একটি ভাই ও একটি বোনের এক দিন

একটি ভাই ও একটি বোনের এক দিন

-এ ভাইয়া, ভাইয়া… ভাইইইইইইইইয়া… উঠ….
[রাহুল পরম সুখে স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুমাচ্ছে। সারারাত এক ফোটাও ঘুমাতে পারেনি।

তাই সকাল ১০ টা বেজে গেলো তাও রাহুলের ঘুম ভাঙ্গেনি। কিন্তু রাহুলের বোন রিতিশা তাকে অনবরত ডেকেই চলেছে।

রিতিশার ডাকে রাহুলের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটছে। রিতিশা রাহুলের ছোট বোন। বয়সের পার্থক্যটা খুব একটা বেশী নয়।

দুজনের মধ্যে অনবরতই টম এন্ড জেরী যুদ্ধ ভালোবাসা লেগেই থাকে]
-ভাইয়া, উঠ। আম্মু ডাকতাছেতো। এত্তো ঘুম কিসের তর? (রিতিশা)
-যা কটকটি, ডিস্টার্ব করিস না। একটু ঘুমাতে দে। [রাহুল রিতিশাকে কটকটি ডাকে]
-উঠ বলছি। না উঠলে কিন্তু পানি ডেলে দেবো..
-তকে বললাম না বিরক্ত করবি না। একটু ঘুমাতে দে। যা এখান থেকে।
-ও তুই উঠবি না?
-না।
-উঠবি নাতো? দেখিস পরে কিন্তু পস্তাস না।
-বললাম তো উঠবোনা। এত্তো সকাল সকাল মেজাজ টাই খারাপ করে দিলো।
-ই… সকাল? তাও আবার এত্তো? ১১ টা বাজে।
-মাত্র? যা এখান থেকে.. আবার ডাক দিলে এক চরে ৩২ টা দাঁত ফালাইয়া দিমু।
-হিহিহি। আমার ৩২ টা দাঁত নাই… ফেলবি কেমনে?
-তুই যাবি কিনা বল?
-যাবোনা..
-উঠলে কিন্তু তর খবর আছে। বলে দিলাম।
-আম্মু বলছে ডাকতে। আম্মুর কি জানি দরকার। উঠ না ভাইয়া প্লিজ।
-আম্মুকে গিয়ে বল এখন উঠতে পারবোনা। দরকার পরে করবো। এখন পারবোনা। তুই এখন দয়া করে রুম ত্যাগ করনা বোন প্লিজ।
-তুই না উঠলে আমি যাবোনা।
-আমি উঠতে পারবনা। মরলে মর।
-ও উঠবি না? দেখাচ্ছি মজা…
[বলেই রাহুলের গায়ে বোতলে রাখা পানি ঢেলে দৌড় দিলো রিতিশা। রাহুলও তার পিছন পিছন ভেজা শরীর নিয়ে তাড়া করতে লাগলো।]
-কটকটি, কই গেলো কুত্তিটা। আজ তর একদিন কি আমার একদিন(রাহুল)
-কি হল চেঁ চাচ্ছিস কেন? (আম্মু)
-চেঁচাবো না? তোমার শয়তান মেয়ে আমার গাঁয়ে পানি ঢেলে পালিয়েছে। আজ তোমার মেয়েকে মজা দেখাবো।
-ও কেন পানি ঢালতে গেলো?
-শয়তান তো। সারাক্ষন শয়তানি করতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে আমার ঘুমের ১২ টা বাজিয়েছে। (রাহুল)
-না মা, তুমি ভাইয়াকে ডাকতে বলছো। আমি ডাকতে গেলাম। কিন্তু ডাকতে ডাকতে ভাইয়া উঠেনা। উলটো আমাকে বকা দেয়। তাই পানি ঢালছি। (রিতিশা)
-তুই ঘুম থেকে উঠিস না তো কি করবে? আমি ওকে ডাকতে বলছি? (আম্মু)
-এতো সকাল সকাল কি দরকার??(রাহুল)
-সকাল কই? ১১ টার উপরে বাজে।(আম্মু)
-তাই বলে পানি ঢালবে? (রাহুল)
-তুই উঠিস না তো কি করব? এখন আমার দোষ? (রিতিশা)
-তুই পানি ঢালছোস। দোষতো তর-ই।(রাহুল)
-ভালো করছি, পানি ঢালছি। (রিতিশা)
-ও ভালো করছোস? দাঁড়া, ভালো করে বোঝাবো কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ।(রাহুল)
-আম্মু দেখোনা? ভাইয়া আমাকে মারবে বলতাছে।(রিতিশা)
-আহ রাখ তোদের ঝগড়া। রাহুল, রিতিশা ভুল করছে। ও আর এরকম দুষ্টামি করবেনা। এখন যাও গোসল করো। (আম্মু)
-ই করবেনা? তোমার মেয়ে হার-বজ্জাত। (রাহুল)
-ও তাইলে তুমি কি? (রিতিশা)
-বজ্জাতনির ভাই।(রাহুল)
-আম্মু…… দেখছো আমাকে খারাপ বলতাছে? (রিতিশা)
-রাহুল, তোমাকে বলছি না গোসল করতে যেতে। যাও। (আম্মু)
-যাচ্ছি আম্মু। কিন্তু তোমার মেয়েকে সাবধান করে দিও। আর আমার রুমে ডুকলে কিন্তু খবর আছে। (রাহুল)
[বলেই রাহুল চলে গেলো]
-আম্মু, আম্মু, টেবিলের উপর আমার ৫০ টা টাকা ছিলো। দেখছো? খুঁজে পাচ্ছিনা। (রাহুল)
-আম্মু একটু বাইরে গেছেন। কি জন্য ডাকছিস?(রিতিশ)
-তকে বলবো কেন?
-ও বলবিনা? আচ্ছা আমি যাচ্ছি।
-দাঁড়া দাঁড়া। টেবিলের উপর আমার ৫০ টা টাকা ছিলো। তুই নিসিস??
-হ। একটা ফকিরকে দিছি।
-কি? তকে না বললাম আমার ঘরে ডুকবিনা? ডুকলি কেন? আর টাকা কোথায় বের কর?
-ফকিরকে দিছি তো। আর ঘর কি তর? ঘরটটা আমার আব্বুর।
-৫০ টাকা ফকিরকে??
-মাত্র ৫০ ই ছিলো। আরো বেশী থাকলে আরো বেশী দিতাম।
-আমার এখান থেকে নিছিস কেন? তুই তর কাছ থেকে দিলি না কেন?
-তর নাম করে দিছি যে। বলছি আমার ভাইয়া দিছে।
-আহ। তকে দিতে বলছে কেডা? তাও ৫০ টাকা?
-ফকিরটাই তো দিতে বললো।
-ফকির বললো আর তুইও দিয়ে দিলি?
-তর জন্য দোয়া করবে বলছে। এতো রাগ করিস কেন?
-রাখ তর দোয়া। এখন আমি টাকা পাইমু কই?
-আমি কি জানি?
-টাকা বের কর। আমার টাকা দে।
-আমি কোথায় পাবো। ফকির নিয়ে চলে গেছে।
[রাগারাগি, গালাগালি করেও কিছু হবে না ভেবে রাহুল ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে চলে গেলো। কিছুক্ষন পর রিতিশা তাকে ফোন দিলো]
-ভাইয়া (রিতিশা)
-ফোন দিছিস কেন? (রাহুল)
-কেন আমি দিতে পারিনা?
-ডং করিস কেন? কি দরকার বল?
-ভাইয়া, সরি।
-সরি কেন?
-সকালে পানি আর পরে টাকার জন্য।
-আহ। ন্যাকামি।
-ভাইয়া, সত্যি সরি।
-আচ্ছা আচ্ছা। মাফ করে দিছি।
-থ্যাংকু ভাইয়া। ভাইয়া, ও ভাইয়া?
-আমি শুনতেছি। এখন কান নষ্ট হয়নি। কিন্তু তর জন্য আর বেশীদিন ঠিক থাকবেনা।
-ভাইয়া, আসার সময় একটা বার্গার নিয়ে আসিস, প্লিজ।
-কি? এখন বুঝলাম, কেন এতো ডং দেখাইয়া সরি বললি। আমিও তো বলি, আমার বোনতো সরি বলার কথা না।
-ভাইয়া প্লিজ, খাইতে ইচ্ছা করতেছে।
-তো আমি কি করবো? টাকা কি গাছে ধরে? এমনি তর জন্য আমার ৫০ টাকা…..
-ভাইয়া, সরি বলছি তো। প্লিজ আনিস।
-পারবোনা…
[ফোন কেটে দিলো রাহুল। রিতিশা জানে তার ভাই তার জন্য বার্গার নিয়ে আসবে। যতই রাগ দেখাক না কেন।

রাহুলের কাছে সত্যিই টাকা ছিলো না। বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে এনে সে রিতিশার জন্য বার্গার নিয়ে যায়। বোনের হাসির জন্য ও সব করতে রাজি]
-ভাইয়া, আনছিস?(রিতিশা)
-হুম, নে। পরে কিন্তু টাকা দিস। মনে থাকে যেনো। (রাহুল)
-আমি জানতাম তুই আনবি। তুই আমার লক্ষী ভাইয়া না?
-আবার ন্যাকমী করে।
-এইগুলা মায়া। ন্যাকমী না।
-তর মায়া তর কাছে রাখ।
[রাহুলের এসব ভালো লাগে। তাও ইচ্ছে করে সে রিতিশাকে রাগায়। রাগলে রিতিশাকে অনেক সুন্দর লাগে।

বোনের লাল মুখখানা দেখতে তার অনেক ভালো লাগে। রিতিশার মুখ এখন লাল হয়েছে।

রাহুল এক ফলক তার বোনের লাল মুখ খানা দেখেই রুমে চলে গেলো। একটু পর তার রুমে ডুকলো রিতিশা]
-এই নে..[রিতিশা]
-কি? [রাহুল]
-তর টাকা।
-এইগুলা কই পাইলি?
-টেবিলে যে ছিলো।
-তুই না ফকিরকে দিয়ে দিলি।
-১০ টাকা দিছি।
-ও তাহলে তো ৪০ টাকা থাকার কথা। ১০০ টা আসলো কোথা থেকে?
-বার্গারের টাকা।
-আবার ডং দেখাস? চর খাবি?
-ভাইয়া, আমি জানি তর কাছে টাকা নাই। এগুলা রাখ। বাবা আমাকে বাড়তি টাকা দেয়। কিন্তু এগুলা তো আমার লাগেনা।
-বাবা তকে দিছে। তুই রাখ। আমার লাগবেনা।
-ভাইয়া আমি টাকা দিয়ে কি করবো। তুই রেখে দে।
-আমারও লাগবেনা। যা এখান থেকে। শান্তিতে থাকতে দে।
-নিবি না আমি কেঁদে দিবো।
-ন্যাকামির কিন্তু সীমা থাকে। হুম দে। কালকের বার্গারের টাকাটা পেয়ে গেলাম।
-কালকে লাগবেনা ভাইয়া।
-তুই বললেই হলো। আমার বোনের জন্য আমি আনব।
-আমিইতো তর বোন। আমি বলছি কাল লাগবেনা।
-আবার ন্যাকামি??
[বলেই বোনকে জরিয়ে ধরলো রাহুল। বড্ড বেশী ভালবাসে সে রিতিশাকে। তার কাছে বোনই তার সব।

রিতিশাও তার ভাইকে অনেক ভালোবাসে। তার কাছে তার জগৎটাই তার ভাই। লুকিয়ে লুকিয়ে ভাইয়ের মানিব্যাগে টাকা রাখে সে।

রাহুল বুঝতে পারে। সেও লুকিয়ে লুকিয়ে অনেক কিছু রিতিশার ব্যাগে রেখে দে। রিতিশা বুঝতে পারে এটা তার ভাই দিছে।

এতে সে অনেক খুশী হয়। আর বাকি সময়টা কাঁটে ঝগড়া করে।]
.
[এইতো ভালোবাসা। যার তুলনা নেই। ভাইবোনের অকৃত্রিম ভালোবাসা পৃথিবীর সব ভালবাসার কাছে হার মানবে…]

গল্পের বিষয়:
হাস্যরস

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত