লকেটটা তনুর

লকেটটা তনুর

রাত ২টা।।।জানি আজকে ও একই ব্যাপার ঘটবে।।। আমার পুরো শরীর অকেজো হয়ে যাবে।।। তখন অজানা এক অশুভ শক্তি ভর করবে আমার উপর।।। তখন আমি আর আমি থাকি না।।। আমার তখন বিবেক থাকে না।। আমি তখন অমানুষ এ পরিণত হই।।।

কিন্তু আমার মধ্যে যে অমানবিক শক্তি জেগে উঠে তা শুধু খারাপের ক্ষতি করে।।। এপর্যন্ত এই এলাকায় যত মৃত্যুর কথা শোনা গিয়েছে সবই এলাকার বড় বড় গুন্ডা মাস্তান দের।।। তাদের মধ্যে যে কারো খুব একটা খারাপ হয়েছে তা কিন্তু না।।। কিন্তু তবুও এলাকায় একটা অাতংঙ্ক বিরাজ করছে।

আমি প্রস্তুত।।। আশে পাশে হঠাৎ কেমন যেন থমথমে হয়ে গেলো।। নিজের মাঝে এক অজানা শক্তি অনুভব করলাম।। তার মানে আমাকে আজকে আবার যেতে হবে,আমার সময় সীমিত।।। সময়ের মধ্যে সব করতে হবে।।।

ধীরে ধীরে আমার বোধ শক্তি কমে এলো।। আমি সব বুঝতে পারছি দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমার শরিরের উপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।। তাই এখন যা হবে সব আমি দেখবো কিন্তু বাধা দিতে পারবো না। আমার এখন নিজেকে পশুর মতই মনে হচ্ছে।।। খুব ক্রুর একটা হাসি দিলাম। কেনো দিলাম বুঝলাম না।।। আস্তে আস্তে বের উঠে হয়ে গেলাম ছাদে।।। ছাদে উঠে চারদিক একবার ভালো করে নজর দিলাম।।। হঠাৎ লাফ দেয়ার ভঙ্গি তে বিশাল এক লাফ দিলাম।। মনে হচ্ছিল আজকে যে মারা যাবে সে একজন অসৎ পুলিশ।। গার্ড এর চোখের আড়ালে চলে এলাম ১৭ নাম্বার বিল্ডিং এর ছাদে।।হঠাৎ ই আমার মনে হলো কেউ একজন ছাদে আসছে।।। হঠাৎ দেখলাম সাব ইন্সপেক্টর আরাফ।।। হঠাৎ আমার কণ্ঠস্বর পরিবর্তণ হলো।।। মেয়েলি কণ্ঠে বললাম ”আরাফ সাহেব এসেছেন???? আপনার অপেক্ষায় আছি এতক্ষণ।।”” শিউলি তুমি কোথায়??? তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না” হঠাৎ মেয়ে কণ্ঠটা বললো,”দরজায় তালাটা দিয়ে দাও।।” কেউ এসে পড়লে সমস্যা হয়ে যাবে।।।” দরজা বন্ধ করে আরাফ সাহেব আমার দিকে এগিয়ে আসলো।।। অন্ধকারে তেমন একটা বুঝা যাচ্ছিলনা।। কিন্তু তখনি ঘুরে দাঁড়ালাম।। এবার একটা ছেলে কণ্ঠ,” আরাফ সাহেব আমাকে চিনতে পেরেছেন??” একটু অবাক হলেন আরাফ সাহেব।।। হঠাৎ বললো,” এটা হতে পারে না।।। আমি তোমাকে নিজ হাতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে মেরেছি।।”

হ্যা তোমার ধারণা ঠিক।। আমি…. আমি সেই জয় যাকে তুমি হত্যা করেছিলে তোমার স্বার্থের জন্য।। এখন আমিও আমার স্বার্থ খুজছি। আমি তনুর শান্তির জন্য….মনে আছে??? আজ থেকে ৬ মাস আগের.. যে রাতে তুমি শ্রি শয়তানের সাথে মিলে আমার তনুর সম্মান হানি ঘটালে।।। তারপর সেটা চাপিয়ে দিলে আমার উপর।। আর পুড়িয়ে মারলে আমাকে।।।”তুই কিভাবে জানলি??আমরা তো এই কথা কাউকে বলি নাই।।। তাহলে কি??? হঠাৎ তার চোখ মুখে ভয়ের ছাপ পড়ল।।।।। কেমন জানি চিন্তার রেখা দেখা দিলো তার মুখে। হঠাৎ সে তালা খুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করলো।। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।। আমি তার পথ আগলে দাড়ালাম।। নিজের মধ্যেকার সেই শক্তির ক্রধ আমি বুঝতে পারছিলাম।।। হঠাৎ একটা মেয়ে কণ্ঠ শুনতে পেলাম, “জয় শেষ করো ওকে এবং আমার কাছে চলে এসো।।।””আসছি আমি।।।” আমার ভিতরের মানুষটা বললো।। তখন আবার ঘুরে দাড়ালো আরাফ সাহেবের দিকে।।। আরাফ সাহেব এর মুখের অস্পষ্ট শব্দ আমার কানে গেলো না।।। হঠাৎ করে হারিয়ে গেলাম।।।।।

পরদিন সকাল ১০টায়,, খবর পেলাম সাব ইন্সপেক্টর আরাফ অদ্ভুত ভাবে কাল রাতে মারা গেছেন।। তার ডেড বডির পাশে নাকি কারো লকেট পাওয়া গিয়েছে।।।।

আমি জানি লকেটটা কার।।। লকেটটা তনুর।।। আমার কাছে ছিল।।। কারণ তনু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।। আমিই রেখেছিলাম ওই লকেট।।আমি অনেক ভালবাসতাম তনুকে।।। কিন্তু সে ভালবাসত জয়কে।।। এতদিন যা কিছু হয়েছে সব কিছুর মুলে ছিলাম আমি।।। আমিই এমন বিভৎস কাজ করেছিলাম যার শিকার হয়েছে তনু আর জয়।।। আমি মেনে নিতে পারি নি ওদের সম্পর্ক।।। তাই এমন করেছিলাম।। এতদিন জানতাম না কেনো জয় আমাকেই বাছাই করলো ওর অস্ত্র হিসেবে।। এখন বুঝেছি।। এতদিনে বুঝতাম না কেনো আমি আমার নিজের লোকদের মারছি।। এখন বুঝছি।। কিন্তু এখন আমার সময় শেষ।। আমাকে যেতে হবে।।। একটা চিঠি হিসেবে আমার কথা গুলা লিখে রেখে আমি চলে গেলাম।।। কারণ সর্বশেষ যে পাপী আছে সে আমি।।। তাই আমাকেও শাস্তি পেতে হবে।।।।

# সত্য_ঘটনা
# সংগ্রিহীত

গল্পের বিষয়:
ভৌতিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত