার ফলে এক্সট্রা টাকা লাগছে |এত টাকা বাবার কাছ থেকে নিচ্ছি ঠিকই কিন্তু তাও মাঝে মাঝে সকাল আর দুপুরে খাওয়া জুটছে না কারণ বুঝে শুনে খরচ করতে পারি না বিধায় হাতে টাকা থাকে না |বাবার কাছে আরো টাকা চাইলে বাবা হয়তো রক্ত বেঁচে হলেও টাকা দেবে কিন্তু তাও একটা লোককে কত চাপ দেওয়া যায় |

খুব ইচ্ছা হয় আমায় কোনো মেয়ে ভালোবাসুক |তবে সে কপাল আমার নেই |বিয়ে করার খুব দরকার |যৌবন টা মিছে মিছে নষ্ট হোক তা কে চায় |তবে আমার পোড়া কপাল |আমি পড়া লেখায় ভালো না | বিএসসি টা শেষ করতে যে কত বছর লেগে যায় কে জানে !তার উপর আমার বাবা মা এত বড়োলোক নন যে পুত্র আর পুত্র বধূ কে বসিয়ে বসিয়ে পালবেন |তাই যৌবনের ঘনত্বে হারানো কভু আমার দ্বারা সম্ভব হবে কি না কে জানে |

এতক্ষন বাশঁতলার ফুট ওভার ব্রিজটার উপর দাঁড়িয়ে  এইসব চিন্তা করছিলাম |আসলে আমি খুব অসহায় হয়ে পড়েছি |কি করবো বুঝে উঠতে পারি না |কত রকম ভাবে সব কিছু গোছাতে চেষ্টা করি কিন্তু পারি না |সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায় |এলোমেলো জীবন সত্যি আমার আর ভালো লাগে   না |খুব সিগারেটে টান দিতে মন চাই ছে|বুড়ো চাচার চায়ের দোকানের দিকে পা বাড়ালাম আমি |

এই মাত্র সাত টা বেনসন টানা শেষ করলাম| আর একটা বেনসন খেয়ে উঠবো ভাবছি| চাচার কাছে আর একটা বেনসন চাইতে খেপে উঠলো| তিনি বললেন তোরে আর বিড়ি দিমু না |তোর এক বসায় যদি এত কয়টা লাগে তাহলে আরো তো দিন পইড়াই আছে| এত বিড়ি খাস কেন !

মনে মনে বললাম চাচারে আমি যে অভিশপ্ত আর অভিশপ্ত লোকের কলিজা আগুনে পুড়বে এটাই যে জগতের নিয়ম |

গল্পের বিষয়:
জীবনের গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত