দুই বোনের এক স্বামী

দুই বোনের এক স্বামী

হ্যালো মিস্টার হ্যান্ডসাম!! আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। (একটা হাসি দিয়ে) ২মিনিট পর হায় হ্যান্ডসাম!! আমার গার্লফ্রেন্ড আছে (একটা হাসি দিয়ে) আপনারা তো ভাবছেন। কি হচ্ছে এইগুলো? তাহলে চলেন ক্লিয়ার করেই বলি আমি নীল। বড়লোক বাবার দুই মাত্র সন্তান। দুই মাত্র বলছি কারন আমার শয়তান একটা ছোট বোন আছে। সে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে। আর আমি এমবিএ করছি। আমি আমার ভার্সিটি লাইফে ১০ টা ভার্সিটি পালটিয়েছি। কারন হচ্ছে মেয়ে। যেখানেই যাই মেয়েদের যন্ত্রনা। আচ্ছা আমি কি দেখতে এতই সুন্দর? যদি সুন্দর না হইতাম তাহলে মেয়েদের জন্য আমার শান্তি নাই কেন? আর যদি সুন্দরই হই তাহলে মা আমাকে বান্দর বলে কেন? ধুর ভাল্লাগেনা। মেয়েদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাই নতুন আইডিয়া বের করছি। আর সেইটা তো আপনারা উপরে দেখলেনই। আসলে কেন জানি আমি মেয়েদের সহ্য করতে পারি না। গা জ্বলে এদের দেখলে। তাই এই ২৫ বছর বয়সে আজও সিংগেল। দেখলেন আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে আবারো একটা মেয়ে চোখ মেরে গেল! কি অসভ্য! মেয়েগুলা। যাই হোক এইটা আমার ১১ নাম্বার ভার্সিটি। আশা করি এইখান থেকেই এমবিএ কম্পলিট করব।

আল্লাহ তুমি আমার সহায় হও! পেত্নীদেরকে আমার দিকে তাকাইতে নিষেধ করো। আমিন। যাই ক্লাসে যাই। মে আই কাম ইন স্যার? ইয়েস কাম ইন। ও মা! ক্লাসে ঢুকার পর দেখি সব মেয়ে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বললাম এই যে আপুরা মুখে মশা ঢুকে যাবে! এইটা শুনে সব মেয়ে অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বলল আপুউউউউউউউ। নয়তো কি খালাম্মা? (হেসে হেসে) স্যার বললেন কি হচ্ছে এসব? সবাই চুপচাপ ক্লাস করো। আর নীল তুমি বসো। জ্বি স্যার। কোনোমতে ক্লাস শেষ করলাম। ক্লাস শেষ করতেই ক্লাসের সব মেয়ে এক সাথে জড়ো হয়ে আমায় ঘিরে রেখেছে । আমি বললাম কি হচ্ছে এসব? হায় হ্যান্ডসাম! (একটি মেয়ে বলল) ওই রাস্তা ছাড়ুন তো। বেশি বেশি(বিরক্ত নিয়ে) কোনোভাবে বাঁচলাম ডাইনি গুলার হাত থেকে উউউফফফ। এখন তো দেখছি আমাকে কালকে থেকে বোরকা পরে ক্লাসে আসতে হবে। এদের অত্যাচারে আমি অতিষ্ট। এমন সময় মায়ের ফোন আসল হ্যালো মা।

কিরে বাঁদর বাসায় কখন আসবি? মা তুমি আমায় বাঁদর বলছো! আজকেও আমার একই ঘটনা ঘটছে। (কান্না করে দিল বলে) আমার বাঁদর ছেলেটার জন্য এত মেয়ে পাগল! আর আমার ছেলেটা কাউকে পাত্তা দেয় না। কেন এমন করিস রে তুই? মা ভাল্লাগেনা। জানো তো আমি মেয়েদের লাইক করি না। দুই চোখের বিষ আমার। (চোখ বড় বড় করে বললাম) হইছে তাইলে তুই কোনো ছেলেকে বিয়ে করে লেসবিয়ান হইয়া যাইস। হা হা হা মা তুমি থামো তো। আমি আসছি। (বলেই দিলাম ফোন কেটে) কিছুক্ষন পর বাসায় গিয়ে পৌঁছালাম। আর নাতাশা কে ডাকতে লাগলাম। নাতাশা আমার ছোট বোনের নাম। নাতু ওই নাতু। কই তুই? ভাইয়া তুই আবার আমায় নাতু বলে ডাকছিস?(সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে) কি করব বল অভ্যাস হয়ে গেছে। জানিস আজকে কি হইছে?(এত্তগুলা খুশি নিয়ে) কি আর হবে প্রতিদিন যা হয়। (কাঁধ উঁচিয়ে বলল) অই আমাকে একটা বোরকা দিস তো কাল ভার্সিটি তে পড়ে যাব। তাহলে কোনো মেয়ে ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না। হা হা হা। মা ও মা তোমার গুনোধর ছেলে বোরকা চায়। কিনে এনে দাও। (হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরার অবস্থা) কিরে নীল কি বলছিস তুই? মা মেয়েদের যন্ত্রনা আর ভাল্লাগেনা। (বিরক্তি নিয়ে) তাইলে বিয়ে কর কেউ জ্বালাবে না। মা আমার বোরকা লাগবে না। মজা করলাম হিহিহি। (বিয়ের কথা এড়ানোর জন্য) যা ফ্রেশ হ খাবার দিচ্ছি বাঁদর কোথাকার।

এইত আমার গল্পের হিরো নীলl পরেরদিন নীল ভার্সিটিতে গেলো। গিয়ে দেখলো পুরো ভার্সিটি সাজানো হচ্ছে। সে তার বন্ধু আকাশকে জিজ্ঞেস করলো কিরে দোস্ত কি হচ্ছে ভার্সিটি তে? তুই জানস না?(অবাক হয়ে) না কেন কি? আগামী কাল পহেলা বৈশাখ। তাই আমাদের ভার্সিটি সহ আরো তিনটা কলেজের সমন্বয়ে কালকে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ওহ! যাই রে আজকে তো তাহলে ক্লাস হবে না তাই না? না। আচ্ছা দোস্ত বাসায় যাই। ওকে। পরেরদিন নীল অনুষ্ঠানে আসলো। এসে স্টেজ এ বসতেই সে হা হয়ে গেলো। কি দেখছে সে! নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না। এত সুন্দর মেয়ে কিভাবে হয়? তার নাচার স্টাইলটা আরো বেশি মন কেড়েছে নীলের। নীল এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে চোখ সরাতে পারছে না। সে নিজের নিয়ে যাওয়া ক্যামেরা থেকে অনেকগুলো ছবি তুলল সেই মেয়ের। কিন্তু তার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়ে উঠে নি। বাসায় এসে সে নিজের ঘরে বসে একমনে ছবিগুলো দেখছে আর হাসছে। এই সময়  নাতাশা আসলো নীলের রুমে। কিরে ভাইয়া কি দেখিস? নাতু দেখ মেয়েটা কি সুন্দর। (ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে) কিরে ভাইয়া জ্বর আসছে নাকি তোর? কি বলস এসব? মেয়ে সুন্দর মানে?(৪২০ ভোল্টেজের শকের মত অবাক হলো নাতু) এই দেখ।
এত নীলিমা আপু। তুই কিভাবে তার ছবি পেলি? তুই চিনিস মেয়েটাকে? (অবাক) হ্যাঁ আমাদের কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের মোস্ট টপ স্টুডেন্ট। আমাদের কলেজের প্রত্যেক ছেলের ক্রাশ এই নীলিমা আপু। কি বলছিস রে?-হ্যাঁ। কিন্তু তুই কিভাবে পেলি ছবি? আজকে ভার্সিটির ফাংশনে নেচেছিল এই  মেয়ে সেই দেখেই ভালোলেগে গেছে। আম্মু কই তুমি? তারাতারি ভাইয়ার রুমে আসো। (চিতকার করে) ওই তুই আম্মুকে ডাকছিস কেন? আম্মুকে তার বউমার ছবি দেখাবো। কিরে চেচাচ্ছিস কেন?(নীলের মা) আম্মু দেখ তোমার বউমা। (ছবি দেখিয়ে) বউমা মানে? মানে ভাইয়ার এই মেয়েকে ভাললেগেছে। কিইই বলছিস!(অবাক হয়ে) হ্যাঁ মা এখন বউ করার ব্যবস্থা কর। কিরে নীল সত্যি নাকি?(ভ্রু উঁচু করে) হুম মা। (মাথা চুলকাতে চুলকাতে) সাব্বাস। এতদিনে তুই লেসবিয়ান থেকে বের হয়ে এসেছিস। দাঁড়া আজকেই তোর বাবাকে বলব এই মেয়ের বাসায় প্রোপজাল পাঠাতে। না মা আমি আগে প্রেমের মজা নিতে চাই। আচ্ছা। তবে মেয়েটার নাম কি? আম্মু নীলিমা। আমাদের কলেজের সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। (নাতু বলল) আমার পছন্দ হয়েছে। আমি একেই আমার বউমা বানাবো। নীল তুই চালিয়ে যা। আমি আছি। হুম জানি তো তুমি অলওয়েজ আমাকে বাঁশ দেওয়ার জন্য রেডি থাকো।

কি বললি শয়তান ছেলে আমি তোকে বাঁশ দেই?(চোখ বড় করে) আরে নাহ। তুমি তো আমার লক্ষী আম্মু। আরে থাম। কালকে তুই আমার সাথে কলেজে যাবি ভাইয়া?(নাতু) হুম তা তো অবশ্যই। ওকে সকাল ১০ টায় রেডি থাকিস। ওকে। পরেরদিন সকাল ৮ থেকে নীল ওয়েট করছে কখন ১০ টা বাজবে। অবশেষে বাজলো ১০ টা। সে তার বোনকে নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। যাওয়ার আগে নীলের মা অন্তত ৫০ বার বেস্ট অফ লাক বলেছে। দুই ভাই বোন গাড়িতে করে কলেজে যাচ্ছে। আর নীল ড্রাইভ করছে। কিছুক্ষন পর তারা কলেজে পৌঁছাল। গাড়ি থেকে নামার পর সব মেয়েরা নীলের দিকে তাকিয়ে আছে হা করে। তা দেখে নাতাশা সবার উদ্দেশ্যে বলল ও হ্যালো! চোখ নিচে নামাও। আমার ভাইয়ার দিকে কেউ তাকাবে না শুধু নীলিমা আপু ছাড়া। সবাই তো অবাক। কেউ কিছু বলে নাই। কথাটা নীলিমার কান অবধি পৌঁছেছে তার বান্ধুবীর সহায়তায়। নীলিমা সেখানে আসলো আর জিজ্ঞেস করলো কি বললে তুমি?(নাতুকে উদ্দেশ্য করে) আপু তুমি আমার ভাইয়ার সাথে কথা বল। আমি যাই।  Who is he? তার সাথে আমার কেন কথা বলতে হবে? মেডাম শুনুন!(নীলের ডাক) এতক্ষনে নীলিমা তাকালো নীলের দিকে। হ্যাঁ বলুন। ইফ উ ডোন্ট মাইন্ড আমি কি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে পারি? বলুন।

এইখানে না। আমার সাথে আসুন। কিন্তু প্লিজ আসুন। ভাইয়া বেস্ট অফ লাক(চোখ মেরে নাতু) তারপর নীল নীলিমাকে নিয়ে একটা পার্কে যায়। সেখানে নীলিমা বলে হু আর ইউ? নীল। নীল চৌধুরী। আমাকে কেন ডাকলেন? তোমার সাথে পরিচিত হতে চাই? আমার সাথে কেন পরিচিত হবেন? আর কি প্রয়োজন? আমি সহজ ভাবে কথা বলতে পছন্দ করি। কালকে যখন তুমি নেচেছিলে ঠিক তখনি আমি তোমার প্রেমে পরে যাই। আমি তোমায় ভালবাসি। হা হা হা ৫০৮ তম প্রোপজাল আপনি করলেন। স্যরি মিস্টার আমি রাজি না। আর আপনাদের মত বড়লোক দের আমার চেনা আছে। ভালবাসার নামে ছুঁড়ে ফেলে দিতে যানেন আপনারা। (ঘৃনা নিয়ে) তুমি আমাকে চেনো না তাই এসব বলছো। (মুচকি হেসে) দরকার নাই। আমি বিয়েতে বিশ্বাসী ভালবাসায় নয়। জাস্ট ২০ দিন। তোমায় বিয়ে করে আমি ঘরে তুলব। হা হা চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আমি যাই বায়। শুনে যাও ২০ দিন। গুনা শুরু কর আজকে থেকেই। (পেছন থেকে চিতকার করে বলল নীল) বাসায় গিয়ে নীল যা করলো নীল নীলিমার সাথে কথা বলে সোজা বাসায় চলে আসলো। এসেই সে নিজের রুমে মন খারাপ করে বসে রইল। এমন সময় নীলের মা আসলো -কিরে বাঁদর কি হয়েছে? আম্মু আমি নীলিমাকে ২০ দিনের মধ্যে বিয়ে করব। তোমরা ব্যাবস্থা কর।

ওরে বাবা আমার ছেলেটা বিয়ের জন্য রাজি হইছে এতেই আমি খুশি। কিন্তু ২০ দিনেই কেন? তারপর নীল তার আম্মুকে সব খুলে বলল। আর বলল আমি নিলিমার অহংকার আমার ভালবাসা দিয়ে শেষ করব। না হলে আমার নাম নীল নয়। আচ্ছা তাই ই হবে। আগামিকাল আমি আর তোর বাবা মেয়ে দেখতে যাব। এখন চল খাবি। ওকে মা। কিন্তু তুমি নীলিমাকে কিছু বলবে না। আমার নাম কি বা আমি কোথায় থাকি। ধামাকা হবে বাসর রাতে। ওকে বলব না। চল এখন। হুম চল। পরেরদিন নীলের মা বাবা নীলিমাদের বাসায় গেছে। নীলের ছবি দেখানোর পর সবাই নীলকে পছন্দ করেছে। ওইদিন বিয়ের কথা ফাইনাল করা হয়ে গেছে। কিন্তু নীলিমাকে তার বাবা মা নীলের ছবি দেখাতে চেয়েছে কিন্তু সে দেখেনি। সে বলেছে দেখার দরকার নাই। তার বাবা মায়ের পছন্দই তার পছন্দ। সে দিন থেকে ঠিক ১৮ দিন পর বিয়ে হল। বিয়ের শপিং করতেও নীল যায় নি কারন সারপ্রাইজ। নীলের বিয়ের শপিং করার সময় শুধু নীল ছিল।

যেদিন নীল প্রথম শপিং এ গেল ওইদিন একটা মেয়ের সাথে নীল ধাক্কা খেল। স্যরি আপনার কোথাও লাগে নি তো? না আমি ঠিক আছি। (এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে মেয়েটি) ওকে থ্যাংকস। এই বলে চলে আসল। ১৮ দিন পর বিয়ে হল। নীল বাসর ঘরে ঢুকেই হাসছে। হা হা হা স্বরে। তার হাসির আওয়াজে নীলিমা ঘোমটা সরালো আর নিজেও থ হয়ে গেল নীলকে দেখে। এই কি আপনি এইখানে কি করছেন? (অবাকের দৃষ্টিতে) বিয়ে করলে কাকে?(ভ্রু উঁচিয়ে) মানে? ইয়েস আমি ই তোমার বর। ২০ দিন হতে এখনো ১ দিন বাকি আছে। এত বড় চিট আমার সাথে!(রাগে ফুসতে ফুসতে) চিট না ভালোবাসি তার প্রমান দিলাম বিয়ে করে। তাছাড়া আমি কি দেখতে খারাপ নাকি যে তুমি এমন করছো? নাহ আপনি রাজপুত্র। যত্তসব। (বিরক্তি নিয়ে) হ্যাঁ রাজ্যসহ রাজপুত্র। আর কি চাই তোমার? এই যে শুনুন আমাকে একদম টাচ করবেন না।

আমার সাথে মিশার ট্রাই করবেন না। বুঝছেন? হ্যাঁ বুঝছি। কথা দিচ্ছি সেদিনই টাচ করব যেদিন তুমি আমার ছোঁয়া পেতে চাইবা। ইম্পসিবল। আমি কখনো চাইব না। সে দেখা যাবে এখন আমার বালিশ দাও খুব ঘুম পাইছে। এই নিন। (বালিশ ছুড়ে দিয়ে) কি বউ পাইলাম নিজের স্বামিকে এখন নিচে শুতে হচ্ছে। এইটাই কপাল। কই আজকে ইয়ে করব তা না এখন মশা মারতে হবে। নীলের কথা শুনে নীলিমার হাসি পেল প্রচুর। কিন্তু সে থামিয়ে রাখলো। নীলিমা যে নিলকে মানে নি তা না। আসলে সে চাইছে নীলকে বাজিয়ে দেখার জন্য। এসব ভেবে ভেবে ২ জনেই ঘুমিয়ে পরলো। পরেরদিন সকালে নীলিমা রেডি হচ্ছে কলেজে যাওয়ার জন্য। এমন সময় নীল বলল কোথায় যাচ্ছ? কলেজে। আজকে বাড়িতে অনুষ্ঠান আর তুমি কলেজে যাচ্ছ? হ্যাঁ আমার ইম্পোরটেন্ট একটা ক্লাস আছে। তাই যেতে হবে। এই বলে নীলিমা সিঁড়ি দিয়ে নামছে এমন সময় তার শ্বশুর তাকে ডাক দিয়ে বলল কোথায় যাচ্ছ মা? বাবা কলেজে। আজকে একটা important ক্লাস আছে তাই যেতে হবে। আমি প্রিন্সিপাল কে বলে দিচ্ছি যে আজকের ক্লাস গুলো পিছিয়ে দিতে। তোমার আজ কলেজে যেতে হবে না। আচ্ছা বাবা।

নীলিমা উপরে চলে আসলো আর এসেই দেখলো নীল আন্ডারওয়ার পরে দাঁড়িয়ে আছে। সে দেখেই এহ ছিঃ কি এসব? এই তুমি না কলেজে গেলা আবার কেমনে আসলা? বাবা যেতে নিষেধ করেছে। যাও এখন আমি ড্রেস চেঞ্জ করব। যাচ্ছি তো। আমার ইচ্ছা নাই আপনার ইয়ে দেখার। (চোখ মেরে) বজ্জাত তো তুমি! এখন বুঝলেন? না আগেই বুঝেছি। এখন প্রকাশ করলাম। নীলদের বাড়ির রিসিপশন শেষ হলে নীল আর নীলিমা নীলিমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। কিছুক্ষনের মধ্যে ওরা পৌঁছে গেল। নীল নীলিমাদের বাসায় এসে দেখলো নীল নীলিমাদের বাসায় এসে একটি মেয়েকে দেখে জিজ্ঞস করল আপনি এইখানে কেন?(অবাক হয়ে) জিজু আমি আপনার ছোট শালিকা। ওইদিন আপনাকে চিনতে পারি নাই। (হেসে হেসে) আরে বাহ শালির সাথে ধাক্কা খেলাম অথচ চিনলাম না। অবাক তোমরা ধাক্কা খাইছো মানে?(নীলিমা) আমাদের বিয়ের শপিং করার সময় ওর সাথে আমি ধাক্কা খাই। ওইদিন চিনি নাই।

ওহ আচ্ছা। (নীলিমা) শালিকা নাম কি তোমার? নীলা বাহ সুন্দর নাম তো। নীল নিলা সেই মিলছে। (মজা করে) আরে ধুর জিজু। ফ্রেশ হয়ে আসো খাবার দেই আপু। ওকে যা আসছি। নীল আর নীলিমা ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলো। খাওয়া শেষ করে সবাই জম্পেশ আড্ডা দিল। আড্ডা শেষ করে সবাই ঘুমাতে গেল। কিন্তু নীলিমা নীলের কাছে না শুয়ে নীলার কাছে শুয়ে পরলো। নীল একা একা ঘুমালো। নীলা অবাক হয়ে নীলিমাকে জিজ্ঞেস করল আপু তুই এইখানে? কেন শুতে পারি না নাকি? না পারিস। কিন্তু জিজুকে একা রেখে এইখানে আমার কাছে বেপারটা কেমন না! তোর জিজুর সাথে এখনো আমার কোনো ফিজিকাল রিলেশন হয় নি। কিন্তু কেন?(নিলা নিলিমার থেকে ১ বছরের ছোট) এমনি কেন যেন ওকে মেনে নিতে পারছি না। জিজু কত সুন্দর। আর তুই জিজুকে মেনে নিতে পারছিস না এইটা কিভাবে সম্ভব? ওই বাদ দে। ঘুমা। নীলিমা ঘুমিয়ে গেলেও নিলা ঘুমালো না। ও ভাবতে লাগল এইটা কিভাবে সম্ভব? ভাবতে ভাবতে সেও ঘুমিয়ে গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর কোনো কিছুই আর ঠিক রইল না।

নিলা নীলের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। এই দৃশ্য দেখার পর নীলিমা অজ্ঞান হয়ে গেল। আর নীলের তখন ঘুম ভাঙে আর মেঝেতে নিলিমার পরে থাকা দেখে তার বুকের উপর তাকায় আর তাকিয়ে দেখে নিলা। এই নিলা তুমি এইখানে কেন? কেন কালকে তুমিই তো আমাকে নিয়ে আসলা আর বললা যে আমাকে তোমার বউ করবা। তাই আমার সাথে তুমি ফিজিকাল রিলেশন ও করছো। হোয়াট! আর ইউ ক্রেজি নিলা? সর এখন নীলিমাকে উঠাতে হবে। নীল নীলিমাকে খাটে তুলে জ্ঞান ফিরালো। জ্ঞান ফিরানোর পর নীলকে নীলিমা জিজ্ঞেস করে নিলা এইখানে কেন ছিল? আমি জানি না ও কিভাবে আসল এখানে। আমার ঘুম ভাংতেই আমি নিলাকে আমার বুকের উপর দেখি। জিজু মিথ্যা কেন বলছো তুমিই তো আমাকে ডেকে আনলে আমাকে বউ বানাবে সে জন্য। জাস্ট শাট আপ নীলা। তুমি যাও এখান থেকে। নিলা তুই কোথাও যাবি না। আজ এখন এই মুহুর্তে তোর সাথে এই লোকটার বিয়ে হবে। আর তা আমিমি দিব। কি বলছো তুমি এসব নীলিমা? মাথা ঠিক আছে তোমার? হ্যাঁ আমার মাথা ঠিকই আছে। মাথা ঠিক নাই আপনার মিস্টার নীল চৌধুরী। এখনি আমার বোনকে আপনার বিয়ে করতে হবে। তাছাড়া আর কিছু করার নাই।

তুমি আমার বউ নীলিমা। আমি আবার কিভাবে বিয়ে করব? যেইভাবে আমার বোনের সাথে ফিজিকাল রিলেশন করেছেন সেইভাবে! আমি কিছু করিনি নীলিমা। ট্রাস্ট মি। আমি কিছু করিনি। (কাঁদতে কাঁদতে) আম্মু আব্বু তোমরা এই রুমে আসো। (চিতকার করে নিলিমা) কিরে কি হয়েছে? আজ এখনি নীলের সাথে নীলার বিয়ে হবে। ব্যাবস্থা কর। কি বলছিস তুই মাথা ঠিক আছে? (নীলার মা) হ্যাঁ ঠিক আছে। এই নীলের স্ত্রী না তুই? ভুলে গেছিস? না মা ভুলি নাই। তারপর নীলিমা তার আম্মুকে সব বলল। তারপর তার বাবা মা অনিচ্ছাসত্ত্বে ও লোক্ লজ্জার ভয়ে নীলের সাথে নীলার বিয়ে দিল। কিন্তু এই বিয়ে কেউ জানে না। সবাই জানে নিলা দেশের বাইরে চলে গেছে। বিয়ে করে যখন নীল ২ বউ সমেত বাসায় ফিরল তার মা বলল নীল ২ বউ সমেত বাসায় ফিরলো তখন তার মা জিজ্ঞেস করলো কি বেপার নীল এই মেয়ে কে? তাও বধূ বেশে? মা আমি বলছি। আপনার ছেলের এই কথা বলার সাহস আর মুখ কোনোটাই নেই। (নীলিমা) কি হয়েছে বউমা? মা এইটা হল আপনার পুত্রবধূ।

আমার ছোট বোন। মানে কি বলছো এসব তুমি? আমার পুত্রবধূ মানে?(অবাক) হ্যাঁ মা। তারপর নীলিমা তার শ্বাশুরিকে সব ঘটনা খুলে বলল। সব শুনার পর মাথা নিচু করে থাকা নীলের দিকে গিয়ে তার মা গালে একটা চড় দিলেন আর বললেন এই তোর ভালবাসা তাই না? তুই নীলিমাকে ভালবাসিস? মান সম্মান এর কথাও কি তুই একবার ভাবলি না? কিভাবে সমাজে মুখ দেখাবে তোর বাবা?(কাঁদতে কাঁদতে) মা আপনি কাঁদবেন না। যার যার পাপের ফল সে পাবে। (নীলিমা) নীল কাঁদতে কাঁদতে উপরে চলে গেল। আর নিলা ছিল এ সবকিছুর নীরব দর্শক। নিলা এক জায়গাতেই মাথা নিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। নীলের চলে যাওয়া দেখে নীলিমা নিলাকে বলল কিরে তুই যাচ্ছিস না কেন? আপু আমি কিছু চিনি না। চল আমি দিয়া আসছি। নীলিমা নিলাকে নিয়ে নীলের ঘরে গেল। নীল বসে বসে কাঁদছে। নিলা যা। আপু এইটাতো তোমার ঘর। আজ থেকে এইটা তোর ঘর। নিলা বেরিয়ে যাও আমার ঘর থেকে (ধমকের সুরে নীল) নাহ ও কোথাও যাবে না। ভুলে যাবেন না ও আপনার স্ত্রী। মাই ফুট!! আমার স্ত্রী শুধু তুমি আর কেউ নয়। -আরে না। আমি এই বাড়ির অতিথি এখন। বিয়েটা হয়েছে ২ দিন। তাই এক বছর আগে ডিভোর্স দেওয়া সম্ভব না। আমি আপনাকে মুক্তি দিব নীল আপনি চিন্তা করবেন না। এই কথাগুলো বলে নীলিমা চলে গেল। নিলার গালে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে চড় মারল নীল।

কেন তুই আমার সংসার টা ভেঙ্গে দিলি বল? আমি কিছু করিনি যা করার তুমি করেছো। আর ভুলে যেও না এখন আমি তোমার স্ত্রী। তাই আমার সাথে ঠিক করে কথা বলবে। কঠোর হয়ে) তোর মতো রাস্তার মেয়ের সাথে আমার ঠিক করে কথা বলার কোনো ইচ্ছাই নাই। বের হ এখান থেকে। রাস্তার মেয়ে আমি না। রাস্তার মেয়ে নীলিমা। মানে?(অবাক হয়ে) না কিছু না। তুই কোনোদিন আমার কাছ থেকে আমার স্ত্রীর অধিকার পাবি না। আমার মন জুড়ে শুধুই নীলিমা। আর কেউ না। (জোরে জোরে) নিলার অধিকার নিলা ঠিক কেড়ে নিতে জানে। যেমনটা তোমাকে নিয়েছি। তার মানে সব তোর সাজানো? (জোরে হাত চেপে ধরে) আমার ঘুম পাচ্ছে ঘুমাবো। তুমিও ফ্রেশ হয়ে আসো এক সাথে ঘুমাবো। তুই ভাবলি কি করে তোর মত বাজে মেয়ের সাথে আমি ঘুমাবো। -ওকে আগে তো ফ্রেশ হয়ে আসো বাকিটা আমি দেখছি। নিলা আর নীল দুই জনেই ফ্রেশ হলো। নীল গেস্ট রুমে ঘুমানোর জন্য রুম থেকে বের হবে এমন সময় নিলা দরজা আটকে দাঁড়ালো। কোথায় যাচ্ছো তুমি? সর এখান থেকে। (ধমক দিয়ে) রাগ আমাকে দেখিয়ে লাভ হবে না। আজকে আমাদের বাসর। চলো বাসর করবে। ঠাসসসসসসস। তুই ভাবলি কি করে তোর মত মেয়ের সাথে নীল চৌধুরী বাসর করবে।

অনেক সহ্য করেছি আর না। এখন বিছানায় আসো। (কলার ধরে নীলের) নীলকে ধাক্কা দিয়ে নিলা বিছানায় ফেলে দিল। তারপর নিলা নীলের উপর শুয়ে পরলো আর বলল এখন আমায় আদর কর। তুই আমার উপর থেকে উঠবি নাকি আমি তোকে ফেলে দিব। (সিরিয়াস মুডে) -না। আমিও উঠব না আর তুমিও আমায় ফেলে দিবে না। (বলতে বলতে নিলা নীলের শার্ট আর নিজের ড্রেস খুলতে লাগলো) এই ফাযিল মেয়ে এসব কি করছিস তুই? (চিতকার করে) তারপর নীলা নীলের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট লাগিয়ে দিল। নীল ও নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে নিলাকে সায় দিল। কাটলো তাদের বাসর রাত। পরেরদিন সকালে নিলা ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখে নীলিমা রান্না করছে। আপু কি করিস? কিছু না। দে আমিও হেল্প করি। না তুই তোর বরের কাছে যা। ও ঘুমোচ্ছে। আসলে অনেক ক্লান্ত তো তাই। (নীলিমাকে শুনিয়ে বলল কথাগুলো) ওহ আচ্ছা যা তুই খেয়ে নে। না আপু। ও উঠলে এক সাথে খাব। আচ্ছা। তুই কলেজে যাবি না? না ভাবছি পড়ালেখা আর করব না। স্বামী নিয়ে সংসার নিয়েই ব্যাস্ত হব। তুই যা ভাল বুঝিস।

নীলের মা এসে দেখলেন দুই বোন এক সাথে রান্নাঘরে তখন তিনি বললেন নীলের মা রান্নাঘরে এসে দেখলেন ২ বোন এক সাথে রান্না ঘরে। তিনি বললেন -বউমা। এই রান্নাঘর শুধুই তোমার। আমি অন্য কোনো মেয়েকে যেন এইখানে না দেখি। (নীলিমাকে উদ্দেশ্য করে) -মা তা কি করে হয়! নিলা ও তো এই বাড়ির বউ? তাহলে তুমি কে?(ধমকের সুরে) মা আমি কিছু দিনের অতিথি মাত্র। ১ বছর পরেই আমি নীলকে ডিভোর্স দিয়ে দিব। (মাথা নিচু করে) শোনো বউমা নীল তোমাকে ভালবাসে। আর হ্যাঁ নীল একটা ভুল করেছে এই ভুলটা আমি আর নীলের বাবা শুধরে নিব। তুমি কেন কষ্ট পাবা মা?(নীলিমার মুখে হাত বুলাতে বুলাতে) -মা আমার কষ্ট সেইদিনই কমবে যেইদিন আমার বোন এই বাসায় যোগ্য মর্যাদা পাবে। (কাঁদো কাঁদো গলায়) নীলের মা কিছু না বলেই চলে গেলেন। আর নিলা শুধু নীলিমার কথাগুলো শুনলো। কেটে গেল ১টি বছর এইভাবেই। নীল এই ১ বছরে নিলিমার রুমে থাকেনি। নিলার সাথেই থেকেছে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও।

নিলাও নীলকে নীলিমার কাছে ঘেঁষতে দেয় নি। বিয়েটা নীল আর নীলিমার নামের বিয়ে কারন এই ১ বছরে কেউ কাউকে ছোঁয়ার ও সুযোগ পায় নি। তা নিয়ে নীলের আফসোস থাকলেও নীলিমার নেই। একদিন হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায় নীলা। তাকে হাসপাতালে আনা হয়। ডক্টর পরিক্ষা করে বললেন নিলার ব্রেইন টিউমার। লাস্ট স্টেজ। এইটা ছিল দুঃসংবাদ। আর সু সংবাদ হল নিলা মা হতে চলেছে। ডক্টর বলে দিয়েছে নীলা প্রসবের আগেও মারা যেতে পারে আবার পরেও মারা যেতে পারে। এইটা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। কথাগুলো শুনে নীলিমা আর নীলিমার মা স্তব্ধ হয়ে গেল। নীল স্বাভাবিক ই আছে। এতদিন ধরে কেউ কিছু টেরই পেল না যে নিলা এত বড় অসুখ নিয়ে বেঁচে আছে। নিলাও জানত না। ওইদিন নিলার সামনেই ডক্টর এসব বলছিলেন। নিলাকে ৩ দিন হাসপাতালে রেখে বাসায় আনা হলো। নিলা এই ৩ দিন কোনো কথা বলেনি। শুধু অনুশোচনায় ভুগেছে। বাসায় আনার পর নিলার সামনে নীলিমা নীলকে বলল এক বছর তো হয়ে গেল। আমি উকিলের কাছে ডিভোর্স পেপার চেয়েছি ।

উনি কালকে নিয়ে আসবেন। আপনি নিলার খেয়াল রাখবেন। (কাঁদতে কাঁদতে) নীলিমা চলে যাচ্ছিল এমন সময় নিলা নীলিমার হাত ধরলো কিরে কিছু বলবি?(মাথায় হাত বুলিয়ে) আপু আজকে আমি তোকে আর নীলকে কিছু সত্যি কথা বলব। তার আগে বল আমাকে ক্ষমা করে দিবি?(২ হাত দিয়ে নীলিমার হাত ধরে) কি বল? আর ক্ষমা কেন চাচ্ছিস? আপু তুই আর নীল আমাকে মাফ করে দিস। তোদের সংসার আমি ভেঙ্গে দিয়েছি। আসলে কি জানিস আপু তুই আমার আপর বোন না। আম্মুর বিয়ের পর যখন কোনো সন্তান হচ্ছিল না তখন আম্মু তোকে এডাপ্ট করে। তখন তোর বয়স ৪ মাস। আর তার ১ বছর পর আমি হই। আমি এইতা জানি তোর বিয়ের আগের দিন আম্মুর ডায়েরি পরে। তোকে আম্মু সব সময় না চাইতেই অনেক কিছু দিয়েছে। যার কারনে আমি তোকে নিয়ে অনেক হিংসা করতাম। কিন্তু এইটা জানার পর হিংসা তিন গুন বেড়ে গেল। আর নীলের সাথে তোর বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। নীলের সাথে আমি প্রথম যখন শপিং মলে ধাক্কা খাই ওইদিনই আমি ওকে ভালবেসে ফেলেছি। বাসায় এসে দেখি সেই ছেলের সাথেই তোর বিয়ে।

ওইদিনই আমি প্রতিজ্ঞা করি নীলকে আমি আমার করেই ছাড়ব। আর তোর বিয়ের পরেরদিন যখন তুই আমায় বললি যে নীলের সাথে তোর কোনো ফিজিকাল রিলেশন হয়নি। ওইদিন আমি সুযোগ পেয়ে যাই। তাই আমি রাতে নিলের বুকের উপর শুয়ে পরি আর একটা মিথ্যা নাটক করি। আপু প্লিজ তুই আমায় মাফ করে দে। নীল তোরই থাকবে। (কাঁদতে কাঁদতে)  (নিশ্চুপ নীলিমা আর নীল) আপু প্লিজ কথা বল। আপু মাফ করে দে আমায়। (কেঁদেই চলেছে) নিলা আমার কিছু বলার ভাষা নেই। (নীলের দিকে তাকিয়ে) এই এক বছরে আমার জিবনটা তুমি নষ্ট করে দিয়েছো,,, সমাজে আমার মাথা নিচু করিয়েছো,,,আমার ভালোবাসার কাছে আমাকে অপমান করেছো,,, আমার মা বাবার কাছে আমাকে ছোট করেছো,,, আমাকে বানিয়েছো কেরেক্টারলেস। এর পরেও তুমি মাফ চাচ্ছো নিলা? (শক্ত হয়ে) -আমি জানি আমি ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য না। আপু তুই নীলকে নিয়ে সুখে থাকবি। আমি তো চলেই যাব। তুই তো আমাকে ছোট থেকে আদর করে এসেছিস। সেই আদর আমার কাছে বিষের মত মনে হয়েছে। আজ থেকে আমি যতদিন বাঁঁচব তুই আমাকে আদর করবি ।

খাইয়ে দিবি। তাহলেই আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব। আপু দিবি না?(কাঁদতে কাঁদত্তে) হ্যাঁ দিব। এখন ঘুমা একটু। (অঝোর ধারায় চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে।) নীলিমা নিলার কপালে চুমু দিয়ে নিলাকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের রুমে চলে আসে। আর্ম চেয়ারে বসে কাঁদছে আর ভাবছে -নীল তো কোনো অন্যায় করেনি। তাহলে নীলকে কেন আমি ভুল বুঝেছি? কেন ওকে আলাদা করতে চাইছি? নিজের চাওয়া পাওয়া কেন এইভাবে বিসর্জন দিচ্ছি? কাঁদছে আর ভাবছে নীলিমা। একটু পর নীলিমা তার রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে উঠে দাঁড়ালো। দাঁড়িয়ে দেখল নীলিমা নিজের রুমে বসে অতীত ভাবছে আর তখনি রুমে কারো ঢুকার আওয়াজ পেল নীলিমা। সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেল। দেখলো নীল এসেছে।

কি ব্যাপার আপনি আমার রুমে?(নীলিমা) বাড়িটা আমার হলেও এই রুমটা আমার বড্ড অপরিচিত। তাই আজকে পরিচিত হতে আসলাম। দরকার তো ছিল না। আচ্ছা আমাকে কি তুমি এখনো ভুল বুঝে আসো? না। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি আমার লাইফ টা এইভাবে এলোমেলো হয়ে যাবে। আমিও ভাবিনি আমি মা বাবার মেয়ে না। এডাপ্ট করা মেয়ে। (কাঁদতে কাঁদতে) জীবন এমনি কাউকে কাঁদায় আর কাউকে হাসায়। তোমার বোন তো অনেক কিছুই করেছিল নিজের স্বার্থের জন্য। আল্লাহ তার প্রাপ্য বিচার করেছে। কিন্তু তুমি কেন কাঁদছ? তুমি ই তো সত্যিকারের বোন যে কি না বোনের এতগুলো অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছো। নিজের কথা ভাবনি একবার। তোমার অধিকার তুমি তোমার বোনকে দিয়ে দিয়েছো। সব কিছুতে কি স্বার্থপর হলে চলে নীল? ভালবাসায় স্বার্থ তুচ্ছ। হা হা হা হা। ভালবাসা!! পাগলের মত হাসছেন কেন? পাগল যে তাই। তাহলে তুমি ডিভোর্স করে দিচ্ছো আগামিকাল আমাকে? নিশ্চুপ আচ্ছা ঘুমাও। টেক কেয়ার। হুম।

নীল নিলিমার কাছ থেকে চলে আসলো। নিলার পাশে এসে বসল। আর নিলার দিকে তাকিয়ে বলল -কি নিষ্পাপ চেহারা তোমার। অথচ তোমার মনে শয়তানের বাস। নিলা তুমি তো বরবাদ করেছো আমাকে। আর সাথে সাথে নিজেও বরবাদ হয়েছো। কি দরকার ছিল এমনটা করার? নিজের বোনকেও তুমি ছাড় নাই। আজকে কেন যেন ঘৃনা করতে ইচ্ছে করছে না তোমায়! হয়ত তুমি তোমার শাস্তি পেয়ে গেছো আর নিজের ভুল বুঝতে পেরেছ।

নীল আপন মনে বিড়বিড় করতে করতে ঘুমিয়ে গেল। পরেরদিন সকালে উকিল আসল বাসায় ডিভোর্স পেপার নিয়ে। বাড়ির সবাই চুপ। কেউ কিছু বলছে না। হয়ত সবাই মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। কিছুক্ষন পর নিলা উপর থেকে নামলো। আর উকিলকে বলল আংকেল এনেছেন পেপারটা? হ্যাঁ। এখন শুধু সই করলেই হবে। দিন আমি সই করে দিচ্ছি। নীলার এমন কথাতে সবাই হতভম্ব। সবাই নিলার দিকে তাঁকিয়ে আছে।-কি ব্যাপার সবাই তাকিয়ে আছো কেন? আরে আপুর ডিভোর্স হচ্ছে না। আমার আর নীলের মিথ্যে বিয়ে আজ শেষ হচ্ছে। আমি কালকে উকিল আংকেল কে আমার আর নীলের নামে পেপার বানাতে বলেছি। আমি চাই আমার বোন তার বাকি জীবনটুকু নীলের সাথে কাটাক। অনেক তো অন্যায় করেছি আর কত? এখন যে কয়েকদিন বাঁচব আমার মেয়েটাকে নিয়েই বাঁচব। অতঃপর নীল আর নিলার ডিভোর্স হয়ে গেল। নীলিমা নীলের বউ হয়েই থেকে গেলো। নিলা সেই বাসা থেকে অনেক যত্ন আর অনেক আদর পেয়েছিল। কিন্তু সুখের দিন আর কত!! ২ মাস পর নিলার প্রচন্ড মাথা বেথা। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল সবাই। ডক্টর অটি থেকে বের হয়ে বললেন She is no more. সবাই বসে পরলো। কারো কিছু করার নাই। ডক্টর তখন নীলিমাকে একটি চিঠি দিলেন। চিঠিটা নিলার লিখা ছিল।

চিঠিতে লিখা ছিল “আপুরে আমি আর বাঁচব না রে। আপু তোর কাছে আমি ঋণী। তুই আমায় ক্ষমা করে দিস। তুই নীলকে নিয়ে সুখে থাকিস। শেষ ইচ্ছা ছিল আমার শেষ চিহ্ন আমার সন্তান টাকে তোকে দিয়ে যাব। কিন্তু আল্লাহ আমাকে সেই সময়টা দিল না। অনেক কষ্ট দিয়েছি তোদের আর দিব না। অনেক অন্যায় করেছি তোর সাথে। তাও তুই আমায় অবহেলা বা ঘৃণা করিস নি। অনেক ইচ্ছা ছিল এক সাথে বাঁচার। তবে নীলের সাথে না নিজে নিজে একা। আপু ভালো থাকিস আর তোর সন্তানের নাম আমার নামের সাথে মিলিয়ে রাখিস। তোর বাবুটার মাঝেই আমি বেঁচে থাকব।” নীলিমা কাঁদছে কিন্তু কান্নার কোনো শব্দ নাই। নীল আর নীলের পরিবারও থ হয়ে গেছে। ভালবাসার বিসালতায় আটকে গিয়েছিল তারা। সেইটা ছিন্ন করে আজ নিলা হারিয়ে গেল সারা জীবনের জন্য। নিলাকে দাফন শেষ করে নীল ঘরে আসল। দেখলো নীলিমা কাঁদছে। নীলিমাকে শ্বান্তনা দেওয়ার জন্য এই প্রথম সে তাকে জড়িয়ে ধরলো। নীলিমা ও আপত্তি করে নাই।

হয়ত জিবনটাই এমন। তার ৭ বছর পর আম্মু আমার এমন নাম লাখছো কেন? আমি বলতে পালি না। (নীলাম্বরী) আম্মু কেন তোমার পছন্দ হয়নি? হইছে কিন্তু কঠিন অনেক। খাতায় লিখতে পালি না। চলো আমি শিখিয়ে দেই। নীল নিজের মত করে বিজনেস নিয়ে ব্যাস্ত আর নীলিমা নীলাম্বরী কে নিয়ে ব্যাস্ত। কিন্তু নীলিমা আজও তার বোনের শেষ চিঠি ভুলতে পারেনাই। প্রতি বছরই নীলিমা আর নীল নীলার নামে অনেক টাকা খরচ করে। হয়ত নীলিমা ভালো আছে। কিন্তু আফসোস এর জায়গাটা আজও রয়ে গেছে। সেই ছোট বোনের পাগলামি গুলো আজও তার কাছে দৃশ্যমান।

গল্পের বিষয়:
ফ্যান্টাসি

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত