কিপ্টা জামাই

কিপ্টা জামাই

জামাই আমার অসম্ভব কিপ্টা ! মানে কিপ্টার চূড়ান্ত ।। আজ বান্ধবীর বিয়ে ছিল । আমি আগে চলে এসছি তাই ওকে ফোন করে বললাম যে একটা গিফট কিনে নিয়ে আসতে । সে রীতিমত গিফট নিয়ে উপিস্থিত কিন্তু কি গিফট এনেছে সেটা এত বার করে দেখতে চাইলাম তবুও কিছুতেই আমাকে দেখালো না ।

শেষমেষ যখন সবার গিফট খুলে দেখা হলো তখন আমার জামাইয়ের গিফট দেখে আমি বড়সর একটা ধাক্কা খেলাম । পাথরের একটা শো পিস !! বড়জোড় তিন থেকে চারশো টাকা হবে । সবাই মুখ ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে । সবার সামনে আমার মানসম্মান এর বারোটা বাজিয়ে দিলো । লজ্জায় আমি তাৎক্ষণিক সেখান থেকে চলে আসলাম ।

ছোটবেলা থেকেই ভীষণ বিলাসি আমি । বাবা তাই সরকারী চাকরীওয়ালা ছেলে দেখে আমার বিয়ে ঠিক করলেন যেন বিয়ের পর সে যেন আমার সমস্ত চাহিদা এবং বিলাসিতা পূরণ করতে পারে । কিন্তু বিয়ের পরই বুঝতে পারলাম যে আমার জামাই খুব উচ্চ মানের কিপ্টা । বিয়ের পরের দিন নতুন বউকে নাকি মাছ কেটে মাছের মাথা রান্না করতে হয় । আমার জামাই বড় মাছের পরিবর্তে দুই কেজি গুড়া মাছ নিয়ে আসে । আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে গুড়া মাছ কেন , সে জবাব দিলো যে গুড়া মাছ খেলে বুদ্ধি বাড়ে । আমাকে বুদ্ধিজীবী হতে হবে তাই সে গুরামাছ এনেছে । চোখের জল আর নাকের জল এক করে সেদিন সারারাত আমি গুরামাছ কেটেছি ।

অনেক হয়েছে আর না । এর একটা হেস্তনেস্ত করতেই হবে ! ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি রওনা হলাম । জামাই আমাকে আটকানোর খুব চেষ্টা করলো কিন্তু আমি বলে দিয়েছি যেদিন কিপ্টামো ছাড়তে পারবে ওইদিন আমাকে নিতে এসো তার আগে না । এবার হাড়ে হাড়ে টের পাবে কত ধানে কত চাল !

প্রায় পনের দিন কোনো খোঁজ না পেয়ে অগত্যা আমিই ফোন দিলাম । ফোনের ওপাশ থেকে জামাই বলে উঠলো , ” হ্যালো জান আমিতো তোমারই ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম ”

রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে ! বেশি করে শ্বাস নিয়ে বকা শুরু করলাম , ” কুত্তা , বিলাই , শয়তান , হনুমান , বান্দর আমাকে নিতে আসলি না কেন হু ? আমি নাই বলে সুযোগ হইছে তাই না ? দাড়া আমি এক্ষুনি আসছি !!

” জান আমার কথাটা শুনো একবার , আমি ভেবেছি তুমি এত টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে গেলে এই কয়দিন থাকলে কি পোষায় বলো ? সত্যি বলছি আর পনের দিন হলেই আমিই তোমাকে নিতে আসতাম !

আমি কপাল চাপরাচ্ছি আর ভাবছি এই ছিল আমার ভাগ্যে ? রাগে গজগজ করতে করতে বাবাকে বলে দিলাম আমি আর ওর সংসার করবো না । কিন্তু দুইদিন পরই দেখি জামাই আমার এসে হাজির । মুহূর্তের মধ্যেই যেন সমস্ত রাগ সব উধাও হয়ে গেলো !! ও আমায় কানে কানে বললো যে বাসায় নাকি আমার জন্য বড় একটা সারপ্রাইজ আছে । আমি খুশিতে গদগদ হয়ে সবকিছু ভুলে ওর সাথে রওনা হয়ে বাসায় চলে এলাম ।

বাসায় এসে ওর সারপ্রাইজ দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম । আমার মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হচ্ছে না । শুধু কানের সামনে ঠাস ঠাস বাজ পড়ার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি । বাড়ির উঠোনে গোটা বিশেক মুরগির বাচ্চা খামারের ভেতর চিউ চিউ করছে । আমি ওকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই ওর বলা শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম ! ” সেদিন খবরের কাগজে পড়েছি হাঁস_মুরগির খামার করে এক লোক আর তার স্ত্রী রাতারাতি বড়লোক হয়ে গেছে । তাই তোমার জন্য আমি বুদ্ধি করে এই সারপ্রাইজটা রেখেছি ।

এগুলোর ভালো করে যত্ন নিও , দেখবে বিশটা মুরগির বাচ্চা থেকে একদিন আমাদের দুইশ মুরগির খামার হবে । আর সেদিন তোমার জন্য আরেকটা সারপ্রাইজ থাকবে !! আবার সারপ্রাইজের কথা শুনে আমার প্রেসার হাই হয়ে গেল । কিছু না বলে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিলাম । আমি খুব ভালো করে বুঝে গেছি যে ও আর কোনোদিন সুধরাবে না কিন্তু শেষ একটা চেষ্টা করে দেখি । শুয়ে শুয়ে ভাবছি ওকে কিভাবে শিক্ষা দেওয়া যায় । মাথায় একটা অসম্ভব ভালো বুদ্ধি এসেছে । আমি এই ঘরে এভাবেই শুয়ে থাকবো । ঘরে রান্না বান্না কিছু করবো না । আর ও যে লেভেলের কিপ্টা না খেয়ে মরে গেলেও হোটেলে গিয়ে টাকা খরচ করে কিছু খাবে না আমি জানি । না খেয়ে খেয়ে যখন শিক্ষা পেয়ে যাবে তখন ওর জবানবন্দি নিবো যে ভবিষ্যতে এরকম কিপ্টামো যেন আমার সাথে না করে ।

যেই ভাবা সেই কাজ ! আজ সাত দিন যাবৎ রান্না করিনা । ঘরে চিড়া মুড়ি যা ছিল সেগুলো দিয়ে কয়দিন পার করেছি। এখন বিছানার সাথে লেপ্টে শুয়ে আছি । ডাক্তার আমার শরীরে স্যালাইন ঢুকাচ্ছে । না খেয়ে খেয়ে আমার মরার অবস্থা হয়েছে । ওকে ভালোই সুস্থ লাগছে , আমার হাত ধরে বসে আছে । আমি করুন দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছি । আমার দিকে মায়া মায়া চাহনী দিয়ে ও বললো ” আমার তো না খেয়ে অভ্যেস আছে । তুমি কেন না খেয়ে থাকতে গেলে ? এখন গেলে তো অসুস্থ হয়ে !

ডাক্তার বললো তোমার শরীর নাকি খুব দুর্বল ! তাই তোমার জন্য কয়েক হালি হাঁসের বাচ্চা অর্ডার করেছি । জানো হাঁসের ডিমে প্রচুর ভিটামিন । হাঁস গুলো বড় হয়ে ডিম দিবে আর তুমি প্রতিদিন একটা করে ডিম খাবে । ওর কথা শুনে আমার চোখে জল এসে গেল । আমি হু হু করে কেঁদে উঠলাম ! ডাক্তার সাহেব আমাকে স্যালাইন দেয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই । এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আর কোনো ইচ্ছে নেই আমার !

গল্পের বিষয়:
ফ্যান্টাসি

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত