ঘটনাটা কিন্তু সত্যি

ঘটনাটা কিন্তু সত্যি

ঘটনাটা আমার বাবার জীবনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা।
তখন আমার বাবা গ্রামে থাকতো। বাবা যখন গ্রামে থাকতো তখন সে সারাদিন তার নানার সাথে থাকতো।
বাবার নানা বাবাকে খুবী ভালবাসতেন।
আর এই ঘটনা যখন বাবার সাথে ঘটে তার অনেক বছর আগেই বাবার নানা মারা যায়।
আমার বাবা খুব ভালো একজন মানুষ। বাবার সব চেনা জানা লোক বাবাকে খুব ভালো জানতো।
আমার দাদা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
দাদা খুবী সাহসী একজন লোক। দাদার বাড়িতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে যেত মাঝে মাঝে। তোঁ একদিন কাজ শেষ করে ঘন দুপুর বেলা দাদা বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিলো।বাজার থেকে বাড়ি ফেরতে বেশ বড় বড় জঙ্গল পাড়ি দিতে হয়।।
হঠাত কেউ একজন ওই জঙ্গল থেকে দাদাভাইর হাতে ইলিশ মাছ দেখে পিছু নিলো।
কিন্তু ঘটনাটা দাদা বুঝতে পারেনি।
দাদা মাছ নিয়ে ভালভাবে বাড়ি চলে এলো।
বাড়িতে এসে দাদা মাছ গুলি দাদীর হাতে দিলো।
দাদী মাছ গুল ধুয়ে কুটে ভাজার জন্য রান্নাঘরে নিয়ে গেল।মাছ গুলি ভেজে ভুজে ঘরে এনে রেখে দিয়েছে। এর মধ্যে দাদী আবার বাবাকে ঘুমতে বলে গেছেন।
বাবাও দাদীরর কথা মত ঘুমানোর জন্য চোখ কেবল বুজেছে, হঠাত কেউ একজন বাবাকে নাম ধরে দাক দিলো।
বাবাও সাথে সাথে চখ মেলে সাথে সাথে সারা দিলো।
বাবা সারা দিয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখে যে তার একটা বন্ধু।
বাবা তার বন্ধুকে দেখে লুকিয়ে লুকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ঘর থেকে বেরোনোর পর বাবা তার বন্ধুককে জিজ্ঞেস করল যে কি বেপার?
বাবার বন্ধু বলে চল তোকে নিয়ে এক জায়গা যাব।
বাবা জানতে চাইলো কথায় যাবি বলবিতো
নাকি?
বাবার বন্ধু বাবাকে বলল গেলেই দেখতে পারবি চল,আর তার আগে একটা কাজ কর।তোর বাবা বাজার থেকে ইলিশ মাছ এনেছে,তোর মা ভেজে ভেজে ঘরে রেখে আসছে যা নিয়ে আয়।
বাবাও কিছু না বুঝতে পেরে তার কথা মত ভাজা মাছ গুলো আনতে গেলো।
বাবার এই বন্ধু কোন মানুষ ছিলোনা। এটা হল দাদার পিছু নিয়ে আশা সেই ‘জন’
এক কথায় ভূত,বাবার বন্ধুর রুপ ধারণ করে বাবার সাথে এরকম করছে কিন্তু বাবাও এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারেনি।
বাবা মাছ নিয়ে আসার পর তার বন্ধু তাকে এক জায়গায় নিয়ে গেলো।
সেখানে একটা বড় গাছের কাছে গিয়ে দাড়াল,ঠিক কি গাছ মনে নেই।গাছটা খুবী বড় ছিলো।
সব চেয়ে বড় কথা হল যে ওই গাছের নিচে মানে একটু পাশেই ছিলো বাবার ওই নানার কবরস্থান!
অতঃপর বাবার বন্ধু বাবাকে গাছে উঠতে বলছে। বাবা তার কথা মতো গাছে ওঠার চেষ্টা করছে কিন্তু উঠতে পারছে না।
বাবার বন্ধু এক লাফ মেরে গাছের মাথায় উঠে বসেছে।
তখন থেকে বাবার মনে একটু ক্ষটকা লাগা শুরু হল যে আমি জার সাথে এরকম করছি সে কি মানুষ? নাকি অন্ন কিছু।
কিছুক্ষণ পর বাবা অনেক কষ্ট করে গাছের মাথায় উঠে গেছে।বাবাকে একদম গাছের মাথায় নিয়ে বসিয়েছে।
তোঁ দুজন এখন বসে বসে মাছ খাচ্ছে, কিন্তু বাবা কিছুটা হলেও বুঝে উঠতে পেরেছিলেন যে এটা মানুষ না।
বাবা বসা ছিলো তার বন্ধুর সামনে আর তার বন্ধু বসা ছিলো বাবার পেছনে।
হঠাত বাবা খেয়াল করল যে তার বন্ধুর মুখ থেকে কোন আওয়াজ বের হচ্ছে না।
বাবা পেছন ফিরে তাকাতেনা তাকাতে বাবাকে দিলো একটা জোড়ে ধাক্কা।।!
নিচে ছিলো ছোট ছোট গাছের ঠাল কাটা।
বাবা নিচে পরার সাথে সাথে একটা ঠাল বাবার দাড়ি ফুটো হয়ে একদম মুখে ঢুকে জায়,আর বাবা পুরাপুরি অজ্ঞান হয়ে সেখানে পরে থাকেন।
তারপর জ্ঞান ফেরার পর সবাই বাবাকে জিজ্ঞাসা করে যে কি হয়েছিলো।
আজব বেপার হল,বাবা জখন অজ্ঞান হয়ে ওখানে পরেছিল তখন নাকি বাবার নানা বাবাকে এসে ধরে ওখান থেকে উঠিয়ে বাড়ির সামনে এনে রেখে গিয়েছে।
সবাইকে বলার পর সবাই অবাক হয়ে বলে যে,যে মানুষটা এতো বছর হল মাড়া গেছে সে কিভাবে তোমাকে ওখান থেকে এনে এখানে রখে যেতে পারে?
বাবা আর কিছুই বলল না।
পরে আস্তে আস্তে বাবা সুস্থ হয়ে উঠে।
কিন্তু বাবার দাড়িতে আজও সেই দাগটা রয়েগেছে।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত