সমর্থন

সমর্থন

বারান্দায় ফেব্রুয়ারীর মিষ্টি রোদটা পড়েছে। চায়ের মগটা হাতে নিয়ে বারান্দায় হেলান চেয়ারটায় বসার সাথে সাথে ধড়াম করে সেটা ভেঙ্গে পড়লো। মনের অজান্তে হেসে উঠলো। কতদিন মন খুলে হাসা হয় নাহ। ইদানিং মনটা ভীষণ খারাপ থাকে। টিভিতে প্রতিদিন খুন, ধর্ষণের খবরটা বাড়ছেই শুধু। কতটা বিকৃত মস্তিষ্কের হলে একটা পঞ্চম শ্রেণীর মেয়েকে চারজন পুরুষ মিলে ধর্ষণ করতে পারে। পুরুষ বলা ভূল হবে, এদেরকে জানোয়ার বললেও জানোয়ারের অপমান হবে। দেশের জন্য নিজের শরীরের রক্ত ঝড়িয়ে কি লাভ হলো? দেশটা তো প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে। নিজেকে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে ফাইজানের।

“মেজর ফাইজান খান”
মাত্র ৫ বছর চাকরী করে অসম অবসর নিয়েছে। তবে ৫টা বছর অনেক কঠিন ছিল। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন, বন্ধু দানিয়ালকে হারানো, গোয়েন্দা সংস্থার সুইসাইডাল মিশন সবই করা হয়ে গেছে। অসংখ্য মেডেলে শোকেস ভরে গিয়েছে। অাজকাল অনেক বিষন্ন থাকে। খাগড়াছড়ির এই বাড়িটাতে অাজ দু’বছর হয়ে গেল। বাড়ির জন্য মন কাদেঁ মাঝে মাঝে। কিন্তু মায়ের “বিয়ে করো, বিয়ে করো” সংবাদের ভয়ে অার যাওয়ার সাহস হয়ে উঠেনা। এবার বাড়ি যাবে ভাবছে ফাইজান।

সকালে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে নিলো। ড্রয়ারটা খুলতেই সাইলেন্সার লাগানো রিভলবারটা চোখে পড়লো। দানিয়ালের দেয়া বন্দুকটা কখনো নিজের থেকে অালাদা করে নাহ। বন্দুকটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফোনটা হাতে নিলো। ভাবছে বাড়ি গেলে বাসার কি করবে। এখানে থাকার মত কেউ নেই। ইলেকট্রিক সিস্টেম করে রেখে যাওয়া যায় কিন্তু সেটাতে লেগে কেউ মারা যেতে পারে। অনেক ভেবেচিন্তে ফোনবুক ঘেটেঁ বিসিঅাই এজেন্ট হামিদকে ফোন দিল,

: হ্যালো স্যার।
– হামিদ সাহেব কোথায় অাছেন?
: স্যার অাশেপাশেই অাছি।
– অাপনার ডিউটি ঢাকায়, অাপনি এখানে কি করেন?
: স্যার অাসলে গোপন বিষয়।
– বলুন।
: মানে. . .
– বলুন।
: অাসলে অাপনার উপর নজরদারি।
– কিসের জন্য!!
: সরি স্যার, গোপন বিষয়।
– অাচ্ছা অাপাদত হেল্প লাগবে!
: গাড়ি লাগবে?
– নাহ অামার বাসায় কয়দিন থাকতে হবে।
: জি স্যার অাসছি।
– অাই প্রমিস এবার কিচেন নোংরা হলে অামি বকাঝকা করবনা, হাহাহ।
অাধাঘন্টার ভেতর হামিদ এসে হাজির। ফাইজান তাকে চা বানিয়ে দিয়ে বললো,
-বন্দুক সাথে রাখবেন।
: কেন স্যার?
-রাতে অাওয়াজ পেলে জানালা খুলে ফাকাঁগুলি ছুড়বেন সব শান্ত হয়ে যাবে।
: ভূত-টুত নেই তো?
– ডেভিলের বাসায় ভূত অাসার সাহস পাবে?
হামিদ হাসতে লাগলো।
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বেরিয়ে পড়লো ফাইজান। ট্রেনে চট্রগ্রাম থেকে সিলেট যাবে।

ট্রেনে পাশের সিটে সফরসঙ্গী পছন্দ করে না সে, তাই সবসময় দুটো সিট নিজেই কিনে নেয়। যথাসময়ে ট্রেনে উঠে বসে পড়লো। সামনের সিট দুটো তখনো খালি। হয়তো অন্য কোন স্টেশন থেকে উঠবে। সে কানে হেডফোনে লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে পড়লো।

গফরগাও স্টেশন ট্রেন থামনো। ফাইজান এই ফাঁকে নেমে পড়লো একটু হাটার জন্য। লক্ষ করলো একজন মহিলা ভাপাপিঠা বিক্রি করছেন। খানিকটা এগিয়ে দুটো ভাপাপিঠা নিলো। হুমম স্বাদটা ভাল হয়েছে কতদিন পর খাওয়া হলো। একটু সময়ের জন্য অতীতে মনে পড়ে গেল,

ফাইজান স্কুলে থাকতে এরকম এক শীতের সকালে ভাপাপিঠা নিয়ে অাসছিলো পাশের বাসার পিচ্চি বুড়ি শারলিন।
ফাইজান জিজ্ঞেশ করেছিলো,
কি অানছো গো বুড়ি?
শারলিন বলেছিলো,
গুড়ের বার্গার অানছি, খাও।
“গুড়ের বার্গার” শুনে বাড়ির সবাই ‌হেসে মাটিতে গড়াগড়ি খাবার অবস্থা।
ট্রেনের হুইসেল শুনে ধ্যান ভাঙ্গলো। দ্রুত ভাপাপিঠার দাম মিটিয়ে ট্রেনে উঠে পড়লো।
সিটে বসতে যাবে এমন সময় সামনের সিটের যাত্রীকে দেখে সব কিছু যেন থমকে গেল।

“তাসু!!”
ফাইজানের সামনে বসা তার খুব পছন্দের মানুষটা। একটা সময় মেয়েটাকে অনেক পছন্দ করতো। এখনো হয়তো করে। পছন্দের কথাটা মেয়েটাকে জানালে সে সাথে সাথে মানা করে দেয়। সেদিনের পর অার কখনো দেখা হয়নি ওদের। অাজ এতদিন পর দেখা।

তাসনোভা কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো নাহ। চুল, দাড়ি, গোঁফের কারণে হয়তো চিনতে পারেনি ভেবে সাধারণভাবে বসে পড়লো। কোলের বাচ্চাটাকে টাওয়াল দিয়ে ঢেকে রাখলো তাসু। ফাইজান দেখলো পাশে একজন পুরুষও বসা। ভাবছে তাসুর স্বামী হয়তো তিনি।

একটা সময় তাসুর স্বামী উঠে বাথরুমে চলে গেল। তখন তাসু ফাইজানকে প্রশ্ন করলো,
:কেমন অাছেন?
– ভাল অাছি, তুমি?
: অাছি একরকম।
-বাচ্চাটাকে দেখতে দিবেনা?

তাসু টাওয়াল সরিয়ে বাচ্চাটার মুখ দেখালো। কি অপরূপ সুন্দর হয়েছে বাচ্চাটা। একদম মায়ের মত হয়েছে। তারপর অনেকটা সময় পিনপতন নিরবতা।

তাসুর স্বামী ওয়াশরুম থেকে এসে সিটে বসলো।
কতক্ষণ ফাইজানের দিকে তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করলো,
: অাপনি মেজর ফাইজান খান নাহ?
– জী, কিন্তু অাপনি. . .!
: অামি কাব্য, পেপারে পড়েছিলাম অাপনাদের মিশনের সম্পর্কে।
– ওহ, ধন্যবাদ।
: অামার স্ত্রী তাসনোভা অার সন্তান মিথি।
– ওহ।

অার তেমন কথা হয়নি তাদের মাঝে। বারবার অাড়চোখে ফাইজানের দিকে তাকাচ্ছে তাসু। চেহারায় বয়সের তারতম্য বুঝা যাচ্ছে। তবে সৌন্দর্যে একটুও ভাটা পড়েনি।

‘মেয়েটা হয়তো সুখেই অাছে’
অনেক লম্বা সময় পর ট্রেন এসে তার স্টেশনে থামলো। সে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নেমে পড়লো। একটা সিএনজি নিয়ে বাসায় রওনা দিলো।

যার মা অাছে সে কখনো গরীব হয়না, অার যার একটা মনের মত একটা বন্ধু অাছে তার কোন দূঃখ থাকেনা। শারলিন এমন একটা বন্ধু পেয়েছে। সেই ক্লাস থ্রি থেকে দীপ্তর সাথে বন্ধুত্ব। সুখ হোক, দূঃখ হোক সবসময় একজন অারেকজনের ছায়ার মত থেকেছে। একসাথে সকাল ৮টা থেকে ৯:৩০ টা কোচিৎ, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত স্কুল, তারপর ‌গোসল-খাওয়া শেষে অাবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলা। তারপর অাবার সন্ধ্যায় একসাথে প্রাইভেট পড়া। বলতে গেলে ২৪ ঘন্টার বেশির ভাগ সময় একসাথেই কেটে যায়। শারলিন দেখতে একদম পিচ্চিদের মত। ওজন ৩০ হবে কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ অাছে। অার অন্য দিকে দীপ্ত তো একেবারে দানবীয় শরীরের অধিকারী।

এই তো সেদিনের কথা। রফিক স্যারের বাসার সামনে ইয়া মোটা একটা বরই গাছ।
শারলিন শুধু একবার বলেছিল,

“ইশ যদি এখন যদি বরই খাওয়া যেত”

তারপর দীপ্তর ঢিলানি কাকে বলে। কি প্রখর নিশানা একসাথে ৮,১০টা ঢিল। নির্ঘাত গাছের অার্ধেক বরই পেড়ে ফেলেছে। তারপর দুজনে বরই কুড়িয়ে একদম পগারপার।

দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় শারলিন হাপিয়ে উঠলো,
: অার না, ব্রিজটায় বসি একটু।
– তুই বস অামি অাসছি।
এ কথা বলে চলে গেল দীপ্ত। একটু পর লবন অার লংকাগুড়ো নিয়ে হাজির। শারলিনের বরই খাওয়ার জন্য এত অায়োজন। দুজনে অায়েশ করে বরই খাচ্ছে। শারলিনকে অনেক হাসিখুশি দেখাচ্ছে,
: কাজটা কি ঠিক হলো?
– দেখ ঠিক বেঠিকের কথা বলবি না। মজা তুই পেয়েছিস, অামিও ‌পেয়েছি।
: হাহা ফাজিল, চল বাড়ি যাই

অাপাতত ক্লাস এইটের রেজাল্ট দিয়েছে। দুজনেই ভাল ফলাফল করেছে। স্কুলের ছুটি চলছে। তাই সারাদিনই খেলাধুলায় মত্ত। শীতের বিকেলে ব্যাডমিন্টনের র্যাকেট হাতে জমে যায়।

: দীপ্ত!
– বল।
: তুই প্রতিদিন হেরে যাস কেন?
– এই মনে কর ভাল্লাগে, খুশির ঠেলায়।
: হাহা বান্দর যা ভাগ।

ইদানিং দীপ্তর মধ্যে পরিবর্তন অাসতে শুরু করেছে। সে নিজেকে অাজকাল অনেক ম্যাচিউর ভাবে। চোখ দুটো সবসময় শারলিনকে খূজেঁ। যেন তার সঙ্গ পেতে চায় বারংবার।

তবে শারলিনের কাছে দীপ্ত একজন ভাল বন্ধু, ভাই, অভিভাবক। এর বেশি কখনো ভাবেনি সে। তবে সেও দীপ্তর সঙ্গ পছন্দ করে।

ক্লাস শুরু হয়ে গেছে নাইনের। নতুন নতুন ছাত্রছাত্রী এসেছে ভর্তি হয়েছে। কিছু নেতা-রাজনীতিবিদের ছেলে মেয়েও এসেছে। যাদের চলাফেরা খুবই বিচ্ছিন্ন। যেন তারা হাইস্কুলে অনার্স পড়তে এসেছে। দীপ্ত এসব ছেলেদের এড়িয়ে চলে। বিশেষ করে রাতুলকে। ছেলেটা বড়লোক বাবার সন্তান। বাবার দামি গাড়ি চড়ে অাসে যায়। টিফিন টাইমে ক্যান্টিনের পিছনে গিয়ে নিকোটিন ফুঁকে। দীপ্ত শারলিনকেও ওদের থেকে দূরে থাকতে বলে।

একসময় ফেব্রুয়ারী মাসকে ভাষার মাস বলা হতো। এখন অবশ্য সেটা ভালবাসার মাস হয়ে গিয়েছে। অাজকাল তো অনেক শিক্ষার্থী ২১শে ফেব্রুয়ারীকেও ভালবাসা দিবস বলে চালিয়ে দেয়। প্লাস্টিক জেনারেশনের প্লাস্টিক শিক্ষাপদ্ধতি।

যথারীতি দীপ্ত অার শারলিন স্কুলে যাচ্ছে। গেটে পৌছানোর কিছু অাগে বড়লোক বাবার ছেলে রাতুল অার তার সাথিরা ওদের ঘিরে ধরলো।

একজন দীপ্তকে সরিয়ে নিলো। অারেকজন একটা রোমান্টিক গান ছাড়লো ফোনে। রাতুল টেডি বিয়ার অার ফুল হাতে নিয়ে হাটু গেড়ে বসে পড়লো,

“শারলিন অামি তোমাকে অনেক পছন্দ করি, তুমি কি অামার ভ্যালেন্টাইন হবে?”
শারলিন অসহায় দৃষ্টিতে দীপ্তর দিকে তাকায়। দীপ্ত তাকে চোখের ঈশারায় অভয় দেয়। শারলিন দীপ্তর হাত ধরে ভীড় থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি তবুও। রাতুল প্রতিদিন নতুন নতুনভাবে প্রেম নিবেদন করতে থাকে। একসময় শারলিনের মনও সাড়া দেয়। চতুর্থ দিন সে হ্যা বলে দিলো। এই খুশিতে রাতুল ক্লাসের সবাইকে ট্রিট দিয়েছে। শারলিনও গিয়েছে কিন্তু কাজের অজুহাতে বাড়ি চলে গিয়েছে দীপ্ত।

ভালই চলছে শারলিন অার রাতুলের প্রেম কাহিনী। শারলিন অার দীপ্তর পাশে বসেনা। সবসময় রাতুলের পাশেই বসে। দীপ্ত অাজকাল ক্লাসে কম যায়। সারাদিন মন খারাপ করে বাড়িতে বসে থাকে।

বিকেলে বেলা শারলিনও অার খেলতে ডাকার জন্য অাসেনা। রাতুল তাকে একটা ফোন কিনে দিয়েছে। সে এখন অবসর সময় ফোনে কথা বলেই কাটিয়ে দেয়।

দেখতে দেখতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষাও শেষ হয়ে যায়। দীপ্ত অার শারলিন দুজনের ফলাফলই খারাপ হয়েছে। শারলিনের ফলাফল তুলনামূলকভাবে একটু বেশিই খারাপ হয়েছে। বাসা থেকে অনেক বকাঝকাও করা হয়েছে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। দীপ্ত একবার বুঝানোর চেষ্টা করেছে শারলিনকে। শারলিন উল্টো দীপ্তকে মিথ্যাবাদী বলে অপমান করে ফিরিয়ে দিয়েছে। দীপ্ত অনেক ভেবে চিন্তে শারলিনকে তার মতের উপর ছেড়ে দিল। কারো ব্যাক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা ঠিক না। এটুকু বুঝার মত ম্যাচিউরিটি তার মধ্যে এসেছে।

অনেকদিন পর ক্লাসে হঠাৎ শারলিন এসে দীপ্তর সাথে কথা বললো,
: কিরে কি করিস?
– ভাল, তুই?
: ভাল, ক্লাসে অাসিস না কেন?
– এমনি অাসিনা।
: জানিস কালকে অামরা ঘুরতে যাচ্ছি।
– কে কে?
: অামি, রাতুল অার তার দুই পরিচিত বড়ভাই।
– ‌কোন বড়ভাই?
: রাফি ভাই অার সাকি ভাই।
– ওহ সাবধানে থাকিস, যাই।

পরদিন যথারীতি স্কুল ফাঁকি দিয়ে সেজেগুজে বের হলো শারলিন। স্কুলের গেটের সামনে গাড়ি দাড়িয়ে অাছে। সামনের সিটে রাফি ভাই অার সাকি ভাই বসা, অার পিছনের সিটে রাতুল তার অপেক্ষা করছে। শারলিন গাড়িতে চড়ে বসলো। গাড়ি চলতে লাগলো। রাতুল গাড়ির পিছন থেকে চিপস অার জুস বের করে এনে শারলিনকে দিলো। রাতুল চিপস খাচ্ছে। শারলিনও দুটো চিপস মুখে দিয়ে এক ঢোক জুস খেলো। তারপর অার কিছু মনে নেই।

সন্ধ্যায় শারলিনকে ব্রিজের পাশের পাওয়া গেল ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়। একজন পরিচিত চা দোকানদার তাকে দেখতে পায় ময়লার উপর পড়ে থাকতে। তখনো হালকা হালকা শ্বাস চলছিলো। দোকানদার তাকে তাড়াতাড়ি সিএনজিতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শারলিনের বাবাকে খবর দেয়া হলে তিনি দ্রুত ছুটে যান। গিয়ে মেয়ের এমন অবস্থা দেখে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শারলিন বুঝতে পারলো তার হাতে অার সময় নেই। তাই সে তার বাবাকে ঈশারায়, হালকা মুখে কি হয়েছে তা খুলে বললো। ঠিক ১০ মিনিট পর শারলিন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যায়। তার বাবা ঘনঘন মূর্ছা যাচ্ছেন। এই খবর পেয়ে মাও বাড়িতে অজ্ঞান। ছুটে গিয়েছিল দীপ্তও কিন্তু শেষ দেখা অার হয়নি। শারলিনের মৃত মুখটা দেখে সে কান্না ধরে রাখতে পারেনি বাড়ি চলে এসেছে। পুলিশ অাসলো, তথ্য যাচাই করলো। লাশ পোস্ট মর্টেম করা হলো। পরদিন পত্রিকার হেডলাইন,

“নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যা”
বিস্তারিত বলতে এতটুকুই লিখা হয়েছে যে,
মেয়েটি তার বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়েছিলো সেখানে তার সাথে এসব ঘটনা ঘটেছে। অাসামীদের পরিচয় মেলেনি। পুলিশ তার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

বাদ জুম্মা শারলিনের জানাযা পড়ানো হয়। দীপ্ত গিয়েছে সেখানে। কবরে একমুঠো মাটিও দিয়েছে। শারলিনের পরিবার একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। তার মায়ের এখনও জ্ঞান ফেরেনি। বাবা থানায় গেলেন মামলা দায়ের করতে রাতুল, রাফি অার সাকির নামে। ‌কিন্তু ওসি সাহেব মামলা নিলেন নাহ। উল্টো তার বাবাকে শাসালেন ব্যাপারটা ভূলে যাওয়ার জন্য। পুলিশ মামলা লিখলো তবে অাসামীদের নামের পরিবর্তে অজ্ঞাতনামা লেখা হলো। শারলিনের বাবা বুঝলেন বড়লোক নেতার ছেলে তাই পুলিশ মামলা নিবে নাহ। তিনি বুকে প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। দীপ্তরও ঘুম হয়না কোন এক অজানা অশান্তিতে। হঠাৎ যেন রোদ ঝলমলে অাকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা।

ফাইজান বাসায় এসে পৌছাল। মা এসে তাকে ভিতরে নিয়ে গেলেন। ফাইজান লক্ষ করলো বাসায় সবাই খুব চুপচাপ। ফাইজান তার মাকে জিজ্ঞেশ করলে তিনি কিছু না বলে এড়িয়ে গেলেন। রাতে খাবার শেষে মা চা নিয়ে অাসলে ফাইজান তার মাকে জিজ্ঞেশ করে,

: মা পিচ্চি বুড়ি জানে অামি যে বাসায় অাসছি?
– (নিরবতা)
: বুড়িটা একবারও যে এলো না।

মা চুপচাপ চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর এসে একটা খবরের কাগজ দিয়ে গেলেন। ফাইজান পেপারটা হাতে নিয়ে চোখ বুলালো,

“নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যা” পাশে পিচ্চি বুড়ি শারলিনের স্কুল ইউনিফর্ম পড়া একটা ছবি।
এটা দেখে মাথায় অাকাশ ভেঙ্গে পড়লো। এত কিছু ঘটে গেল সে খবরও পেলনা। হতবাক হয়ে রইলো। চা তার কাপেই জমে গিয়েছে। পুরো পৃথিবী যেন থেমে গিয়েছে। এটুকু মেয়ের সাথে এই নির্মম বর্বরতা। দেশে এতো পতিতালয়, একাধিক বিয়ের অাইন অাছে তারপরও কেন ধর্ষণ। তাও গণধর্ষণ। এসব ধর্ষকদের অন্ডকোষ কেটে ফেলা দেয়া উচিৎ। শারলিনের নিরীহ মুখটা কল্পনা করে শিওরে উঠে। সারারাত চিন্তায় ঘুম হয়নি। ভোরের অালো ফুটতে শুরু করেছে।

ছাদে গিয়ে খানিকটা হাটাহাটি করে অাসলো। মাকে ডেকে চা দেয়ার জন্য বললো। কিছুক্ষণ পর মা চা অার ডালের পিঠা দিয়ে গেলেন।

সকাল হলে সে শারলিনদের বাসায় ছুটে গেল। শারলিনের বাবা ফাইজানকে দেখে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু দিলেন,

: বাবা তুমি অাসছো!
– জ্বী কালই অাসছি।
: শারলিন শুধু অামায় জিজ্ঞেস করতো সুপারম্যান ভাইয়া বাড়ি অাসেনা কেন, তুমি অাজ অাসছো অথচ অামার মেয়েটা অাজ বেচেঁ নেই।
– চাচা দেশের বিচার ব্যবস্থাই করাপ্টেড সে দেশে ন্যায় বিচার হাস্যকর।
: অমানুষগুলোকে অামি কিছুই করতে পারলাম।
– চাচী কোথায়?
: ভিতরের রুমে।

ফাইজান ভিতরের রুমে গেল। গায়ে কম্বল জড়িয়ে শুয়ে অাছেন শারলিনের মা। মহিলা উঠে বসার চেষ্টা করলেন কিন্তু শরীর দূর্বল থাকার কারণে পারলেন নাহ। শুধু অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলেন ফাইজানের দিকে। চোখ বেয়ে গলগল করে অশ্রু ঝড়ছে। ফাইজান উনার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
‘অাল্লাহ বিচার করবেন চাচী, ধৈর্য্য ধরেন।’

ফাইজান দীপ্তদের বাসার দিকে গেল। মনে মনে বললো। একটা ধর্ষণ হলে কেবল একটা মেয়ে ধর্ষিত হয়না, তার সাথে ধর্ষিত হয় তার পরিবার, পুরো সমাজ, পুরো দেশ। নিজের পরিচিত কারো সাথে না হলে কষ্টটা বুঝা যায়না। খবর পত্রিকায় ধর্ষণের খবর দেখলে অামরা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পরক্ষণেই সেটা ভূলে যাই। হাটতে হাটতে দীপ্তর বাসা চলে অাসলো,

: দীপ্ত বাসায় অাছিস?
– সুপারম্যান ভাইয়া অাসছো।
: কেমন অাছিস?
– ভাল নেই, শারলিন কেন চলে গেল ভাইয়া?
: জানিনা রে।
– রাতুলরা কি এভাবে ঘুরবে বাইরে?
: অাচ্ছা অামাকে বলতো শুরু থেকে।

দীপ্ত একদম ক্লাস নাইনের শুরু থেকে রাতুল অার ওর বড়ভাইদের সাথে শারলিনের ঘুরতে সব বলতে লাগলো,

: রাতুল, রাফি, সাকি এই ৩ কালসাপের জন্য অামরা শারলিনকে হারিয়েছি।
– রাতুলের বাসার ঠিকানাটা দেয়।
: অামরা কি ন্যায় বিচার পাবনা?
– অাল্লাহ বিচার করবেন।
একথা বলে চলে গেল ফাইজান।

ফাইজানের মোবাইলে একটা টেক্সট অাসলো। দীপ্ত টেক্সট করেছে। রাতুল, রাফি, সাকির বাসার ঠিকানা। ফাইজান জানে দীপ্ত শারলিনকে প্রচন্ড রকমের ভালবাসতো। ছোটবেলা থেকেই তো লাভ বার্ডের মত বড় হয়েছে। দীপ্ত চায় ফাইজান কিছু একটা করুক। কিন্ত কি বা করার অা

ছে। সে তো একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। পুলিশ হলেও নাহয় কিছু একটা করা যেতো। চোখেমুখে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

পরদিন ফাইজান সকাল থেকে রাতুলের উপর নজর রাখতে শুরু করলো। কোথায় যায়, কার সাথে যায়, কি করে সব লক্ষ করতে থাকলো। ৪ দিন তাদের ফলো করার পর বুঝা গেল ৩ জন অাসামীর মধ্যে একটা ব্যাপার কমন। তারা প্রতিদিন বিকালে নদীর পাড়ে পোড়াবাড়ির ভিতর গিয়ে বসে নেশা করে।

রাতে বসে বসে ভাবছে ফাইজান। ধর্ষণের ব্যাধি সমাজের চারিদিকে বিষাক্তভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ‌তেমন কোন অাইন না থাকায় দমন করা যাচ্ছেনা। যদি ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদন্ড হতো তাহলে কিছুটা কমানো যেত। কিন্ত তবুও অাইনের ফাকঁফোকরে প্রভাবশালীদের ছেলেপেলে ঠিকই বেরিয়ে অাসবে। একটা স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন। এদেরকে হত্যা করলেও সমাধান হবেনা, দেশের অন্য কোথাও না কোথাও অারো কতশত শারলিন ধর্ষিত হবে প্রতিদিন। ফাইজান চায়ের পর চা শেষ করছে। কি করা যায় ভাবতে ভাবতে মাথা ধরে গেছে। অবশেষে ফাইজান একটা বুদ্ধি বের করতে পেরেছে। সে বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান শফিক সাহেবকে ফোন দিলো,

: স্যার কোথায় অাছেন?
– অারে মেজর যে।
: স্যার অাপনাদের অফিসে অাসবো।
– কবে?
: কাল দুপুর ৩টার ট্রেনে।
– তাহলে কাল দেখা হচ্ছে।

ফাইজান ফোন রেখে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়লো। সারারাত কাজ করে ঘুমিয়ে পড়লো। সকালে উঠে মাকে বললো,

: মা অাজ দুপুরে চলে যাবো!
– দুদিন হলোনা অাসছিস, চলে যাবি।
: মা, তিনদিন পর অাসবো প্রমিস।
– সত্যি তো?
: হ্যা সবার জন্য হাসির ওষুধ নিয়ে অাসবো।
– দুপুরে খিচুড়ি রান্না করি?
: খুব ভাল হয় মা।

ফাইজান রুমে গিয়ে ব্যাগ ঘুছালো। দুপুর ২:৩০ টার দিকে গোসল খাওয়া সেরে রওনা দিলো বাসা থেকে। যাওয়ার অাগে একবার শারলিনদের বাসায় গেল,

: চাচা শারলিনের জন্য মিলাদ পড়ান, সব ঠিক হয়ে যাবে।
– হ বাবা কালকে মসজিদে মিলাদ হবে হুজুরকে বলে রাখছি।
: চাচীর খেয়াল রাখবেন অাসি।
স্টেশনের দিকে যাচ্ছে রিক্সা। দীপ্তকে দেখা যাচ্ছে সামনে,
: এই দীপ্ত।
– তুমি চলে যাচ্ছে। বাহ।
: সুপারম্যান শুধুই কল্পনা রে।
– ভাল ভাইয়া, অাসি।
: কাল হাসিমুখে শারলিনের মিলাদে যাবি। বাই।

স্টেশনে গিয়ে সিসিটিভির সামনের কাচের জানালাতে চুল ঠিক করতে লাগলো। তারপর ট্রেনে উঠে বসে পড়লো।
কিছুক্ষণ বসে ট্রেনের ভিতর দিয়ে হেটে হেটে শেষ বগিতে গিয়ে নেমে পড়লো। রেললাইন ধরে কিছুদূর হেটে রাস্তায় উঠে একটা সিএনজি নিলো। উদ্দেশ্য নদীর পাড়ের বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা গেল ৩ জনই সেই বাড়ির ভিতরে বসে নেশা করছে। ফাইজান তার ব্যাগ থেকে দানিয়ালের উপহার দেয়া সেই সাইলেন্সার লাগানো রিভলবারটা দিয়ে রাতুল, রাফি, সাকিবের মাথায় গুলি করলো। তিনজনেই তৎক্ষণাৎ মারা গেল। ফাইজান অন্য রাস্তা ধরে সড়কে উঠলো। সেখানে তার ভাড়া করা একটা কার অপেক্ষা করছে। ট্রেন ঢাকা পৌছাবে রাত দশটায়, তার অাগে গিয়ে ঢাকা পৌছাতে হবে।

৯টা ৪০ মিনিটে ফাইজান কমলাপুর স্টেশনের কিছু অাগে রেললাইনের কিছু অাগে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে ট্রেন অাসার। ট্রেন যখন এসে থামলো শেষ বগি দিয়ে ঢুকে সে অাবার স্টেশনের উপর নেমে পড়লো। এবার সে সিসিটিভির সামনে দাড়িয়ে ব্যাগ খুলে পানির বোতল বের করলো। সেই বোতল থেকে পানি খেল কিছুক্ষণ দাড়িয়ে। তারপর সোজা গোয়েন্দা সংস্থার অফিস। শফিক সাহেব ফাইজানকে স্বাগতম জানিয়ে গেস্টরুমে গিয়ে অারাম করার জন্য বললেন। ফাইজান সেখানে গিয়ে অারাম করছিলো। কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো জানেনা।
সকালে শফিক সাহেব এসে ফাইজানকে ডেকে তুলে অাজকের পত্রিকাটা এগিয়ে দিলেন,
“চিরকুট লিখে তিনজনকে গুলি করে হত্যা”

ফাইজান একটু হাসলো তারপর পুরো খবরটা পড়তে লাগলো। পুরো খবরের সার সংক্ষেপ হলো, শহরের একটি অব্যহৃত বাড়ির ভিতর তিনটি লাশ পাওয়া গিয়েছে। যাদের সবার গলায় একটি করে চিরকুট ঝুলানো,
“অামি শারলিনের ধর্ষক!
ধর্ষণের পরিণতি ইহাই,
হারকিউলিস!”

কয়েকদিন অাগে শারলিন নামে একটি মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকেই। পুলিশ ধারণা করছে এটা কোন হাই ফাই কিলার কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর সাথে জড়িত এমন কারো কাজ। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী বিকেল ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।

শফিক সাহেব একটু কেশে উঠলেন,
: মেজর, সন্দেহের তীর কিন্তু তোমার দিকেই।
– কি যে বলেন স্যার অামি দুপুর ৩টায় ট্রেনে উঠে রাত ১০টায় ঢাকা এসে পৌছেছি। বিশ্বাস না হলে দুই স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করুন।
: ‌সেটা অামরা বের করে নেব।
– স্যার অাপনাদের অফিসে কি এখনো সকালে ভাত খেতে দেয়া হয়?
শফিক সাহেব একজনকে ডেকে খাবার দিতে বলে চলে গেলেন।
ফাইজানের ফোনে একটা কল অাসলো,
: হ্যালো সুপারম্যান ভাইয়া।
– হ্যা বল।
: অামি হাসিমুখে শারলিনের মিলাদে যাচ্ছি।
– হাহা অাচ্ছা যা।
: থ্যাংক ইউ ভাইয়া, টাটা।

ফাইজান টিভি ছাড়লো। সব কয়টা চ্যানেলের একই হেডলাইন। চিরকুট লিখে ধর্ষকদের হত্যা করেছে হারকিউলিস। ফাইজান একটা তৃপ্তির হাসি হাসলো। তবুও কিছু একটার অপেক্ষায় রয়েছে। অাগামী ৩টা দিন গোয়েন্দা অফিসেই শুয়ে বসে কাটাতে হবে। এই ৩,৪ দিনে দেশে তুলপাড় হয়ে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন ধর্ষণ মামলার অাসামীদের লাশ পাওয়া গিয়েছে যাদের গলায় ঝুলানো সেই হারকিউলিসের চিরকুট। ৭ জেলায় ৮টা ধর্ষণ মামলার ১৩ অাসামীকে হত্যা করা হয়েছে।

এটারই অপেক্ষা করছিল ফাইজান। যে দেশে ধর্ষণের বিচার হয়না সে দেশে বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডই হওয়া উচিৎ। জেলায় জেলায় একেকজন হারকিউলিসের জন্ম হোক। রক্ষা পাবে মা-বোনের ইজ্জত। ফাইজান অফিস থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠলো। সবার হাসিখুশি মুখটা দেখার জন্য মনটা অানচান অানচান করছে। চোখ বন্ধ করে শুয়ে অাছে সিটে। ঠিক তখনই মনে হলো কে যেন কানে কানে কিছু বলছে। ফাইজান মন দিয়ে শুনার চেষ্টা করলো। কে যেন বলছে,

অামি মারা গেছি, কিন্তু অামার রিভলবারটা দিয়ে সমাজের কীটপতঙ্গ মেরে অামাকে ভাল কাজের মাঝে বাচিঁয়ে রেখেছিস তুই।
অারেক পাশে অারেকটা মেয়েলি কন্ঠ।
“সুপারম্যান ভাইয়া, গুড়ের বার্গার খাবে?

বিশেষ দ্রষ্টব্য : গল্পটি অনেকের মনে প্রশ্ন বা সমালোচনার জন্ম দিতে পারে, সেজন্য কিছু কথা বলা জরুরি। বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড অবশ্যই অাইনত দন্ডনীয় অপরাধ। অার ধর্ষণ পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ। এখানে কোন বিষয়বস্তুকে সমর্থন করা হয়নি। ধন্যবাদ।

গল্পের বিষয়:
জীবনের গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত