ধর্ষণ (পর্ব -১)

ধর্ষণ (পর্ব -১)

পর্ব -১

গ্রামের নিরিবিলি এক সন্ধ্যা ।
আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে । চাঁদটা সাদা মেঘের আড়ালে একবার হারাচ্ছে আবার মেঘটাকে অতিক্রম করে উঁকি দিচ্ছে ।
হালকা বাতাস বইছে চারদিকে । পরিবেশটা বেশ রোমান্টিক ।

জিনিয়া চুপিসারে ঘর থেকে বের হয়ে জঙ্গলে আসলো ।
আরিয়ান একটা গাছে হেলান দিয়ে দাড়িঁয়ে অপেক্ষা করছে জিনিয়ার জন্য ।

– এত দেরি করলে কেন ? আমি সেই কখন থেকে তোমার জন্য্ অপেক্ষা করছি ।
– দেরি করলাম কোথায় !! লাজুক কন্ঠে বলল জিনিয়া ।

আরিয়ান জিনিয়ার হাত ধরলো । তারপর একটানে জিনিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরলো ও । এই প্রথম কোন ছেলের স্পর্শ পাওয়ায় অজানা অস্থিরতায় পুরো শরীর কেঁপে উঠলো জিনিয়ার । শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আরিয়ানকে । ধীরে ধীরে আরিয়ানের ঠোঁট দুটি নেমে আসলো জিনিয়ার গালে, ঠোঁটে ।

চাঁদটা ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশময় ।
আবছা আলো গাছের ফাঁক দিয়ে জঙ্গলের ভিতর ঢুকছে । কিছুক্ষণপর আরিয়ান চলে গেল । জিনিয়াও বাড়ির পথে পা বাড়ালো । এলোমেলো চুল , ঠোঁটের লিপিস্টিক লেপ্টানো আর ওড়নাটাও ঠিক জায়গামত নেই ওর । বাসায় ঢোকার পূর্বমুহূর্তে সবকিছু ঠিক করে বাসায় ঢুকলো ও ।

– কোথায় গিয়েছিলি জিনিয়া ? জিনিয়ার আম্মু জিজ্ঞাসা করলো ।
– মুশতারীর বাসায়, নিচু গলায় বলল জিনিয়া ।
আর কিছু বলল না ওর আম্মু । মুশতারী জিনিয়ার চাচাতো বোন ।

পরদিন সন্ধ্যা ।

অন্ধকার নেমেছে চারদিকে । ভালোবাসার মানুষটার স্পর্শে পাওয়া অজানা সেই সুখের সন্ধানে জিনিয়া আজও আরিয়ানের সাথে দেখা করতে জঙ্গলে গেল । চাঁদটা কালকের মত আজও আকাশময় ভেসে বেড়াচ্ছে ।

তীক্ষ্ন হুইসেল বাজিয়ে ট্রেনটা এসে থামলো স্টেশনে ।

– উফফফ, ট্রেনটা এত দেরি করে পৌঁছালো !! বিরক্তি ঝরলো জয়ের কন্ঠে ।
– বিকালে আসার কথা আর আমরা এসে পৌঁছালাম রাতে,অরকিয়া বলল ।
– এখন ঐসব ভেবে লাভ নেই । মুশতারীকে ফোন দে,” পাবন বলল ।

মুশতারীর আমন্ত্রণে ওদের গ্রামে ঘুরতে এসেছে পাবন, জয়, আর অরকিয়া । শুভ একটা কাজে আটকে পড়ায় আসতে পারে নি ওদের সাথে ।

অরকিয়া মুশতারীকে কল দিল ।
অপর প্রান্ত থেকে মুশতারী বলল,” তোরা স্টেশনের ডানদিকে হাটঁতে থাক । একটু দূরে দেখবি একটা জঙ্গল । জঙ্গলটা পাড় হলেই আমাদের গ্রাম । আমিও আসছি ।”

পাবন, জয় আর অরকিয়া স্টেশন থেকে বের হয়ে ডানদিকে হাটঁতে লাগলো । কিছুদূর হাটঁতেই ওরা জঙ্গলটা দেখতে পেল ।
সরু এক পথ জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলে গেছে । ওরা পথটা ধরে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাটঁতে লাগলো । পাবন টর্চ হাতে সামনে হাটঁছে । পিছনে জয় আর অরকিয়া ।

হঠাৎ পাবন টর্চের আলোতে দেখতে পেল একটা ঝোপের কোণে সাদা কিছু একটা দেখা যাচ্ছে । পাবন দৌঁড়ে ঝোপের কাছে গিয়ে দেখলো সাদা একটা ওড়না ঝোপের কোণে আটকে আছে আর তার পাশেই ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে একটা মেয়ে । মেয়েটার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ । পাবন ওর শার্টটা খুলে মেয়েটার শরীর ঢেকে দিল । দৌঁড়ে আসলো জয় আর অরকিয়া । হাতের রগে চাপ দিয়ে পাবন দেখলো রগগুলো এখনও সচল । পাবন, জয় আর অরকিয়া মেয়েটাকে নিয়ে দ্রুত জঙ্গল থেকে বের হল । এদিকে মুশতারীও হাটঁতে হাটঁতে জঙ্গলের কাছে চলে এসেছে । ওদের দেখে ছুটে আসলো ও ।
মেয়েটাকে দেখে মুশতারী চেচিঁয়ে বলল,”আরে জিনিয়া !! ওকে কোথায় পেলি তোরা ?
“সবকিছু পরে বলা যাবে । এখন মেয়েটাকে আগে হাসপাতালে নিতে হবে ; খুব দ্রুত”, পাবন বলল ।

মুশতারী দৌঁড়ে ওর বাড়িতে গিয়ে সবকিছু বলল । দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হল জিনিয়াকে ।

– আচ্ছা, তোরা জিনিয়াকে কোথায় পেলে এই অবস্থায় ? হাসপাতালে বাহিরে দাড়িঁয়ে আছে ওরা ।
– আসার সময় জঙ্গলে ঝোপের আড়ালে পড়ে ছিল । আমরা দেখে নিয়ে আসলাম , জয় বলল ।
– ও কি তোর পরিচিত কেউ ? অরকিয়া জিজ্ঞাসা করলো ।
– হ্যাঁ , ও আমার বোন ।
তারপর নিজে নিজেই বলল,”কিন্তু ও এই রাতে জঙ্গলে কেন গিয়েছিলো ? আর ওর এই অবস্থায়ই বা কে করলো ? মুশতারীর মনে হাজারো প্রশ্ন এসে ভিড় করতে লাগলো।

তখন জিনিয়ার আম্মু ওদের কাছে আসলো । চোখে পানি । মুশতারী ওর আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলো,
– আচ্ছা আন্টি, জিনিয়া এত রাতে জঙ্গলে কেন গিয়েছিলো ? আপনাকে কিছু বলে যায় নি ?
– ও তো দু’দিন ধরেই সন্ধ্যার পর তোমাদের বাসায় যাবে বলে ঘর থেকে বের হয় । আজও তাই বলে বের হয়েছে । জিনিয়ার আম্মু বলল ।
– কিন্তু ও তো দুই তিন দিন ধরে আমাদের বাড়িতে যায়-ই না । ভ্রু কুচকালো মুশতারী ।

পাবন মুশতারীর কথা শুনে কিছু একটা ভাবলো ।
জয় আর অরকিয়া পাবনের দিকে তাকিঁয়ে বুঝলো ,” পাবন নতুন রহস্যের গন্ধ পেয়েছে । রহস্য সমাধান করার আগ পর্যন্ত ও আর স্থির হতে পারবে না ।”

আরো গল্প পড়তে লিংক এ ক্লিক করুন……

ধর্ষণ (পর্ব -১)
ধর্ষণ (পর্ব -২)
ধর্ষণ (পর্ব -৩)
ধর্ষণ (পর্ব -৪)
ধর্ষণ (পর্ব -৫)

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত