ভয়ংকর সত্য ঘটনা

ভয়ংকর সত্য ঘটনা

ইদানীং কাজে খুব বেশী ব্যস্ত থাকায় অনেকগুলো নতুন ঘটনা থাকার পরও আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়ে উঠছেনা. তারপরও আজ সময় করে আপনাদেরসাথে একটা নতুন ঘটনা শেয়ার করছি.ঘটনাটি ঘটেছিল অনেক আগে আমার মায়ের এক মামীদের এলাকায়. আজ থেকে প্রায় চল্লিশ – পঞ্চাশ বছর আগে. তখন ওনার মামী মানে আমার নানীর তেরো- চৌদ্দ বছর বয়স.

তখন নাকি ওলা বিবি, বসন্ত বিবি আরো কি কি এদের অস্তিত্ব ছিলো. হয়তো অনেকে এখন বলবেন এসব ভুয়া, কল্পনা না হয় আমার কল্পনার একাংশ যা লিখে আপনাদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করছি. আসলে বাস্তব ঘটনাটা একটু অন্যরকম. এগুলো আছে, ছিলো কি নেই সেসব পরে, তবে এই ঘটনায় এমন একজন ছিলো যার উপস্থিতি আমাকেও ভাবিয়ে তুলেছিলো. যাক এখন মূল ঘটনায় আসি. নানীদের এলাকার আশেপাশে তখন বসন্ত রোগ এসেছে. তখন এই রোগ যেখান দিয়ে যেতো সব মানুষ শেষ করে ফেলতো. কারন এটা ছোয়াচে রোগ.

এই রোগে নাকি শরীলে গুটির মত হয়ে মাংস পঁচে পড়তো. আর প্রচন্ড ব্যাথায় মানুষ চিৎকার করতে করতে এক সময় মারা যেতো. নানীদের এলাকার সবাই মিলে মসজিদে মসজিদে সিন্নি দিয়ে মিলাদ পড়ানো থেকে শুরু করে সব ধরনের চেষ্টা করতে লাগলো যাতে এই রোগ গ্রামে না ডুকে. এলাকার মুরুব্বিরা মিলে বৈঠকে বসলো কি করা যায়. বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো এলাকায় ঢোকার সকল মুখে পাহারা বসানো হল যেনো অপরিচিত এবং সন্দেহবাজন কেউ এলাকায় ডুকতে না পারে. কারন এই রোগ নাকি বহন করে এমন কেউ যে আসে মানুষের ছদ্ধবেশে. একদিন দুপুরের দিকেনদীর পাড়ের প্রহরী খবর নিয়ে আসলো এক মহিলা আসছে গ্রামে, তার চুল উস্কখুস্ক আর সন্দেহবাজন. তখন সবাই যা বুঝার বুঝে গেলো.

বুদ্ধিমান কয়েকজন নিয়ে মুরুব্বিরা গেলো নদীর ঘাটে যদি কোনভাবে বাঁচা যায়. আর সবাইকে বাড়ি পঠিয়ে দেয়া হল. নদীর ঘাটে গিয়ে সবাই দেখে একজন অপরিস্কার মহিলা যার উস্কখুস্ক চুল, সে সারা শরীল চুলকাচ্চে আর গ্রামের দিকে আসছে. নদীর পাড়ে এসে মহিলা থামলো ওপারে কোন নৌকা নেই. তখন সে এপারের মানুষদের উদ্দেশ্যে বলল আমাকে একটু ঐ পারে নাও. তখন তার জন্য একটা নৌকা রওয়ানা হল. গরমকাল নদীও অতটা চওড়ানা. নৌকা ঐ পাড়ে যাওয়ার আগেই চোখের পলকে ঐ মহিলা এপাড়ে চলে আসলো. তখন গ্রামের মুরুব্বী ওনাকে খালা বলে ডাকলো এবং সব ধরনের সেবাযত্ন করতে লাগলো.

তখন ঐ মহিলা ওনাকে বললো কয়দিন সে এই গ্রামে থাকতে চায়. মুরুব্বী তখন ওনাকে আশেপাশের গ্রামের কথা বলল. তখন ঐ মহিলা ওনাকে আস্বস্ত করলো. তখন সবাই মিলে ঐ মহিলাকে নিয়ে গ্রামের কাচারিতে থাকার ব্যাবস্থা করে দিলো. আর সবাই যথাসাধ্য চেষ্টা করতে লাগলো ঐ মহিলা যাতে কোনভাবে রেগে না যায়. আর মহিলা খাওয়ার মধ্যে শুধু দুধ খেতো আর অন্য কিছু না. এভাবে কয়েকদিন চলেগেলো. আশেপাশের গ্রাম থেকেও আর কারো মৃত্যু সংবাদ আসছেনা. তখন সবাই যা বুঝার বুঝে নিলো. তবু সবাই সাবধানে থাকলো. একদিন সকালে ঐ মহিলা চিৎকার আরম্ভ করলো. সবাই তো ভয়ে শেষ. মুরুব্বী আসলো তখন ঐ মহিলা বলল সে আর এখানে থাকতে চায় না. মুরুব্বী বলল কেনো খালা এখানে কি আপনার কোন কষ্ট হচ্ছে?

তখন মহিলা বলল না আমাদের এক জায়গায় এতদিন থাকার নিয়ম নেই. তখন তার যাওয়ার ব্যাবস্থা করা হল. সবাই আবার তাকে বিদায় দেয়ার জন্য নদীর পাড়ে আসলো. তখন মহিলা গ্রামের সবার দিকে অগ্নীদৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে বলল খালা ডেকে তোরা বেঁচে গেলি. এই বলে নিমেষেই মহিলা নদী পার হয়ে অন্য গ্রামের দিকে চলে গেলো. সবাই যেনো হাঁফ ছেড়ে বাচলো পরদিনই খবর আসলো ঐ মহিলা যেদিকে গেছে সেদিকে আবার মানুষ মরা শুরু হয়েছে এই ছিলো আমার ঘটনা এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে কে ছিলো এই রহস্ময় মহিলা?ঘটনাটা কতটা সত্য সেটা জানিনা তবে নানীর মুখ থেকে শুনে আমার ভাষায় আপনাদের কাছে উপস্থাপন করেছি. কতটুকু সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি সেটা জানিনা..

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত