ফ্ল্যাশ ফিকশন

ফ্ল্যাশ ফিকশন

১. প্রতিদিনেত মত,, রিহান আজ ঘুমাতে যাবে,, রাতে লাইটের সুইচ নিভিয়ে শুয়ে পরল। এমন সময় সে টের পেলো খাটের নিচের থেকে দুটা লম্বা কালো হাত উঠে এসে তাকে চেপে ধরল,,, গলাটায় ক্রমশ চাপ দেয়ার ফলে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। চোখের সামনে লম্বা গলার একটা কদাকার চেহারা দেখতে পেলো।

২. নীলিমা আজ খুব খুশি,, তার স্বামী রুবেল আজ তার জন্য রান্না করছে। বেশ ঝাল করে মাংস ভুনা করেছে। । বেশ তৃপ্তি করে খেলো দুজন। । এসময় তার নার্সারি পড়ুয়া মেয়ে স্বপ্নার কথা মনে হল,,। বল্ল — স্বপ্নার স্কুল কি ছুটি হয় নাই। রুবেল একটু বাকা চোখে হাসি দিয়ে বলল –” আমাদের মেয়ে আমাদেরই পেটের ভিতর”

৩. বিথির চুল গুলো খুব লম্বা ও ঘন। বাধন খুললে হাটু পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে। সারাদিন সে তার চুলের প্রতি অনেক যত্ন নেয় । আজ তার বিয়ে হল। বাসর রাতে তার নব স্বামী তার উপর শারীরিক জবরদস্তি করতে নিলো।,,,,, অত:পর তার স্বামী প্রচণ্ড ব্যথায় টলিয়ে গেলো, চোখ বন্ধ হওয়ার আগ মুহুর্তে সে দেখল,, বিথির চুলের বেনীর আগায় একটা কালো সাপ তার বিষদাঁত বের করে হা আছে।

৪. নায়রা বেশ সাজগোজ পছন্দ করে। সারাদিন শুধু মেকাপ নিয়ে ব্যস্ত। ইদানীং তার রুমের ড্রেসিং টেবিলটা পুরাতন হয়ে গেছে। আজ সে একটা নতুন ড্রেসিং টেবিল এনেছে । ডিজাইন টা বেশ সুন্দর প্রাচীন চিত্র খোদাই করা। আয়নাটা অনেক ঝকঝকে পরিষ্কার। সে আয়নার দিকে তাকিয়ে থাকলে নিজের থেকে চোখ ফিরাতে ইচ্ছা হয়না। আয়না টা যেন তাকে সব সময় তার কাছে টানে। রাত ২.৩০। নায়রার ঘুম ভেংগে গেলো। উঠে গিয়ে বসল ড্রেসিং টেবিলের সামনে,,, কিছুক্ষণ হাসিমুখে তাকিয়ে থাকল। কিন্তু একি তার প্রতিচ্ছবি হাসি মুখের পরিবর্তে একি দেখছে,,, একটা পোড়া বিকৃত চেহারা, চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। আয়নার কাচে ফাটল ধরছে ।কাচ ফেটে একটা রক্তাক্ত হাত নায়রার গলা চেপে ধরল।

৫.  আম্মু আম্মু,, এই দেখো আমি এখানে,, আমি এসে পরেছি। আনিসা চিৎকার করে উঠে” প্লিজ চলে যাও। কাছে এসো না।”

বয়ফ্রেন্ডের সাথে অবৈধ সম্পর্কের ফলে প্রেগন্যান্ট হয়েছিলো আনিসা। তার এবরোশনের কিছুদিন পর থেকে প্রতিরাতে একটা বাচ্চার কথায় তার ঘুম ভাংগে,,, দেখতে পায় খাটের কোনায় একটা বাচ্চা হাসি মুখে বলে — “আম্মু আম্মু,, এই দেখো আমি এখানে,, আমি এসে পরেছি।”

৬. প্রতিদিনের মত সি এন জি চালক মজিদ সাহেব, রাতের ১১ টার দিকে সি এন জি নিয়ে বাড়ি ফিরছে। এসময় একজন যাত্রী তার কাছে লিফট চাইলো। তার হাতে একটা ইয়া বড় ব্যাগ। মজিদ সাহেব তাকে সি এন জি তে উঠিয়ে নিলেন। গন্তব্যে পৌছাল যাত্রী,, সে নেমে গেলো। মজিদ সাহেব পিছন তাকিয়ে হঠাত লক্ষ করল সেই যাত্রীকে, যাত্রীর ব্যাগের এক কোনা সামান্য ফুটা । সেখান দিয়ে বেরিয়ে আছে একটা রক্তাক্ত হাত।

৭. মাঝরাতে আকিবের ঘুম ভেংগে গেলো। তার জানালার সামনে পর্দার আড়ালে একটা ছায়া দারিয়ে। ছায়াটিকে চোর ভেবে আকিব তড়িঘড়ি করে লাঠি নিয়ে গেলো। কিন্তু পর্দা সরিয়ে কাউকে দেখল না। ভাবল এটা তাহলে তার মনের ভুল। সে শুয়ে পরল। উপরে তাকাতেই দেখল,, সিলিং ফ্যানের সাথে একটা এসিডে ঝলসানো মেয়ে উলটো ঝুলে আছে। ।

৮. সজীব ও তার বন্ধুরা সবাই বসে বসে নেশা করছে,,,, এসময় তারা দেখল একটা সুন্দর মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে,,,, তারা প্রত্যেকে গেলো মেয়েটিকে রেপ করার জন্য। গিয়ে তাদের নেশা পুরাপুরি কেটে গেলো। মেয়েটিকে তো গতকালই রেপ করে গলা কেটে নদীতে ফেলে দিলো,, তাহলে মেয়েটি কিভাবে এখানে,,, মেয়েটি পৈচাশিক হাসি হাসতে হাসতে মাটির এক হাত উপরে ভেসে ভেসে সজীব ও তার বন্ধুদের দিকে এগিয়ে আসছে।

৯. তামিম তার রুমে বসে বসে টিভি দেখছে। এসময় সে তার পাশে কারো উপস্থিতি টের পেলো । বুঝল তার স্ত্রী রুবিনা কফির মগ হাতে দারিয়ে আছে। তামিম টিভির দিকে তাকিয়ে কফির মগটা হাতে নিলো। হালকা চুমুক দিতেই সে টের পেলো। অতি ঘন, নোনতা লাল রঙ,, চিল্লিয়ে উঠল তামিম। তার স্ত্রী বল্ল তোমার অফিস কলিগ সারিকার বুকে মাথা রাখতে পারো। তার হৃতপিন্ড থেকে চিপরানো রক্ত খেতে এত কস্ট।

১০. পাড়ার বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছিলো তানভীর। তানভীর জোরে এক ছক্কা মারল। বল উরে মাঠ পেরিয়ে দুরে জংগলে চলে গেছে। এখন বল কে আনবে? কেউ আনতে যেতে চাইছে না। তাই বাধ্য হয়ে তানভীরই গেলো। তখন প্রায় সন্ধ্যা। তানভীর জংগলে কিছুক্ষণ খুঁজাখুঁজি করেই বল পেয়ে গেলো। তখন সে খেয়াল করল একটা বাচ্চা মেয়ে তেতুল গাছের নিচে কি যেন করছে? তানভীর ধমক দিলো — এই পিচ্ছি বাসায় যা।

বাচ্চা মেয়েটা ফিরে তাকালো। মেয়েটার হাতে একটা আধা খাওয়া বিড়াল,,। মেয়েটির চোখে মনি নেই, দাতে, মুখে, চেহারায়, গায়ে ছিটা ছিটা রক্ত লেগে আছে।

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত