প্রশ্ন

প্রশ্ন

শনিবার সকাল 10 টা বেজে 12, রিনি হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে এলো।
প্রিয়া: কিরে কি হইছে?? হাপাঁচ্ছিস কেনো??
সিরিয়াস কিছু হলো নাকি??
রিনি: আরে বাবা বসতে দে তারপর বলছি,একটু জল আন আগে।
প্রিয়া: আনছি
জল খাওয়ার পর…..
প্রিয়া: কিরে এবার তো বল কি হলো?
রিনি: আরে আজকে তো সবার ছুটি,তাই আমি ঠিক করেছি আজকে সবাই মিলে পিকনিক করবো,তুই কি করবি??
প্রিয়া: নিশ্চয়.. তা আর কে কে আসছে?
রিনি: বেশি কেউ না ।তুই আমি নীতু প্রীতি আর কেউনা।
প্রিয়া: ওকে ,তাহলে কখন কি হবে আমাকে একটু বল।
রিনি: 7 টার মধ্যে তৈরি হয়ে নিস।  আর আমার একটা প্ল্যান আছে! আমরা সবাই আলাদা ড্রেসআপ নিয়ে আসবো।কাউকে যাতে চেনা না যায়।ব্যাপারটা কিন্তু খুব ইন্টারেসটিং হবে।
প্রিয়া: হুমমম…..কিন্তু…ঠিকাছে।নীতু আর প্রীতি কি জানে??ওদের বলিসনি এখনও?
রিনি: আরে তোকে বলেই ওদের বাড়ি যাবো ভাবছিলাম,দাঁড়া তোর ফোন টা দে তো, ওদের ফোন করে বলে দিচ্ছি।
প্রিয়া: দাঁড়া আমি ফোনটা আনছি।
2 মিনিট পর,
প্রিয়া: নে ধর।
রিনি: হ্যালো ডিয়ার… আমি রিনি রে।বলছি শোন না আজকে রাত্রে 7 টার সময় আমরা পিকনিক করবো।তোকে কিন্তু ভাই আসতেই হবে.. না না…কোনো বাহানা নয়।আচ্ছা বলছি প্রীতি কে একটু বলে দিবি??………. ও প্রীতি তোর সাথেই আছে তাহলে ফোন টা স্পিকারে রাখ। শোন,পিকনিক  এর মোস্ট ইন্টারেস্টিং জিনিস টা হলো ড্রেসআপ।আমরা সবাই আলাদা ড্রেসআপ নিয়ে আসবো ,নাটকের ড্রেস গুলো তো আছে ওগুলোই পরে নিস।কিন্তু প্লিজ, যে ড্রেস টা তুই পরবি সেই ব্যাপারে যেনো কারোর সাথে ডিসকাস করবিনা,তাহলে পুরো প্ল্যান টা নষ্ট হয়ে যাবে, ওকে এবার তাহলে রাখছি, বাই নীতু….. বাই প্রীতি…
রিনি: এবার তাহলে উঠি প্রিয়া,বিকালে দেখা হচ্ছে….
দ্বিতীয় অংশ
6 টা 15…….
প্রিয়ার মা: প্রিয়া ওঠ ওঠ নীতু কল করেছে দেখ কি বলছে!!
প্রিয়া: দাও ফোনটা দেখি……হ্যালো নীতু বল কি বলছিস??
নীতু: হ্যালো বলছি আজকে রাতে…………..না
প্রিয়া: কি বলছিস শুনতে পাচ্ছি না কেটে কেটে যাচ্ছে!
নীতু: আরে আজকে রাতে…..যাবো…..পিপ…
প্রিয়া: হ্যালো হ্যালো নীতু……. ধ্যাত তেরি ফোনটা কেটে গেলো!!কি বলেছিল কে জানে! দেখি একবার  ফোন করে।।।……উফফ সুইচ অফ ….ভালো লাগেনা কি যে হচ্ছে…..মা আমি রেডি হতে গেলাম পিকনিক আছে ছাদে…
45 মিনিট পর…….
প্রিয়া: মা ছাদে চললাম।ঐযে রিনি আসছে।
রিনি: কিরে আমাকে চিনতে পারছি বল তো আমি কে???
প্রিয়া: হ্যা তাইতো। তুই কে রে আমি তো তোকে চিনতেই পারছিনা।কে বলতো???
রিনি: ঠিকাছে ঠিকাছে নাটক করিসনা, চল ছাদে যাই।।…..বাহ…কি টাইমিং..প্রীতি আর নীতুও চলে এসেছে। প্রীতি তোকে কিন্তু হেভী লাগছে।।
নীতু: এক্সকিউজ মি আমি নীতু নট প্রীতি
রিনি: ওহ সরি।।।।।
প্রীতি: তোরা কি ছাদে উঠবি নাকি সিড়িতেই দাঁড়িয়ে রাত কাটাবি???
প্রিয়া: হুমম চল চল….
বন্ধুদের সাথে পিকনিকের আনন্দে বিকেলে নীতুর করা কল টার কথা প্রিয়া প্রায় ভুলেই গেল…
ছাদে এসে….
প্রীতি: ওয়াও,হেভী লাগছে…ভাই গান চালা,,নাচবো।।…….কিরে নীতু তোর কি হইছে তুই নাচ্ছিস না কেনো??
নীতু: আরে ভালো লাগছে না
রিনি: সেকিরে!!!?এতক্ষন তো ঠিক ছিল হঠাৎ কি হলো??
নীতু: কিহ্ কিহ কিছুনা…আমি ঠিক আছি,তোরা নাচ না আমি একটু বসি।।।
নাচ গান চলতে থাকলো….নীতু গিয়ে চেয়ার নিয়ে বসে ওদের নাচ গান দেখতে লাগলো…
হঠাৎ,
রিনির মনে হলো,নীতু সিড়ি দিয়ে নেমে গেল ,
কিন্তু চেয়ার এর দিকে তাকিয়ে দেখলো, না.. নীতু তো বসে আছে!!
তাহলে,,
মনের ভুল ভেবে রিনি ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিলনা।।
2 ঘণ্টা পর…….
প্রীতি: আর ভালো লাগছেনা,চল এবার ডিনার করে নি,তারপর একটু বসে গল্প করব।।।
রিনি: হ্যাঁ,চল খেয়ে নি,ওই নীতু আয় রে!!
খাওয়ার পর……
প্রিয়া: এই এবার কিন্তু আর নাচ নয়,গানের লড়াই,কিরে নীতু এবার খেলবিতো??কোনো না শুনবোনা।।।।।
রিনি: চল চল খেল না খেলে যাবো কোথায়!!
নীতু: হুমম খেলছি শুরু কর।।
প্রীতি: আমি গাইছি, ‘ ত ‘ দিয়ে …. তেরি মেরি কাহানি……
গানের লড়াই এর আসর জমে উঠলো,রাত ও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলো।

 তৃতীয় অংশ
যখন সবার হুঁশ ফিরল তখন ঘড়িতে সময়  রাত সাড়ে 11টা…
প্রীতি: এই রাত হয়ে গেছে,চল সবাই আর বেশিক্ষন না , মা বকবে।
রিনি: হুমম চল…..
রিনি: ঐই নীতু কই??
প্রিয়া: এখানেই তো ছিলো,দেখ ওদিকে গেছে হয়তো!!
পুরো ছাদ খুঁজেও যখন নীতু কে পাওয়া গেলনা,
তখন সবাই ভয় পেয়ে গেলো!…
প্রীতি: তাহলে হয়তো ও নীচে নেমে গেছে,আমরা দেখিনি,কিন্তু….
রিনি: আরে ওর বাড়িতে একবার দেখে এলেই তো হয়!!!
প্রীতি: হুমম সেটাই ভালো,,চল…
ওরা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগলো।
নামতে নামতে সবাই দেখলো নীতুর মা ঘরের চাবি খুলছে।। আর নীতু বাইরে দাঁড়িয়ে , ওকে দেখে রিনি চেঁচিয়ে উঠল…
রিনি: ওই নীতু দাঁড়া দাঁড়া।
নীতু: কি হলো?আগে বল পিকনিক টা কেমন হলো??
রিনি: পিকনিক টা তো ভালো হয়েছে,কিন্তু তুই এটা জিজ্ঞেস করছিস কেনো?? তুই এমন ভাব করছিস যেনো তুই পিকনিকে যাসনি!!!!

নীতু: ভাব করার কি আছে?? আমি তো সত্যিই যাইনি!!
প্রিয়া: কি বলছিস তুই???! এই এত রাত্রে মজা করাটা ছাড়…..
নীতু: আরে ইয়ার,আমি  মজা করছিনা,আমি সত্যিই যাইনি।।।
প্রীতি: মানে
নীতু: মানে আমি যাইনি,আরে বিকেলে হটাৎ খবর এলো দিদার শরীর খারাপ তাই আমদের হঠাৎই চলে যেতে হলো দিদার বাড়ি….এক মিনিট…আমিতো প্রিয়া কে ফোন করে বলে দিয়েছিলাম….প্রিয়া তোদের বলেনি,,কিরে প্রিয়া তোকে আমি ফোন করিনি????
সবাই প্রিয়ার দিকে তাকালো…
প্রিয়া: হ্যাঁ ফোন তো করেছিলিস কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাইনি।।ফোন কেটে গেছিলো…পরে ফোন করলাম সুইচ অফ….
নীতু: আমার ফোন সুইচ অফ ছিলনা।।।
রিনি: এখানে হচ্ছেটা কি আমকে কেউ স্পষ্ট করে বলতো?!!যদি নীতু নীতু না হয়,তাহলে সে কে???
প্রিয়া: সেটাই তো আমাদের ফ্ল্যাট এ আর কোনো মেয়ে বা ছেলে নেই যে তারা মজা করার জন্য এটা করবে,তাহলে যে আমাদের সাথে পিকনিক এ মজা করলো আর নীতুর পরিচয় নিয়ে ছিল সে কে??????আদৌ কোনো মানুষ নাকি ……..😰😰

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত