অতৃপ্ত প্রেমিকার আত্মা

অতৃপ্ত প্রেমিকার আত্মা

সমুদ্রের ধারে বিশাল এক পাহাড় ! একজন মেয়ে গভীর রাতে চুপিচুপি এসে হাজির হয় সেই পাহাড়ের ধারে । ধাপে ধাপে সজ্জিত পাথরে পা ফেলে ফেলে মেয়ে উঠতে থাকে পাহাড় চূড়ায় । প্রয়োজন মতো ছোট-বড় লাফ দিয়ে, বহু কষ্টে সে পৌঁছে যায় তার গন্তব্যে । তারপর চওড়া পাথরটার ওপরে বসে অপলক চেয়ে থাকে চাঁদের পানে। পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে আজ আকাশে, চারিদিক ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলোয় ! সাহসী পুরুষ তন্ময় দূর থেকে চাদের আলোতে সে অবাক হল । হাত ঘড়িটার দিকে চেয়ে দেখে রাত একটা । পিস্তলটা দেখে নিল গুলি ঠিক আছে কিনা । রাতের বেলায় কালো পোশাক পরে আস্তে আস্তে পাহারে উঠতে লাগলো ।
ধাপে ধাপে সজ্জিত পাথরে পা ফেলে ফেলে ঠিক মেয়েটার পিছনে দাঁড়ালো । কোন শব্দ করেছে না । মেয়েটির চুল গুলো খুব সুন্দর । পায়ে নুপুর । হাতে অনেক চুরি ও মেহেদি পরা । শাড়ি টা তাঁকে দারুন মানিয়েছে । ভাল করে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখল । সমুদ্র থেকে বাতাস ভেসে আসছে সাথে শো শো শব্দ ।
মেয়েটি পিছন না ফিরে বলল,
— কতক্ষণ দারিয়ে থাকবেন । এই পাহারে উঠা খুব কঠিন । যারা কষ্ট করে উঠে তারাই দেখতে পারে রাতের সমুদ্র কে ।
— কি আছে রাতের সমুদ্রে । আর আপনি একটা মেয়ে মানুষ এখন রাত কত জানেন ।
— দেখুন আমি তো আপনাকে এখানে আসতে বলি নাই । মেয়ে মানুষ বলে কি আমি মানুষ না । আমার ইচ্ছা নাই । আপনি ছেলে বলে যা খুশি করবেন! তাই সমাজ মেনে নিবে,
— না !আমি তা মিন করে বলি নাই ।
— দেখুন এই পাহারে রাতে কেউ আসে না।
— আপনি আসলেন যে ।
— মেয়েটি একটু হাসি দিয়ে বলল – আমি তো এই পাহারর মেয়ে । ঐ যে দূর গ্রামে আলো জলছে ঐ গ্রামে আমার বাড়ি।
— কি নাম আপনার
— মেয়েটা এবার হাসি দিয়ে বলল , আমার নাম লতা।
— লতা এত রাতে এখানে থাকা ঠিক না । তা ছাড়া আপনার গ্রাম তো অনেক দূর ।
— না তেমন কোন দূর না । এই পাহারের ঢাল দিয়ে হেটে গেলে একদম কাছেই । তা আপনার নাম কি?
— আমার নাম তন্ময় ।
— তন্ময় বাবু । আপনি দেখতে অনেক সুন্দর ।আড় চোখে দেখল তন্ময় কে
— তন্ময় অবাক হল ! এত সুন্দর একটা মেয়ে । কত কোমল লাবন্য মায়াবী চেহারা । চাঁদের আলো হেরে যায় সত্যি নারীর রুপে । মেয়েটি হাসতে লাগলো । তন্ময় বাবু । আজ পূর্ণিমা । এই পাহাড় দিয়ে হেটে গেলে বড় রাস্তা । ঐ দিক থেকে আসবে আমাকে নিতে,
— কে নিতে আসবে ?
— আমি যার জন্য অপেক্ষা করছি ।
— তুমি কাউকে ভালবাস ?
— হা বাবু । আমি তোমার মত এক পরদেশি কে ভাল বাসি ।
— কি নাম তার
— আকাশ ।
— কোথায় থাকে ও
— ও তো বলে ওর বাড়ি সিলেট এ । আজ আমাকে নিতে আসবে । যখন দেখবে সমুদ্রের এই সোনালি পানি জোয়ারে এই পাহারের কাছে চলে আসছে ও তখনি আসবে।
— বাহ দারুন তো ।
—- জোয়ার আসলে আমাদের গ্রামের মানুষ আর এই দিকে আসতে পারবে না। ঠিক যখন চাঁদটা ডুবে যাবে একটু অন্ধকার হবে । তখন চলে আসবে আমাকে নিতে । দেখুন চাঁদ ডুবতে আর কয়েক মিনিট লাগবে । আমার আকাশ চলে আসবে ।
— আপনি কি আকাশের বাড়ির ঠিকানা জানেন।
—- হা জানি তো । সিলেট লিচু বাগান । ১১ নম্বর বাড়ি । আমাকে ও মুখস্ত করে রেখেছে ।
তন্ময় খুব অবাক হল । সত্যি চাঁদের সাথে সুধু আকাশের ঠিকানা হয় । অন্ধকার হয়ে আসছে দেখে ।তন্ময় লতার কাছ বিদায় নিয়ে পাহারের পথ ধরে হাঁটতে লাগলো ।লতা কন্না করছে আকাশ তুমি কোথায় । আমি তোমার রেখে জাওয়া জায়গায় দারিয়ে আছি । এখন লতা চিৎকার করছে আকাশ , আকাশ । তন্ময় চিৎকার শুনে আবার পিছনে ফিরল । জোয়ারে পাহার পর্যন্ত পানি চলে আসছে । অনেক বড় বড় ঢেউ পাহারে আঘাত করছে যেন পাহার ভেঙ্গে ফেলবে । একেবারে চাঁদ ডুবে গেল । কোথাও জোছনার আলো নেই । তন্ময় চিৎকার করে বলছে লতা আপনি কোথায় ।
লতা আকাশ আকাশ তুমি চাঁদ ডুবে যাওয়ার আগে আসলে না। আমি আর বাড়ি ফিরে যেতে পারব না। আমি পূর্ণিমার নিয়ম ভেঙ্গে ছি । আমার যাত নষ্ট করেছি । তুমি এলে না বলে ঐ বিশাল পাহার থেকে সাগরে লাফ দেয় লতা । তন্ময় ও লাফ দিতে নেয় । এমন সময় পিছন থেকে তার হোটেলের ছেলেরা ধরে ফেলে । তন্ময় বলতে থাকে মেয়েটা মারা যাবে । মাকে ছেরে দাও । হোটেলের ম্যানেজার ধমক দিয়ে বলে
থামুন । কোথায় এখানে সাগর । ভাল করে দেখুন । আপনি চাঁদের আলোতে ভুল দেখছেন । সাগর তো অনেক দূরে । তন্ময়ের হুস আসে চেয়ে দেখে । মাথার উপর চাঁদ । সাগর অনেক দূরে । হোটেলের ম্যানেজার বলে । ইস আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করেছে । আমি আপনার রুম খুলা দেখে অবাক হই । কোথাও আপনাকে দেখা যায় না। তার পর নাইট ভিসন দূরবীণ দিয়ে দেখি আপনি পাহারের উপরে । আমারা আসতে আসতে দেখি আপনি লতা বলে চিৎকার করছেন ।
— দেখুন ম্যানেজার সাহেব একটা মেয়ে এই পাহার থেকে লাফ দিয়েছে ।
— হা আপনার মত গত ১২ বছরে ৯ জন ঐ মেয়েকে বাচাতে মারা গেছে ।
— আসলে ঐ মেয়েটা একটা ভুত । কেউ এর রহস্য বের করতে পারে নাই ।
তন্ময় খুব অবাক হল । লাফ দিলে সে বাঁচত না । নিচে শুধু পাথর ।
তন্ময় খুব অবাক হল । তিন দিন পরে সে সিলেট চলে আসলো । লিচু বাগান ১১ নম্বর বাড়িতে গেল জানতে আকাশ নামে কেউ আছে কিনা । জানতে পারলো আকাশ আছে । তবে পাগল । জানতে পারলো লতার লাশ দেখার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাগল ……………………………।।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত