অদ্ভুত দোকানদার

অদ্ভুত দোকানদার

আজকে যে ঘটনাটি আপনাদের শোনাবো সেই ঘটনাটি একটি হাইওয়ের ঘটনা আর এই ঘটনাটি পাঠিয়েছেন বেলায়েত নামের এক বন্ধু ।আমরা তার মত করেই ঘটনাটি উপস্থাপন করছি ।সেবার হঠাৎ করেই আমাকে অফিসের কাজে চট্টগ্রাম যেতে হয়েছেল। হঠাৎ যেতে হয়েছিল কিন্তু একটা ঝামেলা ও ছিল কারন আমার বাসায় গ্রাম থেকে এক চাচা এসেছিল চিকিৎসার জন্য। চাচার অবস্থা তেমনটা ভালো ছিল না মরি মরি অবস্থা। এইদিকে চট্টগ্রাম না গেলে চাকরিতে সমস্যা হতে পারে ।তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমাকে চট্টগ্রাম যেতে হয়েছিল ।চট্টগ্রাম আমি এর আগেও অনেকবার গিয়েছি কিন্তু এবারের যাওয়াটা একটু অন্যরকম ছিল ।

প্রতিবারই অফিসের গাড়ি করে গিয়েছিলাম কিন্তু এবার কিছুটা ঝামেলার কারণে বাসে করে যেতে হয়েছিল ।রওনা দিয়েছিলাম খুব রাতে কিন্তু পৌঁছতে পৌঁছতে সকাল হয়ে গিয়েছিল ।সারাদিনে অফিসের কাজ সেরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম ঠিক তখনই বাসা থেকে ফোন আসলো যে চাচার অবস্থা খুবই খারাপ ।তাই অনেক কষ্টে বসকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে ওইদিনই বাসায় আসার প্ল্যান করি ।কিন্তু আসার পথে ভালো কোন বাসের টিকিট না পেয়ে উঠে পড়লাম লোকাল একটি বাসে তখন আকাশের অবস্থা ভালো ছিলনা । বৃষ্টি পড়ছিল তখন ।

বৃষ্টির মধ্যে বাসটি চলতে শুরু করল বাস চলতে চলতে হঠাৎ একটি জায়গায় এসে থেমে গেল ।এমন একটি জায়গায় এসে থামল যে সেখানে না না ছিল কোন বাড়িঘর বা দোকানপাট। জায়গাটার নাম ঠিক মনে নেই । উত্তেজিত হয়ে ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন গাড়ি থামানো হলো। ড্রাইভার বলল চাকা পাঞ্চার হয়ে গেছে। এবং ড্রাইভার আরো বলল যে সকালের আগে গাড়ি আর চলবে না কারণ আশেপাশে কোন গ্যারেজে ছিল না এবং অতিরিক্ত চাকাও ছিলনা ।এবার আমি খুব বিপদে পড়ে গেলাম কারণ সকালের মধ্যে বাড়ি পৌঁছাতেই হবে নাহলে কোন রকম বিপদ হলেও হতে পারে ।তাই আমি বাস থেকে বের হয়ে হাটা শুরু করলাম ।যদিও বাসের সবাই আমাকে বারণ করেছিল কারণ তখনো ঝুম বৃষ্টি পড়ছিল ।আমি খুব কষ্টে চট্টগ্রাম হাইওয়ে হয়ে হাটছিলাম কারণ তখন চট্টগ্রাম হাইওয়ে তে কোন street লাইট ছিল না ।তবুও হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর যাওয়ার পর কিছুটা আলোর উপস্থিতি টের পেলাম ভাবলাম সামনে হয়তোবা দোকানপাট কিছু আছে ।

দ্রুত সেখানে পৌঁছে দেখলাম যে ছোট্ট একটি দোকান এবং দোকানের ভিতর একজন দোকানদার বসে রয়েছে। সে আমাকে দেখে অবাক হয়ে গেল এবং জিজ্ঞাসা করলো এত রাতে বৃষ্টির ভিতর কি করছিলাম ।আমি দোকানদারকে সব খুলে বললাম। সব শুনে দোকানদার আমাকে বলল বাস থেকে নামাটা আমার ঠিক হয়নি ।একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে টায়ার পাঞ্চার সবমিলিয়ে মাথাটা গরম হয়েছিল। আমি একটু রেগেই দোকানদারকে বললাম কোনটা ঠিক আর বেঠিক সেটা আমি দেখব ।আপনি আমাকে এক কাপ চা দিন আমি চা খেয়ে নিই ।আমি তখন দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলাম এখানে কোন বাস থামে কিনা। দোকানদার মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দিল না ।আমি তখন বললাম কিভাবে ঢাকা যেতে পারি আমি? এখন দোকানদার বলল আপনি গাড়িতে ফিরে যান ।এখানে কোন গাড়ি ঘোড়া পাওয়া যাইবো না।

গাড়িতে যাওয়াই আপনার জন্য মঙ্গল ।আমি বললাম এতক্ষণ হাটার পর আমি এখানে আসলাম ।আবার হেঁটে যেতে গেলে আমি মরেই যাবো। ততক্ষলে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে গেছে ধুমছে বেগে বৃষ্টি পড়ছিল তখন ।তখন হঠাৎ দোকানদার ছাতা দিয়ে বলে আমাকে ওই বাসে ফিরে যেতে ,আমি অবাক হয়ে যাই কারণ নিজের ছাতা দিয়ে কেন আমাকে সাহায্য করছে ?যাই হোক আমি কোন উপায় না পেয়ে আবারো হাঁটতে শুরু করলাম। তখন highway এর পাশে থাকা বড় বড় গাছগুলো যেন একেকটা দানবের মত মনে হচ্ছিল ।কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পর হঠাৎ মনে হল কি যেন একটা আমার সামনে দিয়ে দৌড়ে চলে গেল অবাক হলাম তারপরও হাঁটতে লাগলাম। দূর থেকে কয়েকটা কুকুরের ডাক শুনতে পেলাম। এবার আমি একটু অবাক হলাম কারণ আশেপাশে কোন বসতি নেই তাহলে কুকুর এলো কিভাবে ?এসব ভাবতে ভাবতে হাঁটছিলাম হাইওয়ে ধরে ।মাঝেমধ্যে একটা দুটো বাস যাচ্ছিল ।হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিলাম কিন্তু বাসগুলো থামছিল না ।হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম রাস্তার পাশে পলিথিনের কয়েকটা ঘর। আমি ভাবলাম যারা রাস্তায় কাজ করে তাদের ঘর হয়তোবা।

কি আর করার হয়তো আজ এখানেই থাকতে হতে পারে ।দ্রুত বাড়িগুলোর কাছে গিয়ে দেখি সবগুলোই ফাঁকা কেউ নেই। ভাবলাম হয়তো কোথাও গিয়েছে বৃষ্টির কারণে। তাই আমি একটি ঘরের ভেতর গিয়ে বসে পড়লাম ।বসে খানিকক্ষণ পর অনুভব করলাম কি যেন বাইরে দিয়ে চলাচল করছে। আমি ভয়ে ভয়ে বের হয়ে দেখি কিছু নেই ।তা আবার আমি ঘরে ফিরে আসি কিন্তু যেই না ঘরে ঢুকবো আমি রীতিমত কাঠ হয়ে গেলাম দেখলাম যে ,ওই দোকানদার আমার সামনে বসে রয়েছে ।আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কি সমস্যা? কি চান আপনি? লোকটা পান খাওয়া মুখে বলল যে, বাসে ফিরে যান গাড়ি ঠিক হয়ে গেছে ।আমি বললাম তাই নাকি। দোকানদার বলল হ্যাঁ ।তখন আমি বললাম তাহলে তো বাসটা এই দিক দিয়ে যাবে এখানে অপেক্ষা করি? দোকানদার বলল না, তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করতাছে ।আমি বললাম আপনি কি করে জানেন ?

দোকানদার বলল কনটাকটার এসে তাকে বলছে। আমার মনে মনে সন্দেহ হচ্ছিল যে, আমাকে গাড়িতে উঠানোর জন্য উনার এত তাড়া কিসের আবার মনে মনে ভাবলাম হয়তো পৃথিবীতে ভালো মানুষও রয়েছে। এই ভেবে মনে যেন শান্তি ফিরে এলো দোকানদার কে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম গাড়ির দিকে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ গাড়ির হেডলাইটের আলোতে চোখ যেন ঝলসে গেল। দেখলাম কেউ একজন একটি মাইক্রো car নিয়ে আমাদের সামনে থামল ।আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে এটি আমার এক কলিগ। সে ও আজ ঢাকায় ফিরছে। আমাকে দেখে রীতিমতো অবাক ।সে জিজ্ঞেস করল আমি এখানে কি করছি ।আমি সব খুলে বললাম তাকে। সে বলল ,আমি ঢাকা জাবো তাকে আগে কেন জানালাম না ।যাই হোক সে আমাকে গাড়িতে উঠতে বলল।

বললাম আমার সাথে একজন লোক আছে তাকে সামনে নামিয়ে দিতে হবে ।সে বলল কৈ সে ? আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি দোকানদার উধাও! আমি তখন কলিগকে বললাম- আমার সাথেই ছিলে এতক্ষন আমাকে এগিয়ে দিচ্ছিল। তিনি বললেন -কই হেডলাইটের আলোতে আমি তো শুধুমাত্র তোমাকে দেখতে পেলাম ! তখন আমার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল! যাই হোক ঐদিন সকালে ঢাকায় পৌছালাম ।পরের দিন আসল ঘটনাটা আমার কাছে পরিষ্কার হল ।পরেরদিন বেশ কয়েকটা পত্রিকার শিরোনামে ছিল যে চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনা চালকসহ নিহত 18 ।আমি কৌতূহলবশত খোঁজ নিয়ে দেখি আমি যে বাসে আসার কথা ছিল ঠিক সেই বাসটাই accident করেছে। সেদিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি কোন বাসে উঠি না আজো আমার মনে প্রশ্ন কে ছিল এই দোকানদার কেনই বা আমাকে গাড়িতে উঠাতে চাচ্ছিল?

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত