অবিসপ্ত বনভোজন

অবিসপ্ত বনভোজন

হাসান আর পুনম আজ খুব ব্যস্ত । কারণ আজ তারা যাচ্ছে পিকনিকে । স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার । ঢাকা থেকে অনেক দুর । তাই খুব ভোরে বের না হলে কিছু দেখা যাবেনা ।তাইতো এত তাড়াহুড়ো । কিন্তু বাধ সাজলো ব্.ষ্টি । চমকাবেন না কোন মেয়ে নয় , আকাশের পানি । অথৈ পানি ।

মুষল ধারে যাকে বলে ।ক্যাটসএন্ড ডগস । পানির কারণে বাস আসতে পারেনি । হাসান ও তাদের কলেজের বন্ধুরা কাউন্টারে গিয়ে শোনে বাস আসতে ১২ টা বাজবে । দুপুর ১২ টা । বাস এসেছে । চটপট সবাই উঠে গেলেই রওনা দিল । সবই ঠিক আছে এই পর্যন্ত । ২ যখন পাহাড়পুর পৌছল তখন সন্ধ্যে প্রায় ৭ টা পার । তাই তারা নামতে না নামতেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল । সমস্যা বাধল পুনম আর মিথুনকে নিয়ে । -“বাসায় বলে এসেছি রাত ৯ টার মধ্যেই ফিরবো । এখন এখানে আসতেই তো রাত হয়ে গেল।”কিছুটা বিব্রত হয়ে মিথুন বলল । -“এখন না গেলে আমরা আজকে ফিরতে পারবোনা । চল সবাই এখনই চলে যাই ।”পুনমের এ ধরণের উক্তিতে বিচলিত আর সবাই ।

একযোগে সবাই বলে উঠল -“না না তা হয়না । একবার যখনএসছি তো দেখেই যাবো ।” কি আর করা ? বাধ্য হয়ে একমত হতে হলো । কিন্তু বাসায় জানিয়ে দেবার জন্য কোন ফোন ছিলনা ।তাই মিথূন , হাসান ও পুনম গেল মোড়ের দিকে…. । হতাশ ! কারণ এত বড় মোড়ে একটাফোনও নেই ।তাই তারা এক ব্যাক্তির পরামর্শে জয়পুরহাট শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল ।রাত তখন ৮ টা ৩৪ । কিন্তু শহয়ে যাবে কি করে ? কোন ভ্যানওয়ালাই এত রাতে এইরাস্তা দিয়ে যেতে চাইছেনা । -“ভুত টুত আছে নাকি ?” পুনমের এহেন মন্তব্যটাকে গুরুত্ব দিলনা কেউই ।ভাড়া অনেক দিতে চাইল তবু নেতিবাচক কথা ।বরং তারা এত রাতে এই রাস্তা দিয়ে যেতে নিষধ করল । এই বিষয়ে কোন কথা নাই তাদের । ৩ চারপাশ বেশ অন্ধকার ।

মোড়েরকয়েকটি দোকানের আলো ছাড়া কিছু দেখা যাচ্ছেনা ।হঠাত্‍ পিছন থেকে একজন লোকএসে বলল -“কোন বিপত হইছে নাকি ? সাহায্য করতে পারি ?” মিথুন তাকে সব খুলে বলল । তারপর লোকটা মোটা গলায় হাঁসি দিয়ে বলল -“এই কতা ? খাড়ান আমি আসিচ্ছি ।”বলে চলে গেল । মিনিট পাঁচেক পর লোকটা একটাভ্যান চালিয়ে নিয়ে এলো । তিনি ভ্যানওয়ালা । দেখে বোঝার জো নাই ।বলল -“উটে পড়েন , তা ভাড়া কিন্তু১০০ টাকা নিব ।” হাসান মুখ তুলে চেয়ে আবার নামিয়ে নিল ।মিথুন ইতিবাচক সাড়া দিল ।২ টাকার ফোন করতে১০০ টাকা খরচ করতে শহরে যাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুইনয় ।কিন্তু বাবা মাকে টেনশনে ফেলতে সন্তানেরা চাইবেনা ।তাই এতো রাতে পিকনিক ছেড়ে ভ্যানভ্রমণ ! তারপর ভ্যানওয়ালা ভ্যানের নিচে একটি হ্যারিকেন জ্বালিয়ে চালাতে শুরু করলো । তিনজনে অনেক গল্প করতে করতেযাচ্ছে ।

কিন্তু ভ্যানওয়ালার মুখে কথা নাই ।পুনম বলেই ফেলল -“কথা মনে হয় কম বলেন নাকি?” লোকটি একবার পিছনে তাকাল । কিছু বললনা । ক্ষনিকপরে বলেউঠলো -“ভাইজানেরা , এই জাগা খুব ভালা না । আফনেরা পাশে কিচুদেখতে পারেন । তয় চিল্লাবেননা”। তিন বন্ধু হঠাত্‍ যেন থেমে গেল । এর মানে কি ?হাসান বলল -“বুঝলাম না তো !” -“বোজালাগবে না নে । খালি সাবধানে থাকেন । রাস্তায় কিচু দ্যাখলে তাকাইয়েন না ।” তারা একেবারে চুপ হয়ে গেল ।ভ্যান তার গতিতে চলছে । হঠাত্‍ তারা একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল ।হকচকিয়ে উঠলো সবাই ।শব্দটা একেবারে কলিজায় আঘাত করার মত । দেখলো রাস্তার পাশে সাদা কাপড়ে জড়া এক মধ্যবয়সি মহিলা কোলেএকটা বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । ভ্যানটাকে থামার জন্যহাত দিয়ে ইশারা করছে ।

হাসান বলল -“থামার দরকার নাই , চলে যান।” -“ছি ! হাসান , একটা মহিলা বিপদে আর আমরা তাকে ফেলে চলে যাবো ?আমরা কি এতই নির্দয় ? ভাই আপনি থামান ।” ভ্যানওয়ালাটা না থামতেই মহিলা খাড়ান খাড়ান বলে চেঁচাতে চেঁচাতে এগিয়ে এলো । আর কোন কথা না বলে সে ভ্যানে উঠে পড়লো ।তারপর আবার নিস্তব্ধতা । পুনম ভাবলো যে মহিলা মানুষ, হয়তো রাগ করে বাসা থেকে চলে এসেছে ।তাই এনিয়ে আর কথা হয়নি । তিন বন্ধু তারপরঐ ভ্যানওয়ালার সাথে অনেক কথা বলল । তবে মহিলাটা চুপ ছিল । ৪ এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর একসময় মহিলাটা একটা কলা বাগানের পাশে এসে বলল -“এথেন আমার গর । একা যামুনা । ছাইড়া দিয়া আহেন ।ঐ বাগানের পর দু বাড়ি দুর । দু মিনিটের পথ ।” ভ্যানওয়ালাটা আমাদের বসতে বলে চলে গেলেন । আর বললেন তিনি না আসা পর্যন্ত যেন কেউ ভ্যান থেকে না নামে ।

সময় চলতে থাকে । ভ্যানওয়ালাআর ফিরে আসেনা । দেখতে দেখতে ১ ঘন্টা পার হয়ে গেছেতবুও ভ্যানওয়ালার দেখা নাই । -“আমার মনে হয় আমাদের একটু সামনে গিয়ে দেখে আসা উচিত , ব্যাপার টা কি ? ” -“হ্যাঁ চল দেখি ।”মিথুনের কথায় সায় দিল পুনম । তারা বাগানে ঢুকে অবাক হলো, এখানে তো কোন বাড়ি নাই ! বাগানের ওপারে ঝোপ । তারপরেধু ধু মাঠ । ফাঁকা মাঠ ।তাহলে তারা গেল কই ? একটু পরে হাসান দেখলো যে মিথুন একদিকে নিস্তব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । হাসান ফিস ফিস করে বলল-“কিরে কি দেখছিস ?” মিথুন কোন কথা না বলে হাত দিয়ে ইশারা করে দিল । তারপর তারা তিন জনে যা দেখলতা হচ্ছে ঐ ভ্যানওয়ালা আর ঐমহিলাটা এক কোনে একই দিকে মুখ করে বসে আছে ।

আর কোলের বাচ্চাটিকে ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে ।তা দেখে ঐ তিন বন্ধু আর নড়তে পারছেনা । বাচ্চাটিকে খাওয়া শেষ করে বাচ্চার অবশিষ্ট অংশটি পিছনে না তাকিয়ে এমন ভাবে ছুড়ে মারল যাতে তা এসে মিথুনের গায়ে লাগল । কিন্তুমিথুন চিত্‍কার করল না । বরং বন্ধুদের বলল ফিস ফিস করে -“যা দেখছি দেখছি । এখন আমাদের এখান থেকে পালিয়ে বাঁচতে হবে । চল” কেউ কোন কথা না বলেই পা টিপে টিপে ছুট । রাস্তায় এসে চিত্‍কার করতে করতে দিল সবাই দৌড় ।কিন্তু তারা লক্ষ করেনি যে তারা কোনদিকে যাচ্ছে ? তারা জানেনা কোনদিনও বাড়ি ফিরবে কিনা

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত