চুলবালি

চুলবালি

২০১০সাল। তখন আমি ১৩ বছর কিশোরী। গ্রামে গিয়েছিলাম বেড়াতে। এটাই প্রথম গ্রামের বাড়িতে যাওয়া। কাজিনরা মিলে
উঠানে বসে ভূতের গল্প করছিলাম। জিল্লু কাকা ও এসে যোগ দিলো আমাদের সাথে। কাকা বললো আজ চুলবালি ইমরানের পিছু নিয়েছিলো….
চুলবালি কে জিজ্ঞাসা করায় বললো মসজিদের কাছে চুলবালি থাকে। ওই মসজিদে দিনের বেলায় ও সবাই যেতে ভয় পাই। ওখানে গেলে চুলবালি কাউকে বিলের পানিতে চুবায়, কাউকে লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে……..
চুলবালি কেমন জিজ্ঞাসা করায় সবাই বললো সকালে গিয়ে দেখে আসতে।
যাই হোক আমি শহরের মেয়ে ভুতে একদমই বিশ্বাস করিনা তাছাড়া আমার কৌতুহল অনেক বেশি।
ছোট থেকেই গোয়েন্দা গল্প পড়তাম। মাসুদ রানা আর তিন গোয়েন্দার খুবই ভক্ত আমি….ওদের থেকেই সাহস নেওয়া আমার।
সারা রাত চুলবালির চিন্তা মাথায় ঘুরেছে আমার…সকালে আযানের সাথে সাথে আমি চলে গেছি ঐ পরিত্যাক্ত ভিটায়। ওখানে একটা মসজিদ আছে, তার পাশেই একটা কবরস্থান…মসজিদে রাতে এক ইমামসাহেব ছাড়া আর কেউ থাকেনা।
যাই হোক সামনে একটা বাশের পোল… এটাতেই আমার ভয় খুব। তবুও খুব কস্টে পার হলাম।

জায়গা টা খুবই ঠান্ডা আর অন্ধকার। গোয়েন্দা পড়ে কিভাবে রহস্যের সন্ধানে যেতে হয় এটা খুব ভালোভাবে জেনেছি।আমার সাথে একটা নাইফ,টর্চলাইট আর একিটা দিয়াশলাই নিয়েছি। ভিটার চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। কোথায় চুলবালি!! মনে মনে বলছি সবই মিথ্যা। কবরস্থান থেকে ঘুরে দাড়িয়েছি ফেরার জন্য। হঠাত মনে হলো আমার পেছনে কেউ একজন আছে। শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে গেলো। ভয় লাগা শুরু করেছে…তবুও সাহস নিয়ে পিছনে ঘুরে টর্চ মারলাম। কেউই নাই পিছনে… আবার হাটা শুরু করতেই মনে হলো আমার লম্বাচুলের খোপা ধরে কেউ টান দিলো। চুল খুলে বাতাসে উড়তে থাকলো…আবার লাইট মেরে দেখলাম কেউই নাই….আবার মনে হলো পিঠে কেউ জোরে মারছে…খুব লাগছে। পিছনে ফিরে এবার কিছু দেখতে পেলাম। আমি এই গরমেও কাঁপতে শুরু করেছি।

পাচ ফুটের বেশি লম্বা চুল দাঁড়িয়ে আছে….এটা কোনো মানুস না বা ভুত না….শুধু চুল…সামনে হাওয়ায় একটা লাঠি….লাঠিটা আমাকে আবারও মারতে শুরু করলো….উপায় না পেয়ে দৌড়াতে লাগলাম…ওটাও পিছে দৌড়াতে লাগলো। এভাবে অনেক্ষন দৌড়ালাম। ওটা আমার পিছুই ছাড়েনা। হঠাত মনে পড়লো আব্বু বলেছিলো মসজিদে কোনো অপবিত্র জিনিস ঢুকতে পারেনা। তাই মসজিদের দিকে দৌড়াতে শুরু করলাম। চুলবালিও আমাকে মারতেই আছে। মসজিদের ভিতরে পা রাখার সাথে সাথে পড়ে গেলাম….দেখি চুলবালি দরোজায় দাঁড়ানো। আমার পরে যাওয়ার শব্দ শুনে ইমাম সাহেব বের হলো। আমার জ্বর চলে এসেছিলো প্রায়…ইমাম সাহেব পানি পড়েদিলো আমি খেয়ে বসলাম তার পাশে। সে আমার সব শুনে বললো “এটা একটা দুষ্টু জ্বীন”মানুস কে ভয় দেখিয়ে মজা পাই সে। ভিটায় একটা মাদ্রাসা হওয়ার পরে জ্বীনটা আর থাকবেনা।ইতিমধ্যে আমাকে বাসায় না পেয়ে সবাই এখানে খুজতে চলে আসে। হুজুর একটা তাবিজ দেয় ওটা নিয়ে বাসায় চলে আসি। বাবা বলি মাদ্রাসা বানানোর কথা। বাবা রাজি হয়… মাদ্রাসা বানানোর কথা পাকা করেই আমার ফিরে আসি আমাদের বাড়ি।চুলবালিকে এখন আর দেখা যায়না। তবে ঐদিনের পর থেকে আমার একটা পবলেম শুরু হয়….আমার লম্বা চুল গুলো পড়তে শুরু করে….চুল এত অধিক পড়তে শুরু করে যে আমার চুল কেটেই ফেলতে হলো। বেশ কিছুদিন পর এক ফকির এসে আমার ন্যাড়া মাথা দেখে একটা তাবিজ দিলো। সেটাতেই আমার চুল পড়া কমে গিয়ে আবার চুল লম্বা হয়। এখনও চুল পড়লে চুলবালির কথায় আমার মনে পড়ে।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত