ভুতুড়ে বাড়ি

ভুতুড়ে বাড়ি

আজকে যে কাহিনি বলবো এ কোন কাহিনি না আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্যি ঘটনা। ঘটনা টা প্রায় ৪ বছর আগের ঘটনা।
.
.
.আমার দাদু বাড়ি একটু ভুতুড়ে টাইপের। আমার চাচারা সবাই ই ঢাকা চিটাগাং এরকম ছড়িয়ে থাকে যে জন্য দাদুবাড়ি এক চাচি আর দাদু ছাড়া কেউ থাকেনা। ৪/৫ টা ঘর মাঝখান এ উঠান বাড়ির পেছনে একটা বাগান আছে। বাগান টা দেখলেই কেমন গা শিউরে ওঠে। মানুষ জন কম থাকায় বাড়িটা কেমন ভুতুড়ে টাইপ লাগে। আমরা কোন অকেশন ছাড়া দাদু বাড়ি যাইনা। যে কারনে এই নিরাবতা বুঝতে পারতাম না কারন অকেশন এ সব চাচা কাজিন আসতো বাড়ির এই নিরাবতা বোঝা জেত না।
.
.
.
তবে সেবার হঠাৎ ই আব্বুর সাথে দাদুবাড়ি যাই কোন অকেশন ছাড়া ই। আব্বুর অফিস থেকে ফোন আসায় তাড়াহুড়া করে আবার ঢাকা চলে আসে আমাকে দাদুবাড়ি রেখেই।
.
.
. যেহেতু দাদুবাড়ি অনেক গুলো ঘর ছিলো তাই আমি আর দাদু একটা ঘরে ঘুমাই ঘরে ৪ টা রুম। আমি একাই এক রুমে ঘুমালাম আর দাদু আরেক রুমে। আমি যে রুমে ঘুমাই বাগান টা ঠিক তার পেছনে অর্থাৎ রুমের পেছন জানালা খুললেই বাগান।
.
.
.বাড়ি তে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। মানুষ জন না থাকায় কেমন পরিত্যাক্ত বাড়ির মতো মনে হচ্ছিলো। আর আমার চাচি আর কাজিন রা যে ঘরে ছিলো সে ঘর আর আমাদের ঘরের মাঝখানে ছিলো উঠান।
.
.
. আমার সময় কাটছিলোনা এভাবে এরকম একটা গুমুটে পরিবেশে। রাত ১০ তা পর্যন্ত ফেসবুক ব্রাউজিং করে ঘুমিয়ে পড়ি।
.
.
.রাত ২ টার দিকে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায়। স্বপ্ন টা ছিলো এরকম
_ আমি আমাদের ঘরের পেছনের বাগানে গেছি অনেক রাতে, আমার সামনে ৭ ফুটের মতো কালো কুচকুচে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার খুবি ভয়ংকর আর বিৎঘুটে চেহারা। সে দেখতে কতোটা ভয়ংকর আমি বলে বোঝাতে পারবোনা। সেই ভয়ংকর দানব টা আমার দিকে এগিয়ে আসে আমি ভয়ে নিথর হয়ে যাই। কেমন জেন তার নিঃশ্বাস জানোয়ার এর নিঃশ্বাস এর শব্দের মতো ছিলো।
দানব আকৃতি আমার দিকে এগিয়ে আসে। আর আমাকে বলে
_রাশা আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছ কেনো। আমার নিঃশ্বাস এর শব্দে বুঝতে পারছো না আমি কী? বলো তো আমি কি।
বলেই দানব টা আমার দিকে এগিয়ে আসে।
আমি চিৎকার করে উঠি।
.
.
. চোখ মেলে দেখি আমি বিছানায়। তখন হাফ ছেলে বাচি যে জাক এটা দুঃস্বপ্ন ছিলো। কিন্তু আমি তখন খাটের ওপর কারো উপস্থিতি ফিল করতে পারছিলাম। আমার মনে হচ্ছে আমার পায়ের কাছে কেউ একজন বশে আছে আর গো গো করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে যেরকম টা স্বপ্নের ওই দানব টা নিঃশ্বাস নিচ্ছিলো।
আমি এটা কে আমার ভ্রম মনে করেছিলাম এটা ভেবেছিলাম যে হয়তো দুঃস্বপ্ন দেখেছি তাই ভয়ে হ্যালুসিনেইসন হচ্ছে।
.
.
.তাই মোবাইল বের করে দেখি ২ টা বাজে। এখনো আমার কানে নিঃশ্বাস এর শব্দ আসছে। তাই সব ভুলে থাকার জন্য ফেসবুক ব্রাউজিং করতে থাকি, যাতে এই ঘোর কেটে যায়। ১০ মিনিটের মতো ফেসবুক ব্রাউজিং এর পর ও যখন ভয়ংকর সেই নিঃশ্বাসের শব্দ কমলো না তখন আমার পিলে চমকে ওঠে। আমি ঘেমে যায়। আর সেই নিঃশ্বাসের শব্দ আরো কোঠিন হয়ে যায়।
দাদুর রুমে লাইট জালানো ছিলো তার হালকা আবছা আলো আমার রুমে ও পড়ছিলো। আবছা আলোয় আমি দেখছিলাম আমার পায়ের কাছে সত্যি ই সেই স্বপ্নে দেখা দানব আকৃতি টা বসে আছে আর ভয়ংকর ভাবে নিঃশ্বাস এর গো গো শব্দ করছে। আমি তার মুখের দিকে তাকানোর সাহস পাইনি। ভয়ে চিৎকার করে আয়তাল কুরছি পাঠ করতে করতে দাদুর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ি দাদু তখন ঘুমে বিভোর ছিলো। তাই তাকে না জাগিয়ে ভয়ে তাকে আকড়ে ধরে সে রাত টা পার করে দেই।
.
.
.সে রাতে আর শমস্যা হয়নি। তবে কেন আমার সাথে এরকম অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো আজ ও জানিনা। এই ঘটনার পর দাদুবাড়ি খুব কম গেছি। আর গেলেও সে ঘরে আর কোন দিন জাইনি।
পরে আব্বুর কাছে আর কাজিন দের কাছে শুনেছি আমার দাদুবাড়ি ভালোনা খুব হান্টেড। আমার আব্বু ও এরকম অনেক কিছু দেখে ভয় পেয়েছে ছোট বেলায় আমার কাজিন ও এরকম অনেক কিছু দেখছে। তবে অনেকেই বলে ভয় পেলে তার জর আসে আমি এরকম আরো অনেক অনেক ঘটনার মুখোমুখি হইছি কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার কিছুই হয়নি।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত