ভুতুড়ে বাড়ির অমিমাংসিত রহস্য

ভুতুড়ে বাড়ির অমিমাংসিত রহস্য

অনিমা অনেকদিন ধরেই বলে আসতেছে ভারতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য।তবে এখনো সেই সৌভাগ্য হয়নি।যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাত দাড় করিয়ে দিই অনিমার সামনে।

অনিমা আমার স্কুল ফ্রেন্ড।আট বছর আমরা একসাথেই পড়েছি।মাধ্যমিক পরিক্ষা দেওয়ার পরেই অনিমা তার পরিবারের সাথে ভারতে চলে যায় স্কলারশিপ পেয়ে।অবশ্য ভারতে তার আত্মীয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।তার দাদা ছিলেন ভারত বংশদ্বোত।তাই অনেক সম্পত্তিও রয়েছে ওর বাবার নামে। যুদ্ধের সময় অনিমার মা ভারতে আশ্রয় নিলে ওখানেই ওর বাবার সাথে পরিচয় ঘটে।যুদ্ধের পর অনিমার মায়ের জোড়াজুড়িতে তার বাবা মাকে নিয়ে এ দেশে চলে আসে। অনিমার সাথে অনেকদিন কোন যোগাযোগ ছিল না আমার।হঠাৎ করেই স্কলারশিপ পেয়ে বাইরের দেশে চলে যায়।ফেসবুকের কল্যাণেই অনিমার সাথে আমার কথা হয়। পড়ালেখা শেষ করেছি অনেকদিন হয়ে গেছে।তাই চিন্তা করলাম এবার ভারতে যাওয়া যেতেই পারে।বন্ধু নিহামের সাথে বিষয়টা শেয়ার করতেই রাজি হয়ে যায়।

অনিমাকে ইমেইলে জানালাম আমরা আগামি মাসের প্রথমেই আসছি।অনিমাও স্বাগতম বার্তা পাঠাল।আমরা সরাসরি তার দাদার পুরনো বাংলোতে উঠব বলে কথা হয়েছে।মার্চের শুরুতেই দুই বন্ধু রওনা দিলাম ভারতের উদ্দেশ্যে।সোমবার সকালেই আমরা প্লেন থেকে নামলাম।অনিমা আমাদের জন্য এরায়পোর্টে অপেক্ষা করছে।দেখা হতেই স্বাগত জানালো।মেয়েটা কি অদ্ভুতভাবে বদলে গেছে।আগের চেয়ে অনেকবেশি স্মার্টও হয়েছে।
আমরা দুপুরের ট্রেন ধরব বাংলোতে পৌঁছানোর জন্য।অনিমা টিকেট কেটে রেখেছে।সব জিনিসও নিয়ে এসেছে ব্যাগে করে।খাওয়াদাওয়া শেষে আমরা ট্রেনে উঠলাম।বিকালেই পৌঁছে গেলাম।পাহাড়ি রাস্তা।চারপাশে উঁচু উঁচু পাহাড়ের ঢেউ।সবমিলিয়ে মুগ্ধ করার মত পরিবেশ।আমরা দুই বন্ধুর বেশ পছন্দ হল।বাংলোটা একটু ভিতরেই।পাহাড়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি বেশ ভালভাবেই।তবে বেশিক্ষণ সম্ভব হয় নি।একটু ভিতরে যেতেই সন্ধ্যা নেমে এলো।চারপাশে অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে।এরমধ্যেই আমাদের আরও এক ঘন্টা হেটে বাংলোতে পৌঁছাতে হবে।গাড়িও পাওয়া যায়না এসব জায়গায়।সম্পূর্ণ গ্রাম্য একটা পরিবেশ।

রাত সাড়ে আটটায় আমরা পৌছালাম।বিশাল বড় বাংলো।ডুকতেই দাড়োয়ান অনিমাকে শ্রদ্ধা জানালো।আপামনি আসছেন অনেকদিন পইরে।ভিতরে যান।অনিমা আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিল দাড়োয়ান চাচার সাথে।চাচার নাম শম্ভুনাথ সেন।সংক্ষেপে অনিমা শম্ভুদা বলে ডাকে।আশেপাশে তেমন কোন বাড়িঘর ও চোখে পরল না।ডুকে আমরা ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এমন সময় শম্ভুদা এসে বলল,বাবা আপনাদের জন্যে কোন কিছু লাগলে আমাকে বইলেন।আর পাশের রুমটাতেই আপনেরা থাকিবেন।আপামনি ঐদিকের রুমে থাকিবেন।আমি সম্মতি জানালাম জ্বি চাচা।

কিছুক্ষণ পরেই চাচা রাতের খাবার নিয়ে আসলেন।ভীষন রকমের সব আইটেম তৈরি করলেন।তৃপ্তি সহকারে ওইদিনের মত খেয়ে রুমে ঢুকে পড়লাম সবাই।শরীর খুব দূর্বল।সারাদিনে পরিশ্রম শেষে এখন আর চলার শক্তি নেই।রুমের দরজা লাগিয়ে নিহামকে নিয়ে শুয়ে পড়লাম।রাতের গভীরতা বাড়তে লাগল।এতক্ষণে বোধ হয় অনিমা ঘুমিয়ে গেছে।তাই অনিমাকে ডাকা যাবেনা।সকালে একসাথে বের হবো ভেবে চোখজোড়া লাগিয়ে দিলাম।অমনি রুমের দরজাটা ঠাস করে খুলে গেল।কিছুই ঠের পেলাম না।নিহাম আর আমি দুইজনে চেয়ে আছি দুইজনের চোখের দিকে।নিহাম উঠে দরজাটা লাগিয়ে শুয়ে পড়ল।মনে হয়ে অনেকদিন ব্যবহার হয়না।তাই ঠিকমত কাজ করছে না।টিনের ছাদে কাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে।এতরাতে কাক!না এসব চিন্তা করার সময় নেই,ঘুমাতে হবে।রুমের দরজাটা আবারো খুলে গেল।মনে হল ভিতের কি যেন একটা ডুকে পড়েছে।বিড়ালের ছায়া মনে হল।

ধুর এসব কিছু না।চোখের ভুল।সরাদিনের ক্লান্তির কারণে হয়ত এমন লাগছে।চোখ বন্ধ করতেই মৃদু কান্নার শব্দ কানে এলো।চোখ খুলে উঠে বসল নিহাম।আরে এসব কিছু না বন্ধু।শুয়ে পড়,চিন্তা করিস না।ক্লান্তির কারণেই এমন লাগছে।নিহাম বলল,চল একটু অনিমাকে দেখে আসি।আরে না এতরাতে ওর রুমে যাওয়া ঠিক হবে না।নিহাম বলল,কিন্তু আমার কেমন একটা সন্দেহ কাজ করছে।চল চল দোস্ত,একটু দেখে আসি।নিহামের জোড়াজোড়িতে না গিয়ে পারলামনা। কি আজব!রুমের দরজা খোলা।অথচ অনিমা রুমে নেই।হয়ত ওয়াশরুমে গেছে।চলে আসবে।চল রুমে।আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।আরে ওর সাথে একটু কথা বলে যায় আসছি যখন।ত্রিশমিনিটের মত হয়ে গেল অনিমার কোন দেখা নেই।এবার মনে হালকা খটকা লাগলো।

চাচাকে ডাকতে শুরু করলাম।চাচা অনিমা কোথায়? বাবা আমিতো জানিনে।ও ত এই রুমে থাকিবার কথা।আচ্ছা আপনি একটু বাইরে দেখেন।ও অনেক্ষণ ধরে রুমে নেই।চাচা যেতেই পেছন থেকে কার যেন স্পর্শ পেলাম।পেছনে ফিরে দেখি কিছুই নেই।নিহাম আমার দিকে চেয়ে আছে।বলল,আমি আর হাটতে পারছিনা।রুমে চল।আমিও,তবে এসব জিনিস আমার মনে ভয় ডুকাতে পারবেনা আশা করি।

ছোটকাল থেকেই গ্রামে বড় হয়েছি।এসব বিষয় আমার কাছে কিছুই না।দুইজনেই রুমের দিকে হাটছি।হঠাৎ দেখলাম অনিমা বিছানায় ঘুমাচ্ছে।নিহাম বলল,আরে!ও’ত রুমেই আছে।হে দেখতেই পাচ্ছি।তবে আমার মনের মধ্যে কিছু একটা সন্দেহ কাজ করছে।রুমের দিকে হাটছি।রুমে ডুকতেই নিহাম চোখ বড় করে আমার দিকে তাকাল। বলে উঠল,দোস্ত আমাদের বিছানায় ওইটা কে শুয়ে আছে?কই? আমিতো কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা।নিহাম বলল,ওইযে মাথা ওইপাশে ফিরানো,লম্বা চুল।ধুর চলত।কিছু নেই।বিশ্রাম নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।বিছানার পাশে যেতেই অনিমার বিকট চিৎকারের শব্দ।মনে হল বাইরে থেকেই কেউ চিৎকার করছে।আমাকে বাচাও,আমাকে বাচাও…চিৎকার শুনেই দৌড়ে অনিমার রুমে গেলাম।দরজা আটকানো ছিলোনা। দেখলাম অনিমা বিছানায় ঘুমাচ্ছে। নিহামও পিছন পিছন চলে আসল।আমার হাত ধরল শক্ত করে।বলল,

–দোস্ত,আমার কেমন জানি ভয় কাজ করছে।কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিনা। নিহামের দিকে তাকালাম।আমাদের রুমের দিকে হাটতে হাটতে বললাম,
–নিহাম,এটা তুর প্রথম প্লেন ভ্রমণ।তাই ত? নিহাম বলল,
–হে।

–প্রথমবার মহাকাশে ভ্রমণ করছিস তুই।তাই একটু মাথা কম কাজ করছে তুর।চিন্তা করিসনা,বিশ্রাম নিলে দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। নিহাম কিছুটা সাহস পেল।মূলত নিহামের মনে সাহস দেওয়ার জন্যই কথাগুলো বলা।রুমে ডুকে পড়লাম।

–নিহাম তুই শুয়ে পড়।আমি লাইট বন্ধ করছি।

ঠিক লাইট বন্ধ করার মুহূর্তেই দেখলাম দরজার নিচ দিয়ে একটা ছায়া বেরিয়ে পড়ছে।দেখে মনে হল যেটি রুমে ডুকেছিল সেটির মতই।নিহামকে কিছু বুঝতে দিলাম না।লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম।নিহাম বোধ হয় ঘুমিয়ে গেছে।তাই ওকে আর ডাকলাম না।সবকিছু ভুলে চোখজোড়া বন্ধ করলাম।আমার মনেও কিছুটা ভয় কাজ করছে।কি অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে চলছে।অথচ কিছুই বুঝতে পারছিনা। সব মাথার উপর দিয়েই যাচ্ছে। যাইহোক এখন একটু ঘুম দরকার। চোখজোড়া বন্ধ করলাম।রাত আনুমানিক দুইটার কাছাকাছিই হবে।

হঠাৎ নিহামের চড় খেয়ে ঘুম ভেঙে গেল।এরপর মাথায় আঘাত।কাঁচাঘুম ভেঙে গেল,মাথাটা ধরে আছে খুব।নিহাম হাত পা ছুটাছুটি করছে।রাগে চিৎকার দিয়ে উঠলাম,নিহাম!ওই নিহাম!ওর কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিনা।ছুটাছুটি কিছুটা কমে শান্ত হয়ে আসছে।তাড়াতাড়ি ওঠে লাইট জ্বালালাম।কিন্তু নিহামকে দেখেই শিউরে উঠলাম।যেদিকে ঘুমিয়েছিল এখন দেখি তার উল্টা।মাথার দিকে পা,পায়ের দিকে মাথা।নিহামকে দেখে মনে হল গভীর ঘুমে মগ্ন।তাই আর ডাকলাম না।এখন প্রায় শেষরাত।কিছুক্ষণ পরেই ভোর হবে।লাইট বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। কিছুই ডুকছেনা মাথায়,কি হচ্ছে এসব?হঠাৎ নিহাম ঘুমন্ত অবস্থায় দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠল,

–এইঘর আমার।বেরিয়ে যা আমার ঘর থেকে।কেন এসেছিস এখানে?মরতে চাস?

আরে!কি বলছে নিহাম এসব!ধূর,ঘুমের ঘোরে আবুল-তাবুল বলছে হয়ত।এসব কিছুই না।মাথা থেকে সব ঝেড়ে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।কি হচ্ছে ভাবতে ভাবতেই আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। অনিমা রুমে এসে আমাদের ডেকে দিল।খুব সুন্দর সকাল হয়েছে।দাড়োয়ান চাচা এসে চা দিয়ে গেল।অনিমাকে দেখে বেশ হাসিখুশি লাগছে।হঠাৎ মনে হল সবকিছুই ধোঁয়াশা।রাতের সবকিছুকে মিথ্যা মনে হল। কিম্তু তারপরেও কিছু একটা ঘাপলা আছে বলেই মনে হল।আচ্ছা নিহাম তুর সাথে কি রাতে কিছু হয়েছিল?
নিহাম হকচকিয়ে উঠল।বলল,

–রাতের কথা আর মনে করতে চাচ্ছিনা আমি।বাদ দে দোস্ত।ক্লান্তির কারণে হয়ত একটু ভয় কাজ করেছিল।
নিহামকে থামিয়ে অনিমা বলে উঠল,

–গতকাল রাতে বের না হলে কি হতো না?আমার ভীষণ ক্লান্তি লাগছিল। তারপরও তুদের কথা রাখার জন্য বের হয়েছিলাম।অবশ্য ভালই হয়েছে।রাতের দৃশ্যটা উপভোগ করতে পেরেছি।তুদের কথা মত আর কিছুক্ষণ হাটলেত আমি আর ফিরতেই পারতাম না।তবে বেশ মজা লাগছিল।তুরা আমাকে কোলে করে এখানে নিয়ে এসেছিস।

–অদ্ভুত দৃষ্টিতে নিহাম আমার দিকে তাকাল।দেখলাম নিহামের চোখ লাল হয়ে আসছে।কি আজব ব্যাপার।অনিমা কি বলছে এসব কিছুর সাথে কিছুই মিলাতে পারছিনা।
–কিন্তু অনিমা আমরা ত রাতে বের হয় নি।কি বলছিস তুই এসব?
–কি?ইয়ার্কি করছিস আমার সাথে?
–না ইয়ার্কি নয়।আমরা ত রাতে তুকে রুমে না দেখে দাড়োয়ান চাচাকে বলেছিলাম তুকে খুজতে।বলার কিছুক্ষণ পর দেখলাম তুই রুমেই শুয়ে আসিস। কথাগুলো শুনেই অনিমার হাত কাপছে।চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রেখে অনিমা ভীত গলায় বলল,

–তাহলে!তাহলে রাতে!তাহলে রাতে আমি কাদের সাথে বের হলাম?

তিনজনেই চুপ করে আছি।কেউ কারো সাথে কোন কথা বলতে পারছিনা।তাহলে কি আমাদের কেউ বোকা বানাচ্ছে?না!এমনটা হতে পারেনা।নিশ্চয় কোন রহস্য রয়েছে।চায়ের কাপ থেকে এখনো হালকা ধোঁয়া বেরুচ্ছে। একদৃষ্টিতে চেয়ে আছি কাপটার দিকে।হঠাৎ মনে হল কাপটা ঘুরছে।চাগুলো উপরে নিচে দুলছে।চোখমুছে আবার তাকালাম।আবার সব ঠিকঠাক।মনে হচ্ছে এই বুঝি কি যেন ঘটবে।অথচ পরক্ষণেই সব আবার আগের মতই।কিছু বুঝে উঠার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে সবকিছু।চোখতুলে অনিমার দিকে তাকালাম।দেখলাম ও আগেই চেয়ে আছে আমার দিকে।নিহাম ভয়ে ওর কাপটা মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিল।আর বুঝতে বাকি রইল না।তিনজনের সাথেই একই ঘটনা ঘটেছে।অনিমা,তুই কি রাতে সত্যি আমাদের সাথেই বের হয়েছিলি?

–আরে!তুরাইত আমাকে ডেকে বাইরে নিয়ে গেলি।

তিনজনেই নির্বাক হয়ে গেলাম।অথচ কিছুই বুঝতে পারছিনা।কিছু একটার রহস্য নিশ্চই লুকিয়ে আছে এই বাংলোর মধ্যে।বের করতেই হবে আমাকে।

–দোস্ত,আজকের রাতটা আমরা বাইরে ঘুরে,ফিরে গল্প করেই কাটাব।কি বলিস তুরা? দুইজনেই সম্মতি জানাল।বলল,ভালোই হবে। আচ্ছা অনিমা তুই কি ভুতে বিশ্বাস করিস? অনিমা ভীত গলায় বলে উঠল,
–ভূত!ভূতের কথা কেন তুলছওস তুই? আচ্ছা বাদ দে।তুরা এই বাংলোতে শেষ কবে এসেছিলি সেটা বল আমাকে?

–তিনবছর আগে একবার এসেছিলাম।মা বাথরুমে পা পিছলে পরে গিয়েছিল।এর পরেই মা ভীষণ অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল।তাই ওইদিন বিকালেই আমরা চলে গিয়েছিলাম।অনেক ডাক্তার দেখিয়েছিলাম মাকে।কিছুতেই সুস্থ হতে পারেনি।পরে কবিরাজ ডেকে চিকিৎসা করার পর মা সুস্থ হয়ে উঠে।এরপর আর আসা হয় নি।তবে এই বাংলো সম্পর্কে বাবার মুখে অনেক কিছুই শুনেছি। খুব উৎসাহ নিয়ে বললাম,কি?কি কি শুনেছিস?

–অনেক আগের কথা।এই বাংলোটা এক ব্যবসায়ী কিনতে চেয়েছিলেন।কিন্তু দাদা কিছুতেই বিক্রি করতে রাজি হয়নি।দাদাকে অনেক হুমকিও দিয়েছিল।দাদা ছিলেন খুব জেদি মানুষ।একবার যে কথা মুখ দিয়ে বের করতেন তার নড়চড় করতেন না।পরে একদিন রান্নাঘরে এক মেয়ের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়।মামলা হয়েছিল থানায়।কিন্তু পুলিশ কোন প্রমাণ খুজে পায়নি।লাশটি কিভাবে এখানে এসেছিলো তার কেন কিছুই পুলিশ বের করতে পারেনি।সেই থেকে নাকি এখানে ভয়ে কেউ থাকতে পারত না।প্রতিরাতেই কান্নার শব্দ শুনা যেত।বীভৎস রকমের চিৎকার চেচা-মেচির শব্দ।এরপর দাদা কলকাতা শহয়ে এসে নতুন বাড়ি কিনে ওখানেই থেকে যায়।ওই দাড়োয়ান চাচাই এটা দেখাশোনা করে এরপর থেকে।

আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেছে।অনিমা আর নিহাম একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে আছে।তাহলে কি আত্না বলে কিছু আছে।কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় এসবের ত কোন অস্তিত্ব নেই।তাছাড়া মৃত মানুষের ত আর এসব ক্ষমতা থাকার কথা না।না কিছুতেই মিলাতে পারছিনা।সবকিছুই গোলমাল লাগছে।

আলাপ করতে করেতই দুপুর হয়ে গেল।আমরা আর কথা বাড়ালাম না।গোসল করে খেয়ে শুয়ে পড়লাম।কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বের হলাম হাটার জন্য।চারদিকেই সবুজে ঘেরা মাঠ।মাঝেমধ্যে দুই একটা কুড়ে ঘরের সন্ধান মিলছে।তেমন কোন মানুষ ও নেই।নিশ্চুপে হেটে চলছি আর ভাবছি কিভাবে এসব রহস্যের উন্মোচন করা যায়।
কিছুদূর যেতেই দেখলাম দাড়োয়ান চাচা দুইজন মানুষের সাথে বসে কি যেন কথা বলছে।খুব অদ্ভূত রকমের মানুষ এরা।দূর থেকে দেখে কিছুটা বয়স্ক মনে হল।চামড়াগুলো বেশ রুক্ষ।অনিমা আর নিহামও বিষয়টা খেয়াল করেছে।অনিমা বলল,

–চলত,সামনে যায়।কি করছে দাড়েয়ান চাচা ওখানে?

দ্রুত পদবিক্ষেপে হাটা শুরু করলাম।কাছে যেতেই দেখলাম লোক দুটো ওঠে পাহাড়ের ভিতরের রাস্তা ধরে হাটা শুরু করছে।দাড়োয়ান চাচা আমাদেরকে দেখে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছে মনে হল।মনে হল আমাদেরকে এইখানে দেখার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিলনা।হঠাৎ বলে উঠল,

–কি ব্যাপের আপামনি,আপনেরা এহেনে কিজন্য আসছেন? অনিমা বলে উঠল,
–ঘুরতে বেরিয়েছি চাচা।আপনার সাথে দুইটি লোক ছিল।ওরা কারা? দাড়োয়ান চাচা বলল,

–কই?আমের সাথে ত কোন লোক নেই। অনিমা বলল,
–ওইযে,একটু আগেইত লোক দুটো আপনার সাথে কথা বলছিল। দাড়োয়ান চাচা মুচকি হাসি দিল।হেসে হেসে বলল,

–লোক দুইটে আমার পরিচিত।অনেকদিন ধরে এইহানে থাকে ওরা।মাঝেমধ্যে সময় পেলে এসে কথা বলে আবার চলে যায়। অনেক ভালে মানুষ ওরা। চাচার কথাগুলো শুনে কিছুটা গড়বড়ে লাগছিল নিজের মধ্যে।কিছু একটার রহস্য যেন লুকিয়ে আছে সবকিছুর মধ্যে।তারপরও যেন সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।

–ঠিক আছে চাচা আপনি যান।

একটু রসিকতা করে বললাম,রাতের খাবারটা কিন্তু ভালো হওয়া চাই।চাচা হেসে চলে গেলেন।সামনের পাহাড়ি রাস্তা ধরেই আমরা হাটছি।হাটতে হাটতেই খুব তৃষ্ণা পেল।সামনে একটা ছোট কুড়ে ঘর দেখতে পেলাম।নিহাম বলল,

–চল ঐ ঘরে গিয়ে দেখি পানির কোন ব্যবস্হা হয় কিনা?  আমরা ঘরটাতে পৌছালাম। ভিতর থেকে একজন বুড়ি এসে বলল,
–কি চান আপনেরা?
–আমরা খুব তৃষ্ণার্ত।জল খাওয়ার জন্য এসেছি। বুড়িটি বলল,
–ঠিক আছে আপনেরা বইসেন।আমি জল আনতাছি।

বুড়িটি ভিতরে ডুকল।নিহাত ভাল মানুষ ই মনে হল দেখে। বুড়ির অনুমতি না নিয়েই ভিতরে ঢুকে গেলাম।ভিতরে ডুকেই চোখ কপালে উঠল।যা দেখার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।অনেকগুলো মানুষের মাথার খুলি উপর থেকে দড়ি দিয়ে ঝুলানো।দেখেই মনে ভয় ডুকে গেল।একমুহূর্ত দেরি না করেই প্রাণপনে দৌড় দিলাম।নিহাম আর অনিমা ও আমার পিছনে পিছনে দৌড়ছে।নিহাম বলল,

–কি হয়েছে দৌড়ছিস কেন?

তাড়াতাড়ি বাংলোতে চল।ওখানে গিয়ে সব বলছি। বাংলোতে ফিরতে ফিরতেই বেলা গড়িয়ে এল।অবশ্য পাহাড়ি জায়গাগুলো এমনিই।বিকাল হতেই সন্ধ্যা নেমে আসে।বাংলোতে ডুকেই মন ভরে পানি পান করে নিলাম তিনজনেই।দেখলাম দাড়োয়ান চাচা একটা লোকের সাথে বসে গল্প করছে।কি হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছিনা।নাক লম্বা,পরনে শুধু লুঙ্গি।ঢের বয়স হয়েছে।চামড়া ভিতরের দিকে ডুকে গেছে।ওদের ভাষায় কি যেন আলাপ করছে কিছুই বুঝতে পারলাম না।হঠাৎ চাচা গর্জে উঠল।বলল,

–আমি কিছু বুঝিনে এসব।আমি উপরেরটে চাই।নাহলে সব বাতিল।

লোকটি উঠে দাড়াল।ওনার ভাষাগুলো বুঝতে পারছিনা।হয়ত এখানকার এলাকার ভাষা হবে।চাচাকে কি যেন বলে হাটা শুরু করল।চাচা হঠাৎ আমাদের দিকে দৃষ্টিপাত করল।মনে হল খুব ভয় পেয়ে গেছে আমাদেরকে দেখে।ছোট করে লোকটিকে বলল,

–আজ রাইতেই হবে।ওরা চলে এসেছে।আপনে যান। চাচাকে ডাক দিলাম।চাচা লোকটা কে?এখানে কেন আসছেন ওনি? চাচা মুচকি হেসে বলল,

–ও কেউ নে বাবা।আপনেরা ভিতরে যান।আমি নাস্তা নিয়ে আসতাছি।

মনে হল চাচা আমাদের থেকে কিছু একটা গোপন করছে।তারপরও মনে সাহস নিয়ে ঘরে ডুকলাম।ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য। কিন্তু যা দেখলাম তার জন্য একদম অপ্রস্তুত ছিলাম।দেখলাম কমোডের নিচ দিয়ে পিঁপড়ার দল আসা যাওয়া করছে।একটা বিশ্রী গন্ধও ছড়াচ্ছে।পানির কল ছাড়তেই বেরিয়ো এল একটা সাপ।চিৎকার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলাম।নিহাম দৌড়ে আসল।বলল,

–কি হয়েছে?
–তেমন কিছু না।চল আমরা বাইরে গিয়ে বসি।নাস্তা করে নে তাড়াতাড়ি।

নিহাম সম্মতি জানাল।অনিমা আগে থেকেই নাস্তা করতে বসে গেছে।খেয়ে বাইরে বের হব এমন সময় কে যেন বলে উঠল

–আমাকে একা রেখে চলে যাচ্ছিস?যাসনে বাইরে।গেলে আমার মতই মরণ হবে তোদের। খুব ভয়ঙ্কর গলায় কথাগুলো কোন একটা মেয়ে বলেছে।নিহাম,অনিমা তুরা কিছু শুনেছিস? দুইজনেই উত্তর দিল না।নিহাম বলল,

–কিছুইত শুনা যায়নি।কিসের কথা বলছিস?

আচ্ছা বাদ দে।চল বাইরে যায়।চারদিকে অন্ধকার। হাতে হ্যারিকেন নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমরা…কিছুদূর যেতেই দেখলাম দাড়োয়ান চাচা দুইজন মানুষের সাথে বসে কি যেন কথা বলছে।খুব অদ্ভূত রকমের মানুষ এরা।দূর থেকে দেখে কিছুটা বয়স্ক মনে হল।চামড়াগুলো বেশ রুক্ষ।অনিমা আর নিহামও বিষয়টা খেয়াল করেছে।অনিমা বলল,

–চলত,সামনে যায়।কি করছে দাড়েয়ান চাচা ওখানে? দ্রুত পদবিক্ষেপে হাটা শুরু করলাম।কাছে যেতেই দেখলাম লোক দুটো ওঠে পাহাড়ের ভিতরের রাস্তা ধরে হাটা শুরু করছে।দাড়োয়ান চাচা আমাদেরকে দেখে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছে মনে হল।মনে হল আমাদেরকে এইখানে দেখার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিলনা।হঠাৎ বলে উঠল,

–কি ব্যাপার আপামনি,আপনারা এখানে কিজন্য আইছেন? অনিমা বলে উঠল,
–ঘুরতে বেরিয়েছি চাচা।আপনার সাথে দুইটি লোক ছিল।ওরা কারা? দাড়োয়ান চাচা বলল,
–কই?আমার সাথে ত কোন লোক নেই। অনিমা বলল,
–ওইযে,একটু আগেইত লোক দুটো আপনার সাথে কথা বলছিল। দাড়োয়ান চাচা মুচকি হাসি দিল।হেসে হেসে বলল,

–লোক দুইটে আমার পরিচিত।অনেকদিন ধরে এইহানে থাকে ওরা।মাঝেমধ্যে সময় পেলে এসে কথা বলে আবার চলে যায়। অনেক ভালো মানুষ ওরা। চাচার কথাগুলো শুনে কিছুটা গড়বড়ে লাগছিল নিজের মধ্যে।কিছু একটার রহস্য যেন লুকিয়ে আছে সবকিছুর মধ্যে।তারপরও যেন সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।

–ঠিক আছে চাচা আপনি যান।

একটু রসিকতা করে বললাম,রাতের খাবারটা কিন্তু ভালো হওয়া চাই।চাচা হেসে চলে গেলেন।সামনের পাহাড়ি রাস্তা ধরেই আমরা হাটছি।হাটতে হাটতেই খুব তৃষ্ণা পেল।সামনে একটা ছোট কুড়ে ঘর দেখতে পেলাম।নিহাম বলল,

–চল ঐ ঘরে গিয়ে দেখি পানির কোন ব্যবস্হা হয় কিনা? আমরা ঘরটাতে পৌছালাম। ভিতর থেকে একজন বুড়ি এসে বলল,
–কি চান আপনেরা?
–আমরা খুব তৃষ্ণার্ত।জল খাওয়ার জন্য এসেছি। বুড়িটি বলল,
–ঠিক আছে আপনেরা বইসেন।আমি জল আনতাছি।

বুড়িটি ভিতরে ডুকল।নিহাত ভাল মানুষ ই মনে হল দেখে। বুড়ির অনুমতি না নিয়েই ভিতরে ঢুকে গেলাম।ভিতরে ডুকেই চোখ কপালে উঠল।যা দেখার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।অনেকগুলো মানুষের মাথার খুলি উপর থেকে দড়ি দিয়ে ঝুলানো।দেখেই মনে ভয় ডুকে গেল।একমুহূর্ত দেরি না করেই প্রাণপনে দৌড় দিলাম।নিহাম আর অনিমা ও আমার পিছনে পিছনে দৌড়ছে।নিহাম বলল,

–কি হয়েছে দৌড়ছিস কেন? তাড়াতাড়ি বাংলোতে চল।ওখানে গিয়ে সব বলছি। বাংলোতে ফিরতে ফিরতেই বেলা গড়িয়ে এল।অবশ্য পাহাড়ি জায়গাগুলো এমনিই।বিকাল হতেই সন্ধ্যা নেমে আসে।বাংলোতে ডুকেই মন ভরে পানি পান করে নিলাম তিনজনেই।দেখলাম দাড়োয়ান চাচা একটা লোকের সাথে বসে গল্প করছে।কি হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছিনা।নাক লম্বা,পরনে শুধু লুঙ্গি।ঢের বয়স হয়েছে।চামড়া ভিতরের দিকে ডুকে গেছে।ওদের ভাষায় কি যেন আলাপ করছে কিছুই বুঝতে পারলাম না।হঠাৎ চাচা গর্জে উঠল।বলল,

–আমি কিছু বুঝিনে এসব।আমি উপরের অংশ চাই।নাহলে সব বাতিল। লোকটি উঠে দাড়াল।ওনার ভাষাগুলো বুঝতে পারছিনা।হয়ত এখানকার এলাকার ভাষা হবে।চাচাকে কি যেন বলে হাটা শুরু করল।চাচা হঠাৎ আমাদের দিকে দৃষ্টিপাত করল।মনে হল খুব ভয় পেয়ে গেছে আমাদেরকে দেখে।ছোট করে লোকটিকে বলল,

–আজ রাইতেই হবে।ওরা চলে এসেছে।আপনে যান। চাচাকে ডাক দিলাম।চাচা লোকটা কে?এখানে কেন আসছেন ওনি? চাচা মুচকি হেসে বলল,

–ও কেউ নে বাবা।আপনেরা ভিতরে যান।আমি নাস্তা নিয়ে আসতাছি।

মনে হল চাচা আমাদের থেকে কিছু একটা গোপন করছে।তারপরও মনে সাহস নিয়ে ঘরে ডুকলাম।ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য। কিন্তু যা দেখলাম তার জন্য একদম অপ্রস্তুত ছিলাম।দেখলাম কমোডের নিচ দিয়ে পিঁপড়ার দল আসা যাওয়া করছে।একটা বিশ্রী গন্ধও ছড়াচ্ছে।পানির কল ছাড়তেই বেরিয়ো এল একটা সাপ।চিৎকার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলাম।নিহাম দৌড়ে আসল।বলল,

–কি হয়েছে?
–তেমন কিছু না।চল আমরা বাইরে গিয়ে বসি।নাস্তা করে নে তাড়াতাড়ি। নিহাম সম্মতি জানাল।অনিমা আগে থেকেই নাস্তা করতে বসে গেছে।খেয়ে বাইরে বের হব এমন সময় কে যেন বলে উঠল
–আমাকে একা রেখে চলে যাচ্ছিস?যাসনে বাইরে।গেলে আমার মতই মরণ হবে তোদের। খুব ভয়ঙ্কর গলায় কথাগুলো কোন একটা মেয়ে বলেছে।নিহাম,অনিমা তুরা কিছু শুনেছিস? দুইজনেই উত্তর দিল না।নিহাম বলল,

–কিছুইত শুনা যায়নি।কিসের কথা বলছিস?

আচ্ছা বাদ দে।চল বাইরে যায়।চারদিকে অন্ধকার। হাতে হ্যারিকেন নিয়ে বেরিয়ো পড়লাম আমরা। বাংলোর সামনে বিশাল এক গাছ।সেই গাছের নিচে বসেই গল্প করব আমরা।কিন্তু আমার কেন জানি গল্পে মন বসছে না।নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করতে লাগলাম,আমাদের সাথে প্যারানরমাল কিছু ঘটছে না তো? ঘটনা গুলো এমন যে,সবকিছুই ঘটছে অথচ কিছুই যেন ঘটছে না।মিলাতে পারছিনা কিছুই।নিহাম বলে উঠল,

–দোস্ত দেখত ঐ জায়গায় কি একটা যেন উপরে নিচে দোল খাচ্ছে। হে তাইত।শুধু দেখা যাচ্ছে একটা শাড়ি পড়া মেয়ে গাছের সাথে দড়ি বেধে দোল খাচ্ছে।চলত দেখে আসি।অনিমা বলল,
–আমার ভয় করছে দোস্ত।তোরা যা,আমি এখানেই আছি।
–ঠিক আছে তুই দাড়া।আমি আর নিহাম গিয়ে বিষয়টা দেখছি।

আমরা উঠে দাড়াতেই মেয়েটিও দোলনা থেকে নেমে দাড়িয়ে গেছে।যতই সামনে যাচ্ছি মেয়েটা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।চিৎকার দিয়ে ডাক দিলাম,

–কে ওখানে? দাড়ান কে আছেন। বলতে বলতেই মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে গেল।নিহাম আমার হাত আঁকড়ে ধরল।বলল,
–দোস্ত চল।এখানে বেশিক্ষণ থাকা যাবেনা।আমার মনে হয় আমাদের সাথে খারাপ কিছুই ঘটতে চলেছে।
–একদম ভয় পাওয়া যাবেনা দোস্ত।আমাদের ঠান্ডা মাথায় সবকিছু সমাধান করতে হবে।তবে বাংলোতে চল।বাইরে থাকাটা বিপদজনক হতে পারে। পিছনে ফিরে হাটব এমন সময় একটা মেয়ের কন্ঠে বলে উঠল,

–কি?আমাকে খুজছিস তোরা?এইযে,আমি তোদের পিছনেই আছি।বেঁচে ফিরতে চাইলে এক্ষুণি পালা।না হয় আমার মতই মরতে হবে তোদের। ভয়ে হাটু কাপতে লাগল আমার।গলাটাও বেশ পরিচিত মনে হল।আগেরবার বাংলোর ভিতেরই এই কন্ঠ স্পষ্ট শুনেছি আমি।আবারো বলে উঠল,

–আমাকে ভয় পাসনা।আমি তোদের কোন ক্ষতি করব না।বাঁচতে চাইলে পালা এখান থেকে। অত্যন্ত ভীত গলায় বললাম,
–কে আপনি?সামনে আসুন।
–আমি আত্না।আজ থেকে চল্লিশ বছর আগেই আমাকে খুন করা হয়েছে।বাঁচতে চাইলে ফিরে যা।হা হা হা হা হা…
হাসতে হাসতেই কন্ঠটি অদৃশ্য হয়ে গেল।নিহাম খুব শক্ত করে ধরে আছে আমাকে।ভয়ে আমার হাঁটু কাঁপছে।মনে জোর নিয়ে বললাম,

–চল।

দুইজনেই ফিরে যাচ্ছি।অনিমা সামনে দাড়িয়ে ভয়ে কাঁপছে।দোস্ত ফিরে চল আমাদের আজকেই বাড়ি ফিরতে হবে।এখানে থাকা আমাদের জন্য নিরাপদ নই।চিন্তা করলাম বাংলোতে ফিরেই এসব রহস্যের সমাধান খুজব।তাই বাংলোতে ফিরে যাচ্ছি। অনিমা কোন শব্দ করল না।নিঃশব্দে আমাদের সাথে দৌড়াচ্ছে।হাপাতে হাপাতে বাংলোতে ফিরে এসেছি।দেখলাম দাড়োয়ান চাচা দুইজন মানুষের সাথে কথা বলছে।দেখে মনে হল বিকালে পাহাড়ি রাস্তায় দেখা মানুষ দুইটাই।ওরা এখানে কি করছে?ভীষণ সন্দেহ হল চাচার উপর।তাহলে কি ওরা আমাদের কোন ক্ষতি করবে? দাড়োয়ান চাচা আমাদের এখনো খেয়াল করেনি।লোক দুইটির একটি বলল,

–ওরা ফিরে আসলেই শেষ করে দিতে হবে।অনেকদিন ধরে মানুষের রক্ত খাই না। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে ওদের চোখ দুটি জ্বলছে।দাঁতগুলো ভীষণ ভয়ংকর। দেখেই ভয় পেয়ে গেলাম।অনিমাকে বললাম,

–অনিমা চল।আজকেই আমাদের পালাতে হবে যে করেই হোক। অনিমা বলল,
–দোস্ত আর দেরি করা যাবেনা।চল।
–সাবধান।ওরা যাতে বুঝতে না পারে আমরা পালাচ্ছি। হঠাৎ দাড়োয়ান চাচা লোক দুইটিকে বলল,
–জবর সিং চলি আসিছে।ওর সাথে আমার কথা হইয়াছে আমি ওপরের টাই নেব। লোক দুইটি জেরা করছে।বলল,

–আমাদেরকে একটা হইলেও দিতে হইব। চাচা বলল,

–না।সবগুলোই আমার।রক্তের ভাগ তোমাদের বেশি দিব। দেখলাম বিকালে বাংলোর সামনে যে লোকটি কথা বলছিল সেই লোকটিই চলে এসেছে।হাতে একটা থলে।থলের বাইরে ছুরির মাথা বের হয়ে আছে।দেখে আমার সমস্ত শরীর শিহরণ দিয়ে উঠলো।তাহলে কি ওরা আমাদের মেরে ফেলবে?তাছাড়া দাড়োয়ান চাচাও ওদের সাথে যুক্ত আছে? না না।এখানের কাউকেই বিশ্বাস করা যাবে না।সবাই আমাদের শত্রু।যতদ্রুত সম্ভব পালাতে হবে। পরে আসা লোকটি বলল,

–ওরা কখন আসিবে? চাচা বলল,

–ওরা চলে আসিবে।আমি সব ব্যবস্হা করিয়া রাখিয়াছি। দেখলাম লোক দুইটি মাতলামি করছে।নিজেদের মাথায় নিজেরাই বারি দিচ্ছে।পায়চারি করছে।একজন গর্জে উঠে বলে উঠল,

–কখন আসিবে এরা?অনেকদিন পর মানুষির রক্ত খাব।বেশি দেরি করা যাবে না।
আমার সমস্ত শরীর কাঁপছে।অনিমা আর নিহাম একজন আরেকজনকে ধরে আছে।নিহামের কি যেন বলার চেষ্টা করেও বলতে পারছেনা।তার গলায় কথা আটকে যাচ্ছে।হাতের চালচলন দেখে বুঝতে পারলাম পালাতে বলছে।বললাম,

–মনে জোর রাখ।সাবধানে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।একবার দেখে ফেললেই আমাদের আর বেঁচে থাকা সম্ভব না।

শেষে আসা মানুষটি এখনো ঝগড়া করছে।তার নাকি উপরের টাই লাগবে।এইসুবাদে আমরা ধীরে ধীরে বেরিয়ে পড়ছি।উপরেরটা বলতে তারা সম্ভবত মাথার অংশটা নিতে চাচ্ছে। কিছুদূর গিয়ে প্রাণপণে দৌড় দিলাম তিনজনেই।অনিমা আর পারছে না।ওরা হয়ত এতক্ষণে আমাদের পিছু নিয়েছে।সামনে কোথাও আশ্রয় নিতে পারলে আমাদের প্রাণটা হয়ত বেঁচে যাবে। কিছুটা দূরেই একটা ঘর।চারপাশে আলোকিত।সামনে বিশাল একটা গাছ।আমরা ঐ ঘরেই আশ্রই নেওয়ার জন্য গেলাম।দরজায় টুকা দিতেই একজন বয়স্ক লোক বের হয়ে আসছে।

–কি চাও বাবারা।আমি চোখে দেখিতে পাইনে বাবা।তোমরা কারা? লোকটি আমাদের ঘ্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করল।
–চাচা আমরা বিপদে পরে এখানে এসেছি।আমাদের একটু আশ্রয় দিবেন?
–দাড়াও।আমি আইতাছি। কিছুটা ভয় হতে লাগল।এখনো হাঁটু কাপছে আমার।লোকটি হারিকেন নিয়ে বের হয়ে আসল।বলল,
–চল আমার সাথে। লোকটির পিছনে পিছনে হাটছি।আমাদের একটা বড় ঘরের সামনে নিয়ে এসেছে।বলল,
–ভিতরে আইসো বাবারা।

একটা রুমে নিয়ে গিয়ে বলল তোমরা এই ঘরে থাক।রুমে ডুকতেই বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দিল।চিৎকার দিলাম চাচা!চাচা!কিন্তু কানে নিল না।বাইরে থেকে লোকগুলোর কন্ঠস্বর ভেসে আসছে।মনে হল সবাই দাড়োয়ান চাচাকে বকাবকি করছে।একজন বলল,

–বলিছিলাম পালাইবে।সাবধানে থাইকো। বুড়ো লোকটি বলল,
–ওইরুমেই আছে।ছুরি বের কর।

ভয়ানক বিপদ।বাঁচবার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছি।নিহাম আর অনিমা ভয়ে কাঁপছে।ঘরখানা ঘুরতেই দেখলাম পিছনের দিকে গোপন দরজা।টিনের দরজা শক্ত করে লাগানো।সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজায় চাপ দিলাম।দেখলাম দরজা খুলে গেল।চল দোস্ত পালা। অনিমা আর নিহাম বেরিয়ে পড়ল।আমিও বের হয়ে এলাম।এদিকে সামনের দরজায় কেউ টুকা দিচ্ছে। আরেকবার বুকে সাহস নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে দৌড়ছি।ঘুটঘুটে অন্ধকার।রাত প্রায় সাড়ে বারোটা হবে। প্রাণপণে দৌড়চ্ছি আমরা।দৌড়াতে দৌড়াতে ট্রেনের রাস্তায় পৌছে গেছি।দূর থেকে ট্রেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।সাইনবোর্ড়ে দেখলাম জায়গাটির নাম “মৃতশহর”।

পিছনে পিছনে লোকগুলোও হয়ত আসছে।তবে এখন একটাই আশা,যদি ট্রেনে উঠতে পারি তাহলে হয়ত এইযাত্রায় বেঁচে যাব।ভাবতে ভাবতেই ট্রেনটি আমাদের সামনে এসে থেমে গেল।সম্পূর্ণ মিরাকল একটা ব্যাপার ঘটল।এই জায়গায় কোন স্টেশন নেই।ট্রেন থামার কথা না।ট্রেন টার উপরেও কেমন জানি বিশ্বাস হচ্ছেনা।তারপরও কি মনে করে তিনজনেই ট্রেনে উঠে পড়লাম।হর্ন দিয়ে অন্ধকারের মধ্য দিয়েই চলা আরম্ভ করল ট্রেন।জানালা দিয়ে দেখলাম লোকগুলো দৌড়াচ্ছে। হয়ত বেঁচে যাব।কিন্তু কে ঐ মেয়েলি কন্ঠস্বর?কারা ঐ লোকগুলো?কিছুর রহস্যই খুঁজে পেলাম না।বাংলোর রহস্যটা রহস্যই রয়ে গেছে ভাবতে ভাবতেই কলিকাতা শহরে পৌছে গেলাম।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত