রেসপেক্ট

রেসপেক্ট

এই শুনছো?
_কি?
_রান্না করার সময় হয়ে গেছে যাও রান্না করো আজ।
_মানে কি? আমি কেন রান্না করবো তুমি থাকতে।
_ গতকালকে ঘুমানোর সময় কি বলছো হু।
_কি বলছি?
_আজ তুমি রান্না করবে বলে বলছো।
_ও আচ্ছা , কি রান্না করতে হবে আজ?
_মুরগি রান্না করো।
_আমি’তো মুরগি কাঁটতে পারি না।
_আচ্ছা আমি কেঁটে দিবো।
_আচ্ছা তাহলে চলো রান্নাঘরে।
.
“রান্নাঘরে গিয়ে শুরু করলাম কাজ।অবন্তি মুরগি কেঁটে দিয়ে শাড়ির অাঁচলের চাবি ঘুরাইতে ঘুরাইতে চলে গেলো রুমে।

অান্দাজি শুরু করলাম মুরগি রান্না করা।যদিও অনেক অাগে রান্না করেছি তবে এখন ভুলে গেছি তেমন অাগের সে অভিজ্ঞতা নাই।

তারপরেও বউয়ের সাথে বাজি ধরে মানকি চিপায় পড়ে রান্না করতে হলো মুরগি। অনেক কষ্টে মুরগি রান্না করলাম, বউটারে নরম সুরে কইলাম-
.
__মাহারাণী খেতে আসেন আপনার জন্য আমি মুরগি রান্না করে ফেলছি।
__হ্যাঁ আসতেছি।
.
“বউটা আবার চাবি ঘুরাইতে ঘুরাইতে ভাত খেতে আসলো।প্লেটে ভাত তুলে দিলাম।বউয়ে এক লোকমা খেয়ে আমাকে বলে-
.
__বাহ! তুমি’তো অসাধারণ রান্না করতে পারো।
__বুঝতে পারছি পাম্প দিতাছো।
__না সত্যি বলতেছি খুব স্বাদ হয়েছে।
__না মিথ্যা বলছো তুমি।
__সত্যি খুব স্বাদ লাগতেছে আমার কাছে।
.
অবন্তি লোকমা করে করে খাচ্ছে।আমি মনে মনে খুব খুশি, আমিও রান্না করতে পারি।
নিজের হাতে রান্না আজ নিজেই খাবো ভাবতেও অবাক লাগতেছে।

মুরগি, ভাত প্লেট এ নিয়ে প্রথম লোকমা মুখে যখন দিয় অামার কানে পর্দা গরম হয়ে যায় ঝালে। মনে হয় গরম ধোঁয়া যাইতেছে কান দিয়ে ।

অবন্তি চুপচাপ খেয়ে থালাবাসন ধুয়ে রুমে চলে গেছে।বউটা কিছুই বললো না হাসিমুখে খেয়ে নিছে।
.
মনে মনে চিন্তা করলাম শুধু আমরা স্বামীরা পারি বউ যখন রান্না করতে গিয়ে ঝাল, মরিচ, লবণ, বেশি দিয়ে তখন খারাপ ভাষা গালি দিতে।

আমরা স্বামীরা পারি খাবার প্লেট ছুঁড়ে মারতে।আমরা স্বামীরা পারি সবার সামনে অপমান করতে স্ত্রীকে।

অামরা স্বামীরা পারি রান্না নিয়েও স্ত্রীর মুখে থাপ্পড় দিতে।
আর সে স্ত্রী এগুলো শুনেও আমাদের সাথে সংসার করে।

দুপুরে যখন অপমানিত হয় স্বামীর কাছ থেকে আবার সে স্বামীর জন্য রাতে রান্না করতে রান্নাঘরে যায় সে স্ত্রী।
.
বিঃদ্র:সত্য কথা বলছি তাই অনেকজনের গায়ে লাগতে পারে,গায়ে লাগলেও কিছু করার নাই।সদা সত্য কথা এমন হয়।

তবে হ্যাঁ সব স্বামী তার স্ত্রীর রান্না নিয়ে বাজে ধরণের কথা বলে না অনেকজন ভালোও আছে।

ঘরের বউকে রেসপেক্ট করার উচিত যদিও ভুল হয় অপমান না করে বুঝিয়ে বলা দরকার।

কারণ সে মেয়েটাও তার বাবা, মা,ভাইবোনকে ছেড়ে আপনার কাছে মৃত্যর অাগ পর্যন্ত থাকার শপথ করে, তাই বুঝিয়ে বললে ভালো হয়।

অাবার দেখা গেছে অনেক ভাইও বোনের রান্না নিয়ে বাজে কথা বলে সবার সামনে অপমান করে এটা কিন্তু ঠিক না, উত্তম ব্যবহার কিন্তু সামনের পথচলা।

গল্পের বিষয়:
অনুপ্রেরণা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত