নিন্জা টেকনিক

নিন্জা টেকনিক

ঘুমের ঘোরে হাত-পা নাড়াতে পারছিলাম না৷ প্রথমে স্বপ্ন ভেবেছিলাম৷ ঘুম ভাঙল চোখে পানির ছিটকানো পরে৷ চোখ মেলতেই দেখলাম আব্বার রাগী চেহারা৷ আমি অসহায় চোখে আব্বার দিকে তাকালাম৷ আব্বার পাশে ছোটবোন দাঁড়ানো৷ তার মুখ টেপা হাসি৷ আমি মিন মিন করে আব্বাকে বললাম,

-আব্বা আমি কি মারা গেছিলাম? আব্বা হুংকার ছেড়ে বললেন,

-না মরিস নি৷ তবে এখন মরবি৷ আমি অসহায় মুখ করে বললাম,
-আমি মরলে তোমাকে দাদা ডাকবে কে শুনি? কথাশুনে আব্বার মুখে চিন্তার ছাপ৷ আব্বা ছোটবোনের দিকে তাকিয়ে বললেন,

-কিরে বিরিয়ানীতে ঘুমের ঔষধ কি বেশি দিয়ে ফেলছিলি মা? ছোটবোন মাথা নাড়িয়ে জবাব দিল,

-না আব্বা৷ কিন্তু কেন?

-হারামজাদাটা আমাকে আব্বা না ডেকে দাদা ডাকছে কেন তাইলে?

-আব্বা আমার মাথা ঠিকই আছে৷ আপনার বুড়ো মস্তিষ্ক অতো বুঝবে কিভাবে?

-কি বলতে চাস তুই?

-আমি মরলে আমার বিয়ে হবে কিভাবে? আর বিয়ে না হলে আমার ছেলে-মেয়ে হবে কিভাবে? আর ছেলে মেয়ে না হলে তুমি দাদা হবে কেমনে? এবার লক্ষী ছেলের মতো বলো, আমাকে এভাবে বেধেঁছো কেন?” আব্বা এবার আরেকটু রেগে গেলেন৷ ছোটবোন নীরু কে উদ্দেশ্য করে বলল,

-তুই আমারে থামাবিনা৷ মেরে ফেলবো আজকে৷

-আচ্ছা মারবা যখন৷ কেন মারছো সেটা বলো?

-তোর নামে প্রতিদিন বিচার আসছে৷ আমি আর পারছিনা৷

-কি কি বিচার এসেছে? যে বিচারের কারণে মায়ের অনুপস্থিতিতে তোমরা বাপ-মেয়ে মিলে বিরিয়ানীর সাথে ঔষধ গিলিয়ে পেটাচ্ছো আমাকে? জবাব দেন আব্বা! জবাব দেন! (সিনেমাতে শুনেছি এরকম কথাগুলো দু’তিনবার প্রতিধব্বনিত হয়৷ কিন্তু আমারটা হচ্ছে না৷তাই মুখ দিয়েই দু’বার বলে ফেললাম৷)

-নীরু মা৷ এই সপ্তাহের বিচারের লিষ্টটা পড়ে শুনা তুই৷”

ছোটবোনকে উদ্দেশ্য করে বলল আব্বা৷ ছোটবোন পড়া শুরু করলো, বিচার নাম্বার ১, নাপিতের ১৫বছর বয়সী ছেলেটাকে নিজ হাতে ন্যাড়া করে দেয়া হয়েছে৷”

-এটা কেন করলি? জিজ্ঞেস করলো আব্বা৷

-আব্বা কাহিনী শুনেন৷ এই পোলার কাছে আমি যতবার চুল কাটতে যাই৷ সবসময় উল্টাপাল্টা চুল কাটবে৷ মানে এক সাইডে বড়৷ আরেক সাইডে ছোট৷ দু’দিন পর চুল বড় হয়ে যায়৷  এখন বলেন, আমি যদি বারবার চুল কাটি৷ তাইলে টাকা খরচ হবে৷ কার খরচ হবে টাকা?

-অবশ্যই আমার৷

-তাইলে আব্বা আমি প্রতিশোধ নিয়ে কি ভুল করছি?

-আচ্ছা এইঢা মাপ৷

-তাইলে আমার একটা পা খুলে দাও!

-মানে?

-মানে ৪টা বিচারের একটা শেষ৷ তাইলে এক পা খুলে দাও৷

-আচ্ছা ঠিক আছে৷

-২নাম্বারটা পড়েন আম্মাজান৷ ছোটবোন শুরু করলো আবার, বিচার নাম্বার ২,

-টেইলার্স দোকানের ভাইয়াটার প্যান্ট কেটে দেয়া হয়েছে তার অবর্তমানে৷”

-এইটা কেন করলি বল?

-আব্বা এর ঘটনা আরো ভয়ংকর৷

-ঘটনা কি?

-এই বেঢার কাছে প্যান্ট সাইজ করাতে গেছিলাম দু’তিনবার৷ প্রত্যেকবারই এক পা মোটা, আরেকটা চিকন করে রাখছে প্যান্টের৷ বারবার যাই আমি৷ প্রত্যেকবারই এক৷ টাকা কি ভানের জলে ভেসে আসে আব্বা? আমিতো জানি, আমার আব্বা অনেক কষ্টে টাকা কামাইছে৷ তাই প্রতিশৌধ নিছি৷ আমার কি ভুল ছিল আব্বা?

-আচ্ছা এইটাও মাফ৷

-এবার তাইলে আরেক পা খুলে দাও৷ অতঃপর আব্বা আরেক পা থেকে রশি খুলে দিলেন৷

-আম্মাজান ৩নাম্বার বিচার পড়েন! ছোটবোন কে একটু হতাশ লাগছে৷ তাও পড়া শুরু করলো, বিচার নাম্বার ৩, পাশের বাড়ির আন্টির মোরগের পা ভেঙে দিছে আপনার ছেলে!

-এইটাতো সাংঘাতিক অপরাধ! মাফ করা যাইবো না৷

-আব্বা আগে ঘটনা তো শুনবেন৷

-হ্যা বল৷

-এই যে আমাদের ঘরে একটা দেশী মুরগী আছে না?

-হ আছে৷

-আম্মা শখ করে রাখছে৷ মাঝে মাঝে ডিম ও দেয়৷ আমরা খাই সেই ডিম৷

-তারপর কিইছে ক আগে৷

-সেদিন সকালে দেখলাম৷ বাসের বাড়ির আন্টির বখাটে মোরগটা আমাদের মুরগীরে অনেক জোরে শোরে দৌঁড় খাওয়াচ্ছিল৷ এমন বখাটে পনা আব্বা আমি মেনে নিতে পারি নাই৷ তোমার ছেলে আব্বা অন্যায় মেনে নিতে পারে বলো?

-হ্যা এইটা অবশ্য ভালো কাজ করছিস৷ যা আরেক হাত খুলে দিলাম৷ কিন্তু পিটুনি তুই খায়বি৷

-ক্যান আব্বা?

-তোর বোনে কইলো শেষ অপরাধটা নাকি ব্যাপক ভয়ংকর৷ আম্মাজান পড়েন৷ আব্বার অর্ডার শুনে ছোটবোন গলা ঝাড়া দিয়ে পড়া শুরু করলো, শেষ বিচার৷

-আব্বা এটার কিন্তু বিচার করা লাগবে৷” ছোটবোন বলল৷

-আগে পড়৷

-আমার বান্ধবীর বোনকে দু’নাম্বারি ফুচকা খাইয়েছে তোমার ছেলে৷ আপু আমাকে বিচার দিয়েছে৷ যখন বিচার দিচ্ছিল, তখনও নাকি আপু ফোন হাতে বাথরুমের দরজায় হেলান দিয়ে বসে কাঁদছিলেন৷” ছোট বোনের পড়া শেষ হতেই লাল চক্ষু নিয়ে আমার দিকে তাকালেন আব্বা৷ হুংকার ছেড়ে বললেন,

-এত বড় অন্যায়! মাফ করা যাবে না৷ একদম না৷

-আব্বা আগে শুনেন৷

-কি শুনবো?

-এই মেয়ের কাহিনী৷

-শুনবো? আচ্ছা বল৷

-এই মেয়ে সেদিন আমারে বলল, আপনিও কি আপনার বাবার মতো কিপ্টা? কথাশুনে আমার রাগ উঠে গেল৷ মেয়ে সুন্দরী৷ তাই রাগ কন্ট্রোল করে জিজ্ঞস করলাম,

-কেন বলছেন?

-সেদিন দেখলাম পায়ে হেঁটে বাজার করে আনছেন৷ প্রায়ই দেখি৷

-বাবা রা বিশ্বাস করেন “ভোগে নয়, ত্যাগেই সুখ” তারপর কি করলো বলবো আব্বা?

-হ্যা বল৷ মুখ ভেঙিয়ে বলল,

-আপনিও আপনার বাবার মতো কিপ্টা৷ আমি বললাম, আমি কিপ্টা নয়৷ কিভাবে প্রমাণ করবো? মেয়ে বলল,

-দেখি আমাকে দূ’প্লেট ফুচকা খাওয়ান৷

-তারপর কি করলি?

-কি আবার? মেয়ের ইচ্ছেমতো ফুচকা খেলো৷ ফুচকা মামাকে বলেছি জোরে শোরে ঝাল দিবেন৷ কথামতো কাজ করেছে৷ মেয়ে এখন বাথরুমের দরজায় হেলান দিয়ে “ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ” নামক ভাব-সম্প্রসারণটি পড়ছে৷” আব্বা এবার আমাকে টুপ করে জড়ায়ূ ধরলেন৷ আর বলতে লাগলেন,

-এই না হলে আমার ছেলে৷ তারপর হাতের বাঁধনটা খুলে দিলেন৷ আমি হায় তুলতে তুলতে ছোটবোনের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-আব্বা সামনের সপ্তাহে আরেকটা বিচার আসবে৷

-কি বিচার?

-তোমার মেয়ে মাথার চুল সব ছিড়ে ফেলবো৷ সেদিন আমি আর বিরিয়ানী খাবো না আব্বা৷ আমাকে ফান্দে ফেলে আর কাদাঁতে পারবেনা তোমরা৷” এই বলে বেরিয়ে আসলাম৷ খানিক বাদে ফোনে মেসেজ আসলো৷ ছোটবোনের মেসেজ৷ “আব্বা বলেছে, পরেরবার তোরে ফ্যানের সাথে উল্টাভাবে ঝুলাবে৷ আর তুই কবিতা পড়বি “কপাল ভিজিয়া গেল চোখেরও জলে পা দু’টো বাঁধা ছিল পাকারো সনে৷” আর বুদ্ধিটা আমি দিয়েছি৷ তোর ভাত বন্ধ!

গল্পের বিষয়:
ফ্যান্টাসি

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত