আত্মা মরে না

আত্মা মরে না

রােহিণী প্রতিবন্ধী। প্রথমে দুটো সুপুষ্ট পা নিয়েই সে জম্মেছিল। তারপর রাহুর মতাে পােলিও গ্রাস করল ডান পায়ের হাঁটুর নীচের দিকটার বেশিটা। স্বাবলম্বী রােহিণী পরগাছার মতাে আঁকড়ে রল তার বাবাকে। ওরা খ্রিস্টান। শহরের একটা বিশেষ এলাকায় বাসস্থান হলেও পার্টিতে, কি চার্চে গেলে বাবা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেত। সবরকম ঠাট্টা, বিদ্রুপের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাত।

মেষপালক যেখানেই থাকুক না কেন তার যেমন মেষের দিকে লক্ষ থাকে, রােহিণীর বাবা স্যাসুনেরও ঠিক তেমনই লক্ষ ছিল মেয়ের ওপর। ওর মা এদেশীয়; এটা ও বাবার কাছ থেকে শুনেছিল। এর বয়স যখন সবে দুই তখনই মা মারা যান। তাই মাকে ওর মনেই পড়ে না।

রােহিণী স্কুলের শিক্ষা বেশি পায়নি। ওর যা কিছু শিক্ষা সব বাবার কাছে। একটু বড় হতেই ও যখন বুঝতে পারল ওর সহপাঠিনীরা ওর চলন ভঙ্গিকে অনুকরণ করে আনন্দ উপভােগ করছে, ও আর স্কুলে গেল না। ওদের নিষ্ঠুর আনন্দ ওর স্বাভাবিক সুস্থ শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল।

একদিন ও দারুণ মানসিক যন্ত্রণা আর হতাশায় বিছানায় মুখ গুজে কাদছে, এমন সময় কে যেন সীমাহীন স্নেহের জাদুকাঠি ছোঁয়াল ওর মাথায়। চেয়ে দেখল, সে কেউ নয়, ওর বাবা স্যাসুন। বাবাকে দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে রােহিণী, বাবা, আমি যে আর পারছি না।

মাথায় হাত বুলােয় আর সান্ত্বনা দেয় বাবা স্যাসুন, চুপ কর মা, চুপ কর। কাঁদিস নে। যারা অপরকে আঘাত দেয় সেই আঘাত সুদে-আসলে তারা ফিরে পায়। প্রভুর দিকে তাকিয়ে দেখ, মা। কত আঘাত, কত কষ্ট তাকে সহ্য করতে হয়েছে।

রােহিণী কাদতে কাদতেই বলে, আজ তুমি যখন চার্চে গেলে …

উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্যাসুন, তখনই ভেবেছিলাম একটা কিছু না ঘটে। বার বার করে বললাম, আমার সঙ্গে চ। তা তুই কথা শুনলি না।

কী করব, শরীরটা যে খারাপ।

অস্থির হয়ে পড়ে স্যাসুন, শরীর খারাপ! এক্ষুনি চল আঙ্কেলের কাছে। উনি তােকে দেখে ওষুধ দেবেন।

পরে যাব বাবা। এখন কথাটা শােনােই না। তুমি যাবার পর আমি একবার রেবেকার কাছে যাব বলে বেরিয়েছিলাম। আমার বন্ধু রেবেকা। মেয়েটি বড় ভালাে। তােক খুব ভালােবাসে।

রােহিণী বলে, কিন্তু ওর কাছে তাে যেতে পারলাম না। পথে জর্জ আর প্যাটার—

ওকে থামিয়ে দেয় স্যাসুন, জর্জ আর প্যাটার! ও দুটো তাে দারুণ বখাটে ছেলে। তা ওরা কী বলেছে?

কান্না থামে না রােহিণীর। কাঁদতে কাঁদতেই বলে, ওরা বলল আমাকে দেখতে পেত্নীর মতাে। তুমি নাকি শাইলক।

স্যাসুনের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। রাগলে ওর কাণ্ডজ্ঞান থাকে না। স্যাসুন ওদের বাড়ি গিয়ে এমন কাণ্ড বাধাল যে জর্জ আর প্যাটার চিরকালের মতাে শক্ত হয়ে গেল ।

রােহিণীর ভয় হয়ে গেল। স্যাসুন বলল, ভয় কী। ও দুটোকে আমি জেল খাটাব। আমাকে যা বলে বলুক, কিন্তু তােকে কিছু বললে আমি সহ্য করব না কোনােদিন।

দু-দিন চুপচাপ। আবার সেই একই ঘটনা। রােহিণী তাে আর ঘরের মধ্যে দিবারাত্র থাকতে পারে না। একটু বেরিয়েছিল রেবেকার কাছে যাবে বলে। পথে ঠিক দেখা জর্জ আর প্যাটারের সঙ্গে। ওরা প্রত্যক্ষভাবে কিছু না বললেও পরােক্ষে যা বলল তা মনের মধ্যে আগুন জ্বালানাের পক্ষে যথেষ্ট। রােহিণী বাবাকে কিছু বলল না পাছে শত্রুতা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু তাতে হল কি ওদের বাড় আরও বেড়ে গেল। ওর বাবা স্যাসুন এমনিতে ভালাে মানুষ কিন্তু মেয়ে রােহিণীকে কেউ মন্দ কথা বললে মাথায় রাগ চড়ে যায়। অবস্থা যখন চরমে উঠল স্যাসুন হয়ে পড়ল অসুস্থ।

ডাক্তার এল, চিকিৎসা চলল, অসুখও বেড়ে চলল। অবস্থা যখন আয়ত্তের বাইরে, ডাক্তার রােহিণীকে বলল, আত্মীয়-স্বজনদের খবর দাও, মা। মনে হচ্ছে আর দু-একদিন। ভেঙে পড়ল রােহিণী কান্নায়, কী হবে বাবা? আমিও আর বাঁচতে চাই না।

স্যাসুন বাধা দেয়, ও কথা বলিস নে মা। তাের কোনও ভয় নেই, আমি বাঁচি আর মরি তাের কথা ভুলব না। তুইই যে আমার সব। তােকে আমি সব বিপদ থেকে বাঁচাব।

কাদতে কাদতেই বলে রােহিণী, তা কী করে হবে, বাবা! মরার পর তুমি কী করে তােমার মেয়েকে বাঁচাবে! মৃত্যু মানেই তাে জীবনের শেষ।

মাথা নাড়ে স্যাসুন, না না, তা নয়, মা। মৃত্যু মানে এই দেহের শেষ, আত্মার নয়। সে ছিল, সে আছে, সে থাকবে। আত্মা মরে না। দেহ পাল্টায়।

বাবা আমি কী করব, বলো না, বাবা।

স্যাসুন সান্ত্বনা দেয়, ভয় পাস নে, মা। পরিশ্রম, সততা আর নিষ্ঠাই জীবনের সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রভুকে স্মরণ করবি।

রােহিণী বলল, তুমিই আমার কাছে ভগবান, বাবা। আমি তােমায় জানি। মেয়েকে ভােলায় স্যাসুন, আমি তাের পাশে পাশেই থাকব, মা। সব বিপদ, সব অমঙ্গলের হাত থেকে তােকে বাঁচাব।

স্যাসুন মারা গেল। রয়ে গেল রােহিণী। বেঁচে রইল বাবার স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে। স্যাসুন যতদিন বেঁচে ছিল জর্জ আর প্যাটার তাকে আর বেশি উত্ত্যক্ত করতে পারেনি। ওরা স্যামুনের অপমানকে ভুলতে পারেনি। তুষের আগুনের মতাে এতদিন চাপা ছিল। এখন স্যাসুন নেই। সমস্ত রাগটা গিয়ে পড়ল রােহিণীর ওপর।

রেবেকার জন্মদিন উপলক্ষে ওদের বাড়িতে একটা পার্টি ছিল। সেখান থেকে ফিরতে রােহিণীর একটু রাতই হয়ে গেল। যাবার সময় ওর খুব একটা ভয় হয়নি, কিন্তু ফেরার সময় ওকে ভয় চেপে ধরল। একে নির্জন রাস্তা, তার ওপর সে একা। কিছুটা যাবার পর ও এল চৌমাথায়। একটা পথ গেছে ওর বাড়ির দিকে, একটা দিয়ে যাওয়া যাবে স্কুলে। একটা রেবেকাদের বাড়ির দিক থেকে সােজা চলে গেছে কবরখানার দিকে। কবরখানা আর ওর বাড়ির দিকের রাস্তা গাছে ঢাকা। টর্চ ছাড়া হাঁটা যায় না।

টর্চ নিয়েই এসেছে রােহিণী। আরও কিছুটা হাঁটার পর অন্ধকারটা গাঢ় থেকে হল গাঢ়তর। রােহিণী একটু ইতস্তুত করে টর্চ জ্বালল। ফোকাসটা সােজা গিয়ে পড়ল সামনের রাস্তায় যেখানে দুজন ছেলে দাঁড়িয়েছিল। ওদের মুখ দেখেই চিনতে পারল রােহিণী। জর্জ আর প্যাটার। ও খুব ভয় পেয়ে গেল।

মনে মনে প্রভুকে স্মরণ করল। তারপর বাবার কথা ভাবতে ভাবতে ধীর পায়ে এগােতে লাগল। জর্জ আর প্যাটারকে এড়িয়ে পাশ দিয়ে চলে গেল। ও ভাবল এ যাত্রায় ও বেঁচে গেল, কিন্তু না, তা হল জর্জ একটা পাথর ছুঁড়ল। সেটা রােহিণীর পাশ দিয়ে হাওয়ার বেগে গিয়ে পড়ল সামনের রাস্তার ওপর। রােহিণী থেমে পড়ল। ও বাবার কথা ভাবল, তােকে আমি সব বিপদ, সব অমঙ্গলের হাত থেকে বাঁচাব। ও মনে মনে বাবাকে ডাকতে লাগল। একটু যেন সাহস পেল। জর্জকে বলল, তােমরা ওরকম করছ কেন, জর্জ? আমি তাে তােমাদের কোনও ক্ষতি করিনি।

জর্জ বলল, তুই যে দেখছি চার্চের ফাদারের মতাে কথা বলছিস। বড় বড় কথা বললে মেরে গায়ের ছাল তুলে নােব।

অসভ্যের মতাে কথা বলাে না। তােমার বাবা-মা কি তােমাকে ভদ্রভাবে কথা বলতে শিক্ষা দেয়নি?

রােহিণীর মুখ ফস্কে বেরিয়ে আসা কথায় আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। খ্যাক করে ওঠে জর্জ, ওরে শয়তানী, যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! দেখাচ্ছি মজা।

বাঁ হাতে জর্জ একটা গিরগিটি ধরে তারপর সেটা ছুঁড়ে দেয় রােহিণীর দিকে। চিৎকার করে ওঠে রােহিণী ভয়ে ।

হেসে ওঠে জর্জ, এবার তােকে কে রক্ষা করবে?

কেন আমার বাবা বাঁচাবে, উত্তর দেয় রােহিণী কাঁদতে কাঁদতে।

জর্জ কর্কশ গলায় চিৎকার করে, তাের বাপ? বলিস কি! তার তাে দফারফা। প্যাটার তুই কি বলিস?

অস্বাভাবিক, অতি প্রাকৃতিক গাম্ভীর্য এনে প্যাটার বলে, আত্মা মরে না। দেহ পাল্টায়। মানুষের আইন শয়তানকে শাস্তি দিতে না পারলেও আত্মার হাত থেকে তার নিষ্কৃতি নেই।

কথা শুনে প্রথমটায় হকচকিয়ে যায় জর্জ, প্যাটার, এই প্যাটার, তুই এসব কী বলছিস? প্যাটার কোনও কথা না বলে এগােতে থাকে বাড়ির দিকে। জর্জ প্যাটারকে অনুসরণ করে।

প্যাটারের মুখে বাবার কথা শুনে প্রথমটায় রােহিণীও অবাক হয়ে যায়। এরপর চোখের জল মুছতে মুছতে এগােতে থাকে রাস্তা ধরে। কিছুটা যাবার পর দেখা সেন্ট বেকেট হাই স্কুলের ফাদারের সঙ্গে। ফাদার ওকে দেখেই বলেন, এত রাতে একা একা কোথায় যাচ্ছ মা? একি! তুমি কাঁদছ?

কি হয়েছে তােমার?

রােহিণী সব বৃত্তান্ত ফাদারকে শােনাল। ফাদার বললেন, জর্জ আর প্যাটার! ঠিক আছে আমি দেখছি। চলাে, তােমায় পৌছে দিই।

রােহিণীকে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন ফাদার। ফিরে আসার সময় ফাদার বলেন, দুঃখ কোরাে না, মা। আত্মা মরে না। দেহ পাল্টায়। মানুষের আইন শয়তানকে শাস্তি দিতে না পারলেও আত্মার হাত থেকে তার নিষ্কৃতি নেই।

এবার চমকে ওঠে রােহিণী, এ যে পরিষ্কার তার বাবার গলা! সেই ভাষা। সেই স্বর!

জর্জ আর প্যাটারকে চরম শাস্তি দিলেন ফাদার। দুজনকেই স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিলেন। ব্যস। আর যায় কোথা! খেপে গেল ওরা। দুজনে ঠিক করল, স্যাসুনের কবর খুড়ে কফিনটাকে বের করবে। এরপর বুড়োটাকে বের করে প্রথমেই মুন্ডুটাকে কেটে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। তারপর হাড়গুলােকে হাতুড়ি মেরে গুড়াে করবে। তাহলেই ওর আত্মার সব ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। ওর মৃত্যু ঘটবে।

এরপর রােহিণীর ব্যবস্থা। প্রস্তাবটা অবশ্য প্যাটারের। জর্জও সায় দিল। শনিবার। সন্ধেবেলা ওরা দেখে গেছে রােহিণী বাড়িতেই আছে। ওরা কোদাল, হাতুড়ি, শাবল এইসব জোগাড় করল। রাত এগারােটার পর সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়বে ওরা বেরােবে।

সন্ধে থেকেই রােহিণীর মনটা খারাপ। মাঝে মাঝেই ও কবরখানায় যায়। বাবার কবরের ওপর ঝরে পড়া পাতাগুলােকে পরিষ্কার করে। তারপর কবরের ওপর ফুল ছড়িয়ে দেয়। বেশ কিছুক্ষণ বাবার জন্যে কাঁদে, তারপর বাড়ি ফেরে। জর্জ আর প্যাটার শাস্তি পাবার পর থেকে ও বাইরে বেরােতে সাহস করে না।

রাত এগারােটা।
ঘুমােচ্ছে রােহিণী। স্বপ্ন দেখছে ওর বাবার কবরের ওপর ধুলাে, শুকনাে পাতার পাহাড় হয়ে জমে আছে। বাবার খুব কষ্ট হচ্ছে। ওর ঘুমটা ভেঙে যায়। ও উঠে পড়ে। দরজা

এতে বাইরে বেরিয়ে আসে। চারদিকে গাঢ় অন্ধকার। মিটমিট করে দেখছে তারাগুলাে। এই ঠিক স সবাই ঘুমােচ্ছে। কেউ তাকে দেখতে পাবে না। ও তাড়াতাড়ি উঠোনের ফুলগাছ গুলাে থেকে

কিছু ফুল তুলে নিয়ে এগোেয় কবরখানার দিকে। ওর মনে ভয় নেই। রােহিণী জানে ওর বাবার আত্মা ওর পাশে পাশেই আছে।

কবরখানায় ঢুকেই ও থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে। জর্জ আর প্যাটার! এত রাতে ওরা কী করছে!

তবে কি-

জর্জ আর প্যাটার পরিকল্পনা মতাে স্যাসুনের কফিনটাকে কবর খুঁড়ে বের করে। এরপর স্যাসুনের দেহটাকে ধরাধরি করে কফিন থেকে বের করে কবরের পাশে রাখে। জর্জ শুধােয়, প্যাটার, কাটারি এনেছিস তাে?

প্যাটারের আপসােস হয়, ভুলে গেছি, একবারে ভুলে গেছি। তবে শাবল আর কোদাল দিয়েই হবে। ওগুলােয় খুব ধার। জর্জকে প্যাটার বলে, আর দেরি করিস নে। কাজ শুরু কর।

জর্জ বলল, হ্যারিকেনটা ভালাে করে উস্কে দে। আলােটা এদিকে ধর।

জর্জ শাবলটা স্যানের মাথায় আঘাত করার জন্যে তুলবে ঠিক এইসময় ছুটে যায় রােহিণী, কী করছ তােমরা? এখনি দেহটাকে কফিনে ভরে কবরে রেখে দাও, তা নইলে তােমাদের দুজনকেই আমি শেষ করে দেব।

জর্জ রাগে গরগর করে, তবে রে ডাইনি। আগে তােকেই শেষ করব।

জর্জ আর প্যাটার ওকে ধরতে যায়, রােহিণী কবরের চারদিকে চক্রাকারে ঘােরে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে, বাবা, বাঁচা-ও। কখনও কোনও কবরের পাশে লুকোয়, কিন্তু ওদের চোখকে ফাঁকি দিতে পারে না। লণ্ঠনের আলাে এসে পড়ে ওর মুখে বা পিঠে। ওরা ধরে ফেলার আগেই ও ছুটতে শুরু করে এদিক-ওদিক। রােহিণীর গতি এত তীব্র যে জর্জ আর প্যাটার ওর সঙ্গে পেরে ওঠে না। ওরা মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে হাঁপায়। আবার ওরা রােহিণীর পিছু নেয়।

ছুটতে ছুটতে জর্জ ফিরে আসে স্যাসুনের কবরের কাছে। জায়গাটায় চাপ চাপ অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারের চারপাশে আতঙ্কের ছায়া। হঠাৎ জর্জের খেয়াল হল পিছনে প্যাটার নেই। সামনে, এপাশে, ওপাশে দেখল, কিন্তু কোথায় প্যাটার! যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। যাক।

জর্জ শেষ না দেখে বাড়ি ফিরবে না। ও অন্ধকারের মধ্যেই খুঁজতে থাকে রােহিণীকে। একসময় বিদ্যুৎচমকের মতাে মনের মধ্যে ঝলসে উঠল একটা চিন্তা, রােহিণী তাে খোড়া। তাহলে এত জোরে ছুটছে কী করে?

পিছন থেকে একটা শান্ত, গম্ভীর গলার স্বর ভেসে আসে, আত্মা মরে না। দেহ পাল্টায়। মানুষের আইন শয়তানকে শাস্তি দিতে না পারলেও আত্মার হাত থেকে তার নিষ্কৃতি নেই।

চমকে ওঠে জর্জ। চারপাশে কেউ নেই। একটা অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা ওকে যেন গিলতে আসে। ও চিৎকার করে ওঠে, প্যাটার। এরপরই দেখল কবরের সেই ঘন অন্ধকার ভেদ করে বেরিয়ে আসছে প্যাটার।
চিৎকার করে জর্জ, প্যাটার! ওখানে কী করছিস?

হঠাৎ যেন আলাে ঝলসে উঠল, আর সেই আলােয় মুহূর্তের জন্যে হলেও ও স্পষ্ট দেখতে পেল প্যাটারের নাক, কান, মুখ দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত ঝরছে। ও মহাশূন্যের দিকে চেয়ে দু-হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে জর্জের দিকে। প্রথমটায় জর্জ বিহ্বল হয়ে পড়ে। বিহুলতা কাটতেই মনে ঢুকল ভয়। অকল্পনীয় ভয়। মৃত্যুভয়। প্যাটার দৃঢ় পদক্ষেপে, নিশ্চিতভাবে এগিয়ে আসছে ওর দিকে। ও পালাতে চেষ্টা করে, কিন্তু দু-হাত দিয়ে চেপে ধরার মতাে অন্ধকারটা ওকে নড়তে দেয় না।

প্যাটারের শাবলের মতাে দুটো হাত ওর গলাটা চেপে ধরে। চিৎকার করে ওঠে জর্জ, কে তুমি! স্যাসুন?

উত্তর আসে, আত্মা মরে না। দেহ পাল্টায়। মানুষের আইন শয়তানকে শাস্তি দিতে না পারলেও আত্মার হাত থেকে তার নিষ্কৃতি নেই।

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত