ইংলিশ মেম

অনয়। বাবা ওঠ। এই অনয়। কি হল ওঠই। কি যে হয়েছে ছেলেটার বাড়িতে এলে শুধু পড়ে পড়ে ঘুমায়। খাওয়া দাওয়ার প্রতি কোন আগ্রহই নেই। খাবার গুলো সব ঠান্ডা হয়ে গেল। দুর এই ছেলের সাথে আর পারি না। এই সুমি তোর ভাইয়াকে ডেকে তোল তো। বলেই মা ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।

সুমি আমার ছোট বোন। ক্লাশ ফোরে পড়ে। ভারি চঞ্চল। একটু পরে এসেই ডাকা শুরু করেছে। ভাইয়া… ভাইয়া…ওই ভাইয়া ওঠো। মা ডাকতেছে। খাবেনা। দেখ কত বেলা হয়ে গেছে। আর তুমি না আমায় ঘুরতে নিয়ে যাবে। কাল না বললে। ওই ভাইয়া……। বলে সুমিও চলে গেল বিরক্ত হয়ে। আমি শুনতে পাচ্ছি সব কিন্তু চোখ খুলতে পারছি না। গতরাতে প্রায় তিনটা পর্যন্ত অনলাইনে কথা বলেছি ফ্রেন্ডদের সাথে।

পরিচিতদের পাশাপাশি অপরিচিতদের সাথেও কথা বলেছি। কথা বলার এক ফাকে একটা মেয়েকে অনলাইনে দেখে নক করি। একটু পর রিপ্লাই আসে। কথা বলতে থাকি। আমি বাংলায় এসএমএস করতে ছিলাম আর মেয়েটি ইংরেজিতে। মেয়েটির বলা কথাগুলো এতটাই ভাল লাগতে ছিল মনে মনে মেয়েটিকে কল্পনা করতে ছিলাম। যে মেয়েটার কথাগুলো এতটা মার্জিত সে হয়তো অনেক ভাল মানুষ। দেখতেও হয়তো পরীর মত। তার কাজল কাল চোখ হয়তো হরিণির মত অনেক মায়াবতী। যার ইশারায় হাজারও যুবক থেকে বৃদ্ধ আবাল বনীতা পর্যন্ত মাতোয়ারা হবে। তার গোলাপী বর্ণ বদন খানি যেন এক রাজ কন্যার মত। হাজারও রাজ পুত্র তার দিকে অপলক চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আজ অন্ধ প্রায়। তার এলো চুলে গোল্ডেন কালার তাকে স্বর্গীয় রুপ দান করেছে। এমনি হাজার কল্পনা। কিছুক্ষন কথা বলার পর আমি তাকে বাংলায় লিখতে বলি।

কিন্তু কে শোনে কার কথা। ও ইংরেজিতেই লিখে চলেছে। তারপর আমি আবার মেসেজ দেয় আপু সবাইতো আর আপনার মতো ইংলিশ ভাল পারে না। সাথেই সাথেই তার উত্তর আই লাভ ইংলিশ। আমি আর কি বলব মনে মনে ভাবলাম এইতো দেখি ইংলিশ মেম। তারপর যা লিখলো তা দেখে আমি তো হতো অবাক। লিখেছে ” নাউ আই এম স্টাডি এট ঢাকা ইউনিভার্সিটি, আই টেল অ্যাবাউট মি, লিশেন- আই হেভ টু বিএফ। এরপর আমার কি বলা উচিত ছিল আমি জানি না। তবে কিছুই বলতে পারিনি। তার প্রতি রেসপেক্ট রেখে বললাম আপু আমি তো ইংরেজিতে খুব উইক কিভাবে ইংলিশে ভাল করতে পারব যদি একটু টিপস দিতেন আমার উপকার হত। তিনি আমায় ভাল কিছু টিপস দিলেন। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে অনলাইন থেকে বেরিয়ে আসি। অনেক রাত হয়ে গিয়েছির তাই আজ আমার এই অবস্থা।

হঠাৎ অনুভব করলাম কে যেন আমার গায়ে পানি ঢেলে দিছে। চোখ খোলেই দেখি আমার আজরাঈল। আমার ছোটবোন সুমি নিজে আমায় উঠাতে না পেরে তাকে মানে আমার ফুফাতো বোন অহনাকে ঢেকে নিয়ে এসেছে। আর ও এসেই আমার গায়ে জগ ভর্তি পানি ঢেলে দিয়েছে। সবাইকে বলতে পারলেও তাকে কিছু বলার মত দুঃসাহস আমার নেই। কিছু বললে আমার নিজের বাড়িই আমার জন্য দোযখে পরিনত হবে। বাধ্য হয়েই বিছানা থেকে নেমে ওয়াস রোমের দিকে পা বাড়ালাম।

গল্পের বিষয়:
ফ্যান্টাসি
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত