ভয় নাকি ভূতের স্বপ্ন

এই অতনু শোন,

ডাকটা শুনেই বুকের ভিতরটা ধড়ফড় করতে লাগলো। ভয় পাবো বলে আগে থেকেই সিগারেট জ্বালিয়েছি।

হুমম বল, বলতেই পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। শরীরটা তখন আরও বেশি শিউরে উঠলো। বুকটা আরও বেশি ধুকপুক করতে লাগলো।

(কিছু দূরে যেতেই) কিরে! চলে যাচ্ছিস? এইবার শরীরটা টলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। সাহস আর শক্তি দুটোই হারিয়ে ফেলেছি। ভয়ে ভয়ে বললাম, কে? কণ্ঠটা পরিচিত ছিলো বটে, তবুও।

বললো আমি! আমি অতল বলছিলাম। কেন চিনতে পারছিস না?

গলাটা শুকনো কাঠের মতো হয়ে গেছে। দেহটা ভয়ে শুকিয়ে চৌচির। একদম ফাঁকা মাঠের মতো।

বললো কেমন আছিস? ঢাকায় এখন কি করছিস?

কোন সাড়াশব্দ নেই আমার। সামনের দিকে শুধু হেঁটেই চলছি। পিছনে ফিরে তাকানোর সাহসটুকু ছিলো না।

আবার বললো, কিরে! কথা বলছিস না কেন? ভয় পেলি নাকি?

কিছুটা সাহস জুগিয়ে আমতা-আমতা করে বললাম – ভয় পাবো কেন? তুই বাঘ না ভূত? ভুতের কথা বলতেই অদৃশ্য এক স্পর্শ এসে শরীরের কলকব্জা নাড়িয়ে দিয়ে গেলো। ঠিক যেন দমকা হাওয়ার মতো। হাতপা কাঁপতে শুরু করলো। মনে হচ্ছিল বেশ ভয় পেয়েছি। সিগারেট মুখে দিয়ে আগুন জ্বালিয়েছি ঠিক তখনই উষ্ণ বাতাসে আগুনটা নিভে গেল। বারবার চেষ্টা করেও কোন সুরাহা হলো না। তবুও ম্যাচটা হাতেই রেখেছি।

হঠাৎই বাম হাতের কনুই ধরে টানতে শুরু করলো। ঘুটঘুটে আঁধারে কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। চারপাশটা কেমন যেন স্তব্ধ লাগছিলো। বারবার মনে হচ্ছিল কেন যে ট্রেনটা এতো দেরি করলো।

আমি বারবার আঙুলটা ছুটাতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুতেই ছাড়াতে পারছিলাম না। হঠাৎই পায়ের সাথে কোন একটা ইটের চোট লেগে মাটিতে লুটে পরি। ভয়টা ততক্ষণে শরীরের মধ্যে আরও বেশি ঢুকে গেছে। হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম, আমার কাছে কি? আমাকে ছেড়ে দে। দুই হাতপা দিয়ে পিছনের দিকে যেতে লাগলাম। কিন্তু অদ্ভুত এক চেহারা আমার দিকে ছুটে আসতে শুরু করলো। আমি যতই দূরে সরে যেতে চাচ্ছি ততই যেন আরও বেশি কাছে চলে আসছি।

লম্বা দুটো হাত দিয়ে গলা টিপে ধরবে এমন সময় – না ধরবি না। না ধরবি না বলে খুব জোরে চিৎকার করে উঠি।

ঘরের দরজা, খাট, আলনাগুলো যেন চোখের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছিলো। হাঁপাতে হাঁপাতে টেবিলে রাখা জল পান করবো ইতিমধ্যে দরজায় কে যেন নক করতে লাগলো। ভয় তখনো আমি গুটিয়ে বসে রইলাম। কিন্তু দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসতে শুরু করলো -খোকা, দরজা খোল। আমি তোর আম্মু। কিরে খোকা! খোল। বাবার কন্ঠস্বর শুনে আচমকাই দরজা খুলে দিয়ে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করি। বাবা ইতিমধ্যে লাইট জ্বালিয়ে দিয়েছে।

ওইদিন সকালে ঘুম ভাঙলেই দৌড়ে গিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা লক্ষ্য করলেই মনে পরলো – গতবছর এইদিনে অতল হিজল তলায় ফাঁসি নিয়েছিলো। বাবার সাথে অভিমান করে।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত