চীনের পিরামিড ও এলিয়েন

চীনের পিরামিড ও এলিয়েন

মনে করা হয় সাড়া বিশ্বে আবিষ্কৃত পিরামিডের সংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক পিরামিড আছে শুধু চায়নাতে। চায়নায় অনাবিষ্কৃত পিরামিডগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম একটি পিরামিডের ছবি তোলেন কর্নেল মরিস সিহান, ১৯৪৭ সালে একটি সামরিক পর্যবেক্ষণ বিমান থেকে। চাইনিজ পিরামিডের অস্তিত্ব এবং একই সঙ্গে পিরামিডের এই ছবিটিসহ কর্নেল মরিস সিহানের ঘটনাটি প্রথমে জনসম্মুখে প্রকাশ করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ওই বছরই মার্চ মাসে।

কর্নেল Maurice Sheehan যে পিরামিডের ছবিটি তুলেছিলেন সেটি ছিল চায়নার এই নানকিন প্রদেশের। চায়নার এই লিগাল নোটিশ পাওয়ার পরে বাধ্যবাধকতা থাকায় পত্রিকাগুলো পরের দিন এই নোটিশের একটি প্রতিলিপি ছাপাতে বাধ্য ছিল। যেহেতু তৎকালীন সময়ে কেউ চাইলেই চায়নাতে গিয়ে দেখে আসতে পারত না যে এগুলো আছে কিনা তাই এই পিরামিডের অস্তিত্ব প্রমাণের কোনো উপায় ছিল না কারো কাছে। অনেকেই এটা বিশ্বাস করে নেন যে কর্নেল Maurice Sheehan এর তোলা ছবিটি ভুয়া আর তার দেয়া ভাষ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর তৎকালীন সময়ে ক্যামেরার অবস্থা কেমন ছিল তা তো জানেন। তখনকার ক্যামেরাগুলোর ছবি আসলে বর্তমান সময়ের মতো এত স্পষ্ট ছিল না। আরেকটু মনে করিয়ে দেই সালটা কিন্তু ১৯২০ সাল। এই ছবি নিয়ে ফ্রান্সের লেখক Patrick Ferryn বলেন যে, the photographs do not reveal any markings that would allow us to measure the true dimensions. Its height was probably an incorrect estimate. It is probably a burial vault; it definitely looks like one’। যেহেতু জ্ঞানি মানুষ, তাই তার কথা কিন্তু সবাই বিশ্বাস করেছিল। কেননা আসলেই ছবিটি দেখে এই পিরামিডের অস্তিত্ব জোরালো কণ্ঠে কেউই স্বীকার করার সাহস দেখায়নি। অনেকেই ভেবেছিল এটি আসলে আলোছায়ার খেলামাত্র আর সঙ্গে যেহেতু চায়নার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রয়েছে যে এমন কোনো পিরামিড নেই তার মানে এই পিরামিড আসলেই নেই। তার মানে, চায়নায় কোনো পিরামিড নেই আর সাড়া বিশ্ব তা অকপটে বিশ্বাস করে নেয়। ধীরে ধীরে বছর গড়াতে থাকে। ৫০ এবং ৬০ এর দশকে চায়না মোটামুটি ক্ষমতাধর কিছু দেশের মানুষের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তবে এই সময়ের মধ্যে ধর্মীয় আচার পালনের জন্য চায়নায় মানুষ নির্মিত টিলার সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পায়। এই টিলাগুলো আবার অনেকটাই এসব পিরামিডের মতো। ফলে এসব টিলার মধ্য থেকে এই পিরামিডগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা বেশ দুঃসাধ্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে Bruce Cathie নামে এক নিউজিল্যান্ডের পাইলটের এসব পিরামিড নিয়ে লেখার আগ্রহ জাগবে। এ সময় তিনি এই পিরামিড নিয়ে লেখেন The Bridge to Infinity”। অনেক দিন পরে তিনি আবার চাইনিজ পিরামিডের বিষয়টি সবার সামনে নিয়ে আসেন। অবশ্য তিনি এই পিরামিডের অস্তিত্বের পক্ষে ছিলেন ভাবলে তা একান্ত আপনার ভুল ধারণা। তবে চায়নার পিরামিডের কথা তিনি আবার সবার সামনে নিয়ে আসেন যেটা বলতে গেলে মোটামুটি সবাই ভুলতে বসেছিল। তার লেখা বইটিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, চায়নার দূতাবাসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাকে বলেছেন যে এখানে কোনো পিরামিডের অস্তিত্ব নেই তবে পুরনো কিছু কবর আছে যেগুলো বেশ উঁচু করে বানানো। তবে সেগুলো কোনোভাবেই পিরামিডের পর্যায়ে পরে না।

বেচারা Bruce Cathie, তখন যদি তিনি জানতেন যে কত বড় ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে আছেন, তাহলে নিশ্চই এরকম কিছু লিখত না বা পিরামিডের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত না। অবশ্য তার মৃত্যু হয়েছিল ২০১৩ সালে। তাই বলা যায় তার এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। অনেক ভাবেই এসব পিরামিডের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে চায়না কিন্তু তাই বলে কি ইতিহাসকে আর বদলে দেয়া যায়। না তা যায় না তাহলে কি আজ আর এসব পিরামিড আবিষ্কার করা সম্ভব হতো? না মোটেও হতো না। Bruce Cathie এর বই প্রকাশ হওয়ার পরে যখন গোটা বিশ্বের সামনে আবার এই চাইনিজ পিরামিডের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে তখন শুরু হয় আবার বিভিন্ন গবেষণা আর অনুসন্ধান। আর এই উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় Segalen Mission” নামে একটি অনুসন্ধান দল। আর এই অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়েই আবিষ্কৃত হয় Ts’in বংশের প্রথম বাদশার কথা।

এই বাদশা কিন্তু যেনতেন বাদশা না, বলতে গেলে বর্তমান চায়নার এমন এক বাদশা যার অতীত ইতিহাস এখন পর্যন্ত চাইনিজরা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে। কি করেছিল তা শুনতে নিশ্চয়ই পেটের মধ্যে মোচড় দেয়া শুরু করে দিয়েছে? এই বাদশার নাম Che Houang ti”। তিনি তার রাজত্ব আমলে পণ্ডিতদের ভবিষ্যদ্বাণীতে জেনেছিলেন যে, ১৯৭৪ সালের দিকে বাইরেক কোনো এক হিংস্র জাতি বিশ্বের মধ্যে যত পিরামিড আছে তার মধ্যে ৪র্থ বড় পিরামিড। ১৯১৩ সালে প্রথমবার এই পিরামিডের উচ্চতা আর আয়তন মাপা হয়। এই পিরামিডের উচ্চতা ৪৮ মিটার আর দৈর্ঘ্য ৩৫০ মিটার যা ইজিপ্টের গ্রেট পিরামিড থেকেও ১২০ মিটার বেশি। চায়নায় কি পরিমাণ পিরামিড আছে তার উদাহরণ দিতে গেলে Hartwig Hausdorf এর একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করলেই বোঝা যাবে, তিনি বলেন যে, তিনি এবং তার গ্রুপ যখন শহরের মধ্যে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন তখন তারা হোটেলের রাস্তার ঠিক উল্টা দিকেই দেখতে পান ছোট একটি পিরামিড। এবার বোঝেন, কী পরিমাণ পিরামিড আছে Sian Fu তে। এরকম অনেক পিরামিড জেনে না জেনে চাইনিজরা নিজেরাই ধ্বংস করে ফেলেছে। তা না হলে চায়নায় আরো অনেক বেশি পিরামিডের অস্তিত্ব পাওয়া যেত। Hartwig Hausdorf চায়নার একজন প্রফেসর ডধহম ঝযরঢ়রহম এর সঙ্গে খুঁজে পাওয়া এসব পিরামিড নিয়ে আলোচনা করেন। প্রফেসরের মতে এসব পিরামিড মূলত তৈরি করা হয়েছিল পূর্বের দিনের বাদশাদের ড্রাগনের পিঠে করে পৃথিবীতে নামার উদ্দেশে। আর সব থেকে পুরনো পিরামিডের বয়স প্রায় ১৫০০০ খ্রিস্টপূর্ব। এখানে একটা কথা বলি যা আপনার ধারণা একটু হলেও পাল্টে দেবে। মহান বাদশাChe Houang ti কোনো এক সময় তার লেখা একটি ডায়েরি বা নিজের গোপন কোনো একটি নথিতে লিখেছিলেন তিনি আকাশ মানব বা ঈশ্বর মানবদের বংশধর।

গল্পের বিষয়:
ইতিহাস

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত