স্বামী কেনো দুলাভাই

স্বামী কেনো দুলাভাই

—এই যে দুলাভাই আপনি কিন্তু আমাকে একদম স্পর্শ করবেন না (মৌ)।
—কি বলো এসব আমি তো তোমার স্বামী আর তুমি তো আমার বৌ ( আমি)।
— জি না। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাইনি। আপনার তো বিয়ে করার কথা ছিল বড় আপুকে (মৌ)।
—হ্যা কিন্তু সেটা তো হয়নি (আমি)।
—তো আমি কি করবো,, আপনি আমার দুলাভাই শুধু এটুকুই আর কিছুনা (মৌ)।
— আল্লাহগো, তাহলে আমার বাসর? (আমি)
—আপনার বাসর বড় আপুর সাথে করেন গিয়ে (মৌ)।
—আচ্ছা আমি বিয়ে তো করেছি তোমাকে এখন ওইসব বাদ দাও (আমি)।
—না না, আপনি সারাজীবন আমার দুলাভাই হয়ে থাকবেন (মৌ)।
—প্লিজ বাদ দাওনা এসব (আমি)।
— জি না দুলাভাই,, যান এখন নিচে গিয়ে শুয়ে পরেন আমি ঘুমাবো।

আল্লাহ এটা কার পাল্লায় পরলাম। আপনারাই বলেন বউ যদি স্বামীরে দুলাভাই বলে ডাকে তাহলে কেমনটা লাগে।
আবার বাসর রাতে কই একটু বউয়ের আদর পাবো সেটা তো হলোইনা উল্টা দুলাভাই বানিয়ে নিচে পাঠিয়ে দিল ঘুমাতে। এর পেছনে কি ঘটনা ঘটেছিল সেটাই এখন তুলে ধরতেছি। আমি ফারাবি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। মেডিকেলের পড়ালেখা শেষ করে সবেমাত্র চাকুরিতে যোগ দিয়েছি। এর কিছুদিন পরেই বাবা-মা বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করে। কোন উপায় না পেয়ে রাজি হয়ে গেলাম। রাজি না হওয়ার কোন কারনও ছিলনা বটে, কারন আমি সেরকম ছেলে ছিলাম না তাই গার্লফ্রেন্ড ছিলনা। বাবা-মায়ের সাথে মেয়ে দেখতে গেলাম। মেয়েকে দেখেই বিয়ে করার জন্য একপ্রকার লাফালাফি শুরু করে দিলাম। আমার হবু বউয়ের দিকে তাকাচ্ছিলাম ঠিক তখনি তার পাশে থাকা একটা মেয়ে চোখ মারে আমাকে। কি ফাজিল মেয়েরে বাবা, চেনা নাই জানা নাই চোখ মারলো। দেখে মনে হচ্ছিল ওটা হবু শালীকা। মেয়ের সাথে আলাদাভাবে একটু কথা বলতে চাইলাম। অন্য একটা রুমে গেলাম আমরা দুজন।

— আপনি কি কাউকে ভালবাসেন? যদি ভালবাসেন তাহলে এখনি বলতে পারেন (আমি)।
— না আমি কাউকে ভালবাসিনা।আমাকে পছন্দ হয়েছে আপনার? (সে)।
—হ্যা হয়েছে।(আমি)

তারপর বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক হলো। বেশ কিছুদিন কেটে যাবার পর অবশেষে বিয়ের দিন কাছাকাছি চলে আসে। বিয়ের ঠিক আগের দিন চলে আসে একটা দু:সংবাদ। সেই মেয়ে নাকি পালিয়ে গেছে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে। একথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। ওটা মেয়ে নাকি মহিলা ছাগল। আমাকে সেদিন যে বলল ওর কোন বিএফ নেই। আমি এটা শুনে আরো খুশি হলাম। ভাবলাম,, যাক বাবা ওই মেয়ের হাত থেকে বেচে গেছি। ওর সাথে বিয়ে হলে জীবনটা তেজপাতা হয়ে যেত। যাক বাবা আল্লাহ বাচাইছে।

বেচে যেতে না যেতেই লাগল আরেক ভেজাল। এদিকে আমার পরিবার সব আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দিয়েছে এবং ওদের পরিবারও তাই করেছে। তাই মান সম্মান বাচাতে মৌ এর সাথে বিয়ে দেবে আমাকে। মৌ হল সেই মেয়ের ছোট বোন যে আমাকে চোখ মেরেছিল আর আমার বর্তমান বউ। ওদের সবার মানসম্মান বাচাতে এবার আমাকে ঠেলে দিলো জাহান্নামে। সেটা যে জাহান্নাম হবে তখন বুঝিনি কিন্তু এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। অবশেষে বিয়েটা করে ফেললাম। আর বাসর রাত কেমন কাটলো সেটা তো শুনলেনই। শুনেছিলাম বাসর রাতে কত মজা হয়। বাসর রাতে মানুষ নাকি বিড়াল মারে আর আমি তো মারতেছি মশা। বউ তো আদর করল না এখন আবার শালার মশাও ইনজেকশন দিতেছে। মশা মারতে মারতে কখন ঘুমিয়ে গেছি বুঝতেই পারিনি। সকালে মৌ এর ডাকে ঘুম ভাঙ্গল।

—এই যে দুলাভাই ওঠেন। কেমনটা লাগে আপনারাই বলেনতো,,, স্বামীকে বলছে দুলাভাই। এমনিতেই বাসর রাত জলে গেল আবার সকাল বেলাই মনটা খারাপ করে দিল।
—এই আমি কিসের দুলাভাই তোমার?(আমি)
—কিসের দুলাভাই মানে,, আমার আপুর স্বামী তাই আমার দুলাভাই (মৌ)।
—এই আমি তোমাকে বিয়ে করছি নাকি তোমার আপুকে বিয়ে করছি? (আমি)।
—আমাকে বিয়ে করেছেন। (মৌ)
—তাহলে আমি তোমার দুলাভাই নাকি স্বামী? (আমি)।
—দুলাভাই।(মৌ)
—ইস্ রে এটা মাইয়া নাকি অন্য কিছু। (আমি)
—এই যে শোনেন বেশি কথা না বলে যান নাস্তা বানান আমার ক্ষুদা লাগছে (মৌ)
—আল্লাহরে এই মাইয়া বলে কি, আমি ওর বউ নাকি ও আমার বউ।
—এই দুলাভাই নাস্তা বানাতে যাবেন নাকি আমি কাদবো? (মৌ)

ধুরর দুলাভাইয়ের গুষ্ঠি কিলাই। এই জ্বালায় আর থাকা যাচ্ছেনা। কোন উপায় না পেয়ে নাস্তা বানাতে চলে গেলাম।

—দুলাভাই নাস্তা তো সেই বানাতে পারেন (মৌ)
—(রাগে) কচু বানাতে পারি শালি। (আমি)
—জ্বি আমাকে শালি বলেই ডাকবেন (মৌ) দেখেন তো মেজাজটা গরম হয়না বউ কে নাকি শালি বলে ডাকব?
—বউকে শালি বলে ডাকব কেন? (আমি)।
—এইযে কিসের বউ হ্যা,, আমি কারো বউ না (মৌ)।
— কেন বউ? (আমি)।
—আবার বউ বললেন,, (মৌ)।
—-দু:খিত মৌ বলতে বউ বলে ফেলছি।(আমি)
—হুহ (মৌ)

হায়রে ভাগ্য নিজের বউকে নাস্তা বানিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে। না জানি আরো কত কি করতে হবে। এর থেকে কচু গাছের সাথে ফাসি দিয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল ছিল। না আজকে ওকে শায়েস্তা করতে হবে। কিন্তু কিভাবে করব সেটাই ভাবতে লাগলাম। হ্যা একটা বুদ্ধি বের হয়েছে। আজকে রাতেই ওকে মজা দেখানোর প্রস্তুতি নিয়ে বাজারে চলে গেলাম। বাজারে গিয়ে দুইটা খেলনা  সাপ কিনে নিলাম। নাচতে নাচতে বাসায় ফিরলাম।

—কি খবর দুলাভাই অনেক খুশি মনে হচ্ছে? (মৌ)।
—(মনে মনে) হ্যা আজকে তোমাকে মজা দেখাবো তাই। (আমি)
—কি কিছু বললেন নাকি (মৌ)।
—-না কিছু বলিনি,,, এমনি খুশি।। (আমি)

কখন রাত হবে তার জন্য অপেক্ষায় রইলাম। রাতে খেলনা সাপ দুটা সাথে নিচে শুয়ে পরলাম। ঘুমের ভান করে শুয়ে আছি সুযোগের অপেক্ষায়। হুম একটু পর বিছানা থেকে উঠে মৌ ওয়াশরুমে যায়। আর এই সুযোগে আমি খেলনা সাপ দুটো ওর বিছানায় সুন্দর করে রেখে দিই। আবার নিচে শুয়ে ঘুমের ভান করে থাকলাম। একটু পর মৌ এসে যখনি বিছানায় উঠতে গেল তখনি চিৎকার দিয়ে আমার বুকে এসে পড়লো।

—এইযে কি হয়েছে?(আমি)।
—সাপ সাপ (মৌ)।
—কোথায় সাপ আর তুমি আমার বুকে কেন? (আমি)।
—ওই যে বিছানায় সাপ(মৌ)।
—তো আমি কি করব,, ছি ছি আমি না তোমার দুলাভাই তুমি আমার বুকে কেন? সরো। (আমি)।
—না আমার ভয় করে। তুমি তো আমার সোনা স্বামী (মৌ)
—হ্যা হ্যা দরকার নেই, বিপদে পড়লে স্বামী আর না পড়লে দুলাভাই। (আমি)।
—না,, এখন থেকে তুমি আমার স্বামী। আর দুলাভাই বলবনা। প্লিজ সাপগুলো গেছে নাকি দেখো (মৌ)।
— এই ওঠো তুমি বাহিরে যাও আমি দেখছি (আমি)। মৌ বাহিরে যাবার সাথে সাথে সাপ দুটিকে লুকিয়ে রাখলাম।
—-এই সোনা বউ আসো সাপ চলে গেছে।(আমি)
—-তাই দুলাভাই সাপ চলে গেছে? (মৌ)
—এই আবার দুলাভাই মানে? (আমি)
—-হ্যা আমি দুলাভাই বলতেই থাকবো।(মৌ)

আল্লাগো এটা কোন মেয়ে বিপদে পড়লে স্বামী আর বিপদ কেটে গেলে দুলাভাই। পরের দিন ওকে অনেক বুঝিয়ে সব ঠিক করে ফেলি।

—আর কখনো বলবেনাতো দুলাভাই। (আমি)।
—-না বলবনা (মৌ)।
—-তাহলে কি বলবে? (আমি)
—কেন,, সোনা স্বামী বলব (মৌ)।
—-হুম আমার লক্ষী বউ (আমি)।

আমাদের বাসর রাতটা তো নষ্ট হয়ে গেছে তাই আজকে আমাদের বাসর দিন। সবাইতো রাতে বাসর করে আমরা না হয় দিনে করলাম। বাসর দিনে খুশি মনে রুমে ঢুকলাম। বিছানায় পরিটা বসে আছে।

—এই যে দুলাভাই কাছে আসবেনা।(মৌ)
—- ধুর আবার দুলাভাই (আমি)।
—-দু:খিত,,। কাছে আসবা কেন দুলাভাই? (মৌ)
—-ইস্ রে। দুলাভাই দুলাভাই দুলাভাই,, ধুরর বাসরের কপালে লাথি মারি।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ফ্যান্টাসি

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত